📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ১২. দেওবন্দের আলেমদেরকে কাফের বলা ও তার কারণ

📄 ১২. দেওবন্দের আলেমদেরকে কাফের বলা ও তার কারণ


তারপর সে দেওবন্দের আলেমদেরকে কাফের বলার দিকে গিয়েছে। দেওবন্দের আলেমদের মধ্যে রয়েছে, ইমাম মুহাম্মাদ কাসেম নানুতভী, রশীদ আহমেদ কানকূহী, শাইখ খলীল আহমেদ সাহরানপুরী, মাওলানা আশরাফ আলী থানভী এবং তাদের ঘনিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। আহমাদ রেযা তাদের দিকে এমন আকীদাকে সম্পৃক্ত করেছে, যেগুলো থেকে তারা সম্পূর্ণ মুক্ত। আহমাদ রেযা তাদের কাফের হওয়ার বিষয়ে দলীল পেশ করেছে, এর জন্য সে হারামাইনের আলেমগণের সমর্থন গ্রহণ করেছে অথচ সেই আলেমগণ প্রকৃত বিষয় সম্পর্কে অবগত ছিলেন না, তারপর সে একটি সংকলনে প্রকাশ করেছে, যার নাম দিয়েছে, 'হিসামুল হারামাইন আলা মানহারি আহলিল কুফরী ওয়াল মাইন'। সে তার সেই সংকলনে বলেছে, 'যে ব্যক্তি তাদের কাফের হওয়া সম্পর্কে ও তাদের শাস্তি হওয়া সম্পর্কে সন্দেহ করবে, সেই ব্যক্তি কাফের হয়ে যাবে'। আর সে এর দ্বারা প্রত্যাখ্যান, লড়াই ও বিরোধিতাতেই লিপ্ত থাকে, যেখানে কোনো নমনীয়তা নেই ও দুর্বলতাও সেখানে আসেনি। এমনকি অন্যকে কাফের বানানোই মানুষের চিন্তা ভাবনাতে পরিণত হয়েছে। আর এতে চরম ফিতনা ও অশান্তির সৃষ্টি হয়েছিল (নুঝহাতুল খাওয়াতির, ৮/৩৯)।

সে তার পদ্ধতি ও কাজ কর্মে একাই ছিল না। বরং তার দলের সকলেই তার পন্থা অবলম্বন করেছিল ও তার পথ অনুসরণ করেছিল এবং তার মতবাদ অনুযায়ী চলেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার অনুসারীগণ অনেক কষ্ট, যন্ত্রণা ও কঠিন মুহুর্ত সহ্য করে ও অনেক বাধা অতিক্রম করে তারা কাফিরদেরকে ইসলামে প্রবেশ করিয়েছিল। কাফিরদেরকে ইসলামে প্রবেশ করানোর পরে আহমাদ রেযা ও তার অনুসারীরা তাদের গদি ও সিংহাসনে বসেই সমগ্র বিশ্বকেই তারা কাফের বলে ঘোষণা দিলো এবং তাদেরকে ইসলাম থেকে বের করে দিলো। সে ও তার অনুসারীরা কুফরী ধর্মকে ইসলামে প্রবেশ করিয়েছিল এবং তারা মুসলিম জাতিকে ইসলাম থেকে বের করে দিয়েছিল।

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ১৩. আহলুল হাদীসদেরকে কাফের বলার কারণ

📄 ১৩. আহলুল হাদীসদেরকে কাফের বলার কারণ


তারা আহলুল হাদীসদেরকে কোনো অপরাধ ও পাপ ছাড়াই কাফের বলে ঘোষণা করেছে। তাদের অপরাধ শুধু এটিই ছিল যে, তারা এমন একটি অবস্থান বেছে নিয়েছে, যেটিকে তারা কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করেছে, তারা মুসলিমদেরকে মতভেদ প্রত্যাখ্যান করতে আহবান করেছে এবং মতভেদ পূর্ণ বিষয়গুলোকে তারা আল্লাহর কিতাব ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আহবান করেছে। কেননা আল্লাহ তা'আলা এমনটিরই নির্দেশ ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,

﴿فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ কُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ﴾

