📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 নামায না পড়লে কী হয়েছে, ঈমান ঠিক আছে!

📄 নামায না পড়লে কী হয়েছে, ঈমান ঠিক আছে!


কোনো মুমিন নামায তরক করতে পারে না। নামায পরিত্যাগ করা কবীরা গুনাহ। কিছু মানুষ নিজের এ অন্যায় ঢাকতে একটি বাক্যের আশ্রয় নেয়- নামায না পড়লে কী হয়েছে, ঈমান ঠিক আছে!

এটি একটি জাহেলী বাক্য; শয়তানের বানানো বাক্য, যা দ্বারা সে মুমিনকে ধোঁকায় ফেলে রাখে। কোনো মুমিন এমন কথা বলতে পারে না। যার ঈমান ঠিক আছে সে কি নামায তরক করতে পারে? ঈমানের প্রধান আলামতই তো হল নামায। নামাযই ঈমান-কুফরের পার্থক্যরেখা। হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে-
بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلَاةِ
ব্যক্তি ও শিরক-কুফরের মাঝের পার্থক্যরেখা হল, নামায। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮২

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা.-কে জিজ্ঞাসা করা হল-
مَا كَانَ يُفَرِّقُ بَيْنَ الْكُفْرِ وَالْإِيمَانِ عِنْدَكُمْ مِنَ الْأَعْمَالِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ؟ قَالَ : الصَّلَاةُ.
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে আপনাদের কাছে কোন্ জিনিস ঈমান ও কুফরের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী ছিল? তিনি বললেন, নামায। -শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ, বর্ণনা ১৫৩৮

সুতরাং আমরা নামাযের প্রতি যত্নবান হব; কখনো নামায পরিত্যাগ করব না এবং এজাতীয় শয়তানী ধোঁকার বাক্য মুখে আনব না।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 পাথরের প্রভাব বিষয়ে আকীদা

📄 পাথরের প্রভাব বিষয়ে আকীদা


মনি-মুক্তা, হীরা-পান্না, আতিক ইত্যাদি পাথর ও রত্ন মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এরূপ বিশ্বাস করা মুশরিকদের কাজ। মুসলমানদের কাজ নয়। অনেক মুসলমানকে দেখা যায় যে, বিভিন্ন জায়গা থেকে মূল্যবান পাথর ক্রয় করে এনে আংটিতে তা ব্যবহার করে এবং বিভিন্ন ধরনের খারাপ আকীদা পোষণ করে। এ সকল আক্বীদা থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক। কারণ কোন পাথরের, বা কোন মণি-মুক্তার এমন কোনো ক্ষমতা নেই যে, তার দ্বারা সে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এরূপ বিশ্বাস রাখা কোন মুসলমানদের উচিত নয়। তাই আমাদের এসব বিশ্বাস থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 বদনযর থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে যানবাহনে, ফসলের ক্ষেতে, বাছুরের গলায় জুতা-স্যান্ডেল ঝুলিয়ে রাখা

📄 বদনযর থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে যানবাহনে, ফসলের ক্ষেতে, বাছুরের গলায় জুতা-স্যান্ডেল ঝুলিয়ে রাখা


বিভিন্ন যানবাহনের পেছনে দেখা যায়, একটি পুরনো জুতা/স্যান্ডেল ঝুলছে। তেমনি গ্রামে দেখা যায়, বাছুরের গলায় জুতা-স্যান্ডেলের টুকরা ঝুলছে কিংবা ফসলের ক্ষেতে জুতা ঝুলানো রয়েছে। এটি করা হয় বদনযর থেকে হেফাযতের জন্য। মনে করা হয়, এগুলো বদনযর থেকে রক্ষা করে। এমনটি করলে মানুষের বদনযর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।

এটি একটি ভুল প্রথা। এমনটি করা যাবে না। হাদীস শরীফে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। আব্বাদ ইবনে তামীম রাহ. বলেন, আবু বশীর আনসারী রা. তাকে বলেছেন, তিনি একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কোনো এক সফরে ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করলেন-
لَا يَبْقَيَنَ فِي رَقَبَةِ بَعِيرٍ قِلَادَةٌ مِنْ وَتَرٍ أَوْ قِلَادَةً إِلَّا قُطِعَتْ قَالَ مَالِكَ : أُرَى ذَلِكَ مِنَ الْعَيْنِ
কোনো উটের গলায় (ধনুকের) তারের 'কিলাদা' (মালা) থাকলে তা যেন কেটে ফেলা হয়।
বর্ণনাকারী বলেন, অথবা নবীজী শুধু 'কিলাদা' শব্দ বলেছেন।
মালেক রাহ. বলেন, আমার ধারণা, এখানে 'কিলাদা' দ্বারা উদ্দেশ্য, বদনযর থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে যে কিলাদা পরানো হয়। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১১৫

জাহেলী যুগে মানুষের বিশ্বাস ছিল, এসকল কিলাদা বদনযর বা ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। ফলে নবীজী এগুলো ছিঁড়ে ফেলতে বলেছেন। কারণ, এটি একটি শিরকী বিশ্বাস।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 হাতের রেখা দেখে ভাগ্যের বিষয় সম্পর্কিত আকিদা

📄 হাতের রেখা দেখে ভাগ্যের বিষয় সম্পর্কিত আকিদা


হাতের রেখা দেখে বিচার বিদ্যার মাধ্যমে হাতের রেখা ইত্যাদি দেখে ভাগ্যের বিষয় ও ভবিষ্যতের শুভ-অশুভ সম্পর্কে বিশ্লেষণ করা হয়। বড় বড় বাজারে, শহরে, রাস্তাঘাটে কতিপয় লোকদের এরকম আবির্ভাব দেখা যায়। বিভিন্ন ধরনের মানুষ তাদের নিকট গিয়ে তাদের ভাগ্য সম্পর্কে জানতে চায়। এসকল লোকেরা সেখানে বসে বসে আগত লোকদের হাতের রেখা দেখে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে থাকেন। ইসলামে এ ধরনের ভন্ডামীর কোন স্থান নেই। এরূপ বিশ্বাস রাখা কুফুরী। তাই আমাদের এসব বিশ্বাস থেকে ফিরে আসতে হবে। (রাহে সুন্নাত ২৮৭)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00