📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 আকিদার ভ্রষ্টতা সমূহ

📄 আকিদার ভ্রষ্টতা সমূহ


কারো অনুপস্থিতিতে তার আলোচনা করার সময় কিংবা কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তি উপস্থিত হলে বলা হয় যে, তুমি দীর্ঘ হায়াত লাভ করবে। তোমার অনেক হায়াত। আমরা মাত্র তোমার আলোচনাই করতেছিলাম। শরীয়তে এমন কথার কোন ভিত্তি নেই।

যখন হাঁচি আসে তখন ওই লোককে কবর স্মরণ করে অথবা অন্য কোন লোক তার কথা স্মরণ করে এরূপ যে কথা প্রসিদ্ধ রয়েছে তা ভুল। হাঁচি আসার কারণে এমনটি হযে থাকে এ ধারণা করা ঠিক নয়।

রাতের বেলায় কুকুরের শব্দ শুনে অনেকে মনে করে যে, আগামীকাল এলাকায় কারো মৃত্যু সংঘটিত হবে। এটাও ভিত্তিহীন আক্বীদা এবং শরীয়ত পরিপন্থী একটি কাজ।

অনেক মানুষের মনে করে থাকে সকালে কাউকে গালি দেওয়া বা আঘাত করা কিংবা কষ্ট দেওয়া হলে সারাদিন ওই ভাবেই দিন কাটবে। এমনটি ধারণা করাও ভিত্তিহীন এবং শরীয়ত পরিপন্থী কাজ।

চড়ুই পাখি পানিতে গোসল করার কারণে বৃষ্টির লক্ষণ মনে করা। তেমনিভাবে ময়ূরের ডাককে বৃষ্টির লক্ষণ মনে করাটাও ভিত্তিহীন।

অনেকে ধূমকেতুর আগমনে অশুভ মনে করে। তারা বলে এই তারকা উদ্ভাসিত হলে মানুষের উপর বালা মুসিবত আসে এবং দেশের যুদ্ধ বেধে যায়। এই কথাটা একেবারেই ভিত্তিহীন এবং ভুল শরীয়তে এসব ধারণাকে ভ্রান্ত বলা হয়েছে।

গোধূলির সময় মোরগ ডাকলে তা জবাই করার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মাঝে প্রসিদ্ধ। তারা মনে করে এই সমযের মোরগের ডাক অশুভ। এর দ্বারা মহামারী ছড়ায়। এমনকি মোরগ আযান দিলেও অমঙ্গল মনে করে জবাই করে ফেলে। এটা ভিত্তিহীন এবং কুসংস্কার।

অনেকে মনে মনে দিনের বেলায় কাহিনী বললে মুসাফির রাস্তা ভুলে যায়। এমন ধারণা করে থাকে। এসব কথা মনগড়া ও ভিত্তিহীন। এ ধরনের বিশ্বাস থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে।

কাউকে গালি দেওয়ার কারনে চল্লিশ দিন পর্যন্ত ঈমান শূন্য থাকে। এই সময়ের মধ্যে মৃত্যু হলে বেইমান অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। এরকম ধারণা করা ভুল এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

অনেক মানুষ ধারণা করে থাকে যে, আসর মাগরিবের মধ্যবর্তী সমযে খাওয়া দেওয়া নিষেধ। আসর মাগরিব এর মধ্যবর্তী সমযে খাওয়া দাওয়া না করার কারণে রোজার সওয়াব পাওয়া যায়। এইসব কথা মন গড়া এবং ভিত্তিহীন। এ সমস্ত কথারও কোন দলিল প্রমাণ পাওয়া যায় না (আপকে মাসাইল আওর উনকা হল:১/৩৫৮)

