📄 ১৯. শাইখ নাযীর হুসাইন দেহলভী রহিমাহুল্লাহর ছাত্রবৃন্দ
তার ছাত্ররা বিভিন্ন স্তরের ছিল। তাদের মধ্যে কিছু ছাত্র ছিল সুপরিচিতি আলেম। সম্ভবত তাদের সংখ্যা এক হাজার হবে। আবার কিছু বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে কিছু ছাত্র এই প্রথম স্তরের ছাত্রদের মতোই ছিল। আর কিছু ছাত্র ছিল দ্বিতীয় স্তরের নিচের পর্যায়ের। এই দুই স্তরের ছাত্রদের সংখ্যা হাজার হাজার। ভারতে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ছাত্ররা হলো, তার সন্তান সায়্যেদ শরীফ হুসাইন রহিমাহুল্লাহ, যিনি নাযীর হুসাইনের জীবদ্দশাতেই মৃত্যুবরণ করেছেন, শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গজনভী এবং তার মুত্তাকী সন্তানরা: মুহাম্মাদ, আব্দুল জাব্বার, আব্দুল ওয়াহিদ, আব্দুল্লাহ।
তার ছাত্রদের মধ্যে আরো রয়েছে, শাইখ মুহাম্মাদ বাশীর আল-উমারী আস- সাহসাওয়ানী, সায়্যেদ আমীর হাসান, তার সন্তান আমীর আহমাদ আল হুসাইনী আস-সাহসাওয়ানী, শাইখ মুহাদ্দিস আব্দুল মান্না আল-ওয়াযির আবাদী, 'ইশাআতুস সুন্নাহ' কিতাবের লেখক শাইখ মুহাম্মাদ হুসাইন আল বাত্তালাবী, আল্লামাহ আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহীম আল-গাজিফৌরী, সায়্যেদ মুস্তফা ইবনু ইউসূফ আশ-শরীফ আল-হাসানী, সায়্যেদ আমীর আলী ইবনু মুয়াজ্জাম আলী আল-হুসাইনী আবাদী, কাযী মোল্লা মুহাম্মাদ ইবনু কাযী মুহাম্মাদ ইবনু হাসান আল-বাশাওয়ারী, শাইখ গোলাম রাসূল আল-কালাভী, আওনুল মাবুদের লেখক মুহাদ্দিস শামসুল হক ইবনু আমীর আলী আদ- দিয়ানভী, শাইখ আব্দুল্লাহ ইবনু ইদরীস আল-হাসানী আস-সানাসী আল- মাগরিবী, শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু নাসির ইবনুল মুবাররক আন নাজদী, শাইখ সাদ ইবনু হামদ ইবনু আতীক আন নাজদী, এছাড়া রয়েছে অস্যংখ ছাত্র।
আলেমগণ সুন্দর সুন্দর কবিতার মাধ্যমে তার প্রশংসা করেছেন। শাইখ শামসুল হক তার 'গায়াতুল মাকসূদ' কিতাবের ভূমিকাতে সেগুলো অনুবাদ করেছেন। মৌলভী ফজল হুসাইন আল-মাহদানভী আল-মুজাফফরী তার 'আল হায়াতু বা'দাল মামাত' নামক একটি স্বতন্ত্র কিতাবে সেগুলো বর্ণনা করেছেন। নাযীর হুসাইন রহিমাহুল্লাহ সম্পর্কে উর্দু ভাষাতে এটি একটি বিস্তারিত বই।
দিল্লী শহরে আমি কয়েকদিন তার সাথে ছিলাম। তিনি আমাকে পরিপূর্ণ একটি সনদ দেন, আর ১৩১২ হিজরীতে তিনি তার পবিত্র নিজ হাতে সেই সনদ লিখে দেন। তিনি রহিমাহুল্লাহ ১৩২০ হিজরীর ২০ই রজব সোমবার মৃত্যুবরণ করেন। আল্লাহ তা'আলা তার দ্বারা আমাদেরকে উপকৃত করুন। আমীন (নুঝহাতুল খাওয়াতির, ৫০০- ৫০১)।
📄 ২০. শাইখ নাযীর হুসাইন দেহলভী রহিমাহুল্লাহকে তাকফীর করার কারণ
