📄 ২৬. ইমাম শাওকানী রহিমাহুল্লাহ
যেহেতু এমন ইমামরা ধর্মত্যাগী, নাস্তিক, সুতরাং এতে আবশ্যক হয় যে, তাদের পথ অনুসরণকারী ইমাম শাওকানী রহিমাহুল্লাহও তাদের মতোই। বেরেলভী ইমাম শাওকানী সম্পর্কে বলে যে,
'পরবর্তী ওয়াহাবিদের মতো শাওকানীর কম বিবেক সম্পন্ন ব্যক্তি (ফতোয়া রিযভীয়্যাহ, ২/৪৪২)।'
'শাওকানীর মাযহাব হলো খুবই খারাপ মাযহাব (সাইফুল মুস্তফা, ৯৫ পৃ.)।'
📄 ২৭. মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহাব রহিমাহুল্লাহ ও তার অনুসারীবৃন্দ
আরব উপদ্বীপে সালাফী দাওয়াতের মুজাদ্দিদ, তাওহীদপন্থিদের ইমাম, সুন্নাতকে পুনরুজ্জীবিতকারী, শিরক ও বিদআতকে উচ্ছেদকারী শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহাব রহিমাহুল্লাহ ও তার অনুসারীরা হলেন, বেরেলভী ও তার অনুসারী যেমন আরব দেশে তার বিদআতী ও কবরপূজারী ভাইদের প্রধান লক্ষবস্তু। কেননা পৃথিবীর যেখানেই কোনো বিদআতী অথবা কবর পূজারীকে পাওয়া যেতো, তাকেই শাইখ তার পথের বাধা প্রতিবন্ধক মনে করতেন। বেরেলভী ও তার অনুসারীরা এই মাযলূম ইমামের বিরুদ্ধে যত খারাপ শব্দ পেয়েছে, সবগুলো তার জন্য প্রয়োগ করেছে এবং ইমামের বিরুদ্ধে যত ফাতওয়া দিতে সক্ষম হয়েছে সবগুলোই তারা করেছে।
বেরেলভী বলে, 'একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, যাদের নাম হবে আহমাদ ও মুহাম্মাদ, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তোমরা উভয়েই জান্নাতে প্রবেশ করো। কেননা আমি নিজের ওপর লিখে দিয়েছি যে, যাদের নাম হবে আহমাদ, মুহাম্মাদ তাদেরকে আমি জাহান্নামে প্রবেশ করাবো না।' তারপর তার মনে আসে যে, এই বর্ণনাতে তো তাহলে শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহাব রহিমাহুল্লাহও অন্তর্ভুক্ত হন, কেননা তার নাম হলো মুহাম্মাদ, তখন বেরেলভী বলে যে,
এই হাদীসসহ অন্যান্য হাদীস যেমন, 'কোনো ব্যক্তির যদি কোনো সন্তান জন্মগ্রহণ করে, আর সে যদি তার নাম রাখে মুহাম্মাদ, তাহলে সে ও তার সন্তান উভয়েই জান্নাতে যাবে।' এই বর্ণনাগুলোতে শুধু সহীহ আকীদার আহলুস সুন্নাহ অর্থাৎ শুধু বেরেলভীরাই অন্তর্ভুক্ত হবে। কেননা খারাপ মাযহাবের লোক জাহান্নামের কুকুর হবে। তাদের থেকে কোনো আমলই কবুল করা হবে না। তাদের কোনো ব্যক্তিকে যদি হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইবরাহীমের মধ্যবর্তী স্থানে হত্যা করা হয়, আর সে যদি আল্লাহ তা'আলার ক্ষমা ও প্রতিদান পাওয়ার আশাতে ধৈর্যধারণ করে, তবুও আল্লাহ তা'আলা তার দিকে তাকাবেন না এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। আর এটি অনেক স্থানে আমার ফাতওয়াতে আমি স্পষ্টভাবে বলেছি। সুতরাং এই হাদীসে মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহাব নাজদীসহ অন্যান্য পথভ্রষ্টদের জন্য কোনো সুসংবাদ নেই (আহকামুশ শারীআহ, লিল বেরেলভী, ১/৮০)।'
সে আরো বলে যে, 'সবচেয়ে নিকৃষ্ট মুরতাদ হলো ওয়াহাবিরা (আহকামুশ শারীআহ, লিল বেরেলভী, ১/১২৩)।' সে আরো বলে, ইয়াহুদী, নাসারা, মূর্তিপূজক ও মাজুসদের চেয়েও ওয়াহাবিরা বেশি নিকৃষ্ট, অনিষ্টকর ও খারাপ (আহকামুশ শারীআহ, লিল বেরেলভী, ১/১২৪)।'
