📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 প্রচলিত একটি শিরক

📄 প্রচলিত একটি শিরক


প্রায় ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেক মানুষ বাড়ি জিনিস উঠানোর ক্ষেত্রে ইয়া আলি ! বলে থাকে। কোনো কোনো শ্রমিককে দেখা যায় যখন তারা কোনো ভারী বস্তু উপরে উঠায় কিংবা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করে তখন তারা বলে ইয়া আলি ! ইয়া আলি ! এর কারণে হয়তো এই হবে যে, হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বাহাদুর এবং অনেক শক্তিশালী ব্যক্তি ছিলেন তাই এরা মনে করে তাকে ডাকলে কিংবা তার নাম উচ্চারণ করলে তাদের মাঝে সেই আলীর শক্তি সৃষ্টি হয়ে যাবে কিংবা সেই বস্তু হতে সাহায্য পাওয়া যাবে। মনে রাখতে হবে যে, এটিও একটি শিরক। লাভ-ক্ষতির মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলাই । পরিপূর্ণকারিও শুধু আল্লাহ তাআলার কাছেই। মৃত ব্যক্তির কাছে সাহায্য কামনা করা শিরক। জীবিত ব্যক্তিদের কাছে কেবল সেসব বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করা যায় যেগুলো উপায়-উপকরণের অধীনে। উপায়- উপকরণের উর্ধ্বে কোন বিষয়ে কারো থেকে সাহায্য কামনা করাটাই শিরক।

আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কারো নামের ব্যাপারে ধারণা পোষণ করা যে, তার নাম নেওয়া হলে কিংবা তাকে ডাকা হল এ সমস্যার সমাধান হবে। এটা শুধুই শিরকী ধারণা।

অতএব উল্লেখিত অবস্থায় হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে ডাকার পরিবর্তে আমাদের সৃষ্টিকর্তা রাব্বল আলামীনকে ডাকা উচিত এবং তাঁর নাম উচ্চারণ করা উচিত। কেননা আল্লাহ তা'আলা সকল সমস্যার সমাধান এবং সকল মসিবত থেকে নাজাত দানকারী।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 আরেকটি শিরকি আমল

📄 আরেকটি শিরকি আমল


অনেক মানুষকে প্রায় ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, তারা ইয়া গাউসুল আজম ! বলে থাকে বরং সর্বক্ষেত্রে আল্লাহ তালাকেই ডাকা এবং সর্বক্ষেত্রে তার নামেই শুরু করা উচিত। এটাই তাওহীদ ও একত্ববাদের দাবি এবং শরীয়ত ও সুন্নতের শিক্ষা।

কুরআনে কারীমে স্থলভাগে আরোহণ করার সময় এ দোয়া পড়ার শিক্ষা দিয়েছেন যে,
سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ.
এতে বলা হয়েছে পবিত্র তিনি যিনি এই বাহনটি আমাদের অধীন করেছেন। তাকে অধীন করার ক্ষমতা আমাদের ছিল না। আর অবশ্যই আমরা আমাদের পালনকর্তার কাছেই ফিরে যাব ।

আর জলভাগে আরোহণ করার সময় এই দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন যে,
بِسْمِ اللَّهِ مَجْرِيهَا وَمُرْسَاهَا إِنَّ رَبِّي لَغَفُورٌ رَحِيمٌ.
অর্থ আল্লাহর নামে চলা ও স্থির হওয়া। নিশ্চয়ই আমার পালনকর্তা ক্ষমতাশীল মেহেরবান।