নাযীর হুসাইন রহিমাহুল্লার মাদ্রাসাতে বুখারা ও বাগদাদের মাদ্রাসার উজ্জলতা ও সৌন্দর্যতা এসেছে। আর এই শাইখ ও তার ছাত্রদের প্রভাবে ভারতের সমস্ত শহর ও গ্রামে পবিত্র তাকওয়াশীল মানুষদের কাছে হাদীসের অনুযায়ী আমল করা খুবই প্রিয় হয়ে উঠেছে। বেরেলভীদের ব্যবসাতে মন্দা পড়েছে ও তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে অবশ্যই এই শাইখকে অপমান করতে হবে ও শাস্তি দিতে হবে। কারণ এই শাইখ হলেন ফাসাদ সৃষ্টিকারী, শিরক, ভ্রষ্টতা ও গোমরাহীকে বিনষ্টকারী, বিদআত, কুসংস্কার ও কল্পকাহিনীকে বাতিলকারী। ফলে বেরেলভী তার থেকে একটি তীর নিয়ে এই শাইখকের দিকে নিক্ষেপ করলো। সে বললো যে,
'নাযীর হুসাইন হলো নাস্তিকদের ইমাম, যারা গাইরে মুকাল্লিদ তাদের মুজতাহিদ, বিভিন্ন বিদআত ও কল্পকাহিনীর উদ্ভাবক (হাজিযুল বাহরাইন, ২১০ পৃ.)।'
তার মতো ব্যক্তি কি শুধু এই ধরনের অপমান করাতেই পরিতৃপ্ত হতে পারে? কখনোই নয়, সে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছা পর্যন্ত পরিতৃপ্ত হয়নি। সে তার দুর্বল আরবীতে বলে,
নাযীর হুসাইন দেহলভীর দিকে সম্পৃক্তকারীরা হলো মুরতাদ, বিদ্রোহী ও প্রতারক। তাদেরকে প্রতারিত করার জন্য শয়তান তাদের নিকট ওয়াহী করে (হিসামুর হারামইন আলা মানহারিল কুফরী ওয়াল মাইন, ১৯ পৃ.)।
সে আরো বলে যে, 'তোমাদের জন্য এই বিশ্বাস রাখা আবশ্যক যে, যেসব ব্যক্তিদেরকে আমরা কাফের বলে বর্ণনা করেছি, নাযীর হুসাইন দেহলভী তাদেরই একজন কাফের, মুরতাদ। অনুরূপভাবে এটি বিশ্বাস করাও আবশ্যক যে, ওয়াহাবিদের অন্যান্য কিতাবগুলোর সাথে 'মিআরুল হক' নামক তার কিতাবটি একটি স্পষ্ট কুফরী কিতাব এবং পেশাবের চেয়েও সেটি অপবিত্র এবং খারাপ (দামানি বাগিন, ১৩৬ পৃ.)।'
দেহলভীরা যেহেতু কাফের, সুতরাং অবশ্যই তাদের অনুসারী সালাফী আহলুল হাদীসরাও তেমনই। সে বলে, 'গায়রে মুকাল্লিদরা সকলেই খাঁটি শয়তান এবং অভিশপ্ত' (দামানি বাগিন, ১৩৪ পৃ.)। সে তাদের নিন্দা ও অপবাদ দেওয়ার জন্য তার তৈরি করা একটি আরবী কবিতাতে বলে, আর সেটি কতই না নিকৃষ্ট ও নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ কথা:
'কিভাবে হিদায়াতের দিকে তোমাদের প্রত্যাবর্তন হবে? অথচ তোমাদের অন্তরে ইসমাঈল (শহীদ দেহলভী) কে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আর নিশ্চয় আহলুল হাদীসরা সকলেই কাফের, মুরতাদ (দামানি বাগিন, ১২৫-১২৬ পৃ.)।'
📄 ২১. বেরেলভীদের গালি ও নোংরামী
