📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 মহাভারত কি অশুদ্ধ হয়ে যাবে?

📄 মহাভারত কি অশুদ্ধ হয়ে যাবে?


এ বাক্যটি ভুল, আর একটি ভুল বিশ্বাসের ভিত্তিতেই এ বাক্যটি প্রচলিত। আমাদের অনেকে রাগ করে কিংবা অভিমান করে বলে ফেলেন তুমি আমার বাড়িতে না এলে মহাভারত অশুদ্ধ কি হয়ে যাবে? মহাভারত হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ, যা মূলত অশুদ্ধ। কিন্তু বাক্যটি ব্যবহার করে পক্ষান্তরে আমরা স্বীকার করে নিচ্ছি যে, মহাভারত সহি-শুদ্ধ যা ভ্রান্ত আকিদার পরিপন্থী। অতএব একজন মুসলমানের জন্য অবশ্যই তা পরিহারযোগ্য এবং বর্জনীয়। তাই আমাদের এসব কথা থেকে বেঁচে থাকতে হবে।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 প্রচলিত একটি শিরক

📄 প্রচলিত একটি শিরক


প্রায় ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেক মানুষ বাড়ি জিনিস উঠানোর ক্ষেত্রে ইয়া আলি ! বলে থাকে। কোনো কোনো শ্রমিককে দেখা যায় যখন তারা কোনো ভারী বস্তু উপরে উঠায় কিংবা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করে তখন তারা বলে ইয়া আলি ! ইয়া আলি ! এর কারণে হয়তো এই হবে যে, হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বাহাদুর এবং অনেক শক্তিশালী ব্যক্তি ছিলেন তাই এরা মনে করে তাকে ডাকলে কিংবা তার নাম উচ্চারণ করলে তাদের মাঝে সেই আলীর শক্তি সৃষ্টি হয়ে যাবে কিংবা সেই বস্তু হতে সাহায্য পাওয়া যাবে। মনে রাখতে হবে যে, এটিও একটি শিরক। লাভ-ক্ষতির মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলাই । পরিপূর্ণকারিও শুধু আল্লাহ তাআলার কাছেই। মৃত ব্যক্তির কাছে সাহায্য কামনা করা শিরক। জীবিত ব্যক্তিদের কাছে কেবল সেসব বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করা যায় যেগুলো উপায়-উপকরণের অধীনে। উপায়- উপকরণের উর্ধ্বে কোন বিষয়ে কারো থেকে সাহায্য কামনা করাটাই শিরক।

আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কারো নামের ব্যাপারে ধারণা পোষণ করা যে, তার নাম নেওয়া হলে কিংবা তাকে ডাকা হল এ সমস্যার সমাধান হবে। এটা শুধুই শিরকী ধারণা।

অতএব উল্লেখিত অবস্থায় হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে ডাকার পরিবর্তে আমাদের সৃষ্টিকর্তা রাব্বল আলামীনকে ডাকা উচিত এবং তাঁর নাম উচ্চারণ করা উচিত। কেননা আল্লাহ তা'আলা সকল সমস্যার সমাধান এবং সকল মসিবত থেকে নাজাত দানকারী।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 আরেকটি শিরকি আমল

📄 আরেকটি শিরকি আমল


অনেক মানুষকে প্রায় ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, তারা ইয়া গাউসুল আজম ! বলে থাকে বরং সর্বক্ষেত্রে আল্লাহ তালাকেই ডাকা এবং সর্বক্ষেত্রে তার নামেই শুরু করা উচিত। এটাই তাওহীদ ও একত্ববাদের দাবি এবং শরীয়ত ও সুন্নতের শিক্ষা।

কুরআনে কারীমে স্থলভাগে আরোহণ করার সময় এ দোয়া পড়ার শিক্ষা দিয়েছেন যে,
سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ.
এতে বলা হয়েছে পবিত্র তিনি যিনি এই বাহনটি আমাদের অধীন করেছেন। তাকে অধীন করার ক্ষমতা আমাদের ছিল না। আর অবশ্যই আমরা আমাদের পালনকর্তার কাছেই ফিরে যাব ।

আর জলভাগে আরোহণ করার সময় এই দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন যে,
بِسْمِ اللَّهِ مَجْرِيهَا وَمُرْسَاهَا إِنَّ رَبِّي لَغَفُورٌ رَحِيمٌ.
অর্থ আল্লাহর নামে চলা ও স্থির হওয়া। নিশ্চয়ই আমার পালনকর্তা ক্ষমতাশীল মেহেরবান।

এ দোয়া সমূহ তাওহীদের কত স্বচ্ছ শিক্ষা রয়েছে। শায়খ আব্দুল কাদের জিলানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি যাকে মূর্খ মানুষেরা গাউসুল আজম নামে ডাকে, অথচ এ নামটি সংশোধন করা আবশ্যক। কেননা আব্দুল কাদের জিলানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহির ফরিয়াদ পূরণকারী নন; বরং তিনি নিজেই আল্লাহ তালার দরবারে ফরিয়াদকারী ছিলেন। তাই উক্ত নামে তাকে ডাকা শিরিক। তিনি অত্যন্ত তওহিদবাদী ছিলেন। তিনি লোকদেরকে শরীয়ত ও সুন্নতের শিক্ষা দিতেন। তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করা এবং শিরক ও বিদ'আতকে দূর করাই ছিল তার জন্য অন্যতম মিশন। তিনি বলতেন, আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করা অপরিহার্য। আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কাউকে ভয় করো না এবং তাকে ছাড়া অন্য কারো কাছে আশা পোষণ করোনা। সকল প্রয়োজন তার নিকট পেশ করো এবং তার কাছে প্রার্থনা করো। আল্লাহ ছাড়া কারো উপর ভরসা রেখো না। তিনি একমাত্র সত্তা যিনি সকল ত্রুটি থেকে মুক্ত। খবরদার একক সত্তার উপর ভরসা করো এবং সে একক সত্তার সাথেই সকল আশা আকাঙ্ক্ষা পোষণ করো। (মালফুজাত ফাতোয়ায়ে রহীমিয়া:৩/৫)

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 আল্লাহর সহ্য হবে না

📄 আল্লাহর সহ্য হবে না


অনেকে কারো অত্যাচারের ভয়াবহতা কিংবা সীমাতিরিক্ততা প্রকাশ করার জন্য অনেক বলে থাকে, তার এত জুলুম আল্লাহ তালার সহ্য হবে না। এভাবে বলা ভুল, কারণ সহ্য না হওয়া একটি দুর্বলতা যা আল্লাহ রাব্বল আলামীনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এমন কোন ঘটনা ঘটতে পারে না, আল্লাহ সহ্য করতে পারবেন না। আর যা কিছু ঘটে সবকিছুই তো আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকেই ঘটে। তাহলে সহ্য করতে পারবেন না, হবে না এমন কথা বলাই তো অযুক্তিক। আল্লাহ তাআলা অন্যায়ের শাস্তি দিবেন। অত্যাচারের প্রতিদান নেবেন এবং বে-ইনসাফ কারীর শাস্তি দিবেন। আল্লাহ তাআলা সবকিছুর ক্ষমতা রাখেন। তাই আল্লাহ তালার সহ্য হবে না কিংবা সহ্য করবেন না এ জাতীয় কোন বাক্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00