📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 ঝাড়-ফুঁক বিষয়ে আকিদা

📄 ঝাড়-ফুঁক বিষয়ে আকিদা


ঝাড়-ফুঁক ও তাবিজ কবজ এর কাজ হওয়াটা নিশ্চিত নয়। হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে। দোয়া করলে রোগ ব্যাধি আরোগ্য হতে পারে, নাও হতে পারে। ঝাড়-ফুঁক তাবিজ কবজ এর চেয়ে দোয়া অধিক বেশি উত্তম। ঝাড়-ফুঁকের ও তাবিজ কবজ এর নিজস্ব কোন ক্ষমতা নেই। আল্লাহ তাআলা যদি ইচ্ছা করেন তাহলে সবকিছু হয়ে যায়। অধিকাংশ মানুষ ঝাড়-ফুঁক কোরআন হাদিস থেকে উদ্ভুত। কোরআন হাদিসে কোন কাজ ভাল হবে স্পষ্ট করে বলা হয়নি। তাবিজের মাধ্যমে কোনো কাজ না হলে এরূপ বলার অবকাশ নেই যে, কোরআন হাদিস তাহলে কি সত্য নয়? এ ব্যাপারে আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী তার সুবিখ্যাত ফতুয়া গ্রহান্তরে উল্লেখ করেন, অর্থ ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, তাবিজ মাকরুহ হবে যদি তা আরবি ছাড়া অন্য ভাষায় লিখিত হয় অথবা এমন তাবিজ যার অর্থ বুঝা যায় না। হতে পারে এতে জাদু বা কুফুরী কালাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে যদি তাবিজ কোরআনের আয়াত দ্বারা লেখা হয় অথবা কোরআন হাদিসে বর্ণিত কোন দোয়ার মাধ্যমে লেখা হয় তাহলে কোন অসুবিধা নেই। তাবিজ কিংবা ঝাড়-ফুঁকের জন্য নির্দিষ্ট দিন নির্দিষ্ট সময় কিংবা নির্দিষ্ট বিশেষ শর্ত রয়েছে, এরূপ মনে করা ঠিক নয়। তাবিজ কিংবা ঝাড়-ফুঁকের জন্য কারো অনুমতি প্রাপ্ত হওয়া আবশ্যক নয়। তাবিজ কিংবা ঝাড়-ফুঁকের মাধ্যমে ভালো প্রভাব পরলে তাবিজ দাতার বুযূর্গী মনে করা ঠিক নয়। যা কিছু হয় সব আল্লাহর ইচ্ছাতেই হয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা যদি ইচ্ছা করেন এর মাধ্যমে তাকে আরোগ্য দিবেন তাহলে আরোগ্য দিতে পারেন। আর যদি ইচ্ছা করেন তাবিজ-কবজে আরোগ্য রাখেননি তবে তাবিজ কবজ এর দ্বারা কোন কাজ হবে না। তাই আমাদের এরকম চিন্তা করা ঠিক নয় যে, তাবিজের মাধ্যমে মানুষের আপদ-বিপদ ভালো হয়ে যাবে। আপদ-বিপদ যেমনিভাবে আল্লাহ তায়ালাই দিয়ে থাকেন তেমনিভাবে আল্লাহ তাআলা সমাধান করে থাকেন। সুতরাং মানুষের জন্য উচিত হলো বিপদ-আপদে ও সুখ দুখে আল্লাহ তা'আলাকে সর্বদা স্মরণ করা এবং বেশি বেশি আল্লাহ তালার কাছে দোয়া করা। (রদ্দুল মুহতার-৯/৫২৩)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00