সে আরো বলে যে, ওয়াহিবা নিজেদেরকে মুহাম্মাদ ইবনু আব্দিল ওয়াহাব আন-নাজদীর দিকে সম্পৃক্ত করে। ইবনু আব্দিল ওয়াহাব আন-নাজদী কিতাবুত তাওহীদ নামক কিতাব লিখেছে, পবিত্র দুই হারামের অবমাননা করেছে, আল্লাহ তা'আলা যেন এই পবিত্র দুই হারামের মর্যাদা ও সম্মান আরো বাড়িয়ে দেন, সে দুই হারামে অভিযান চালিয়ে সেখানে অন্যায়, অবিচার ও হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। ইবনু আব্দুল ওয়াহাব তার দলের ব্যতীত অন্য সকল মুসলিমদেরকে মুশরিক হিসেবে গণ্য করেছে। সুতরাং অবশ্যই এই ওয়াহাবীদেরকে কাফের আখ্যায়িত করতে হবে। আর তার দলটি হলো খারেজীদের একটি শাখা, যেই খারেজীরা আমাদের নেতা আলী রাদিয়াআল্লাহ আনহুর বিরুদ্ধে বেরিয়েছিল, আল্লাহ তা'আলার সিংহকে হত্যা করার কারণে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করেছে, যাদের সম্পর্কে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, কিয়ামত পর্যন্ত তাদের অবসান হবে না, যতদিন তাদের শেষ ব্যক্তি লানতপ্রাপ্ত দাজ্জালের সাথে বের না হবে। এই সত্য প্রতিশ্রুতির কারণে এই অভিশপ্ত সম্প্রদায় সর্বদাই ফিতনা ছড়াতেই থাকবে। এই তেরশ শতাব্দীতে তারা নাজদ এলাকাতে বের হয়েছে, আর সেখানে তারা নাজদী নামে প্রসিদ্ধ হয়েছে। আর তাদের ইমাম হলো শাইখ নাজদী। এমনকি শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা তাদের শক্তিকে শেষ করে দিয়েছেন, তাদের দেশকে ধ্বংস করেছেন এবং এবং মুসলিমদের দল ১২৩৩ হিজরিতে তাদের ওপর বিজয়ী হয়েছে (আল কাওকাবাতুশ শাহাবিয়্যাহ, ৫৮-৫৯)।'
জনৈক ব্যক্তি তাকে ওয়াহাবীদের দল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল, যারা খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগে ছিল, এর উত্তরে বেরেলভী বলে যে, 'হ্যাঁ, এরা আলী রাদিয়াআল্লাহু আনহুর বিরুদ্ধে বের হয়েছিল। এখন তারা ওয়াহাবী নামে আত্মপ্রকাশ করেছে, আর তাদের ইমাম হলো ইবনু আব্দুল ওয়াহাব আন নাজদী। হাদীসে তাদের নিদর্শনসমূহ বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো তাদের মাঝে পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান। সেগুলো হলো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, তাদের সালাতের নিকটে তোমাদের সালাতকে তোমরা তুচ্ছ মনে করবে, তাদের সিয়ামের কাছে তোমাদের সিয়ামকে তোমরা তুচ্ছ মনে করবে, তাদের আমলের কাছে তোমাদের আমলকে তোমরা তুচ্ছ মনে করবে। তারা কুরআন তিলাওয়াত করবে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। এমনটিই বলেছেন সর্বশ্রেষ্ট সৃষ্টি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তারা দীন থেকে তেমনভাবে বেরিয়ে যাবে, যেভাবে তীর তার লক্ষ ভেদ করে বেরিয়ে যায়। বিশেষভাবে তাদের মাথা মুণ্ডন করা থাকবে। ইবনু আব্দুল ওয়াহাব আন নাজদী মাথা মুণ্ডনের ক্ষেত্রে খুব অতিরঞ্জকারী ছিল। এমনকি এক মহিলা তার অপবিত্র দীনে প্রবেশ করেছিল। তখন সে সেই মহিলারও মাথা মুণ্ডন করতো (মালফুযাতু মুজাদ্দিদিল মিআতিল হাযিরাহ, ৬৬ পৃ.)।'
সে আরো বলে, 'ইবনু আব্দুল ওয়াহাবের পিতৃপুরুষ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ছিল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর সিদ্দীক ও উমার ফারূক রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তাকে হত্যা করার জন্য। তখন তাকে যদি হত্যা করা হতো, তাহলে আজ আর এই ফিতনা থাকতো না (মালফুযাতু মুজাদ্দিদিল মিআতিল হাযিরাহ, ৬৭-৬৮ পৃ.)।'