যে মহিলার বাচ্চা মারা যায় এমন মহিলার নিকট যেতে এবং ওঠা বসা করতে অনেক মহিলা বাধা দেয় এবং বলে যে, বাচ্চা মরে যাওয়ার পরে রোগ অন্যের দিকে সংক্রমিত হতে পারে। এটা জঘন্যতম খারাপ কাজ। শরীয়তে এ কথার কোন ভিত্তি নেই এবং এটি একটি মারাত্মক গুনাহ (আগলাতুল আওয়াম:২৬)

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 কথার ক্ষেত্রে এমন ভুল যা আকিদায় প্রভাব ফেলে

📄 কথার ক্ষেত্রে এমন ভুল যা আকিদায় প্রভাব ফেলে


বিয়ের পরে কোন কোন মানুষকে এমন কথা বলতে শোনা যায় যে, এখন বাচ্চা নিব না। কয়েক বছর পর বাচ্চা নিব।
বাচ্চা নিব না বলার কারনে তাদের উদ্দেশ্য থাকে যে, তারা এমন কোন ঔষধ ব্যবহার করবে কিংবা এমন কোন পদ্ধতি অবলম্বন করবে যা সাধারণত গর্ভে বাচ্চা আসতে বাধা প্রদান করে থাকে। এ প্রসঙ্গে প্রথম কথা হল শরীয়ত সম্মত কোন ওজর কিংবা কোন সমস্যা ছাড়া এরূপ করা ঠিক নয়। তাছাড়া এসব করলেও তা কারো কাছে বলার মতো বিষয় নয়। কিন্তু এর চেয়েও মারাত্মক ব্যাপার হলো তাদের একথা বলা যে, আমি বাচ্চা নিব না। যেন বাচ্চা হওয়া আর না হওয়া তাদের নিজের আয়ত্তে। অথচ প্রত্যেক মুসলমানের একথা জানে যে, এটা সম্পূর্ণ আল্লাহ তাআলার কুদরতের অধীনে। স্বামী-স্ত্রী যদি গর্ভসঞ্চারে বাধাদানকারী কোন কিছু অবলম্বন করে আর হাজারো চেষ্টা করে তবুও অনেক সময় দেখা যায় গর্ভসঞ্চার হয় না হলেও স্থায়ী হয় না। হলেও জীবিত ভূমিষ্ঠ হয় না। আর জীবিত ভূমিষ্ঠ হলেও ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর মারা যায়। পক্ষান্তরে গর্ভ বাধাদানকারী কোন ওষুধ কিংবা কোন পদ্ধতি অবলম্বনের পরেও আল্লাহ তায়ালার হুকুমে বাচ্চা হয়ে যায়। কেননা আল্লাহ তা'আলা যে ভাগ্যলিপি লিখে রেখেছেন তা ঠেকানোর মতো নেই এবং যা সেখানে মঞ্জুরিত নয় তা পাওয়ারও কোনো পথ নেই। আল্লাহ রাব্বল আলামিন এরশাদ করেন,
الله ملك السموات والأرض يخلق ما يشاء يهب لمن يشاء إناثا ويهب لمن يشاء الذكور أو يزوجهم ذكرانا وإناثا ويجعل من يشاء عقيما إنه عليم قدير -
অর্থ- নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব একমাত্র আল্লাহ তাআলারই। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা মেয়ে দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা ছেলে দান করেন অথবা তাদেরকে ছেলে মেয়ে উভয়টি দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাশীল। (সুরা শুরা:৪৯-৫০)

আল্লাহ তাআলা অপর জায়গায় আরো এরশাদ করেন,
مَا يَفْتَحِ اللّٰهُ لِلنَّاسِ مِنْ رَّحْمَةٍ فَلَا مُمْسِكَ لَهَا ۖ وَمَا يُمْسِكْ فَلَا مُرْسِلَ لَهٗ مِنْ بَعْدِهٖ ۚ وَهُوَ الْعَزِيْزُ الْحَكِيْمُ
অর্থ আল্লাহ মানুষের জন্য যে রহমত খুলে দেন তা ঠেকানোর মতো কেউ নেই এবং তিনি যা ঠেকিয়ে দেন তা তিনি ব্যতীত কোন প্রেরণকারী নেই। তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়। (সুরা ফাতির:২)

