📄 ৬. নবীগণের মতো ওলীরাও তাদের কবরে জীবিত
তারা বলেছে যে, নবীগণের মতো ওলীরাও তাদের কবরে জীবিত রয়েছে। চোখ ধাধানোর মতো শুধু কয়েক সেকেন্ড বা কয়েক মুহূর্তের জন্যই শুধু তাদের মৃত্যু আসে। তারপর তাদেরকে নিকটে তাদের রূহ ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং তারা তাদের শরীর নিয়ে পার্থিব জীবনযাপনের মতো জীবিত থাকে। সেখান থেকে তারা শুনতে পারে, উত্তর দিতে পারে, তারা দাঁড়াতে পারে ও বসতে পারে। তারা ঘুমায় এবং জাগ্রত হয়।
যদি এই সম্প্রদায়কে বলা হয় যে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তাহলে এর পক্ষে দলীল নিয়ে আসো। তখন তারা বলে যে, 'শাইখ আহমাদ ইবনু রিফাঈ প্রতি বছর হাজীদেরকে দিয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম প্রেরণ করতো। যখন সে নিজেই যিয়ারত করলো, তখন সে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলো: আমার রূহ অনেক দূরে থাকাবস্থাতে আমি তা (সালাম) প্রেরণ করতাম। যমীন তা গ্রহণ করতো, সেই হলো আমার প্রতিনিধি, এটি হলো সুযোগ, যেখানে আমি উপস্থিত হয়েছি। সুতরাং আপনি আপনার দুই হাতকে বাড়িয়ে দিন, যাতে করে আমার দুই ঠোট মর্যাদাবান হয়ে যায়।' বলা হয়ে থাকে যে, তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাত কবর থেকে বেরিয়ে আসে, আর সে তাতে চুমা দেয়।
ওলীরা এমনই হয়। এর দলীল হলো, 'আব্দুল ওয়াহাব শারানী নিয়মিতভাবে সায়্যেদ আহমাদ বাদাভী কবীরের উরসে উপস্থিত হতো। একবার উপস্থিত হতে দুইদিন দেরী হলো। তখন হযরতের কবরের পাশে যারা থাকতো, তারা দেখলো যে, হযরত সায়্যেদ বাদাভী বারবার তার পর্দা উঠিয়ে তার মুরীদ আব্দুল ওয়াহাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে যে, সে উপস্থিত হয়েছে নাকি এখনো উপস্থিত হয়নি? যখন আব্দুল ওয়াহাব উপস্থিত হলো, তখন হযরতের কবরের পাশে থাকা লোকজন তাকে বললো যে, হযরত কবর থেকে বারবার তার পর্দা উঠিয়ে আব্দুল ওয়াহাব উপস্থিত হয়েছে কিনা তা জিজ্ঞেস করছিল। তখন আব্দুল ওয়াহাব বললো যে, হযরত কি তার মাযারে আমার উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারে? তখন তারা বললো যে, কেনই বা তারা জানবে না, অথচ সে নিজেই বলেছে যে, যে ব্যক্তি তার বাড়ি থেকে আমার যিয়ারতের জন্য চায়, তার বাড়ি যত দূরেই হোক না কেন, আমার কবরের কাছে উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত তার ইচ্ছাটা আমি জানি। আর সে যে বোঝা বহন করে, সেই সবগুলোরই আমি জিম্মেদার হয়ে যাই।
এর চেয়েও বড় বিষয় হলো, একটি ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে যে, দুই আপন ভাই আল্লাহর রাস্তাতে নিহত হয়েছিল। তাদের তৃতীয় আরেকটি ভাই ছিল। যখন সেই ভাইয়ের বিবাহের দিন আসলো, সেদিন সেই দুই ভাইও উপস্থিত হলো। তাদের উপস্থিতি দেখে তৃতীয় ভাই আশ্চর্য হলো। তখন তারা দুজনে বললো যে, আমাদেরকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে পাঠানো হয়েছে। তারপর তারাই সেই বিবাহের দায়িত্ব গ্রহণ করলো। এবং বিবাহের পরে আবার তারা ফিরে গেল।
