📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ৭. মৃতদেরকে জীবিত করার ক্ষমতা

📄 ৭. মৃতদেরকে জীবিত করার ক্ষমতা


আর মৃতদেরকে জীবিত করাতে তাদের ক্ষমতা থাকাটাও তাদের পূর্ববর্তী উপকথাতে রয়েছে এবং তারা তাদের পিতৃপুরুষদেরকে এগুলো বিশ্বাসী অবস্থাতে পেয়েছে। সেই ঘটনাগুলো হলো, 'সায়্যেদ হযরত আহমাদ একবার রাস্তা দিয়ে পার হচ্ছিল। পথিমধ্যে সে দেখলো যে, একটি হাতি মরে আছে, আর মানুষজন তার চারপাশে দাঁড়িয়ে আছে। তখন সে তাদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো যে, কী হয়েছে? তারা বললো, হাতিটি মারা গেছে। তখন সে বললো যে, এর সূড় ঠিক রয়েছে, চোখ দুটিই ঠিক রয়েছে। অনুরূপভাবে তার দুই হাত ও দুই পাও ঠিক রয়েছে, তাহলে সে কিভাবে মারা যেতে পারে? এই কথা বলার সাথে সাথেই হাতিটি নড়াচড়া করে জীবিত হয়ে দাঁড়িয়ে গেল।

অনুরূপভাবে আরো বর্ণিত হয়েছে যে, 'শাইখ জীলানী একবার এক চিলের দিকে রাগের দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল। এতেই সেই চিল মরে পড়ে গিয়েছিল। তারপর শাইখ জীলানী সেই চিলকে স্পর্শ করার সাথে সাথে সে আবার জীবিত হয়ে উড়ে যায়।

এই সম্প্রদায়ের লোকদের আশ্চর্যকর বিষয় হলো, তারা এমন কল্পকাহিনী বর্ণনা করে, যেগুলো বিবেক গ্রহণ করে না এবং মানুষের চিন্তা ভাবনা সেগুলোকে অবজ্ঞা করে। সেসব ঘটনাগুলোর মধ্যে আছে, 'আল্লাহর দুই ওলী নদীর দুই পাশে বসবাস করতো। একবার একজন এক ধরনের দুগ্ধজাত খাবার রান্না করে অপর জনের কাছে পাঠাতে চাইলো। তাই সে তার খাদেমকে বললো যে, তুমি এই খাবার নিয়ে আমার সেই বন্ধুর কাছে যাও। তখন খাদেম বললো, আমি কিভাবে নদী পার হবো, অথচ আমার কাছে নদী পার হওয়ার মতো নৌকা বা এমন কিছুই নাই। তখন ওলী বললো, তুমি নদীর কাছে গিয়ে তাকে বলো যে, আমি এমন এক ব্যক্তির নিকট থেকে এসেছি, যে এখনো তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করেনি। তখন সেই খাদেম আশ্চর্য হয়ে গেল এবং দিশেহারা হয়ে গেল। কারণ তার শায়খের অনেক সন্তান ছিল। তারপর খাদেম নদীর কাছে এসে তার শাইখ যা বলেছে তাই বললো, এতে নদী বিদীর্ণ হয়ে গেল। আর সেই খাদেম নিরাপদে নদী পার হয়ে গেল। তারপর সে খাবারটি অপর ওলীকে দিল। তখন সেই ওলী খাবার খেয়ে তার জন্য কল্যাণের দুআ করলো। আর বললো, তোমার ওস্তাদকে আমার পক্ষ থেকে সালাম দিও। তখন খাদেম তাকে বললো যে, আমি সেখানে গিয়ে আপনার পক্ষ থেকে তাকে সালাম দিবো? তাহলে কিভাবে আমি সেখানে পৌঁছাবো, অথচ আমার ও তার মাঝে এই নদী রয়েছে? তখন ওলী বললো, তুমি নদীর কাছে গিয়ে বলো যে, আমি এমন এক ব্যক্তির নিকট থেকে আসলাম, যে ত্রিশ বছর ধরে কোনো খাবার খায়নি। এতে তার দিশেহারা আরো বেড়ে গেল। কেননা সে এখনই তাকে খাবার খেতে দেখলো, যেই খাবার সে নিজেই নিয়ে আসলো। তারপর তার চিঠি নদীর কাছে পৌঁছাতেই খাদেমের জন্য নদী বিদীর্ণ হয়ে রাস্তা তৈরি হয়ে গেল।

