📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ৩১. আহলুল হাদীস ও দেওবন্দী সবাই ওহাহাবী

📄 ৩১. আহলুল হাদীস ও দেওবন্দী সবাই ওহাহাবী


তারপর সে সকলকে অর্থাৎ নাদভী, দেওবন্দী, শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনু আব্দিল ওয়াহাব রহিমাহুল্লাহর অনুসারীদেরকে ও আহলুল হাদীস সালাফীদের সকলকে সে ওয়াহাবীদের অন্তর্ভুক্ত করে। কারণ তাঁর দাবী হলো, এরা সকলেই শিরক, বিদআত ও বিভিন্ন কল্পকাহিনীর বিপরীতে তাঁদের আকীদার ক্ষেত্রে শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনু আব্দিল ওয়াহাব রহিমাহুল্লাহর থেকে দিক নির্দেশনা নিয়ে থাকে। প্রথমত, বেরেলভী ও বেরেলভী মতবাদের অনুসারীরাই তাঁদেরকে এই নামে সম্বোধন করেছিল। আর সাধারণভাবে এই শব্দ দিয়ে এই চার দলকেই উদ্দেশ্য করা হতো। তারপরে তারা তাঁদেরকে নিকৃষ্ট নামে ডাকতে শুরু করে, তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেয়, তাঁদের থেকে মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং মিথ্যা ও অনৈতিক বর্ণনা দিয়ে তাঁদেরকে লোকদের মধ্যে অপমান করতে থাকে এবং তারা তাঁদের হুকুম আহকাম ও তাঁদের সাথে লেনদেনের বিধানসমূহ বর্ণনা করতে থাকে। তারা বলেছিল, এমনকি তাঁদের প্রধান নেতা বেরেলভী নিজেই বলেছিল যে, ওয়াহাবীরা ও তাঁদের নেতারা বিভিন্ন দিক থেকে কাফের। মুখে তাঁদের শাহাদাত পাঠ করাটা তাঁদের কুফরীকে নাকোচ করে না (আল কাওকাবাতুশ শাহাবিয়‍্যাহ, ১০ পৃ.)।'

সে আরো বলে যে, হাজারো কারণ ও উপায়ে এই দলের কুফরী প্রমাণিত হয়েছে (আল কাওকাবাতুশ শাহাবিয়‍্যাহ, ৫৯ পৃ.)। সে আরো বলে যে, ইমামদের অর্থাৎ বেরেলভী সম্প্রদায়ের ইমামদের ইজমার ভিত্তিতে ওয়াহাবীরা সকলেই কাফের মুরতাদ (আল কাওকাবাতুশ শাহাবিয়্যাহ, ৬০ পৃ.)। সে আরো বলে যে, ওয়াহাবীরা কাফের, মুরতাদ ও মুনাফিক। কারণ মুখে শাহাদাত উচ্চারণ করার মাধ্যমে তারা বাইরে বাইরে ইসলাম প্রকাশ করে মাত্র (আহকামুশ শারীআত, বেরেলভী, ১১২ পৃ.)। সে আরো বলে যে, ওয়াহাবীরা ইবলীসের চেয়েও নিকৃষ্ট ও পথভ্রষ্ট। কেননা শয়তান মিথ্যা কথা বলে না, কিন্তু তারা মিথ্যা কথা বলে (আহকামুশ শারীআত, বেরেলভী, ১১৭ পৃ.)। সে আরো বলে যে, আল্লাহ তা'আলা ওয়াহাবীদের ওপর লানত করুন, তাঁদেরকে লাঞ্ছিত করুন এবং তাঁদেরকে জাহান্নামের ইন্ধন বানান (ফাতওয়া ইফরিকাহ, ১২৫ পৃ.)। সে আরো বলে যে, ওয়াহাবীদেরকে আল্লাহ তা'আলা ধ্বংস করুন। তারা কোথায় ফিরে যাচ্ছে? (ফাতওয়া ইফরিকাহ, ১৭২ পৃ.)' সে আরো বলে, ওয়াহাবীরা সর্বনিকৃষ্ট স্তরের (খালেসুল ইতেকাদ, ৪৫ পৃ.)। সে আরো বলে, আল্লাহ তা'আলা ওয়াহাবীদের ভাগ্যে কুফরীকে লিখে দিয়েছেন (ফতোয়া রিযভীয়‍্যাহ, ৬/১৯৮)।'