আমাদের নিকটে আরো একটি ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে যে, 'সায়্যেদ আবু সাঈদ খাজ্জাজ বলেছে যে, আমি একবার পবিত্র মক্কাতে ছিলাম। এমন সময় বানূ শায়বার দরজার কাছে এক যুবককে মৃত অবস্থাতে দেখলাম। সেই যুবক আমার দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকলো, আর বললো যে, হে আবূ সাঈদ! তুমি কি জানো না যে, আল্লাহর প্রিয়জনরা জীবিত। আর যদি তারা মারা যায়, তাহলে শুধু তারা এক জগত থেকে আরেক জগতে স্থানান্তরিত হয় মাত্র।
অনুরূপভাবে আরো একটি ঘটনা হলো, সায়্যেদ হযরত আবূ সাঈদ বলেছে, এক দরিদ্র ব্যক্তি মারা গিয়েছিল। আমি তাকে নিয়ে তার কবরে নামলাম। তারপর তার কাফন খুলে তার মাথাটা মাটির ওপর রাখলাম, যাতে করে আল্লাহ তা'আলা তার দরিদ্রতাতে তার ওপর রহম করেন। তখন দরিদ্র ব্যক্তিটি তার দুই চোখ খুলে বললো, হে আবূ সাঈদ! যিনি আমাকে আশ্রয় দিয়েছেন তার সামনে তুমি আমাকে লাঞ্ছিত করলে? আমি অবাক হয়ে বললাম, হে সায়্যেদ! মৃত্যুর পরেও জীবিত থাকে? তখন সে আমাকে বললো, আমি জীবিত, আর আল্লাহ প্রিয়জনেরা সকলেই জীবিত, যাতে করে আমার এই সম্মান দিয়ে তোমাকে সাহায্য করতে পারি।
এই ধরনের ঘটনা আরো কতই না রয়েছে! সেগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে, 'এক মহিলা মৃত্যুবরণ করলো। তারপর তাকে কাফন পরিয়ে দাফন করা হলো। তারপর স্বপ্নে তার ছেলের সাথে তার সাক্ষাত হলো। সে বললো যে, আমার কাফন জীর্ণ হয়ে গেছে, এজন্য আমি এটি নিয়ে আমার সঙ্গীদের কাছে যেতে লজ্জা করছি। তাই আজ থেকে তৃতীয় দিনে আমাদের সাথে অমুক ব্যক্তি মিলিত হবে। যখন সেই ব্যক্তিকে কাফন পরানো হবে, তখন তুমি তার কাফনের সাথে নতুন সুন্দর একটি কাফন দিও। সকাল হলে ছেলেটি সেই ব্যক্তির খোঁজ নিয়ে জানতে পারলো যে, সেই ব্যক্তি সুস্থ রয়েছে, তার কোনো অসুস্থতা নেই। কিন্তু তৃতীয় দিনে ছেলের নিকটে খবর আসলো যে, সেই ব্যক্তি মারা গেছে। তখন ছেলে অতি দ্রুত তার জন্য মূল্যবান নতুন একটি কাফন নিয়ে আসলো এবং তার কাফনের সাথে সেই মূল্যবান নতুন কাফনটিকেও দিয়ে দিলো এবং বললো যে, এটি আমার মায়ের নিকটে পৌঁছিয়ে দিও। তারপর রাতে ঘুমের সময় তার মা উপস্থিত হয়ে বললো যে, আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন, কেননা তুমি আমার জন্য নতুন কাফন পাঠিয়েছো।
আরো একটি ঘটনা বর্ণনা করাতে কোনো সমস্যা নেই, যেখানে মৃত ব্যক্তির এক স্থান থেকে আরেক স্থানে স্থানান্তরিত হওয়ার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। এই ঘটনাটি বর্ণনা করেছে বেরেলভীর এক অনুসারী। ঘটনাটি হলো, 'ভারতের জৈনপুরে এক ধার্মিক মহিলা মারা যায়। আর জৈনপুরেরই এক খারাপ ব্যক্তি মদীনাতে মারা যায় এবং তাকে বাকীউল গারকাদে দাফন করা হয়। তারপর ধার্মিক মহিলাটিকে জৈনপুর থেকে বাকীউল গারকাদে স্থানান্তর করা হয়, আর সেই ব্যক্তির লাশ বাকিউল গারকাদ থেকে জৈনপুরে সেই মহিলার কবরে স্থানান্তর করা হয়। আর এই ঘটনা মানুষজন তাদের স্বচক্ষে দেখেছে।
টিকাঃ
৪২৫. মালফুযাত লিল বেরেলভীয়্যাহ, ৯৫ পৃ.