হাদীস শরীফে আছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আজল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি ইরশাদ করেন, তা তোমরা কেন করতে যাবে? কেননা যত প্রাণী সৃষ্টি হবার তা তো আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করবেনই (সহীহ মুসলিম: হাদিস নং:১৪৩৮)

তিনি আরো ইরশাদ করেন, যে পানি থেকে সন্তান হওয়ার তা যদি পাথরেও ফেল তার থেকেও আল্লাহ তাআলা সন্তান সৃষ্টি করবেন। আল্লাহ তায়ালা যত প্রাণী সৃষ্টি করার তা তিনি সৃষ্টি করেই থাকেন। (মুসনাদে আহমদ:৩/১৪০)
মোটকথা যে জিনিস বান্দার হাতে নেই; বরং তার সম্পর্ক শুধুমাত্র তাকদীরের সাথে এবং আল্লাহ তায়ালার কুদরতের সাথে সে ব্যাপারে এরূপ শব্দব্যবহার করা যা দ্বারা এমন সন্দেহ সৃষ্টি হয় যে, তা যেন বান্দার আয়ত্তে। এরূপ আচরণ কোন মুমিনের জন্য বৈধ নয়। তাই এ ধরনের কথা পরিহারযোগ্য এবং এ ধরনের কথাবার্তা থেকে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে。

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে মান্নত করার আকিদা

📄 আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে মান্নত করার আকিদা


আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে মান্নত করা হারাম। কেননা মান্নত হলো ইবাদতের একটি অংশ। যেভাবে আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কারো নামে ইবাদত করা হারাম এমনিভাবে আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কোন বান্দার নামে মান্নত করাও হারাম এবং নাজায়েজ। বিখ্যাত ফকীহ আল্লামা শামী বলেন যে, অধিকাংশ সময় সাধারণ লোকের পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তির নামে মানত করা হয় এবং পীর বুজুর্গের নৈকট্য লাভের জন্য তাদের মাজারে টাকা পয়সা এবং মোমবাতি আনা হয়, সর্বসম্মতিক্রমে এটা নাজায়েজ এবং হারাম। (ফতোয়ায়ে শামী:২/৪৩৯)

অতএব আল্লাহ ছাড়াঅন্য কারো নামে মান্নত করা এবং তা পূরণ করা উভয়টাই নাজায়েজ এবং বড় গুনাহের কাজ। আর ফুকাহায়ে কেরাম স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, গুনাহের মান্নত করা সঠিক নয় এবং তা পূরণ করা আবশ্যক নয়; বরং তার জন্য তওবা করা আবশ্যক। তাই আমাদের মানত করার ক্ষেত্রে এই সমস্ত বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে মান্নত করা যাবে না。

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে মান্নত কৃত জিনিসের বিধান

📄 আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে মান্নত কৃত জিনিসের বিধান


আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য কোন জিনিসের মান্নত করে যদি তা পূর্ণ করা হয় তবে সেটি হারাম হয়ে যায়। কারো জন্য তা ব্যবহার করা নাজায়েজ। কিন্তু জিনিসটি যদি আসল অবস্থায় উপস্থিত থাকে তাহলে যে ব্যক্তি মান্নত করেছে তার জন্য তওবা-ইস্তেগফার করে মান্নতকৃত জিনিসকে নেওয়া জায়েজ এবং বৈধ। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে যে জীবজন্তুর ছাড়া হয় সেগুলোর বিধান একই। যদি জন্তুটি জবাই করা হয় তাহলে হালাল হওয়ার আর কোন পদ্ধতি নেই। আর যদি বিসমিল্লাহির শহীদ জবাই করা হয় তবুও সর্বদা হারাম থাকবে। (ইখতিলাফে উম্মত:৭২)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00