তারা যেসব আশ্চর্য ঘটনাগুলো বর্ণনা করেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, 'ইয়াহইয়া আল-মুনীরীর এক মুরীদ সাগরে পড়ে গিয়ে প্রায় ডুবে যাচ্ছিল। তখন খিযির আলাইহিস সালাম উপস্থিত হয়ে তাকে বললেন যে, তোমার হাত আমার হাতের ওপর রাখো, আমি তোমাকে উদ্ধার করবো। তখন মুরীদ সতর্ক হয়ে বললো যে, হে আমার সায়্যেদ! আমার এই হাত তো মুনীরীর হাতের ওপর রয়েছে। সুতরাং কখনোই আমি তার হাত ছেড়ে অন্য হাত ধরবো না। এই কথা বলার সাথে সাথেই খিযির আলাইহিস সালাম অদৃশ্য হয়ে গেল এবং মুনীরী উপস্থিত হলো। এবং সে তার হাত ধরে তাকে ডুবা থেকে উদ্ধার করলো।

এই ধরনের ঘটনাগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে, 'বিশর আল-হাফী কখনো জুতা পরতো না, এজন্যই তাকে হাফী নামে নামকরণ করা হয়েছিল। তার সম্মান ও মর্যদার অন্তর্ভুক্ত হলো, যখন সে যেই রাস্তা দিয়ে হাঁটতো, সেই রাস্তাতে পশুরা পেশাব পায়খানা করতো না, যাতে করে হাফীর পা নোংরা হয়ে না যায়। হাফী যেই রাস্তা দিয়ে চলতো, সেই রাস্তাতে কোনো একদিন এক ব্যক্তি পেশাব পায়খানা দেখে বলে উঠলো, 'ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন'। তাকে এই ধরনের কথা বলার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে সে উত্তর দিলো যে, এটি প্রমাণ করে যে, বিশর আল-হাফী মৃত্যুবরণ করেছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল যে, লোকটি যা বলেছে তাই সত্য।

টিকাঃ
৪২৭. (হিকায়াতু রিযভীয়্যাহ, ৭১ পৃ.)
৪২৮. বাগিন ফিরদাউস লিল বেরেলভী, ২৭ পৃ.
৪২৯. মালফুযাত লিল বেরেলভীয়‍্যাহ, ৫৩ পৃ.
৪৩০. মালফুযাত লিল বেরেলভীয়্যাহ, ১৬৪ পৃ.
৪৩১. হিকায়াতু রিযভীয়‍্যাহ, ১৭২ পৃ.

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ৮. জাহান্নামীদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করতে পারে এবং যাদের আযাব হচ্ছে তাদেরকে আযাব হতে নাজাত দিতে পারে

📄 ৮. জাহান্নামীদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করতে পারে এবং যাদের আযাব হচ্ছে তাদেরকে আযাব হতে নাজাত দিতে পারে


এছাড়াও ওলী আউলিয়াদের এই ক্ষমতা (তাদের ধারণা) রয়েছে যে, তারা জাহান্নামীদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করতে পারে এবং যাদের আযাব হচ্ছে তাদেরকে আযাব হতে নাজাত দিতে পারে। এর দলীল হলো, সায়্যেদ ইসমাইল হাযরামী একদা অনেকগুলো কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তার সাথে ইমাম মুহিবুদ্দীন তাবারীও ছিল। সায়্যেদ হাযরামী তাকে বললো, তুমি কি বিশ্বাস করো যে, কবরবাসীরাও জীবিতদের সাথে কথা বলে? মুহিবুদ্দীন তাবারী বললো যে, হ্যাঁ, আমি তা বিশ্বাস করি। তখন সায়্যেদ হাযরামী বললো, এই কবরবাসী আমাকে বলছিল যে, আমি জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত। তারপর সে চল্লিশের বেশি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদতে শুরু করলো, এমনকি সূর্য উদিত হয়ে গেল ও দিনের আলো প্রকাশিত হলো। তারপর সে হেসে বললো যে, তুমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত। এটা কি ও কী ঘটনা ঘটলো তা সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে সে বললো, এই কবরবাসীদের আযাব দেওয়া হচ্ছিল। তখন আমি কান্না করছিলাম এবং তাদের জন্য সুপারিশ করছিলাম। এমনকি শেষ পর্যন্ত আমার সুপারিশ কবুল করা হলো এবং তাদের আযাব মাফ করা হলো। কিন্তু এক পাশে একটি কবর ছিল, সেদিকে আমি খেয়াল করিনি। তারপর আমি শুনলাম যে, এক মহিলা আমাকে বলছে যে, আপনি কেন আমাকে আপনার শাফায়াত থেকে বঞ্চিত করলেন অথচ আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। আমি অমুক গায়িকা ছিলাম। আপনি শুধু তাদের জন্য সুপারিশ করলেন, কিন্তু কেন আমার জন্য সুপারিশ করলেন না? তার এই কথা শুনে আমি হেসে ফেললাম। তখন আমি বললাম যে, তুমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত এবং তার কবরের আযাবও মাফ করে দেওয়া হলো।

