📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 হাঁটুর উপর কাপড় উঠলে কি ওযু ভেঙ্গে যায়?

📄 হাঁটুর উপর কাপড় উঠলে কি ওযু ভেঙ্গে যায়?


অধিকাংশ মানুষকে বলতে শোনা যায় অজু করার পর হাঁটুর উপর কাপড় উঠলে ওযু ভঙ্গ হয়ে যায়, তেমনি ভাবে পা ধৌত করার সময় যদি হাঁটুর কাপড় উঠে যায় তাহলে ওযু ভঙ্গ হয়ে যায়। তাই আবার নতুন করে শুরু করতে হয়। এরূপ ধারণা করা ঠিক নয়। হাঁটু সতরের অন্তর্ভুক্ত এবং তা ঢেকে রাখা আবশ্যক। তাই পা ধৌত করার সময় সতর্কতার সাথে ধৌত করা উচিত, যেন হাঁটুর উপর থেকে কাপড় সরে না যায়। কিন্তু এমন ধারণা করা ঠিক নয় যে, হাঁটুর উপর থেকে কাপড় সরে গেলে অযু ভঙ্গ হয়ে যায় কিংবা ওযুর মাঝে এমনটি হলে আবার পুনরায় নতুন করে শুরু করতে হয়। এমন ধারণা করা উচিত নয়। কোরআন হাদিসে এর কোন দলিল প্রমাণ পাওয়া যায় না যে, হাঁটুর উপর থেকে কাপড় সরে গেলে উযূ ভঙ্গ হয়ে যাবে। এমনকি ওযু ভঙ্গের কোনো কারণেও এমন কথা বর্ণিত নেই। এটা একটা ভিত্তিহীন কথা ছাড়া আর কিছুই নয়।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 গায়ের মাহরামের সাথে কথা বললে ওযু নষ্ট হয়ে যায়

📄 গায়ের মাহরামের সাথে কথা বললে ওযু নষ্ট হয়ে যায়


কিছু মানুষকে বলতে শোনা যায় গায়রে মাহরামের সাথে কথা বললে ওযু নষ্ট হয়ে যায় এমনটি ধারণা করা ঠিক নয়। তবে বিনা প্রয়োজনে গায়রে মাহরামের সাথে কথা বলাও জায়েজ নয়। এমনকি প্রয়োজনে কথা বললেও তা যেন কোমল স্বরে না হয় সে ব্যাপারে কুরআনুল কারীমে সতর্ক করা হয়েছে।

তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো গায়রে মাহরামের সাথে কথা বললে ওযু নষ্ট হয় না। এটাও একটি ভুল ধারণা। এসব ভুল ধারণা থেকে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 অপবিত্র অবস্থা নিয়ে একটি ভুল ধারণা

📄 অপবিত্র অবস্থা নিয়ে একটি ভুল ধারণা


অনেক মানুষ ধারণা করে থাকে যে, গোসল ফরজ হওয়ার পর মানুষ নাপাক হয়ে যায়। অথচ হাদীস শরীফে আছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন মুমিন কখনো নাপাক হয় না। অথচ বর্তমানে মানুষ ফরজ গোসল হওয়া ব্যক্তিকে ঘৃণিত এবং নাপাক মনে করে থাকে। এমনকি তার কাছেও যেতে চায় না এবং তাকে দিয়ে কোনো কাজকর্ম কিংবা রান্নাবান্নাও করাতে চায় না। অনেক মানুষ ধারণা করে যে, তাকে দিয়ে রান্নাবান্না করালে কিংবা কোনো কাজ করালে সেগুলো বরকতহীন হবে। এটি একটি মারাত্মক ধরনের ত্রুটি ও কুসংস্কার এবং অপর মুমিনকে কষ্ট দেওয়াও বটে। যেখানে মুমিনকে কষ্ট দেওয়ার ব্যাপারে হাদীস শরীফে স্পষ্টভাবে নিষেধ করা হয়েছে অথচ আমাদের এরকম আচরণে সেই ব্যক্তিটি অবশ্যই কষ্ট-ক্লেশ ভুগতে হয়। তাই আমাদের এগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 ফরজ গোসল না করে কোনো কাজ করা যাবে কি?

📄 ফরজ গোসল না করে কোনো কাজ করা যাবে কি?


সহবাসের পর ফরজ গোসল না করে নামায, তাওয়াফ, কুরআন তেলাওয়াত ও স্পর্শ করা এবং মসজিদে গমণ করা ছাড়া অন্যান্য সবধরণের কাজ করা যাবে।

আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গে মদিনার কোন এক পথে রাসূল -এর দেখা হল। আবু হুরায়রা রাযি. তখন জানাবাতের (গোসল ফরজ) অবস্থায় ছিলেন। তিনি বলেন, আমি নিজেকে নাপাক মনে করে সরে পড়লাম। পরে আবু হুরায়রা রাযি. গোসল করে এলেন। পুনরায় সাক্ষাৎ হলে রাসূল জিজ্ঞেস করলেন, আবু হুরায়রা! কোথায় ছিলে? আবু হুরায়রা রাযি. বললেন, আমি জানাবাতের অবস্থায় আপনার সঙ্গে বসা সমীচীন মনে করি নি। নবীজী বললেন,
سُبْحَانَ اللهِ لَا يَنْجُسُ الْمُسْلِمُ ،
সুবাহানাল্লাহ্! মু'মিন নাপাক হয়না। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৭৯)

তবে অন্যান্য কাজ একেবারে নিষেধ না হলেও কোনো কাজ করার আগে গোপনাঙ্গ ধুয়ে নেয়া ও অজু করে করে নেয়ার কথা একাধিক হাদীসে এসেছে। যেমন-
عن عائشة قالت : كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا كان جنباً فأراد أن يأكل أو ينام توضأ وضوءه للصلاة
আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ জানাবাতের (গোসল ফরজ) অবস্থায় পানাহার কিংবা ঘুমানোর ইচ্ছা করলে নামাজের অজুর মত অজু করে নিতেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩০৫)

উল্লেখ্য, ফরজ গোসল বিলম্বিত হওয়ার কারণে যদি নামাজ কাজা হয়ে যায় তাহলে আপনাকে গোনাহগার হতে হবে। আপনার তীব্র লজ্জা এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য কোনো ওজর নয়; যার কারণে নামায আদায়ে এ বিলম্ব করা যেতে পারে। সুতরাং এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা জরুরি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00