📄 পাথরের প্রভাব বিষয়ে আকীদা
মনি-মুক্তা, হীরা-পান্না, আতিক ইত্যাদি পাথর ও রত্ন মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এরূপ বিশ্বাস করা মুশরিকদের কাজ। মুসলমানদের কাজ নয়। অনেক মুসলমানকে দেখা যায় যে, বিভিন্ন জায়গা থেকে মূল্যবান পাথর ক্রয় করে এনে আংটিতে তা ব্যবহার করে এবং বিভিন্ন ধরনের খারাপ আকীদা পোষণ করে। এ সকল আক্বীদা থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক। কারণ কোন পাথরের, বা কোন মণি-মুক্তার এমন কোনো ক্ষমতা নেই যে, তার দ্বারা সে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এরূপ বিশ্বাস রাখা কোন মুসলমানদের উচিত নয়। তাই আমাদের এসব বিশ্বাস থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
📄 বদনযর থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে যানবাহনে, ফসলের ক্ষেতে, বাছুরের গলায় জুতা-স্যান্ডেল ঝুলিয়ে রাখা
বিভিন্ন যানবাহনের পেছনে দেখা যায়, একটি পুরনো জুতা/স্যান্ডেল ঝুলছে। তেমনি গ্রামে দেখা যায়, বাছুরের গলায় জুতা-স্যান্ডেলের টুকরা ঝুলছে কিংবা ফসলের ক্ষেতে জুতা ঝুলানো রয়েছে। এটি করা হয় বদনযর থেকে হেফাযতের জন্য। মনে করা হয়, এগুলো বদনযর থেকে রক্ষা করে। এমনটি করলে মানুষের বদনযর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।
এটি একটি ভুল প্রথা। এমনটি করা যাবে না। হাদীস শরীফে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। আব্বাদ ইবনে তামীম রাহ. বলেন, আবু বশীর আনসারী রা. তাকে বলেছেন, তিনি একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কোনো এক সফরে ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করলেন-
لَا يَبْقَيَنَ فِي رَقَبَةِ بَعِيرٍ قِلَادَةٌ مِنْ وَتَرٍ أَوْ قِلَادَةً إِلَّا قُطِعَتْ قَالَ مَالِكَ : أُرَى ذَلِكَ مِنَ الْعَيْنِ
কোনো উটের গলায় (ধনুকের) তারের 'কিলাদা' (মালা) থাকলে তা যেন কেটে ফেলা হয়।
বর্ণনাকারী বলেন, অথবা নবীজী শুধু 'কিলাদা' শব্দ বলেছেন।
মালেক রাহ. বলেন, আমার ধারণা, এখানে 'কিলাদা' দ্বারা উদ্দেশ্য, বদনযর থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে যে কিলাদা পরানো হয়। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১১৫
জাহেলী যুগে মানুষের বিশ্বাস ছিল, এসকল কিলাদা বদনযর বা ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। ফলে নবীজী এগুলো ছিঁড়ে ফেলতে বলেছেন। কারণ, এটি একটি শিরকী বিশ্বাস।
📄 হাতের রেখা দেখে ভাগ্যের বিষয় সম্পর্কিত আকিদা
হাতের রেখা দেখে বিচার বিদ্যার মাধ্যমে হাতের রেখা ইত্যাদি দেখে ভাগ্যের বিষয় ও ভবিষ্যতের শুভ-অশুভ সম্পর্কে বিশ্লেষণ করা হয়। বড় বড় বাজারে, শহরে, রাস্তাঘাটে কতিপয় লোকদের এরকম আবির্ভাব দেখা যায়। বিভিন্ন ধরনের মানুষ তাদের নিকট গিয়ে তাদের ভাগ্য সম্পর্কে জানতে চায়। এসকল লোকেরা সেখানে বসে বসে আগত লোকদের হাতের রেখা দেখে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে থাকেন। ইসলামে এ ধরনের ভন্ডামীর কোন স্থান নেই। এরূপ বিশ্বাস রাখা কুফুরী। তাই আমাদের এসব বিশ্বাস থেকে ফিরে আসতে হবে। (রাহে সুন্নাত ২৮৭)
