📄 ২১. বেরেলভীদের গালি ও নোংরামী
এই ধরনের অপমানও তার কাছে যথেষ্ট বলে মনে হয়নি। সে এর সাথে আরো বলে যে, গায়রে মুকাল্লিদরা জাহান্নামের কুকুর। আর যারা বলে যে, রাফেযীরা তাদের চেয়ে নিকৃষ্ট এই কথা রাফেযীদের ওপর যুলম এবং আহলুল হাদীসদের নিকৃষ্টতার বিষয়ে কম করে বলা (ফতোয়া রিযভীয়্যাহ, ৬/৯০)।' এটিই যথেষ্ট নয়। বরং সে আরো বলে, 'বরং মাজুসরা ইয়াহুদী ও নাসারাদের চেয়ে বেশি অভিশপ্ত। আর হিন্দুরা মাজুসদেরও চেয়েও বেশি অভিশপ্ত। আর ওয়াহাবিরা হিন্দুদের চেয়েও বেশি অভিশপ্ত (ফতোয়া রিযভীয়্যাহ, ৬/১৩)।'
তারপর সে এই বিষয়টির ওপর ভীষণ কঠোরতা আরোপ করে বলে, 'যে ব্যক্তি আহলুল হাদীসদের পিছনে জানাযার সালাত আদায় করবে, তার ইকতেদা করা জায়েয নয় এবং তার বিবাহও বাতিল হয়ে যাবে (ফতোয়া রিযভীয়্যাহ, ৬/১২১)।'
শুধু তাই নয়, সে আরো বলে যে, যে ব্যক্তি তাদের সাথে মুসাফাহা করবে, সে কবীরা গুণাহ করবে ও নিশ্চিতভাবে একটি হারাম কাজ করবে। আর কোনো ব্যক্তির শরীর যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে তাদের শরীরের সাথে লেগে যায়, তাহলে তার জন্য পুনরায় ওযু করা মুস্তাহাব (ফতোয়া রিযভীয়্যাহ, ১/২০৯)।'
তারপর তার অনুসারীরা এই সম্মানীত ও ধার্মিক ব্যক্তিদের এবং তাদের অনুসারীদেরকে কাফের ঘোষণা দেওয়ার ক্ষেত্রে তার অনুসরণ করে। তার অনুসারীদের একজন বলে, আহলুল হাদীসরা হলো নাযীর হুসাইন দেহলভী, আমীর আহমাদ সাহসাওয়ানী, আমীর হাসান সাহসাওয়ানী, বাশীর হাসান কানওয়াজী, মুহাম্মাদ বাশীর কানওয়াজীর অনুসারী। পবিত্র শরীআতের বিধান অনুযায়ী এরা সকলেই নিশ্চিতভাবে কাফের, মুরতাদ, চিরস্থায়ী কঠিন আযাবের হকদার ও একমাত্র মহান রবের লানতের হকদার (তাজানুবু আহলিস সুন্নাহ আন আহলিল ফিতনাহ, ২১৯ পৃ.)।'
সে অন্যত্র বলে, পবিত্র শরীআতের বিধান অনুযায়ী সানাউল্লাহ অমৃতসরীসহ এদের অনুসারীরা সকলেই কাফের, মুরতাদ (তাজানুবু আহলিস সুন্নাহ আন আহলিল ফিতনাহ, ২৪৮ পৃ.)।'
📄 ২২. শাইখুল ইসলাম (সানাউল্লাহ অমৃতসরী)
শাইখুল ইসলাম (সানাউল্লাহ অমৃতসরী), তার যুগের মুসলিমরা, ইসলামী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা, প্রতিরক্ষক এবং বিতর্ককারীরা, যাদের সম্পর্কে শাইখ রশীদ রেযা আল-মিসরী বলেন, তারা হলেন ভারতের ঐশ্বরিক পুরুষ' (মুজাল্লাতুল মানার, ৬৩৯), আর যিনি কাদিয়ানী, আর্য, হিন্দু, মাজুসসহ অন্যান্য সকল কাফির ও বাতিল ফিরকা এবং ইসলাম ও সকল আসমানী শরীআতের বিরোধী দলগুলোকে নীরব করে দিয়েছিলেন (অর্থাৎ সানাউল্লাহ অমৃতসরী) তার সম্পর্কে বেরেলভীরা বলে যে,
'নিশ্চয় সানাউল্লাহ অমৃতসরী ও গায়রে মুকাল্লিদ সালাফী আহলে হাদীসের নেতা হলো মুরতাদ (তাজানুবু আহলিস সুন্নাহ, ২৪৭ পৃ.)।'
বেরেলভী নিজে বলে যে, 'নিশ্চয় সানাউল্লাহ অমৃতসরী ইসলামের নাম দিয়ে নিজেকে গোপন রেখেছে, আসলে সে হিন্দুদের গোলাম (আল ইসতেমদাদ লিল বেরেলভী, ১৪৭ পৃ.)।'
📄 ২৩. হাফেয ইবনু হাযম আন্দালুসী আয-যাহেরী রহিমাহুল্লাহ
প্রকৃতপক্ষে পূর্ববর্তীরা তার কথা অনুযায়ী কুফরী করেছে, যেমন শাইখুল ইসলাম মহান ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ, হাফেয ইবনু হাযম আন্দালুসী আয-যাহেরী রহিমাহুল্লাহসহ আরো অন্যান্য হকের দিকে আহবানকারী ও সত্যের পথপ্রদর্শক। তাদের সম্পর্কে বেরেলভী বলে,
'এই মানুষের শিক্ষক হলো নিকৃষ্ট ইবলীস, আল্লাহ তা'আলা তার ওপর লানত করুন। তাদের নেতা হলো ইবনু হাযম, যে হলো নিকৃষ্ট মনোভাবের অধিকারী, সিদ্ধান্তহীন ব্যক্তি, যাহেরী এবং নিকৃষ্ট প্রকৃতির মানুষ (সুবহানাস সাবূহ, ৩৭ পৃ.)।'
সে আরো বলে যে, 'ইবনু হাযম ছিলো ধর্মত্যাগী ও নিকৃষ্ট কথাবার্তা বলা মানুষ (হাজিযুল বাহরাইন, ২/২৩৭)।'
📄 ২৪. শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ
আর সে শাইখুল ইসলাম ও আহলুস সুন্নাতের ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ সম্পর্কে বলে যে, 'নিশ্চয় ইবনু তাইমিয়্যাহ হলো বিবেক ছাড়াই কথা বার্তা বলা ব্যক্তি (ফতোয়া রিযভীয়্যাহ, ৩/৩৯৯)।'
বেরেলভীর একজন খলীফা নাইমুদ্দীন আল-মুরাদাবাদী বলে, 'নিশ্চয় ইবনু তাইমিয়্যাহ শরীআতের রীতি নীতিকে নষ্ট করেছে। তারপর সে তার মতো একজনের কথা বর্ণনা করে, যেখানে বলা হয়েছে, ইবনু তাইমিয়্যাহ এমন এক গোলাম, যাকে আল্লাহ তা'আলা লাঞ্ছিত, পথভ্রষ্ট, অন্ধ, বধির করেছেন। আর নিশ্চয় সে বিদআতী, পথভ্রষ্ট, অন্যকে পথভ্রষ্টকারী, জাহেল এবং সীমালংঘনকারী (সাইফুল মুস্তফা লিল বেরেলভী, ৯২ পৃ.)।'
বেরেলভীর আরেক অনুসারী বলে, 'ইবনু তাইমিয়্যাহ হলো পথভ্রষ্ট ও অন্যকে পথভ্রষ্টকারী (ফাতাওয়া সাদরিল আফাযিল, ৩১-৩২ পৃ.)।'
'ইবনু তাইমিয়্যাহর মাযহাব খুবই খারাপ মাযহাব ছিল (জায়াল হাক্ক, আহমাদ রেযা)।'