যেহেতু ওয়াহাবীরা কাফের মুরতাদ, তাই তাঁদের পিছনে সালাত আদায় করাও জায়েয নয় এবং তাঁদের জানাযার সালাতও আদায় করা জায়েয নয়। এই বিষয়ে বেরেলভী ও তাঁর অনুসারীরা ফাতওয়া দিয়েছে। ওয়াহাবীদের পিছনে সালাত আদায় করা সম্পর্কে জনৈক ব্যক্তি বেরেলভীকে জিজ্ঞেস করেছিল, তখন সে বলেছিল, তাঁদের সালাত সালাতেই নয় এবং তাঁদের জামাআত কোনো জামাআত নয় (মালফুযাত, ১০৫ পৃ.)।' ওয়াহাবীরা যেই মাসজিদ নির্মাণ করে, সেই মসজিদের বিধান সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে সে উত্তরে বলে যে, তারা কাফের, আর কাফেরদের মসজিদের বিধান সাধারণ বাড়ির বিধানের মতোই। জনৈক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করেছিল যে, ওয়াহাবী মুআযযিনের আযানের উত্তর দেওয়া যাবে কি? তখন সে তাঁর উত্তরে বলেছিল যে, না। কারণ তাঁদের সালাতকে সালাত বলে গণ্য করা যাবে না এবং তাঁদের আযানকেও আযান বলে গণ্য করা যাবে না (মালফুযাত, ১০৫ পৃ.)।'

আর মুসলিমদের মসজিদে ওয়াহাবীদেরকে প্রবেশ করার অনুমতিও দেওয়া যাবে না, যেমনটি এই বিষয়টি বেরেলভীর এক প্রতিনিধি ও উত্তরসূরী মুরাদ আবাদী স্পষ্টভাবে বলেছে। সে বলেছে যে, 'নিশ্চয় ওয়াহাবী ও গায়রে মুকাল্লিদদের জন্য মুসলিমদের মসজিদে প্রবেশের কোনো অধিকার নেই। মসজিদে তাঁদের প্রবেশ ফাসাদ সৃষ্টির কারণ। যদি তারা মসজিদে প্রবেশ করা থেকে বিরত না হয়, তাহলে সরকারীভাবে নিষেধাজ্ঞা করে দিতে হবে (ফাতওয়া নাঈমুদ্দীন মুরাদ আবাদী, ৬৪ পৃ.)।' এই পরিষদের আলেমগণের কাফের হওয়ার বিষয়ে সে ফাতওয়া জারি করে, তাতে সে তাঁর দলের প্রবীণদের সাক্ষর নেয়, আর সে সেটিকে 'ইলজামুস সুন্নাহ লি আহলিল ফিতনাহ' নামে প্রকাশ করে। তারপর সে সেটিকে 'মাজমুআতু ফাতওয়াল হারামাইন বি রজফী নাদওয়াতিল মাইন' কিতাবে প্রকাশ করে, যেমনটি এই অধ্যায়ে সায়্যেদ আল-হাসানী সম্পর্কে তাঁর থেকে যেমনটি বর্ণিত হয়েছে। 'আত-তাজানুব' কিতাবের লেখক একদল লোকের বর্ণনা নিয়ে এসেছে, যারা এই পরিষদের আলেমগণকে কাফের বলে ফাতওয়া দিয়েছে (মালফুযাত, বেরেলভী, ৯০ পৃ.)।'

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ৩২. ওহাহাবীদেরকে মাসজিদ থেকে বের করে দেওয়া