📄 আকিদার ভ্রষ্টতা সমূহ
কারো অনুপস্থিতিতে তার আলোচনা করার সময় কিংবা কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তি উপস্থিত হলে বলা হয় যে, তুমি দীর্ঘ হায়াত লাভ করবে। তোমার অনেক হায়াত। আমরা মাত্র তোমার আলোচনাই করতেছিলাম। শরীয়তে এমন কথার কোন ভিত্তি নেই।
যখন হাঁচি আসে তখন ওই লোককে কবর স্মরণ করে অথবা অন্য কোন লোক তার কথা স্মরণ করে এরূপ যে কথা প্রসিদ্ধ রয়েছে তা ভুল। হাঁচি আসার কারণে এমনটি হযে থাকে এ ধারণা করা ঠিক নয়।
রাতের বেলায় কুকুরের শব্দ শুনে অনেকে মনে করে যে, আগামীকাল এলাকায় কারো মৃত্যু সংঘটিত হবে। এটাও ভিত্তিহীন আক্বীদা এবং শরীয়ত পরিপন্থী একটি কাজ।
অনেক মানুষের মনে করে থাকে সকালে কাউকে গালি দেওয়া বা আঘাত করা কিংবা কষ্ট দেওয়া হলে সারাদিন ওই ভাবেই দিন কাটবে। এমনটি ধারণা করাও ভিত্তিহীন এবং শরীয়ত পরিপন্থী কাজ।
চড়ুই পাখি পানিতে গোসল করার কারণে বৃষ্টির লক্ষণ মনে করা। তেমনিভাবে ময়ূরের ডাককে বৃষ্টির লক্ষণ মনে করাটাও ভিত্তিহীন।
অনেকে ধূমকেতুর আগমনে অশুভ মনে করে। তারা বলে এই তারকা উদ্ভাসিত হলে মানুষের উপর বালা মুসিবত আসে এবং দেশের যুদ্ধ বেধে যায়। এই কথাটা একেবারেই ভিত্তিহীন এবং ভুল শরীয়তে এসব ধারণাকে ভ্রান্ত বলা হয়েছে।
গোধূলির সময় মোরগ ডাকলে তা জবাই করার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মাঝে প্রসিদ্ধ। তারা মনে করে এই সমযের মোরগের ডাক অশুভ। এর দ্বারা মহামারী ছড়ায়। এমনকি মোরগ আযান দিলেও অমঙ্গল মনে করে জবাই করে ফেলে। এটা ভিত্তিহীন এবং কুসংস্কার।
অনেকে মনে মনে দিনের বেলায় কাহিনী বললে মুসাফির রাস্তা ভুলে যায়। এমন ধারণা করে থাকে। এসব কথা মনগড়া ও ভিত্তিহীন। এ ধরনের বিশ্বাস থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে।
কাউকে গালি দেওয়ার কারনে চল্লিশ দিন পর্যন্ত ঈমান শূন্য থাকে। এই সময়ের মধ্যে মৃত্যু হলে বেইমান অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। এরকম ধারণা করা ভুল এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
অনেক মানুষ ধারণা করে থাকে যে, আসর মাগরিবের মধ্যবর্তী সমযে খাওয়া দেওয়া নিষেধ। আসর মাগরিব এর মধ্যবর্তী সমযে খাওয়া দাওয়া না করার কারণে রোজার সওয়াব পাওয়া যায়। এইসব কথা মন গড়া এবং ভিত্তিহীন। এ সমস্ত কথারও কোন দলিল প্রমাণ পাওয়া যায় না (আপকে মাসাইল আওর উনকা হল:১/৩৫৮)
যে মহিলার বাচ্চা মারা যায় এমন মহিলার নিকট যেতে এবং ওঠা বসা করতে অনেক মহিলা বাধা দেয় এবং বলে যে, বাচ্চা মরে যাওয়ার পরে রোগ অন্যের দিকে সংক্রমিত হতে পারে। এটা জঘন্যতম খারাপ কাজ। শরীয়তে এ কথার কোন ভিত্তি নেই এবং এটি একটি মারাত্মক গুনাহ (আগলাতুল আওয়াম:২৬)