📄 ১. কল্পকাহিনী
প্রতিটি বিদআতী সম্প্রদায়েরই বিভিন্ন কেচ্ছা কাহিনী ও কল্পকথা রয়েছে, যাতে করে তাদের বাতিলটা শক্তিশালী হয় এবং তাদের মিথ্যা আরো জোরদারপূর্ণ হয়, আবার যাতে করে তারা দলীল প্রমাণ বিহীন না থাকে এবং যাতে করে কেউ তাদেরকে দলীল প্রমাণ না থাকার কারণে তিরস্কার করতে না পারে। যখন তারা ইসলামী শরীআতের মূল দুটি উৎস কুরআন ও সুন্নাহতে তাদের কোনো দলীল খুঁজে না পায়, তখন তারা বিভিন্ন কল্পকাহিনী ও মিথ্যা গল্পের আশ্রয় নেয়। এগুলোকে তারা নিশ্চিত দলীল প্রমাণের মতো অগ্রাধিকার দেয়, যাতে করে তাদের জন্য একটি স্তম্ভ দাঁড়িয়ে যায়। কিভাবে এমনটি করা তাদের জন্য সম্ভব হয়। কেননা বাতিল দিয়ে কোনো বাতিল জিনিস শক্তিশালী হয় না, লাঞ্ছিত ব্যক্তি অন্য লাঞ্ছিত ব্যক্তিকে সাহায্য করতে পারে না। আর মিথ্যা শুধু অন্ধকারকেই জমা করে, যাতে এক অন্ধকার আরেক অন্ধকারের ওপর থাকে। আর অন্ধকার শুধু মাকড়শার ঘরই নির্মাণ করতে পারে। আর নিশ্চয় সবচেয়ে দুর্বল বাড়ি হলো মাকড়শার বাড়ি, যদি তারা জানতো। আর তাদের সম্পর্কেই আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, ওরাই তারা, পার্থিব জীবনে যাদের প্রচেষ্টা পণ্ড হয়, যদিও তারা মনে করে যে, তারা সৎকাজই করছে (সূরা আল কাহাফ: ১০৪)।
সত্য ও বাস্তবতা থেকে বিমুখ হওয়া এবং কুরআন ও সুন্নাহকে অবহেলা করার কারণে তারা তাদের দীনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং প্রতিষ্ঠিত সত্য ও বাস্তব ঘটনা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণে তারা তাদের দুনিয়াকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আর এটিই হলো সুস্পষ্ট ক্ষতি। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি বিদআত ও নতুন উদ্ভাবিত কাজকর্ম থেকে দূরে থাকে এবং কুপ্রবৃত্তি ও ধারনা থেকে বেঁচে থাকে, সে হিদায়াতকে আঁকড়ে ধরে এবং সেই নূর বা আলোর অনুসরণ করে, যেটি আল্লাহ তা'আলা নাযিল করেছেন অন্ধকারকে দূর করতে ও অজ্ঞতাকে নিশ্চিহ্ন করতে। অন্ধকার ও আলো কি সমান হতে পারে? আল্লাহ তা'আলা বলেন, আর আল্লাহ তা'আলা যার জন্য নূর রাখেননি তার জন্য কোনো নূর নেই (সূরা আন নূর: ৪০)।
ইসলামের দিকে নিজেদেরকে সম্পৃক্তকারী কত বিভ্রান্ত দল কুরআনকে পরিত্যাজ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং তারা তাদের অনুসারীদেরকে নিজেদের আনুগত্য ও অনুসরণ করাকে আবশ্যক করেছে। আর এমন কত সম্প্রদায় রয়েছে, যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতকে পরিত্যক্ত বানিয়েছে এবং বাতিলপন্থীদের বিদআতকে অনুসরণীয় বানিয়েছে। বেরেলভীরা এই সকল মানুষদের অভ্যাস ও পন্থার ওপর রয়েছে। তারা বাতিলকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এবং হককে বাতিল প্রমাণ করার জন্য সকল ধরনের মিথ্যাকেই তারা গ্রহণ করে এবং সকল হাস্যকর বিষয়কেই তারা আঁকড়ে ধরে। এর মাধ্যমে তারা শুধু নিজেদেরকেই ধোকা দেয় অথচ তারা তা বুঝে না।