এ দোয়া সমূহ তাওহীদের কত স্বচ্ছ শিক্ষা রয়েছে। শায়খ আব্দুল কাদের জিলানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি যাকে মূর্খ মানুষেরা গাউসুল আজম নামে ডাকে, অথচ এ নামটি সংশোধন করা আবশ্যক। কেননা আব্দুল কাদের জিলানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহির ফরিয়াদ পূরণকারী নন; বরং তিনি নিজেই আল্লাহ তালার দরবারে ফরিয়াদকারী ছিলেন। তাই উক্ত নামে তাকে ডাকা শিরিক। তিনি অত্যন্ত তওহিদবাদী ছিলেন। তিনি লোকদেরকে শরীয়ত ও সুন্নতের শিক্ষা দিতেন। তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করা এবং শিরক ও বিদ'আতকে দূর করাই ছিল তার জন্য অন্যতম মিশন। তিনি বলতেন, আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করা অপরিহার্য। আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কাউকে ভয় করো না এবং তাকে ছাড়া অন্য কারো কাছে আশা পোষণ করোনা। সকল প্রয়োজন তার নিকট পেশ করো এবং তার কাছে প্রার্থনা করো। আল্লাহ ছাড়া কারো উপর ভরসা রেখো না। তিনি একমাত্র সত্তা যিনি সকল ত্রুটি থেকে মুক্ত। খবরদার একক সত্তার উপর ভরসা করো এবং সে একক সত্তার সাথেই সকল আশা আকাঙ্ক্ষা পোষণ করো। (মালফুজাত ফাতোয়ায়ে রহীমিয়া:৩/৫)

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 আল্লাহর সহ্য হবে না

📄 আল্লাহর সহ্য হবে না


অনেকে কারো অত্যাচারের ভয়াবহতা কিংবা সীমাতিরিক্ততা প্রকাশ করার জন্য অনেক বলে থাকে, তার এত জুলুম আল্লাহ তালার সহ্য হবে না। এভাবে বলা ভুল, কারণ সহ্য না হওয়া একটি দুর্বলতা যা আল্লাহ রাব্বল আলামীনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এমন কোন ঘটনা ঘটতে পারে না, আল্লাহ সহ্য করতে পারবেন না। আর যা কিছু ঘটে সবকিছুই তো আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকেই ঘটে। তাহলে সহ্য করতে পারবেন না, হবে না এমন কথা বলাই তো অযুক্তিক। আল্লাহ তাআলা অন্যায়ের শাস্তি দিবেন। অত্যাচারের প্রতিদান নেবেন এবং বে-ইনসাফ কারীর শাস্তি দিবেন। আল্লাহ তাআলা সবকিছুর ক্ষমতা রাখেন। তাই আল্লাহ তালার সহ্য হবে না কিংবা সহ্য করবেন না এ জাতীয় কোন বাক্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 একটি কুফরী বাক্য

📄 একটি কুফরী বাক্য


আল্লাহ আমার সন্তান ছাড়া আর কাউকে দেখল না! মা-বাবার জন্য সন্তানের বিয়োগ-বেদনা অসহনীয়। ফলে সন্তানের মৃত্যুতে কোনো কোনো মা-বাবার মুখ থেকে এমন কথা বের হয়ে যায়, যা কুফরী কথা। যেমন সন্তানের মৃত্যুতে কোনো কোনো মা-বাবাকে বলতে শোনা যায়- "আল্লাহ আমার সন্তান ছাড়া আর কাউকে দেখল না।” মুমিন এমন কথা বলতে পারে না। দ্বীনী জ্ঞান, সহীহ দ্বীনী বুঝ ও ভারসাম্যের অভাবেই মানুষ এমন কথা বলে ফেলে। এটি একটি কুফরী বাক্য, যা আল্লাহর ফয়সালার উপর আপত্তি ও অভিযোগের বাক্য।

সন্তান আল্লাহর দান। তিনি যাকে ইচ্ছা, সন্তান দান করেন। যাকে ইচ্ছা, দান করেন না। তেমনি সন্তান দেওয়ার পর সন্তানকে জীবিত রাখা বা নিয়ে যাওয়াও আল্লাহর ইচ্ছাধীন। আর এ সন্তান তো আল্লাহই অনুগ্রহ করে দান করেছিলেন, তিনিই আবার নিয়ে গেছেন। তাছাড়া এতে অনেক হেকমতও নিহিত থাকে, যা আমাদের জানা নেই। সুতরাং আল্লাহর ফয়সালা মেনে নেওয়া ও সবর করাই মুমিনের শান ও নবীজীর শিক্ষা। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো এক কন্যা খবর পাঠালেন- তার এক সন্তান মৃতপ্রায় অবস্থা। তখন নবীজী খবরদাতাকে বললেন, তুমি গিয়ে তাকে বল-
فَلْتَصْبِرُ فَمُرْهَا مُسَمّى بِأَجَلٍ عِنْدَهُ شَيْءٍ وَكُلِّ أَعْطَى ، مَا وَلَهُ أَخَذَ مَا سِهِ إِنْ وَلْتَحْتَسِبُ
আল্লাহ যাকে নিয়ে যান সেও আল্লাহর, যাকে রাখেন সেও তাঁর। আর সবকিছুর জন্যই তাঁর কাছে রয়েছে নির্দিষ্ট সময়সীমা। সুতরাং তুমি তাকে ধৈর্য ধারণ করতে বল এবং সওয়াবের আশা করতে বল। পরে নবীজী তাকে দেখতে গেলেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৯২৩