৪২৬. মাওআয়িযু নাঈমিয়্যাহ, ২৬ পৃ.
📄 ৭. মৃতদেরকে জীবিত করার ক্ষমতা
আর মৃতদেরকে জীবিত করাতে তাদের ক্ষমতা থাকাটাও তাদের পূর্ববর্তী উপকথাতে রয়েছে এবং তারা তাদের পিতৃপুরুষদেরকে এগুলো বিশ্বাসী অবস্থাতে পেয়েছে। সেই ঘটনাগুলো হলো, 'সায়্যেদ হযরত আহমাদ একবার রাস্তা দিয়ে পার হচ্ছিল। পথিমধ্যে সে দেখলো যে, একটি হাতি মরে আছে, আর মানুষজন তার চারপাশে দাঁড়িয়ে আছে। তখন সে তাদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো যে, কী হয়েছে? তারা বললো, হাতিটি মারা গেছে। তখন সে বললো যে, এর সূড় ঠিক রয়েছে, চোখ দুটিই ঠিক রয়েছে। অনুরূপভাবে তার দুই হাত ও দুই পাও ঠিক রয়েছে, তাহলে সে কিভাবে মারা যেতে পারে? এই কথা বলার সাথে সাথেই হাতিটি নড়াচড়া করে জীবিত হয়ে দাঁড়িয়ে গেল।
অনুরূপভাবে আরো বর্ণিত হয়েছে যে, 'শাইখ জীলানী একবার এক চিলের দিকে রাগের দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল। এতেই সেই চিল মরে পড়ে গিয়েছিল। তারপর শাইখ জীলানী সেই চিলকে স্পর্শ করার সাথে সাথে সে আবার জীবিত হয়ে উড়ে যায়।
এই সম্প্রদায়ের লোকদের আশ্চর্যকর বিষয় হলো, তারা এমন কল্পকাহিনী বর্ণনা করে, যেগুলো বিবেক গ্রহণ করে না এবং মানুষের চিন্তা ভাবনা সেগুলোকে অবজ্ঞা করে। সেসব ঘটনাগুলোর মধ্যে আছে, 'আল্লাহর দুই ওলী নদীর দুই পাশে বসবাস করতো। একবার একজন এক ধরনের দুগ্ধজাত খাবার রান্না করে অপর জনের কাছে পাঠাতে চাইলো। তাই সে তার খাদেমকে বললো যে, তুমি এই খাবার নিয়ে আমার সেই বন্ধুর কাছে যাও। তখন খাদেম বললো, আমি কিভাবে নদী পার হবো, অথচ আমার কাছে নদী পার হওয়ার মতো নৌকা বা এমন কিছুই নাই। তখন ওলী বললো, তুমি নদীর কাছে গিয়ে তাকে বলো যে, আমি এমন এক ব্যক্তির নিকট থেকে এসেছি, যে এখনো তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করেনি। তখন সেই খাদেম আশ্চর্য হয়ে গেল এবং দিশেহারা হয়ে গেল। কারণ তার শায়খের অনেক সন্তান ছিল। তারপর খাদেম নদীর কাছে এসে তার শাইখ যা বলেছে তাই বললো, এতে নদী বিদীর্ণ হয়ে গেল। আর সেই খাদেম নিরাপদে নদী পার হয়ে গেল। তারপর সে খাবারটি অপর ওলীকে দিল। তখন সেই ওলী খাবার খেয়ে তার জন্য কল্যাণের দুআ করলো। আর