📄 ৩২. ওহাহাবীদেরকে মাসজিদ থেকে বের করে দেওয়া


ওয়াহাবীদেরকে মাসজিদ থেকে বের করে দেওয়া আবশ্যক হওয়া মর্মে সে একটি স্বতন্ত্র কিতাবই লেখে, সেই কিতাবের নাম দেয় 'ইখরাজুল ওয়াহাবিয়্যিন আনিল মাসাজিদ'। বেরেলভীরা এই বিষয়ে অনেক কঠোরতা করে, এমনকি তারা তাঁদের মসজিদের ফলকে লিখে দেয় যে, 'এখানে ওয়াহাবীদের সালাত আদায়ের কোনো অনুমতি নেই।' এমনকি এই যুগে, আলো ও জ্ঞানের যুগে, কিছু মসজিদে লিখা হয়েছে যে, 'হে শাইখ আব্দুল কাদের জিলানী', তারপর তার নিচে লিখা রয়েছে, 'এখানে ওয়াহাবীদের জন্য প্রবেশ করা নিষিদ্ধ।' আর আমি আমার দুই চোখে লাহোরে দুটি মাসজিদ দেখেছি, যেগুলোতে এমন কথা লিখা ছিল। বেরেলভী আরো বলে যে, ওয়াহাবীদের পিছনে সালাত আদায় করলে তা বাতিল হয়ে যাবে (ফতোয়া রিযভীয়্যাহ, ৬/৪৩)।' অনুরূপভাবে বেরেলভীদের মুফতী আহমাদ ইয়ারখান গুজরাটিও তাঁর ফাতওয়াতে এমন কথাই বলেছে (ফাতওয়া নাঈমিয়‍্যাহ, ১/১০৪)। বেরেলভী নিজেই বলেছে যে, কোনো ওয়াহাবী যদি কোনো মুসলিম ব্যক্তির জানাযার সালাত আদায় করে, তাহলে সেটি জানাযা বলেই গণ্য হবে না। আর এভাবেই যদি সেই মৃত ব্যক্তিকে দাফন করে দেওয়া হয়, তাহলে তাকে যেন কোনো জানাযার সালাত আদায় করা ছাড়াই দাফন করে দেওয়া হলো (ফতোয়া রিযভীয়‍্যাহ, ৪/১২)।'

আর ওয়াহাবীদের জানাযার সালাত আদায় করা সম্পর্কে, জনৈক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করে যে, কোনো ওয়াহাবী ব্যক্তি মারা গেলে তাঁর জানাযার সালাত আদায় করার বিধান কি? তখন সে তাঁর উত্তরে বলে যে, ওয়াহাবীরা হলো কাফের মুরতাদ। যে ব্যক্তি তাঁদের জানাযার সালাত আদায় করবে, সেও কাফের হয়ে যাবে (মালফুযাত, ৭৬ পৃ.)।' অনুরূপভাবে তাঁদের জন্য কোনো দুআ করাও জায়েয নয়। কেননা আল্লাহ তা'আলা তাঁদের সম্পর্কে বলেছেন যে, তারপর তারা আর ফিরে আসবে না (মালফুযাত, ২৮৬ পৃ.)।' এখানে সীমাবদ্ধ নয়। বরং যে ব্যক্তি বিশ্বাস করবে যে, ওয়াহাবীরা মুসলমান, সেও কাফের, আর পিছনে সালাত আদায় করাও জায়েয নয়, যেমনটি বেরেলভী তাঁর কিতাবে স্পষ্টভাবে এমনটি বলেছে (ফতোয়া রিযভীয়্যাহ, ৬/৮০-৮১)। অন্য আরেকজন বলেছে, যে ব্যক্তি বেরেলভীদের সম্পর্কে কথা বলবে, তাঁর পিছনেও সালাত আদায় করা জায়েয নয় (ফাতাওয়া নাঈমুদ্দীন মুরাদ আবাদী, ৬৪ পৃ.)।'

