📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস > 📄 ৩৫. শাইখ জাফর আলী

📄 ৩৫. শাইখ জাফর আলী


তারা ইসলামী কবি, তাওহীদ এবং তাওহীদপন্থীদের কবি শাইখ জাফর আলীকেও কাফের বলেছে। অথচ শাইখ জাফর আলী দাসে পরিণত হওয়া মানুষদের অন্তরে জিহাদের আগ্রহকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন, নিকৃষ্ট ইংরেজ উপনিবেশিকতা ও কাদিয়ানী দালাল এবং অন্যান্য ভ্রান্ত সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে তাঁদের অন্তরের আগুন জ্বালিয়ে তুলেছিলেন। তাই বেরেলভীরা তাঁকে কাফের বলেছিল, এমনকি তাঁর কাফের হওয়ার বিষয়ে স্বতন্ত্র একটি কিতাবই লিখেছিল, যার নাম দিয়েছিল 'আল কাসওয়ারাহ আলা আদওয়ারিল হুমুরির কাফারাহ আল-মুলাক্কাব আলা জাফর রম্মাহ মিনাল কুফর'। এতে অনেক প্রবীণ বেরেলভী আলেমদের সাক্ষর ছিল। আর এই কিতাব রচনা করেছিল বেরেলভীর ছেলে মুস্তফা রেযা খান।

অনুরূপভাবে যেসব কবি, লেখকগণ নিপীড়িত ভারতীয়দের মধ্যে জিহাদের জন্য এবং জাহেলী রীতি নীতি এবং প্রাচীন পৌত্তলিক ঐতিহ্যকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য আকাঙ্ক্ষা জাগিয়েছিলেন এবং তাঁদের কবিতা ও লেখনীর মাধ্যমে কুরআন ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করার জন্য মানুষজনকে উৎসাহিত করেছিলেন, তারা সকলেই কাফের ও পাপাচারী! অনুরূপভাবে যারা আধুনিক শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাঁরাও কাফের ও মুরতাদ। তাঁদের শীর্ষে রয়েছেন, ভারত পাকিস্থান উপমহাদেশের প্রথম আধুনিক মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় 'আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়' এর প্রতিষ্ঠাতা সায়্যেদ আহমাদ। কিছু মানুষ বেরেলভীকে বলে যে, আলিগড় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহলে বাইতের থেকেও নাকি সম্মানীত। এর উত্তরে বেরেলভী বলে যে, এমন ব্যক্তি নিকৃষ্ট ও মুরতাদ (মালফুযাত, বেরেলভী, ৩/৩১৯)।' 'তাজানুবু আহলিস সুন্নাহ' কিতাবের লেখক সায়্যেদ আহমাদকে মুরতাদ ও নাস্তিক বলে বিধান আরোপ করেছে। এমনকি সে বলেছে যে, যে ব্যক্তি সায়্যেদ আহমেদের নিশ্চিত কুফরীগুলোর কোনো একটি কুফরী সম্পর্কে জানতে পারে, তারপরও তাঁর কাফের হওয়ার বিষয়ে দ্বিধা করে, তাহলে সেও কাফের, মুরতাদ এবং চিরস্থায়ী জাহান্নামী (তাজানুবু আহলিস সুন্নাহ, ৮৬ পৃ.)।'

ভারতীয় উপমহাদেশের ইসলামী সম্প্রদায়ের নেতা, হিন্দু ও ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীদের দ্বৈত শৃঙ্খল থেকে পাকিস্তানের মুক্তিদাতা এবং বিশ্বে বৃহত্তম ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ একজন কাফের এবং তাঁর দল মুসলিম লীগ এবং এর সদস্যরা কাফের। বেরেলভী বলে যে, মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহ একজন কাফের, মুরতাদ। তাঁর অনেক কুফরী আকীদা রয়েছে। শরীআতের বিধানে সে নিশ্চিতভাবে মুরতাদ এবং ইসলাম থেকে বেরিয়ে গেছে। যে ব্যক্তি তাঁর কুফরীর বিষয়ে ও তাঁর কাফের হওয়ার বিষয়ে দ্বিধা করবে, সেও কাফের হয়ে যাবে (তাজানুবু আহলিস সুন্নাহ, ১১৯ - ১২২ পৃ.)। তাঁর দল মুসলিম লীগ সম্পর্কে বেরেলভী বলে যে, তাঁর দল মুসলিম দল নয়, বরং তাঁর দলটি অন্ধকারাচ্ছন্ন দল (তাজানুবু আহলিস সুন্নাহ, ১১২ পৃ.)।' সে আরো বলে যে, যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ আলীকে মুসলিম বলে বিশ্বাস করবে ও তাঁর প্রশংসা করবে, সে মুরতাদ হয়ে যাবে (আল জাওয়াবাতুস সানিয়্যাহ, আবুল বারাকাত বেরেলভী, ৩ পৃ.)।'

উপমহাদেশের খতীব সায়্যেদ আতাউল্লাহ বুখারী সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, শেষ যুগে তাঁর মতো আর অন্য খতীবকে দেখা যায়নি। অথচ তারা তাঁকেও কাফের বলেছে এবং তাঁর অনুসারীদেরকেও কাফের বলেছে। বেরেলভীরা বলেছে যে, বুখারীর জামাআত হলো কুফরী ও মুরতাদদের জামাআত (তাজানুবু আহলিস সুন্নাহ, ৯০ ও ১৬০ পৃ.)।' অনুরূপভাবে তারা পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতি জিয়াউল হক, পাঞ্জাব অঞ্চলের আমীর সাওয়ার খান এবং পাকিস্থান সরকারের অন্যান্য মন্ত্রীদেরকেও কাফের বলেছিল। কারণ তারা মসজিদে নাববীর ইমাম ও মাসজিদুল হারামের ইমামের পিছনে সালাত আদায় করেছে। হযরত বেরেলভী ফাতওয়া দিয়েছিল, যে ব্যক্তিই নাজদী ওয়াহাবীদেরকে মুসলিম বলে বিশ্বাস করবে অথবা তাঁদের পিছনে সালাত আদায় করবে, সেই কাফের মুরতাদ হয়ে যাবে (ফতোয়া রিযভীয়্যাহ, ৬/১১)।' বেরেলভী নিজেই বলেছে, যে ব্যক্তি ইংরেজদের টুপি পরবে, সে কাফের হয়ে যাবে (ফতোয়া রিযভীয়্যাহ, ৬/৩০)।' বেরেলভী আরো বলে, যে ব্যক্তি বলবে যে, আবূ হানীফা রহিমাহুল্লাহর কিয়াস সঠিক নয়, তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে (ফতোয়া রিযভীয়্যাহ, ৬/৩৪)।'

বেরেলভী নিজের সম্পর্কে নিজেই লিখেছে যে, আমরা কোনো মুসলিমকে কাফের বলার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করি। আর যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলেছে, তাকে যথাসম্ভব কাফের না বলারই চেষ্টা করি (ফতোয়া রিযভীয়‍্যাহ, ৬/২৫১)।' বেরেলভী বহুবার বলেছে ও লিখেছে, যে ব্যক্তি আওলাদে রাসূলের কাউকে অবজ্ঞা বা হেয়জ্ঞান করবে সে কাফের হয়ে যাবে (বালেগুন নূর, ২৩ পৃ.)।' অথচ সে নিজে সায়্যেদ নাযীর হুসাইনসহ আরো অনেক বিশিষ্ট আলেমদেরকে সে কাফের বলেছে, অথচ তারা ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশধর।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00