তার এক অনুসারী লিখেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদী এই ফিতনা সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, এই বলে যে, সেখানে ভুমিকম্প ও ফিতনা হবে। আর সেখানে শয়তানের শিং উদিত হবে। আর পৃথিবীর সকল আহলুস সুন্নাহ ও হানাফীরা একমত যে, মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহাব খারেজী ও সীমালংঘনকারী ছিল। যে ব্যক্তি তার আকীদাতে বিশ্বাস করে, সে হলো দীনের শত্রু, পথভ্রষ্ট ও অন্যকে পথভ্রষ্টকারী (আল হাক্কুল মুবীন, আহমাদ সাঈদ কাযিমী বেরেলভী, ১০-১২ পৃ.)। আমজাদ আলী রেজভী আল-বেরেলভীও তার কিতাবে এমন কথাই বলেছে (বিহারু শারীআত, ১/৪৬-৪৭)।
অন্য আরেকজন ব্যক্তি, যে মিথ্যা অভিযোগ ও অপবাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী মিথ্যাবাদীদেরকে ছাড়িয়ে গিয়েছে, সেই ব্যক্তি বলে যে, নাজদী ওয়াহাবীরা পবিত্র হারামাইনে মানুষদেরকে বিনা অপরাধে হত্যা করেছে, তাদের নারী ও কন্যাদের সাথে ব্যভিচার করেছে, তাদেরকে বন্দি করেছে, নারীদেরকে ক্রীতদাস বানিয়েছে এবং সম্ভান্ত ব্যক্তিদের ওপর ব্যাপকভাবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। ইবনু সাউদ পবিত্র হারামাইনে যে কাজ করেছে প্রত্যেক হাজীদের কাছেই তা স্পষ্ট, আর আমি নিজে আমার দুই চোখ দিয়ে দেখে এসেছি (জাআল হাক্ক ও যাহাকাল বাতিল, আহমাদ ইয়ার, ৫৭৪ পৃ.)।
এর সাথে সাথে বেরেলভী ভবিষ্যদ্বানী করে যে, 'নাজদীরা পবিত্র হারামাইনে বেশি দিন শাসন করতে পারবে না। আল্লাহ তা'আলা তাদের শক্তিকে ভেঙ্গে দিবেন এবং তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন।'
📄 ২৮. শাইখ ইমাম মহান আলেম কাসেম নানুতুভী
দেওবন্দী আলেমদের মধ্যে সর্বপ্রথম যাকে কাফের বলে ঘোষণা করা হয়, তিনি হলেন শাইখ দেওবন্দ আল-কাবীর, যিনি ভারতীয় উপমহাদেশে, বরং প্রকৃতপক্ষে সারা বিশ্বের মধ্যে 'দারুল উলুম দেওবন্দ' নামে সবচেয়ে বড় হানাফী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর সম্পর্কে শাইখ আব্দুল হাই আল-হাসানী বলেন, 'শাইখ ইমাম মহান আলেম কাসেম নানুতৃভী হলেন একজন রব্বানী আলেম। তিনি সেই যুগে সবচেয়ে বড় দুনিয়া বিমুখ মানুষ ছিলেন। আর তিনি সবচেয়ে বেশি ইবাদতগুজার, সবচেয়ে বেশি আল্লাহর যিকিরকারী মানুষ ছিলেন। আর তিনি শুধু বাহ্যিকভাবে পাগড়ি, চাদর দিয়ে আলেমদের পোশাক পরা ও ফকীহ সাজা থেকে অনেক দূরে ছিলেন। সেই যুগে তিনি ফাতওয়া দিতেন না এবং প্রসিদ্ধও ছিলেন না। বরং তিনি সর্বদাই আল্লাহ তা'আলার যিকিরে নিমগ্ন ছিলেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছে জ্ঞান ও সত্যের দ্বার উন্মুক্ত হয়। তারপর শাইখ ইমদাদুল্লাহ তাঁকে খলীফা হিসেবে নিযুক্ত করেন এবং শাইখ ইমদাদুল্লাহ এভাবে তাঁর প্রশংসা করেন যে, কাসিমের মতো এই যুগে আর কেউ নেই। খ্রিস্টান ও আর্যদের বিরুদ্ধে বিতর্কের ক্ষেত্রে তাঁর খুবই সুন্দর অবদান ছিল। তিনি ১২৯৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (নুঝহাতুল খাওয়াতির, ৭/৩৮৩-৩৮৪)।'