বেরেলভী লিখেছে যে, এক যুবক ইবনু আরাবীর মাজলিশে বসে কান্না করছিল। ইবনু আরাবী তাকে জিজ্ঞেস করলো যে, কিসে তোমাকে কাঁদাচ্ছে? সে বললো, আমি আধ্যাত্মিক অনুপ্রেরণার মাধ্যমে জেনেছি যে, আমার মাকে আযাব দেওয়া হচ্ছে এবং জাহান্নামের ফেরেশতারা আমার মাকে জাহান্নামের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। তখন ইবনু আরাবী বললো, আমার নিকটে কিছু ওযীফার সওয়াব বিদ্যমান ছিল। তখন আমি মনে মনে বললাম যে, আমি সেই সওয়াবগুলো মহিলাটিকে দিয়ে দিবো। তখন সেই যুবক হাসতে শুরু করলো। তাকে বলা হলো যে, কী এমন হলো যে, তোমার কান্না থেমে গেল এবং তুমি হাসতে শুরু করলে। তখন সে বললো, আমি আযাবের ফেরেশতাদেরকে দেখলাম যে, তারা আমার মাকে ছেড়ে দিচ্ছে এবং রহমতের ফেরেশতারা আমার মাকে নিয়ে জান্নাতে নিয়ে যাচ্ছে।

এর পরে কি আর কোনো দলীল প্রমাণের প্রয়োজন আছে? অর্থাৎ এই ধরনের নিশ্চিত দলীল প্রমাণের পরে? কিন্তু যে ব্যক্তি এর পরেও দলীল চাইবে, সে হলো ওয়াহাবী কাফের। আমরা এই ধরনের দুর্বল বিবেক ও অসুস্থ অন্তর থেকে আল্লাহ তা'আলার কাছে আশ্রয় চাই, যেই অন্তরে শয়তান প্রভাব বিস্তার করেছে এবং তাকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে দিয়েছে।

টিকাঃ
৪৩২. মালফুযাত লিল বেরেলভীয়‍্যাহ, ৫৭-৫৮ পৃ.
৪৩৩. মালফুযাত লিল বেরেলভীয়্যাহ, ৪৮ পৃ.

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ৯. অদ্ভুত ও আশ্চর্যজনক কাহিনী

📄 ৯. অদ্ভুত ও আশ্চর্যজনক কাহিনী


তারা যেসব অদ্ভুত ও আশ্চর্যজনক কাহিনীগুলো বর্ণনা করে, সেগুলো এমন কাহিনী যা মানুষকে আল্লাহ থেকে বিমুখ করে, তাদেরকে আল্লাহ ছাড়া অন্যের দিকে পরিচালিত করে এবং তাদেরকে জানায় যে, আল্লাহ তা'আলার কোনো ক্ষমতা, ইচ্ছা ও শক্তি নাই। বরং এই সবগুলোই ওলী আউলিয়া ও সৎ লোকদের নিকট স্থানান্তরিত হয়ে গেছে। তাদের হাতেই সকল কিছু রয়েছে। সুতরাং একমাত্র তাদের কাছেই সাহায্য চাইতে হবে। তাদের হাতে ছাড়া কোনো নাজাত নেই। এর সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো, যা বেরেলভী নিজেই বর্ণনা করেছে। সেটি হলো, বায়েজিদ বোস্তামী দজলা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আল্লাহর নাম স্মরণ করে তাতে নেমে পড়ে এবং যমীনে হাঁটার মতোই নদীর পানির ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। এক ব্যক্তি তাকে দেখলো। আর সেও দজলা নদী পাড়ি দিতে চাইছিল। তাই সেও নদীতে নেমে পড়লো এবং বায়েজিদের পিছন পিছন হাঁটছিল ও তার নাম উচ্চরণ করছিল। তারপর সে বায়েজিদের কাছে এসে দেখলো যে, বায়েজিদ আল্লাহর নাম উচ্চারণ করছে। তখন সেও তার অনুসরণ করে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে লাগলো। আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতেই সে নদীতে ডুবতে শুরু করলো। তখন বায়েজিদ তার দিকে দৃষ্টি দিল। তারপর বায়েজিদ তাকে বললো যে, তুমি আল্লাহর নাম নয়, বরং আমার নাম উচ্চারণ করো। তুমি কিভাবে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা ও আমার নাম পরিত্যাগ করার দুঃসাহসিকতা দেখালে? তখন সেই ব্যক্তি বললো যে, আমি আপনাকে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে দেখলাম, তাই আমিও আল্লাহর নাম উচ্চারণ করলাম। বায়েজিদ বললো যে, তুমি কি আমার স্তরে পৌঁছাতে পেরেছো যে, তুমি আল্লাহর কাছে পৌঁছাবে? তখন সেই ব্যক্তি বায়েজিদের নাম উচ্চারণ করতে লাগলো, এতেই সে ডুবে যাওয়া থেকে নাজাত পেল এবং যমীনের ওপরে রাস্তাতে হাঁটার মতোই পানির ওপর দিয়ে হাঁটতে শুরু করলো।

টিকাঃ
৪৩৪. মালফুযাত লিল বেরেলভীয়‍্যাহ, ৫২-৫৩ পৃ.