আর তাঁদের সাথে অন্যান্য লেনদেন করাও হারাম। সে বলে যে, 'ওয়াহাবীদের সাথে সাক্ষাত করা, তাঁদের সাথে উঠাবসা করা হারাম। তারা অসুস্থ হলে তাঁদেরকে দেখতে যাওয়াও হারাম। তাঁদের কেউ মারা গেলে তাঁকে গোসল করার, তাঁর জানাযা বহন করাও হারাম (ফাতাওয়া নূরিয়‍্যাহ, ১/২১৩)।' আর মুরাদ আবাদী বলে যে, ওয়াহাবীরা পথভ্রষ্ট, অন্যদেরকে পথভ্রষ্টকারী এবং নাস্তিক। তাঁদের পিছনে সালাত আদায় করা জায়েয নয় এবং তাঁদের সাথে মেলামেশা করাও জায়েয নয় (ফতোয়া রিযভীয়‍্যাহ, ৬/৯০)।' সে আরো বলে যে, মনোযোগ দিয়ে ওয়াহাবীদের কথা শ্রবণ করাও হারাম। তাঁদের সাথে বসা এবং তাঁদের সাথে কথাবার্তা বলাও হারাম (মাজমূআতু ফাতাওয়া নাঈমুদ্দীন, ১১২ পৃ.)।' সে আরো বলে যে, তাঁদের সাথে মুসাফাহা করা ও তাঁদেরকে সালাম দেওয়াও হারাম এবং এতে অবশ্যই পাপ হবে ও আল্লাহ তা'আলার অবাধ্যতা করা হবে (ফতোয়া রিযভীয়‍্যাহ, ৪/২১৮)।' সে আরো বলে যে, কোনো হানাফীর জন্য ওয়াহাবীদের কূপ থেকে পানি পান করাও জায়েয নয় (জায়াল হাক্ক, ২/২২২)।' সে আরো বলে, তাঁদের সালামের উত্তর দেওয়াও হারাম (ফাতওয়া ইফরিকাহ, ১৭০ পৃ.)।'

এতেই তাঁর কথা সীমাবদ্ধ নয়। বরং সে আরো বলে যে, যে ব্যক্তি তাঁদের সাথে লেনদেন করবে ও তাঁদের সাথে উঠাবসা করবে, তাঁর সাথে বিবাহ দেওয়াও হারাম (ফতোয়া রিযভীয়‍্যাহ, ৫/৭২)।' কোনো বিবাহে যদি কোনো ওয়াহাবী খুতবা দেয় ও বিবাহ পড়ায়, তাহলে সেই বিবাহ বাতিল। আর নতুনভাবে আবার সেই বিবাহ পড়াতে হবে এবং নতুনভাবে তাঁকে ইসলাম গ্রহণ করতে হবে (ফতোয়া রিযভীয়্যাহ, ৬/৮৯)।' সে আরো বলে যে, বিবাহের ক্ষেত্রে ওয়াহাবীদের সাক্ষী থাকা হারাম (ফাতওয়া ইফরিকাহ, ৬৯ পৃ.)।' বেরেলভীর এক ছাত্র ও প্রতিনিধি বলে যে, 'ওয়াহাবীদের সাথে বিবাহ দেওয়া হারাম। কেননা তারা মুসলিমদের জন্য উপযুক্ত নয় (বিহারু শারীআত, আমজাদ আলী, ৭/৩২)।'

বেরেলভী নিজেই বলে যে, 'ওয়াহাবীরা মুরতাদ, তাঁর সাথে বিবাহ দেওয়া যাবে না, কোনো পশুকেও না, আবার কোনো মানুষকেও না। যদি বিবাহ দেওয়া হয়, তাহলে সেটি ব্যভিচার বলেই গণ্য হবে (ফতোয়া রিযভীয়্যাহ, ৫/১৯৪)।' সে বলেছে যে, 'কোনো ওয়াহাবীর পক্ষ থেকে কোনো কিছু জানতে চাওয়া হারাম, হারাম, হারাম। যে ব্যক্তি তাঁর কুফরী ও আযাব হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ করবে, সেও কাফের হয়ে যাবে (ফতোয়া রিযভীয়‍্যাহ, ৪/১০৬)।' আমজাদ আলী বলে, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো ওয়াহাবীকে যাকাত দেয়, তাহলে সেটি যাকাত বলেই গণ্য হবে না (আহকামু শারীআত, ১/১২২)।' জনৈক জিজ্ঞেসাকারীর জিজ্ঞাসার উত্তরে সে বলে যে, ওয়াহাবীদের নিকটে শিশুদেরকে শিক্ষা করতে দেওয়া হারাম, হারাম, হারাম। যে ব্যক্তি এমন কাজ করবে, সে তাঁর সন্তানদের শত্রু এবং পাপে নিমজ্জিত (বিহারু শারীআত, ৫/৪৬)।'