অতঃপর কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটলে তা ফিরিয়ে দাও আল্লাহ ও রাসূলের দিকে, যদি তোমরা আল্লাহ ও আখেরাতে ঈমান এনে থাক (সূরা আন নিসা ৪ : ৫৯)।

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ১৪. আহলুল হাদীসদের আকীদা-বিশ্বাস

📄 ১৪. আহলুল হাদীসদের আকীদা-বিশ্বাস


(১) আহলুল হাদীসগণ বলেন যে, আল্লাহ তা'আলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মাতের ওপর একমাত্র তাঁর ও তার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করাকে ফরয করেছেন। তা ব্যতীত অন্যদের আনুগত্যের বিষয়ে কুরআন থেকে কোনো প্রমাণ নেই, আবার সুন্নাহ থেকেও কোনো প্রমাণ নেই। তবে কারো বক্তব্য যদি এই দুই উৎস অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তাহলে ভিন্ন কথা। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াহীর মাধ্যমে এমনটির আদেশ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন যে, আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস ছেড়ে যাচ্ছি, সেগুলো হলো, আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাত। তোমরা যতদিন সেগুলো আঁকড়ে ধরে থাকবে, ততদিন তোমরা বিভ্রান্ত হবে না (দারাকুতনী, হা/৪৬০৬, সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৭৬১)।

(২) পক্ষান্তরে অন্যান্য আলেম ও মাশাইখদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা তদন্ত করতে হবে। যদি সেগুলোর কোনো ভিত্তি থাকে, তাহলে সেগুলো গ্রহণ করা হবে, নইলে সেগুলোকে দেয়ালে ছুড়ে মারতে হবে।

(৩) পৌত্তলিক ও হিন্দুদের থেকে ইসলামের নামে যেসব কুসংস্কার বা ধর্মবিশ্বাস ও বিদআতের প্রবেশ করেছে আহলুল হাদীসগণ সেগুলোকে প্রতিহত করেছে এবং তারা বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের যুগেই এই দীন পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে। এই বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা সাক্ষ্য দিয়ে বলেন,

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ ديনা

আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামতকে সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দীন হিসেবে পছন্দ করলাম (সূরা আল মায়েদা: ৩)।

(৪) যেগুলো ইসলামের নামে উদ্ভাবন করা হয়েছে, যেগুলো সমর্থনে আল্লাহ তা'আলার কিতাবের কোনো আয়াত নেই অথবা সেগুলোর পক্ষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা নেই, সেগুলোর সবই বিদআত, সবই বর্জনীয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدّ

কেউ যদি আমাদের এই শরীআতে এমন কিছুর উদ্ভাবন করে, যা তাতে নেই, তাহলে সেটি বর্জনীয় (সহীহ বুখারী, হা/২৬৯৭, সহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮)। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন,

إِنَّ أَحسن الحَدِيثِ كِتَابُ اللهِ، وَخير الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ، وَشَرُّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا ، وَكُلُّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ ، وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ، وَكُلُّ ضَلَالَةٍ فِي النَّارِ

নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ হচ্ছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো দীনের নামে নতুন জিনিস সৃষ্টি করা এবং (এ রকম) সব নতুন সৃষ্টিই হলো বিদআত। আর প্রতিটি বিদআতই হলো পথভ্রষ্টতা। আর প্রত্যেক পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম (সহীহ মুসলিম, হা/৮৬৭, নাসাঈ, হা/১৫৭৮)।

(৫) যদি নব আবিষ্কৃত (বিদআত) এই বিষয়গুলো দীনের অন্তর্ভুক্ত হতো, তাহলে কখনোই আল্লাহ তা'আলা সেগুলো বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকতেন না এবং তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও সেগুলো অবশ্যই বিস্তারিত বর্ণনা করতেন। কুরআন ও সুন্নাহতে সেগুলো বর্ণিত না হওয়াই প্রমাণ করে যে, সেগুলো দীনের অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা সেগুলো যদি দীনের অন্তর্ভুক্ত হতোই অথচ কুরআন ও সুন্নাহতে সেগুলোর কোনো বর্ণনা আসেনি, তাহলে এই দীন পরিপূর্ণ থাকতো না।