বেরেলভীরা এই শাইখকেও কাফের বলেছে, যেই শাইখ হলেন তাঁর যুগে হানাফীদের ইমাম, 'দেওবন্দী' নামে পরিচিত আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। এই শায়খের সম্পর্কে বেরেলভী তাঁর দুর্বল আরবীতে বলে, 'কাসেমীরা 'তাহযীরুন নাস' কিতাবের লেখক কাসেম নানুতৃভী এর দিকে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করে। সেই কিতাবে তিনি বলেন যে, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে অথবা তাঁর পরবর্তীতে কোনো নতুন নবী আসতো, তবুও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বশেষ নবী হওয়াটা বাতিল হতো না। বরং সাধারণ মানুষরা মনে করতো যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ নবী। যদিও জ্ঞানীদের নিকটে এই বিষয়ে মূলগতভাবে কোনো ফযীলত নেই।' নানূতৃভী হলো মুহাম্মাদ আলী কানপূরী, তিনি 'হাকীমুল উম্মাহ আল-মুহাম্মাদীয়া' নামক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। সুতরাং আমি সেই সত্তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি, যিনি অন্তর ও দৃষ্টিসমূহের পরিবর্তনকারী। এক, পরাক্রমশালী, সর্বজয়ী ও মহাক্ষমাশীল আল্লাহ তা'আলার শক্তি ছাড়া আর কোনো শক্তি নেই। এরা সকলেই হলো অবাধ্য, অভিশপ্ত ও ধর্মত্যাগী (হিসামুল হারামাইন আলা মানহারিল কুফরী ওয়াল মাইন, বেরেলভী, ১৯ পৃ.)।'
সে আরো বলে যে, কাসেমীরা, আল্লাহ তা'আলা তাদের ওপর লানত করুন, তারা হলো অভিশপ্ত, চিরন্তন ধর্মত্যাগী (ফতোয়া রিযভীয়্যাহ, ৬/৫৯)।' বেরেলভীর এক অনুসারী বলে যে, 'তাহযীরুন নাস' কিতাবটি মুরতাদ, নিকৃষ্ট নানূতৃভীর কিতাব, যে ব্যক্তি দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেছিল (তাজানুবু আহলিস সুন্নাহ, ১৭৩)।'
📄 ২৯. রশীদ আহমাদ গাংগুহী
পক্ষান্তরে দেওবন্দের একজন নেতা ও তাঁদেরই একজন শাইখ সায়্যেদ আল- হাসানী নানূতৃভী সম্পর্কে লিখেছেন যে, 'শাইখ ইমাম আল্লামাহ মুহাদ্দীস রশীদ আহমাদ ইবনে হিদায়াহ আহমাদ ইবনে পীর বাখশ ইবনে গোলাম হাসান ইবনে গোলাম আলী ইবনে আলী আকবর ইবনে কাযী মুহাম্মাদ আসলাম আল-আনসারী আল-হানাফী রামপূরী জানজুহী হলেন একজন মুহাক্কি আলেম এবং বিশিষ্ট গবেষক। সততা, চারিত্রিক নিষ্কলুষত, তাওয়াক্কুল, জ্ঞানার্জন, বীরত্ব, ঝুঁকি নেওয়ার সাহসিকতা, ধর্মে দৃঢ়তা, মতের ওপর অটলতার ক্ষেত্রে তাঁর যুগে তাঁর সমতুল্য আর কেউ ছিল না (নুঝহাতুল খাওয়াতির, ৮/১৪৮)।' তাঁর সম্পর্কে বেরেলভী ও তাঁর অনুসারীরা বলে যে, ইসলামের নামে নিজেদেরকে গোপনকারী কাফেররা হলো রশীদ আহমাদ গাংগুহী ও আলী হযরত সামাদীর অনুসারী মিথ্যাবাদী ওয়াহাবীরা। ইসমাইল শহীদ দেহলভী যেই মতাদর্শের ওপর ছিল রশীদ আহমাদ ও আলী হযরত তারই অনুসরণ করেছে। আর আমি একটি স্বতন্ত্র কিতাবে তাঁর বাজে কথার জবাব দিয়েছি, সেই কিতাবের নাম দিয়েছি 'সুবহানাস সুব্বহ আন আইবি কাযিবিম মাকবৃহ'। তারপর পোস্টের মাধ্যমে তাঁর নিকটে এই কিতাব পাঠিয়েছি। তারপর এগার বছর থেকে এর উত্তর আসছে! তারা এটা প্রচার করেছে যে, সে নাকি এর জবাব লিখেছে এবং ছাপানোর জন্য তা পাঠিয়েছে। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা বিশ্বাস ঘাতকদের ষড়যন্ত্রকে সফল করেন না। তারপর তারা উঠেও দাঁড়াতে পারেনি, আবার প্রতিশোধও নিতে পারেনি। এখন যে ব্যক্তি দূরদর্শিতা হারিয়ে গেছে আল্লাহ তা'আলা তাকে অন্ধ করে দিয়েছেন, সুতরাং তার থেকে কিভাবে জবাব আসবে। মৃত ব্যক্তি কি মাটির ভিতর থেকে বিতর্ক করতে পারে?