ওয়াহাবীদের যবেহ করা পশু সম্পর্কে সে বলে যে, ইয়াহুদীদের যবেহ করা পশু হালাল, অনুরূপভাবে নাসারাদের যবেহ করা পশুও হালাল। কিন্তু ওয়াহাবীরা মুত্তাকী হলেও এবং যবেহ করার সময় এক লক্ষ বার আল্লাহর নাম উচ্চারণ করলেও তাঁদের যবেহ করা পশুর গোশত খাওয়া হারাম। কেননা কোনো মুরতাদের যবেহ করা পশুর গোশত খাওয়া যাবে না (ফাতাওয়া ইফরিকাহ, ২৭ পৃ.)।' অনুরূপভাবে সে আরো বলে যে, যে ব্যক্তির থেকে ব্যভিচার করা প্রমাণিত হয়েছে এমন ব্যভিচারের যবেহ করা পশুর গোশত খাওয়াও হালাল (আহকামু শারীআত, ২৩৭ পৃ.)।' সে এর উত্তরে বলে যে, 'সবচেয়ে বড় কুফরী হলো মাজুসদের কুফরী। তাঁদের কুফরী ইয়াহুদী ও নাসারাদের কুফরীর চেয়েও বড়। আর হিন্দুদের কুফরী মাজুসদের কুফরীর চেয়েও বড়। আর ওয়াহাবীদের কুফরী হিন্দুদের কুফরীর চেয়েও বড় (ফতোয়া রিযভীয়‍্যাহ, ৬/১৩)।' সে আরো বলে যে, ইয়াহুদী, মূর্তিপূজকসহ আরো অন্যান্য প্রকৃত কাফেরদের চেয়ে ওয়াহাবীরা আরো বেশি নিকৃষ্ট ও ক্ষতিকর (আহকামু শারীআত, ১২৪ পৃ.)।' সে আরো বলে যে, ওয়াহাবীরা কুকুরের চেয়েও বেশি নিকৃষ্ট ও বেশি অপবিত্র। কেননা কুকুরের কোনো আযাব হবে না, কিন্তু এই ওয়াহাবীরা কঠিন আযাব পাওয়ার উপযুক্ত (ফতোয়া রিযভীয়্যাহ, ৫/১৩৮)।'

বেরেলভী বলে যে, 'ওয়াহাবীদের বইপত্র পড়া হারাম (ফতোয়া রিযভীয়‍্যাহ, ৬/৯)।' অন্য আরেকজন বলে যে, 'আলেম ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য ওয়াহাবীদের কিতাবের দিকে দৃষ্টিপাত করাও জায়েয নয় (বিহারু শারীআত, ৫/১১)।' পক্ষান্তরে বেরেলভী বলে যে, এমনকি একজন বিজ্ঞ আলেমের জন্যও ওয়াহাবীদের কিতাবের দিকে দৃষ্টিপাত করা জায়েয নয় (মালফুযাত, বেরেলভী, ৩৩৫ পৃ.)।' ওয়াহাবীদের কোনো এক আলেমের একটি কিতাব সম্পর্কে বেরেলভী বলে যে, মুসলিমদের জন্য এই কিতাবের দিকে দৃষ্টিপাত করাও হারাম (ফতোয়া রিযভীয়‍্যাহ, ৬/৫৪)।' মুরাদ আবাদী তাঁর জনৈক ইমাম থেকে বর্ণনা করে যে, 'তুমি ইবনু তাইমিয়্যাহ ও ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহসহ আরো অন্যান্যদের কিতাবগুলোর দিকে দৃষ্টি দেওয়া থেকে সাবধান থাকবে (ফাতাওয়া নাঈমুদ্দীন মুরাদ আবাদী, ৩৩-৩৪ পৃ.)।'

হিজাজে ওয়াহাবীদের ক্ষমতা গ্রহণ করার কারণে হজ্জের বিকৃতি সম্পর্কে বেরেলভীদের ফাতওয়া:
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধারণকারী, সালাফে সালেহীনের অনুসারীদের ওপর বেরেলভীদের বিদ্বেষের অন্তর্ভুক্ত হলো, তারা হজের ফরয হওয়াকে মাফ হয়ে যাওয়ার পক্ষে ফাতওয়া দিয়েছিল। আর একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেছিল, যা এই নামে পাঠ করা হবে যে, 'তানবিরুল হুজ্জাহ লিমায় ইউজাব্বিজু ইলতিওয়াইল হুজ্জাহ'। এই কিতাবটি রচনা করে বেরেলভীর ছেলে ও বেরেলভীদের মুফতী মুস্তফা রেযা। অবশেষে সে তাঁদের ক্ষমতা থাকার সময়েই ফরয হজ্জকে মাফ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে ফাতওয়া প্রদান করে। এই ফাতওয়াতে সাক্ষরকারীদের একজন মন্তব্য করে যে, এই ফাতওয়ার মাধ্যমে হারামাইনের ভূমি থেকে শয়তান নাজদীদেরকে পবিত্র করা হবে। বেরেলভী ও বেরেলভী মতবাদের অনুসারীরা এই বিষয়ে সতর্ক না হলে তাঁদের কী যে অবস্থা হতো তা আমাদের জানা নেই।