বললো, তোমার ওস্তাদকে আমার পক্ষ থেকে সালাম দিও। তখন খাদেম তাকে বললো যে, আমি সেখানে গিয়ে আপনার পক্ষ থেকে তাকে সালাম দিবো? তাহলে কিভাবে আমি সেখানে পৌঁছাবো, অথচ আমার ও তার মাঝে এই নদী রয়েছে? তখন ওলী বললো, তুমি নদীর কাছে গিয়ে বলো যে, আমি এমন এক ব্যক্তির নিকট থেকে আসলাম, যে ত্রিশ বছর ধরে কোনো খাবার খায়নি। এতে তার দিশেহারা আরো বেড়ে গেল। কেননা সে এখনই তাকে খাবার খেতে দেখলো, যেই খাবার সে নিজেই নিয়ে আসলো। তারপর তার চিঠি নদীর কাছে পৌঁছাতেই খাদেমের জন্য নদী বিদীর্ণ হয়ে রাস্তা তৈরি হয়ে গেল।
তারা যেসব আশ্চর্য ঘটনাগুলো বর্ণনা করেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, 'ইয়াহইয়া আল-মুনীরীর এক মুরীদ সাগরে পড়ে গিয়ে প্রায় ডুবে যাচ্ছিল। তখন খিযির আলাইহিস সালাম উপস্থিত হয়ে তাকে বললেন যে, তোমার হাত আমার হাতের ওপর রাখো, আমি তোমাকে উদ্ধার করবো। তখন মুরীদ সতর্ক হয়ে বললো যে, হে আমার সায়্যেদ! আমার এই হাত তো মুনীরীর হাতের ওপর রয়েছে। সুতরাং কখনোই আমি তার হাত ছেড়ে অন্য হাত ধরবো না। এই কথা বলার সাথে সাথেই খিযির আলাইহিস সালাম অদৃশ্য হয়ে গেল এবং মুনীরী উপস্থিত হলো। এবং সে তার হাত ধরে তাকে ডুবা থেকে উদ্ধার করলো।
এই ধরনের ঘটনাগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে, 'বিশর আল-হাফী কখনো জুতা পরতো না, এজন্যই তাকে হাফী নামে নামকরণ করা হয়েছিল। তার সম্মান ও মর্যদার অন্তর্ভুক্ত হলো, যখন সে যেই রাস্তা দিয়ে হাঁটতো, সেই রাস্তাতে পশুরা পেশাব পায়খানা করতো না, যাতে করে হাফীর পা নোংরা হয়ে না যায়। হাফী যেই রাস্তা দিয়ে চলতো, সেই রাস্তাতে কোনো একদিন এক ব্যক্তি পেশাব পায়খানা দেখে বলে উঠলো, 'ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন'। তাকে এই ধরনের কথা বলার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে সে উত্তর দিলো যে, এটি প্রমাণ করে যে, বিশর আল-হাফী মৃত্যুবরণ করেছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল যে, লোকটি যা বলেছে তাই সত্য।
টিকাঃ
৪২৭. (হিকায়াতু রিযভীয়্যাহ, ৭১ পৃ.)
৪২৮. বাগিন ফিরদাউস লিল বেরেলভী, ২৭ পৃ.
৪২৯. মালফুযাত লিল বেরেলভীয়্যাহ, ৫৩ পৃ.