কারো মৃত্যুতে মাতম করা, জামা-কাপড় ছেঁড়া, গাল চাপড়ানো, জাহেলী কথাবার্তা বলা- হাদীস শরীফে এগুলোর ব্যাপারে ধমকি এসেছে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
الجَاهِلِيَّةِ بِدَعْوَى وَدَعَا الجُيُوبَ، وَشَقِّ الخُدُودَ ، لَطَمَ مَنْ مِنَّا لَيْسَ
যে (কারো মৃত্যুশোকে বিলাপ করে) গাল চাপড়ায়, জামা ছেঁড়ে এবং জাহেলী যুগের মত বিভিন্ন (অন্যায়) কথা বলে সে আমাদের দলভুক্ত নয়। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১২৯৪

তাহলে কি সন্তান বা কারো বিয়োগ-বেদনায় কাঁদাও যাবে না? হাঁ, কাঁদা যাবে, তবে বিলাপ করা এবং জাহেলী কথাবার্তা বলা যাবে না। নিজ সন্তানের বিয়োগ-বেদনায় নবীজীও কেঁদেছেন, কিন্তু সাথে সাথে সতর্কও করে দিয়েছেন- এ অবস্থায়ও আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন এমন কথা বলা যাবে না। নবীজীর সন্তান ইবরাহীম রা.-এর মৃত্যুর সময় নবীজী কাঁদছিলেন। এ দেখে আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা. বললেন, আপনিও কাঁদছেন আল্লাহর রাসূল! (তিনি ধারণা করেছিলেন, এ সাধারণ কান্নাও নিষিদ্ধ বিলাপের অন্তর্ভুক্ত।)। তখন নবীজী বললেন, (এটি বিলাপ নয়) এ তো মানুষের মনের দয়া-মায়া (-এর স্বাভাবিক প্রকাশ ও কষ্টের অশ্রæ। এতে সমস্যা নেই)। তারপর বললেন-
يَا بِفِرَاقِكَ وَإِنَّا رَبَّنَا ، يَرْضَى مَا إِلَّا نَقُولُ وَلا يَحْزَنُ، وَالقَلْبَ تَدْمَعُ العَيْنَ إِنْ لَمَحْزُونُونَ إِبْرَاهِيمُ
চোখ অশ্রুসজল, হৃদয় ব্যথিত। কিন্তু আমাদের রব অসন্তুষ্ট হন- আমরা এমন কথা বলব না। হে ইবরাহীম! তোমার বিযোগে আমরা বড়ই ব্যথিত। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৩০৩

সুতরাং কারো মৃত্যুতেই আমরা বিলাপ করব না এবং আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন এমন কথা বলব না। বরং ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন বলব এবং সবর করব, যার বিনিময়ে আল্লাহ জান্নাত দিবেন। হাদীসে কুদসীতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা বলেন-
ثُمَّ الدُّنْيَا أَهْلِ مِنْ صَفِيهُ قَبَضْتُ إِذَا جَزَاءُ، عِنْدِي الْمُؤْمِنِ لِعَبْدِي مَا الجَنَّةُ إِلَّا احْتَسَبَهُ
যখন আমি আমার মুমিন বান্দার প্রিয়জনকে উঠিয়ে নিই আর সে (ছবর করে এবং) সওয়াবের আশা রাখে; কেবল জান্নাতই হতে পারে এর প্রতিদান। (-সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৪২৪-)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00