📄 আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে মান্নত করার আকিদা
আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে মান্নত করা হারাম। কেননা মান্নত হলো ইবাদতের একটি অংশ। যেভাবে আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কারো নামে ইবাদত করা হারাম এমনিভাবে আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কোন বান্দার নামে মান্নত করাও হারাম এবং নাজায়েজ। বিখ্যাত ফকীহ আল্লামা শামী বলেন যে, অধিকাংশ সময় সাধারণ লোকের পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তির নামে মানত করা হয় এবং পীর বুজুর্গের নৈকট্য লাভের জন্য তাদের মাজারে টাকা পয়সা এবং মোমবাতি আনা হয়, সর্বসম্মতিক্রমে এটা নাজায়েজ এবং হারাম। (ফতোয়ায়ে শামী:২/৪৩৯)
অতএব আল্লাহ ছাড়াঅন্য কারো নামে মান্নত করা এবং তা পূরণ করা উভয়টাই নাজায়েজ এবং বড় গুনাহের কাজ। আর ফুকাহায়ে কেরাম স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, গুনাহের মান্নত করা সঠিক নয় এবং তা পূরণ করা আবশ্যক নয়; বরং তার জন্য তওবা করা আবশ্যক। তাই আমাদের মানত করার ক্ষেত্রে এই সমস্ত বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে মান্নত করা যাবে না。
📄 আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে মান্নত কৃত জিনিসের বিধান
আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য কোন জিনিসের মান্নত করে যদি তা পূর্ণ করা হয় তবে সেটি হারাম হয়ে যায়। কারো জন্য তা ব্যবহার করা নাজায়েজ। কিন্তু জিনিসটি যদি আসল অবস্থায় উপস্থিত থাকে তাহলে যে ব্যক্তি মান্নত করেছে তার জন্য তওবা-ইস্তেগফার করে মান্নতকৃত জিনিসকে নেওয়া জায়েজ এবং বৈধ। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে যে জীবজন্তুর ছাড়া হয় সেগুলোর বিধান একই। যদি জন্তুটি জবাই করা হয় তাহলে হালাল হওয়ার আর কোন পদ্ধতি নেই। আর যদি বিসমিল্লাহির শহীদ জবাই করা হয় তবুও সর্বদা হারাম থাকবে। (ইখতিলাফে উম্মত:৭২)
📄 মহাভারত কি অশুদ্ধ হয়ে যাবে?
এ বাক্যটি ভুল, আর একটি ভুল বিশ্বাসের ভিত্তিতেই এ বাক্যটি প্রচলিত। আমাদের অনেকে রাগ করে কিংবা অভিমান করে বলে ফেলেন তুমি আমার বাড়িতে না এলে মহাভারত অশুদ্ধ কি হয়ে যাবে? মহাভারত হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ, যা মূলত অশুদ্ধ। কিন্তু বাক্যটি ব্যবহার করে পক্ষান্তরে আমরা স্বীকার করে নিচ্ছি যে, মহাভারত সহি-শুদ্ধ যা ভ্রান্ত আকিদার পরিপন্থী। অতএব একজন মুসলমানের জন্য অবশ্যই তা পরিহারযোগ্য এবং বর্জনীয়। তাই আমাদের এসব কথা থেকে বেঁচে থাকতে হবে।
📄 প্রচলিত একটি শিরক
প্রায় ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেক মানুষ বাড়ি জিনিস উঠানোর ক্ষেত্রে ইয়া আলি ! বলে থাকে। কোনো কোনো শ্রমিককে দেখা যায় যখন তারা কোনো ভারী বস্তু উপরে উঠায় কিংবা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করে তখন তারা বলে ইয়া আলি ! ইয়া আলি ! এর কারণে হয়তো এই হবে যে, হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বাহাদুর এবং অনেক শক্তিশালী ব্যক্তি ছিলেন তাই এরা মনে করে তাকে ডাকলে কিংবা তার নাম উচ্চারণ করলে তাদের মাঝে সেই আলীর শক্তি সৃষ্টি হয়ে যাবে কিংবা সেই বস্তু হতে সাহায্য পাওয়া যাবে। মনে রাখতে হবে যে, এটিও একটি শিরক। লাভ-ক্ষতির মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলাই । পরিপূর্ণকারিও শুধু আল্লাহ তাআলার কাছেই। মৃত ব্যক্তির কাছে সাহায্য কামনা করা শিরক। জীবিত ব্যক্তিদের কাছে কেবল সেসব বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করা যায় যেগুলো উপায়-উপকরণের অধীনে। উপায়- উপকরণের উর্ধ্বে কোন বিষয়ে কারো থেকে সাহায্য কামনা করাটাই শিরক।
আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কারো নামের ব্যাপারে ধারণা পোষণ করা যে, তার নাম নেওয়া হলে কিংবা তাকে ডাকা হল এ সমস্যার সমাধান হবে। এটা শুধুই শিরকী ধারণা।
অতএব উল্লেখিত অবস্থায় হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে ডাকার পরিবর্তে আমাদের সৃষ্টিকর্তা রাব্বল আলামীনকে ডাকা উচিত এবং তাঁর নাম উচ্চারণ করা উচিত। কেননা আল্লাহ তা'আলা সকল সমস্যার সমাধান এবং সকল মসিবত থেকে নাজাত দানকারী।