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ৩৩. আবুল কালাম মহিউদ্দীন আহমাদ

📄 ৩৩. আবুল কালাম মহিউদ্দীন আহমাদ


'আবুল কালাম মহিউদ্দীন আহমাদ, যাকে ভারতের ইমাম বলা হয়, যিনি শাইখুল ইসলাম ও ইসলামী দাওয়াতের মুজাদ্দিদ ইবনু তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহকে ভারত পাকিস্থান উপমহাদেশে পরিচিত করেছেন এবং শাইখুল ইসলামের কিতাবগুলোকে উর্দু ভাষাতে অনুবাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন। বেরেলভী তাঁর সম্পর্কে অনেক নোংরা কথাবার্তা বলেছে, তাঁকে মিথ্যাবাদী ও পাপাচারী বলেছে এবং সে তাঁকে মিথ্যারোপকারী ও অবাধ্য বলে নামকরণ করেছে (দাওয়ামুল আইশ, ৯৯ পৃ. থেকে শেষ পর্যন্ত)।' আর বেরেলভীর প্রতিনিধি স্পষ্টভাবে তাঁকে মুরতাদ বলে ঘোষণা করেছে। সে বলেছে যে, নিশ্চয় আবুল কালাম আযাদ মুরতাদ।' অনুরূপভাবে তাঁর কিতাব 'তরজমাতুল কুরআন' কিতাবকে সে অপবিত্র কিতাব বলে নামকরণ করেছে (তাজানুবু আহলিস সুন্নাহ, ১৬৬ পৃ.)।'

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ৩৪. কবি ড. মুহাম্মাদ ইকবাল

📄 ৩৪. কবি ড. মুহাম্মাদ ইকবাল


মুহাম্মাদী পুস্তিকার কবি এবং ভারত পাকিস্থান উপমহাদেশের সকল মুসলিমদের কবি, আল্লাহ তা'আলা তাঁর ওপর সালাত ও সালাম নাযিল করুন, যিনি লোকজনের মধ্যে জিহাদের চেতনাকে ফুকে দিয়েছিলেন, জাহেলী রীতি নীতি পরিত্যাগ করতে তাঁদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন এবং কাফেরদের রীতিনীতি ও বিভিন্ন ধর্মশালা ত্যাগ করার জন্য তাঁদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন এবং মাযহাবী গোড়ামী ও কোনো ব্যক্তির অন্ধ তাকলীদ করা থেকে তাঁদেরকে সতর্ক সাবধান করেছিলেন, তিনি হলেন ড. মুহাম্মাদ ইকবাল। বেরেলভীরা তাঁর সম্পর্কে বলে যে, নিশ্চয় নাস্তিক দার্শনিক ড. মুহাম্মাদ ইকবালের মুখ দিয়ে ইবলীস শয়তান কথা বলে (তাজানুবু আহলিস সুন্নাহ, ৩৪০ পৃ.)।' তারা আরো বলেছে যে, সঠিক দীন ইসলামের সাথে মুহাম্মাদের ইকবালের মাযহাবের কোনো সম্পর্ক নেই (তাজানুবু আহলিস সুন্নাহ, ৩৪১ পৃ.)।' বেরেলভীর খলীফা ও প্রতিনিধি বলে যে, মুসলমানদের জন্য মুহাম্মাদ ইকবালের সাথে উঠাবসা করা, তাঁর সাথে কথা বার্তা বলা জায়েয নয়। মুসলমানরা এমনটি করলে তারা অবশ্যই বড় ধরনের গুণাহগার হবে (নাকলান আন যিকরি ইকবার, ১২৯ পৃ.)।'

ফন্ট সাইজ
15px
17px