তারপর যুলম ও বিভ্রান্তিতে তাঁর অবস্থা এতদূর পর্যন্ত গড়িয়েছিল যে, সে তাঁর 'কাদ রআইতুহা বি খত্তিহি ওয়া খতিমিহি বি আইনাইয়্যা ওয়া তবাতু মিরারান বি মাবই ওয়া গয়রিহা মাআ রদ্দিহা' নামক ফাতওয়াতে সে স্পষ্টভাবে বলেছে যে, যে ব্যক্তি কাজের মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলাকে মিথ্যারোপ করে এবং স্পষ্টভাবে বলে যে, আল্লাহ তা'আলা মিথ্যা বলেছেন, আর এই ভয়ংকর কাজটি তার থেকে সংঘটিত হয়, তার ফাসেকীর দিকে তোমরা নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করো না, বিভ্রান্তির দিকে সম্পৃক্ত করা তো দূরের কথা, আর কুফরীর দিকে সম্পৃক্ত করা তো আরো দূরের কথা। অনেক ইমামই এমনটি বলেছেন। আর তাঁর বিষয়ে সংক্ষিপ্ত কথা যে, সে তাঁর ব্যাখ্যাতে ভুলকারী। সুতরাং আল্লাহ তা'আলা ছাড়া সত্যিকার কোনো মাবুদ নেই, তিনি যথাসম্ভব এই মিথ্যারোপের খারাপ পরিণতি থেকে অবকাশ দেন। কিভাবে কাজের মাধ্যমে এমন মিথ্যারোপ করা হলো! যারা চলে গেছে তাদের জন্য এটিই ছিল আল্লাহ তা'আলার বিধান। এদেরকে আল্লাহ তা'আলা বধির করে দিয়েছেন, তাঁদের দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে তাঁদেরকে অন্ধ করে দিয়েছেন। মহান সুউচ্চ আল্লাহ তা'আলা ছাড়া আর কোনো শক্তি ও ক্ষমতা নেই। এদেরই অন্তর্ভুক্ত হলো ওয়াহাবী শয়তানরা, তারা হলো রাফেযীদের একটি শয়তানী দল। তারা অভিশপ্ত শয়তান ইবলীসের অনুসারী। এছাড়াও তারা মিথ্যাবাদী কানকূহীর অনুসারী (হিসামুল হারামাইন, ২১ পৃ.)।'
সে আরো বলে যে, 'এই ব্যক্তিকে জাহান্নামের জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করা হবে, জাহান্নামের আগুন তাঁকে পুড়াবে, আর তাঁকে বলা হবে যে, স্বাদ আস্বাদন করো, নিশ্চয় তুমি ছিলেন সম্মানীত ও পথপ্রদর্শক (খালেসুল ইতেকাদ, বেরেলভী, ৬২)।' সে আরো বলে যে, রশীদ আহমাদের কাফের হওয়ার বিষয়ে যে ব্যক্তি দ্বিধা করবে, তার কাফের হওয়ার বিষয়েও কোনো সন্দেহ থাকবে না (ফাতওয়া ইফরিকিয়্যাহ, বেরেলভী, ১২৪)।' তাঁর দলের আরেকজন ব্যক্তি বলে যে, 'নিশ্চয় রশীদ আহমাদ মুরতাদ।' একই পৃষ্ঠাতে সে চারবার এই কথার পুনরাবৃত্তি করে (তাজানুবু আহলিস সুন্নাহ, ২৪৫ পৃ.)। বেরেলভী বলে যে, কানকূহীর কিতাব 'বারাহিন কাতিয়াহ' এই কিতাবটি পেশাবের চেয়েও অপবিত্র, কুফরী কথা দিয়ে পরিপূর্ণ। যে ব্যক্তি এমনটি বলে না, সে যিনদীক (সুবহানাস সাবূহ, ১৩৪ পৃ.)।'