৪৩০. মালফুযাত লিল বেরেলভীয়্যাহ, ১৬৪ পৃ.
৪৩১. হিকায়াতু রিযভীয়্যাহ, ১৭২ পৃ.
📄 ৮. জাহান্নামীদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করতে পারে এবং যাদের আযাব হচ্ছে তাদেরকে আযাব হতে নাজাত দিতে পারে
এছাড়াও ওলী আউলিয়াদের এই ক্ষমতা (তাদের ধারণা) রয়েছে যে, তারা জাহান্নামীদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করতে পারে এবং যাদের আযাব হচ্ছে তাদেরকে আযাব হতে নাজাত দিতে পারে। এর দলীল হলো, সায়্যেদ ইসমাইল হাযরামী একদা অনেকগুলো কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তার সাথে ইমাম মুহিবুদ্দীন তাবারীও ছিল। সায়্যেদ হাযরামী তাকে বললো, তুমি কি বিশ্বাস করো যে, কবরবাসীরাও জীবিতদের সাথে কথা বলে? মুহিবুদ্দীন তাবারী বললো যে, হ্যাঁ, আমি তা বিশ্বাস করি। তখন সায়্যেদ হাযরামী বললো, এই কবরবাসী আমাকে বলছিল যে, আমি জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত। তারপর সে চল্লিশের বেশি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদতে শুরু করলো, এমনকি সূর্য উদিত হয়ে গেল ও দিনের আলো প্রকাশিত হলো। তারপর সে হেসে বললো যে, তুমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত। এটা কি ও কী ঘটনা ঘটলো তা সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে সে বললো, এই কবরবাসীদের আযাব দেওয়া হচ্ছিল। তখন আমি কান্না করছিলাম এবং তাদের জন্য সুপারিশ করছিলাম। এমনকি শেষ পর্যন্ত আমার সুপারিশ কবুল করা হলো এবং তাদের আযাব মাফ করা হলো। কিন্তু এক পাশে একটি কবর ছিল, সেদিকে আমি খেয়াল করিনি। তারপর আমি শুনলাম যে, এক মহিলা আমাকে বলছে যে, আপনি কেন আমাকে আপনার শাফায়াত থেকে বঞ্চিত করলেন অথচ আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। আমি অমুক গায়িকা ছিলাম। আপনি শুধু তাদের জন্য সুপারিশ করলেন, কিন্তু কেন আমার জন্য সুপারিশ করলেন না? তার এই কথা শুনে আমি হেসে ফেললাম। তখন আমি বললাম যে, তুমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত এবং তার কবরের আযাবও মাফ করে দেওয়া হলো।
বেরেলভী লিখেছে যে, এক যুবক ইবনু আরাবীর মাজলিশে বসে কান্না করছিল। ইবনু আরাবী তাকে জিজ্ঞেস করলো যে, কিসে তোমাকে কাঁদাচ্ছে? সে বললো, আমি আধ্যাত্মিক অনুপ্রেরণার মাধ্যমে জেনেছি যে, আমার মাকে আযাব দেওয়া হচ্ছে এবং জাহান্নামের ফেরেশতারা আমার মাকে জাহান্নামের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। তখন ইবনু আরাবী বললো, আমার নিকটে কিছু ওযীফার সওয়াব বিদ্যমান ছিল। তখন আমি মনে মনে বললাম যে, আমি সেই সওয়াবগুলো মহিলাটিকে দিয়ে দিবো। তখন সেই যুবক হাসতে শুরু করলো। তাকে বলা হলো যে, কী এমন হলো যে, তোমার কান্না থেমে গেল এবং তুমি হাসতে শুরু করলে। তখন সে বললো, আমি আযাবের ফেরেশতাদেরকে দেখলাম যে, তারা আমার মাকে ছেড়ে দিচ্ছে এবং রহমতের ফেরেশতারা আমার মাকে নিয়ে জান্নাতে নিয়ে যাচ্ছে।
এর পরে কি আর কোনো দলীল প্রমাণের প্রয়োজন আছে? অর্থাৎ এই ধরনের নিশ্চিত দলীল প্রমাণের পরে? কিন্তু যে ব্যক্তি এর পরেও দলীল চাইবে, সে হলো ওয়াহাবী কাফের। আমরা এই ধরনের দুর্বল বিবেক ও অসুস্থ অন্তর থেকে আল্লাহ তা'আলার কাছে আশ্রয় চাই, যেই অন্তরে শয়তান প্রভাব বিস্তার করেছে এবং তাকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে দিয়েছে।
টিকাঃ
৪৩২. মালফুযাত লিল বেরেলভীয়্যাহ, ৫৭-৫৮ পৃ.