📄 ২. হাস্যকর ও দুঃখজনক কাহিনী
একই সাথে তাদের হাস্যকর ও দুঃখজনক কথা রয়েছে, আর সেগুলোর সংখ্যা অনেক বেশি। কিন্তু আমরা এখানে শুধু সেগুলো বর্ণনার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকবো, যেগুলো বেরেলভী আহমাদ রেযা নিজেই বর্ণনা করেছে। এর বাহিরে খুব কমই বর্ণনা নিয়ে আসবো, যেগুলো তার বিশিষ্ট অনুসারী, সাহায্যকারীরা এবং তাদের নিকটে বিশ্বস্ত ব্যক্তিরা বর্ণনা করেছে। বেরেলভী তার দুর্বল বিশ্বাসগুলো প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে, যেই বিশ্বাসগুলো কুরআন ও সুন্নাহর সম্পূর্ণ বিপরীত। যেমন, ওলী আউলিয়াদের ক্ষমতা, সাহায্যপ্রার্থীদেরকে সাহায্য করা, বিপদগ্রস্তের ডাকে সাড়া দেওয়া, সংকটাপন্ন ব্যক্তিদের সংকট দূর করা, ওলীদের গায়েব জানা, সকল স্থান ও সময়ে তাদের উপস্থিত থাকা ইত্যাদি।
📄 ৩. এক বছরের রাস্তার দূর থেকে পীর সাহেবের সাড়া দান
বেরেলভী কোনো এক শায়খের বর্ণনা দেওয়ার আগে বলতো যে, সেই শাইখকে তার মুরীদ এক বছরের বা তারও বেশি সময়ের দূরত্ব থেকে ডাকলেও সেই শাইখ তার মুরীদের ডাকে সাড়া দেয়। এই ধরনের মিথ্যা কথাগুলোকে সত্যায়ণ করার জন্য সে মিথ্যা কাহিনী বর্ণনা করে, যাতে করে মিথ্যার মাধ্যমে অন্য মিথ্যা শক্তিশালী হয়। তাই সে বর্ণনা করে যে, 'আমার নেতা মাদিয়ান ইবনু আহমাদ আল-উশবুনী একদা ওযূ করছিল। সে তার জুতা খুলে প্রাচ্যের দেশগুলোর দিকে সেই জুতা নিক্ষেপ করলো। পুরো এক বছর পরে তার নিকটে এক ব্যক্তি আসলো, আর তার নিকটে সেই জুতা ছিল। সেই ব্যক্তি বললো, হে আমার শাইখ! আমার মেয়ে মরুভূমিতে ছিল, আর এক খারাপ লোক তার ক্ষতি করার জন্য এসেছিল। আর আমার মেয়ে তখন আমার শাইখ ও মুরশিদের নাম জানতো না। তাই সে ডাক দিয়ে বললো, 'হে আমার পিতার শাইখ! আমার দিকে নজর দিন।' এই নাম উচ্চারণ করা এবং সাহায্য চাওয়ার সাথে সাথেই সেই জুতা এসে হাজির হলো এবং সেই ব্যক্তির মাথায় আঘাত করলো। এর মাধ্যমে আমার মেয়ে রক্ষা পেলো।
ইবনু মুহাম্মাদ আল-হানাফী থেকে এমন ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। সেটি হলো, তার কোনো এক মুরীদ সফরে ছিল। পথিমধ্যে চোরের দল তাকে আক্রমণ করে। তাদের একজন তাকে জবেহ করার জন্য তার বুকের ওপর বসে। তখন সে ডাক দিয়ে বলে, হে আমার ওস্তাদ! মুহাম্মাদ আল-হানাফী, আমাকে রক্ষা করুন। এই নাম ধরে ডাকার সাথে সাথেই একটি জুতা উড়ে এসে উপস্থিত হয় এবং চোরের বুকে আঘাত করে। এতেই সে অজ্ঞান হয়ে যায়। আর এর মাধ্যমে সায়্যেদ হানাফীর মুরীদ রক্ষা পায়।