এই ধরনের অপমানও তার কাছে যথেষ্ট বলে মনে হয়নি। সে এর সাথে আরো বলে যে, গায়রে মুকাল্লিদরা জাহান্নামের কুকুর। আর যারা বলে যে, রাফেযীরা তাদের চেয়ে নিকৃষ্ট এই কথা রাফেযীদের ওপর যুলম এবং আহলুল হাদীসদের নিকৃষ্টতার বিষয়ে কম করে বলা (ফতোয়া রিযভীয়্যাহ, ৬/৯০)।' এটিই যথেষ্ট নয়। বরং সে আরো বলে, 'বরং মাজুসরা ইয়াহুদী ও নাসারাদের চেয়ে বেশি অভিশপ্ত। আর হিন্দুরা মাজুসদেরও চেয়েও বেশি অভিশপ্ত। আর ওয়াহাবিরা হিন্দুদের চেয়েও বেশি অভিশপ্ত (ফতোয়া রিযভীয়্যাহ, ৬/১৩)।'
তারপর সে এই বিষয়টির ওপর ভীষণ কঠোরতা আরোপ করে বলে, 'যে ব্যক্তি আহলুল হাদীসদের পিছনে জানাযার সালাত আদায় করবে, তার ইকতেদা করা জায়েয নয় এবং তার বিবাহও বাতিল হয়ে যাবে (ফতোয়া রিযভীয়্যাহ, ৬/১২১)।'
শুধু তাই নয়, সে আরো বলে যে, যে ব্যক্তি তাদের সাথে মুসাফাহা করবে, সে কবীরা গুণাহ করবে ও নিশ্চিতভাবে একটি হারাম কাজ করবে। আর কোনো ব্যক্তির শরীর যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে তাদের শরীরের সাথে লেগে যায়, তাহলে তার জন্য পুনরায় ওযু করা মুস্তাহাব (ফতোয়া রিযভীয়্যাহ, ১/২০৯)।'
তারপর তার অনুসারীরা এই সম্মানীত ও ধার্মিক ব্যক্তিদের এবং তাদের অনুসারীদেরকে কাফের ঘোষণা দেওয়ার ক্ষেত্রে তার অনুসরণ করে। তার অনুসারীদের একজন বলে, আহলুল হাদীসরা হলো নাযীর হুসাইন দেহলভী, আমীর আহমাদ সাহসাওয়ানী, আমীর হাসান সাহসাওয়ানী, বাশীর হাসান কানওয়াজী, মুহাম্মাদ বাশীর কানওয়াজীর অনুসারী। পবিত্র শরীআতের বিধান অনুযায়ী এরা সকলেই নিশ্চিতভাবে কাফের, মুরতাদ, চিরস্থায়ী কঠিন আযাবের হকদার ও একমাত্র মহান রবের লানতের হকদার (তাজানুবু আহলিস সুন্নাহ আন আহলিল ফিতনাহ, ২১৯ পৃ.)।'
সে অন্যত্র বলে, পবিত্র শরীআতের বিধান অনুযায়ী সানাউল্লাহ অমৃতসরীসহ এদের অনুসারীরা সকলেই কাফের, মুরতাদ (তাজানুবু আহলিস সুন্নাহ আন আহলিল ফিতনাহ, ২৪৮ পৃ.)।'
📄 ২২. শাইখুল ইসলাম (সানাউল্লাহ অমৃতসরী)
শাইখুল ইসলাম (সানাউল্লাহ অমৃতসরী), তার যুগের মুসলিমরা, ইসলামী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা, প্রতিরক্ষক এবং বিতর্ককারীরা, যাদের সম্পর্কে শাইখ রশীদ রেযা আল-মিসরী বলেন, তারা হলেন ভারতের ঐশ্বরিক পুরুষ' (মুজাল্লাতুল মানার, ৬৩৯), আর যিনি কাদিয়ানী, আর্য, হিন্দু, মাজুসসহ অন্যান্য সকল কাফির ও বাতিল ফিরকা এবং ইসলাম ও সকল আসমানী শরীআতের বিরোধী দলগুলোকে নীরব করে দিয়েছিলেন (অর্থাৎ সানাউল্লাহ অমৃতসরী) তার সম্পর্কে বেরেলভীরা বলে যে,
'নিশ্চয় সানাউল্লাহ অমৃতসরী ও গায়রে মুকাল্লিদ সালাফী আহলে হাদীসের নেতা হলো মুরতাদ (তাজানুবু আহলিস সুন্নাহ, ২৪৭ পৃ.)।'
বেরেলভী নিজে বলে যে, 'নিশ্চয় সানাউল্লাহ অমৃতসরী ইসলামের নাম দিয়ে নিজেকে গোপন রেখেছে, আসলে সে হিন্দুদের গোলাম (আল ইসতেমদাদ লিল বেরেলভী, ১৪৭ পৃ.)।'