৪৩৩. মালফুযাত লিল বেরেলভীয়্যাহ, ৪৮ পৃ.
📄 ৯. অদ্ভুত ও আশ্চর্যজনক কাহিনী
তারা যেসব অদ্ভুত ও আশ্চর্যজনক কাহিনীগুলো বর্ণনা করে, সেগুলো এমন কাহিনী যা মানুষকে আল্লাহ থেকে বিমুখ করে, তাদেরকে আল্লাহ ছাড়া অন্যের দিকে পরিচালিত করে এবং তাদেরকে জানায় যে, আল্লাহ তা'আলার কোনো ক্ষমতা, ইচ্ছা ও শক্তি নাই। বরং এই সবগুলোই ওলী আউলিয়া ও সৎ লোকদের নিকট স্থানান্তরিত হয়ে গেছে। তাদের হাতেই সকল কিছু রয়েছে। সুতরাং একমাত্র তাদের কাছেই সাহায্য চাইতে হবে। তাদের হাতে ছাড়া কোনো নাজাত নেই। এর সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো, যা বেরেলভী নিজেই বর্ণনা করেছে। সেটি হলো, বায়েজিদ বোস্তামী দজলা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আল্লাহর নাম স্মরণ করে তাতে নেমে পড়ে এবং যমীনে হাঁটার মতোই নদীর পানির ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। এক ব্যক্তি তাকে দেখলো। আর সেও দজলা নদী পাড়ি দিতে চাইছিল। তাই সেও নদীতে নেমে পড়লো এবং বায়েজিদের পিছন পিছন হাঁটছিল ও তার নাম উচ্চরণ করছিল। তারপর সে বায়েজিদের কাছে এসে দেখলো যে, বায়েজিদ আল্লাহর নাম উচ্চারণ করছে। তখন সেও তার অনুসরণ করে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে লাগলো। আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতেই সে নদীতে ডুবতে শুরু করলো। তখন বায়েজিদ তার দিকে দৃষ্টি দিল। তারপর বায়েজিদ তাকে বললো যে, তুমি আল্লাহর নাম নয়, বরং আমার নাম উচ্চারণ করো। তুমি কিভাবে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা ও আমার নাম পরিত্যাগ করার দুঃসাহসিকতা দেখালে? তখন সেই ব্যক্তি বললো যে, আমি আপনাকে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে দেখলাম, তাই আমিও আল্লাহর নাম উচ্চারণ করলাম। বায়েজিদ বললো যে, তুমি কি আমার স্তরে পৌঁছাতে পেরেছো যে, তুমি আল্লাহর কাছে পৌঁছাবে? তখন সেই ব্যক্তি বায়েজিদের নাম উচ্চারণ করতে লাগলো, এতেই সে ডুবে যাওয়া থেকে নাজাত পেল এবং যমীনের ওপরে রাস্তাতে হাঁটার মতোই পানির ওপর দিয়ে হাঁটতে শুরু করলো।
টিকাঃ
৪৩৪. মালফুযাত লিল বেরেলভীয়্যাহ, ৫২-৫৩ পৃ.