সে আরেকটি গল্প রচনা করে। সেটি হলো, এক দরিদ্র ব্যক্তি ভিক্ষা করছিল। একবার সে এক ব্যক্তির দোকানের দরজায় দাঁড়িয়ে দোকানদারকে একটি রুপি দিতে বলল, কিন্তু কর্মচারী তাকে তা দিতে অস্বীকার করল। তাই দরিদ্র লোকটি তাকে বলল: আমাকে দাও, নয়তো দোকান উল্টিয়ে দেবো। তখন লোকেরা জড়ো হয়ে ভিড় করল এবং একজন সদয় মনের লোক তাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কর্মচারীকে বলল যে, তাকে এক রুপি দাও, অন্যথায় তোমার দোকান উল্টে যাবে। তখন লোকেরা তাকে বলল, হে শাইখ, সে একজন অজ্ঞ লোক। আর এটি শরীআতের বিরোধী কাজ। কিভাবে সে এমন কাজ করতে পারে? তখন শাইখ বললো, আমি তার অন্তর ভালোভাবে দেখলাম এবং তা শূন্য অবস্থাতে পেলাম, তাই আমি তার শায়খের অভ্যন্তরে তাকালাম এবং এটিও শূন্য অবস্থাতে পেলাম। কিন্তু আমি গভীরভাবে অনুসন্ধান করে তার শায়খের শায়খের দিকে তাকালাম এবং তাকে দেখতে পেলাম যে, সে একজন জ্ঞানী ও ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিল এবং আমি তাকে এই দরিদ্র ব্যক্তির জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি এবং সে যা বলবে সেই শাইখ তা পালন করবে এবং এই ব্যক্তির দোকানকে উল্টিয়ে দিবে।
ওলী আউলিয়াদের ক্ষমতা, সাহায্যপ্রার্থীদের সাহায্য করা, দুর্দশাগ্রস্তদেরকে সহযোগিতা করা এবং বালা মুসিবতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মুসিবত দূর করাতে তাদের সক্ষমতা থাকার বিষয়ে এগুলো হলো সুস্পষ্ট ও অকাট্য দলীল প্রমাণ।
📄 ৪. ওলী আউলিয়াদের ক্ষমতা ও শক্তি
ওলী আউলিয়াদের ক্ষমতা ও শক্তি বর্ণনা করার জন্য তারা যেসব কাহিনী তৈরি করেছে, তার মধ্যে আশ্চর্যকর একটি কাহিনী হলো, জনৈক ব্যক্তি বায়েজিদ বোস্তামীর কাছে উপস্থিত হয়ে দেখলো যে, বায়েজিদ বোস্তামী আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে এবং তার চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। তখন সেই ব্যক্তি বললো, হে ওস্তাদ! এটা কী? তখন বায়েজিদ বোস্তামী বললো, আমি আরশে গিয়েছিলাম এবং এক পা দিয়ে জমীনকে ভাঁজ করেছিলাম। তখন আমি দেখলাম যে, ক্ষুধার্ত বাঘ যেমন মুখ খুলে থাকে, তেমন আরশ রবের খোজে মুখ খোলে রয়েছে। আমি আশ্চর্য হয়ে চিৎকার করে বললাম, এটি তো এক আশ্চর্যকর বিষয়! দয়াময় আল্লাহ আমাদেরকে জানিয়েছেন যে, তিনি আরশের ওপরে রয়েছেন। তাই আমি তোমার কাছে তাঁর খোজে এসেছি। কিন্তু আমি তোমাকে এই অবস্থাতে দেখছি। তখন আরশ উত্তর দিলো। তারপর আল্লাহ তা'আলা আমার হয়ে আরশকে বললেন যে, হে আরশ! তুমি যদি আমাকে পেতে চাও, তাহলে আমাকে বায়েজিদের অন্তরে তালাশ করো।
তাদের তৈরি করা কথার মধ্যে আরো রয়েছে যে, হিংস্র পশুরা তাদেরকে ভয় করে ও তাদের আনুগত্য করে। আর তাদের বিষয়ে এমন জ্ঞান রয়েছে, যার মাধ্যমে অন্তরে কী ঘটছে তা তারা জানতে পারে। বেরেলভী একটি কাল্পনিক কাহিনী বর্ণনা করে। সেটি হলো, দুইজন আলেম কোনো এক আল্লাহর ওলীর কাছে উপস্থিত হলেন এবং সেই ওলীর পিছনে সালাত আদায় করলেন। ওলী সালাতে কুরআন তিলাওয়াত করল, কিন্তু ধীরে ধীরে তিলাওয়াত করল না এবং তাজবীদের কায়েদাতে হরফগুলো তার মাখরাজ অনুযায়ী উচ্চারণ করল না। তখন এই ওলীর বিষয়ে তাদের অন্তরে ভাবনা আসলো, যেই ওলী তাজবীদের কায়েদাগুলো জানে না। তাদের অন্তরে যা হচ্ছিল ওলী সবই জানতে পারছিল, কিন্তু সে নিশ্চুপ ছিল। তারপর সেই দুই আলেম গোসল করার জন্য নদীতে গেলেন এবং তাদের কাপড়গুলো খুলে নদীর এক পাশে রাখলেন। তারপর এক সিংহ এসে সেই কাপড়গুলো একত্রিত করে তার ওপর বসে পড়লো। তারপর সেই দুই আলেম সেই সিংহের চলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন, যাতে তারা সেখান থেকে বের হতে পারে। কিন্তু সেই সিংহ চলে যায় না। এই খবর ওলীর কাছে পৌঁছালে সে দ্রুত সিংহের কাছে আসলো। তারপর তার কান ধরে ডান গালে একটি থাপ্পড় দিলো, তারপর মুখমন্ডল ঘুরিয়ে বাম গালে আরেকটি থাপ্পড় দিলো। তারপর তাকে বললো যে, তুমি আমাদের মেহমানদের ক্ষতি করার সাহস করেছো? এখান থেকে চলে যাও। তখন সে পালিয়ে গেল। তারপর ওলী দুই আলেমকে বললো, আপনারা জিহ্বাকে ঠিক করেছেন (এতে সে তাদের তাজবীদ ও কিরাআতের দিকে ইঙ্গিত করল), আর আমরা অন্তরকে ঠিক করেছি। এটি হলো, সেই দুই আলেম মনে মনে যা ভেবেছিল তার জন্য ওলীর পক্ষ থেকে প্রতিউত্তর।
এই সম্প্রদায়ের কিতাবগুলোতে এই ধরনের কত বেশিই না কল্পকাহিনী রয়েছে! আর হাস্যকর ও দুঃখজনক ঘটনা বহু রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে বেরেলভী বর্ণনা করেছে যে, আমার ওস্তাদ আহমাদের দুটি স্ত্রী ছিল। আর সে আব্দুল আযীয দাব্বাগের মুরীদ ছিল। একবার সে আমার ওস্তাদকে বললো যে, তোমার এক স্ত্রী জাগ্রত থাকাবস্থাতে তুমি কেন আরেক স্ত্রীর সাথে সহবাস ও মেলামেশা করলে? তখন সে বললো, হে আমার ওস্তাদ! সে তো জাগ্রত ছিল না, বরং সে ঘুমন্ত ছিল। তখন আব্দুল আযীয দাব্বাগ বললো, সে ঘুমিয়ে থাকার ভাব করেছিল, কিন্তু আসলে সে ঘুমিয়ে ছিল না। তখন সে বললো, হে আমার ওস্তাদ! আপনি কিভাবে এটা জানতে পারলেন? তখন তার শাইখ বললো, সেখানে তৃতীয় আরেকটি খাট ছিল কি? সে বললো, হ্যাঁ, সেখানে আরেকটি খাট ছিল। তখন তার শাইখ বললো, আমি সেই খাটের ওপরই ছিলাম।
এই ধরনের কল্পকাহিনী থেকে আল্লাহ তা'আলার নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এর চেয়েও কি বড় ও নোংরা কল্পকাহিনী থাকতে পারে? শাইখ তার মুরীদ ও স্ত্রীদের মাঝে একই ঘরে ঘুমায়? এর চেয়েও বড় কথা হলো, শাইখ মুরীদের নড়াচড়াও দেখে, এমনকি স্ত্রীর সাথে সহবাস কারিও দেখে এবং আরেক স্ত্রীকে দেখে যে, সে তার স্বামী সহবাসের দিকে তাকিয়ে আছে! এটি কি দীন ও শরীআত হতে পারে? এটিই যদি দীন হয়, তাহলে কোনটি নাস্তিকতা, পাপাচার ও ফাসেকী তা আমাদের জানা নেই। আর আমরা জানি না যে, কোনটি লজ্জা আর কোনটি নৈতিকতা, যেটি উদীয়মান প্রজন্মকে শিক্ষা দেওয়া হয়, যেমন দৃষ্টি নত করা এবং অসার কথাবার্তা থেকে দূরে থাকা। বেরেলভী সম্প্রদায়ের দাবী অনুযায়ী যদি আল্লাহর ওলীরা এই কাজগুলো সম্পর্কে জানে, এই ধরনের অশ্লীল কাজগুলো