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ১০. উপসংহার

📄 ১০. উপসংহার


শত শত ও হাজার হাজার ঘটনা থেকে একটি ঘটনা বর্ণনা করার মাধ্যমে আমরা এই অধ্যায় শেষ করবো, যার ওপর বেরেলভী সম্প্রদায়ের দীন প্রতিষ্ঠিত, এর ওপরই তারা তাদের শরীআতকে নির্মাণ করেছে এবং এগুলোকেই দীন ও দুনিয়াতে তারা তাদের দলীল প্রমাণ বানিয়েছে। তারা কতই না ক্ষতি ও লোকসানের মধ্যে রয়েছে! বেরেলভী নিজেই বলেছে, এক জ্ঞানী ব্যক্তি তার জন্য শাইখ ও কামেল পথপ্রদর্শক খুঁজছিল, কিন্তু তার সন্ধান পাচ্ছিল না। তাই সে এক রাতে আল্লাহ তা'আলাকে বললো যে, আপনার গৌরব ও মর্যাদার কসম! আগামীকাল সূর্য উঠার পরে সর্বপ্রথম আমি যেই লোকের সাথে সাক্ষাত করবো, তার কাছেই বায়আত করবো। সকাল হলে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তাতে দাঁড়িয়ে প্রথম আগমনকারী ব্যক্তির অপেক্ষা করতে লাগলো। তখন এক চোর চুরি করা সম্পদ বহন করে আনছিল। তখন সেই জ্ঞানী ব্যক্তি দ্রুত তার কাছে গিয়ে তার হাত ধরে তাকে বললো, আপনার হাত বাড়িয়ে দেন, আমি আপনার কাছে বায়আত করবো। তখন সেই চোর আশ্চর্য হয়ে গেল এবং দিশেহারা হয়ে গেল। আর সে তার থেকে পালানোর ইচ্ছা করলো। কিন্তু সেই জ্ঞানী ব্যক্তি তাকে ছাড়লো না, এমনকি শেষ পর্যন্ত প্রকৃত কথা বলতে বাধ্য হলো। তখন চোর তাকে বললো, হে শাইখ! আপনি আমার থেকে কী চান? কেননা আমি তো প্রসিদ্ধ চোর ও ডাকাত। আর এগুলো হলো চুরির সম্পদ। তখন জ্ঞানী ব্যক্তি তাকে বললো, ঘটনা যাই হোক না কেন, আমি আল্লাহর কাছে কসম করেছি যে, সকালে আমি সর্বপ্রথম যার সাথেই সাক্ষাত করবো, তার হাতেই আমি বায়আত করবো। যখন খিযির আলাইহিস সালাম এই ঘটনা দেখলেন, পথপ্রদর্শক অন্বেষণকারীর সত্যতা দেখলেন, তখন তিনি সেখানে উপস্থিত হলেন, চোরের হাত ধরে তাকে ওলীর সকল পদমর্যাদা দান করলেন এবং তাকে উচ্চ মর্যাদা দিলেন ও পরিপূর্ণতায় প্রবেশ করালেন। আর তখন চোর সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিল। তারপর খিযির আলাইহিস সালাম চোরকে এই জ্ঞানী ব্যক্তির বায়আত গ্রহণ করার আদেশ করলেন।

এটিই হলো সেই সম্প্রদায়। আর শারঈ মাসআলা ও দীনী আকীদা বিশ্বাস প্রমাণ করাতে এগুলোই হলো তাদের দলীল প্রমাণ। এটাই তাদের জ্ঞানের শেষ সীমা।

ইন্না রব্বাকা হুয়া আ'লামু বিমা দাল্লা আন সাবীলিহী ওয়া হুয়া আ'লামু বিল মুহতাদীন।
নিশ্চয় আপনার রব, তিনিই ভাল জানেন কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনিই ভাল জানেন কে হেদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে (সূরা আন নাজম ৫৩ : ৩০)। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
(আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে তার প্রবৃত্তিকে ইলাহরূপে গ্রহণ করে? তবুও কি আপনি তার যিম্মাদার হবেন? নাকি আপনি মনে করেন যে, তাদের অধিকাংশ শোনে অথবা বোঝে? তারা তো পশুর মতই; বরং তারা আরও অধিক পথভ্রষ্ট (সূরা আল ফুরকান ২৫: ৪৩-৪৪)।

টিকাঃ
৪৩৫. হিকায়াতু রিযভীয়‍্যাহ, ৭১-৭১ পৃ.

ফন্ট সাইজ
15px
17px