করে, শরীআতের হারাম বিষয়ের দিকে দৃষ্টি দেয়, মাহরাম নয় এমন মহিলাদের মাঝে ঘুমায়, স্বামী স্ত্রীর মধ্যকার বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে, তারপর সেগুলো নির্লজ্জতা ও অসম্মান করে সেগুলো আবার বর্ণনা করে, যে তারা একান্তে তা দেখেছে ও পর্যবেক্ষণ করেছে, এগুলোই যদি ওলী হওয়ার প্রমাণ হয় এবং এগুলোই যদি কারামত হয়, তাহলে এমন ওলী ও কারামত থেকে সালাম জানাই।
তারপর এই ঘটনার ওপর টীকা লিখা হয়েছে, যেই ঘটনা সেই শায়খের প্রবৃত্তির স্বাদ মেটানোর জন্য ও তা বর্ণনা করার জন্যই শুধু বানানো হয়েছে। সম্মানীত টিকাকার এর টিকাতে লেখেন, ঘটনাটি থেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, শাইখ তার মুরীদ থেকে এমন অবস্থাতেও পৃথক হয় না, যেমনটি আশ-শারানী তার 'আল মীযান' কিতাবে বর্ণনা করেছে যে, ফকীহ ও সূফীদের সকল ইমামই তাদের মুকাল্লিদদেরকে সুপারিশ করবে। আর তাদের মুরীদের রুহ ফিরিয়ে দেওয়ার সময়, মুনকার নাকীরের প্রশ্নের সময়, হাশর, নাশর হিসাব, মীযান এবং সিরাতের সময়েও তারা তাদের দিকে লক্ষ রাখবে। কোনো অবস্থাতেই তারা তাদের মুরীদদের থেকে উদাসীন হয় না।
বেরেলভী তার 'মালফুযাত' কিতাবে আরো একটি ঘটনা বর্ণনা করেছে, যার মাধ্যমে কবরে বিভিন্ন উৎসব ও উরস করার ফায়েদা স্পষ্ট হয় এবং মানুষের দৃষ্টি ও মনোযোগ আরো বেশি আকৃষ্ট হয়। সায়্যেদ আহমাদ বাদাভী কবীরের কবরে তার জন্মদিনে তিনদিনব্যাপী উৎসব ও উরস অনুষ্ঠিত হতো। মানুষজন বাৎসরিকভাবে সেখানে জমায়েত হতো। যারা নিয়মিতভাবে সেখানে উপস্থিত হতো, তাদের মধ্যে আব্দুল ওয়াহাব আশ-শারানীও ছিল। সায়্যেদ আহমেদ বাদাভীর মীলাদের অনুষ্ঠানে একবার আব্দুল ওয়াহাব আশ-শারানী উপস্থিত হলো, তখন লোকজন খুবই ভিড় করছিল। এমন সময় এক ব্যবসায়ীর দাসীর দিকে তার দৃষ্টি পড়লো। সেই দাসীটি তার অন্তরে ধরে গেল এবং সে তাকে নিজের করে নিল। তারপর সে কবরের কাছে গেল। তখন সায়্যেদ বাদাভী তাকে ডাক দিয়ে বললো, হে আব্দুল ওয়াহাব! সেই মহিলাটিকে কি তোমার পছন্দ হয়েছে? সে বললো, হ্যাঁ। কোনো মুরীদের জন্য তার কোনো গোপন কথা তার শায়খের নিকট গোপন রাখা উচিত নয়। তখন সায়্যেদ বাদাভী বললো, তুমি সুন্দর বলেছো। সেই মেয়েটিকে আমি তোমার নিকট হাদীয়া দিলাম। তখন শারানী আশ্চর্য হলো যে, কিভাবে সায়্যেদ বাদাভী সেই দাসীকে হাদিয়া দিতে পারে, অথচ সেই মহিলাটি এক ব্যবসায়ীর দাসী? কিছু সময় পরে সেই ব্যবসায়ী উপস্থিত হয়ে দাসীটিকে মাজহারের জন্য মানত হিসেবে দিয়ে দিলো। তখন কবরের খাদেমের কাছে ইলহাম করা হলো যে, সে যেন এই মহিলাকে আব্দুল ওয়াহাবের জন্য হাদিয়া দেয়। তখন আব্দুল ওয়াহাব শারানী দিশেহারা হয়ে গেল। তারপর সায়্যেদ বাদাভী তাকে ডেকে বললো, হে আব্দুল ওয়াহাব! সে তো আর ব্যবসায়ীর নেই। সুতরাং তুমি তাকে নিয়ে অমুক ঘরে যাও। আর সেখানে গিয়ে তোমার প্রয়োজন পূরণ করো।