(৬) বেরেলভীরা দেখলো যে, আহলুল হাদীসদের কারণে তারা যে কবরে উৎসব করে, মৃতদের জন্য উরস করে, খেল তামাশা করে, ঢাক ঢোলের তালে নাচানাচি করে, গান বাজনা শোনে এবং ধর্মের রং দিয়ে তারা বাদ্যযন্ত্র বাজায়, এগুলো বাতিল হয়ে যাবে। আর তারা ধর্মশালা, দুস্থদের সাহায্য করা, সংকটাপন্ন ব্যক্তিদেরকে সহযোগিতা করা, রোগীদের আরোগ্য করা, সন্তান দেওয়া, তাবিজ কবজ দেওয়ার নামে যেই ব্যবসা তারা চালু করেছিল সেগুলো হারিয়ে যাবে, তাদের পীর মাশাইখদের পথ বন্ধ হয়ে যাবে এবং তাদের গণকীর মাধ্যমে অর্থ উপার্জনও আর থাকবে না। যার ফলে তারা তাদের অন্যায় কাজের ওপরেই অটল থেকেছে এবং আহলুল হাদীসদের বিরোধিতাতে অনড় থেকেছে। কেননা আহলুল হাদীসগণ চান মানুষদেরকে তাদের তৈরি করা শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে এবং মানুষদেরকে শিকার করার জন্য তারা যুগের পর যুগ যেই ষড়যন্ত্রের জাল পেতে রেখেছে তা থেকে মানুষদেরকে রেহাই দিতে। এই কারণে বেরেলভীরা আহলুল হাদীসদেরকে কাফির বলে আখ্যায়িত করেছে এবং তাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, আলেমগণ, কুরআন ও সুন্নাহর দিকে আহবানকারী, হক, হিদায়াত ও সত্যের প্রচারকদেরকে কাফির বলে বলে আখ্যায়িত করেছে। তাদের শীর্ষে রয়েছেন-

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ১৫. শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী রহিমাহুল্লাহর নাতী শাহ ইসমাঈল শহীদ রহিমাহুল্লাহু

📄 ১৫. শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী রহিমাহুল্লাহর নাতী শাহ ইসমাঈল শহীদ রহিমাহুল্লাহু


আহলে হাদীসদের আন্দোলনের পথপ্রদর্শক, নেতা, বীর মুজাহিদ, নিখুত আলেম, শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী রহিমাহুল্লাহর নাতী শাহ ইসমাঈল শহীদ রহিমাহুল্লাহু, যিনি ব্রিটিশ উপনিবেশিকতা ও মুসলিম দেশ দখলকারী শিখদের বিরুদ্ধে জিহাদের পতাকা বহন করেছিলেন, যেই শিখরা কুফরী করেছিল ও মুসলমানদের রক্তকে বৈধ মনে করেছিল।

তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের ভূখণ্ডের একটি অংশে একটি ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্টার জন্য ইসলামের পতাকা বহন করেছিলেন, যাতে করে বিশুদ্ধ ইসলামী আইন সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করা যায় এবং তিনি প্রকৃত ইসলামী দাওয়াতকে পুনরায় নবায়ন করেন এবং সঠিক সালাফী পথকে পুনরুজ্জীবিত করেন। যার কন্ঠস্বর শতাব্দী আগে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল, বিভিন্ন ধরনের বিদআত ও কুসংস্কারের অধীনে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, পশ্চাতের খারাপ পথগুলোর মাধ্যমে যা পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। এমনকি কবরের ইবাদত শুরু হয়েছিল, কবরের দিকে ও কবরের ওপরে সিজদাহ করা শুরু হয়েছিল, মাসজিদগুলো হিদায়াত ও দিক নির্দেশনা থেকে বিরান হয়ে গিয়েছিল, সেগুলো মুসল্লী শূন্য হয়ে পড়েছিল। পক্ষান্তরে তাদের উপাসনালয় আবাদ হতে থাকে ও সেগুলোর উন্নতি হতে থাকে। আর একমাত্র আল্লাহ তা'আলার ইবাদতকে বর্জন করা হয়েছিল, আল্লাহ তা'আলার হুদূদ ও শরীআতকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথার ওপরে প্রাধান্য বিস্তার করেছিল বিভিন্ন মানুষের কথা এবং সূফী ও জাহেলদের কাজকর্ম। হিদায়াতের বিনিময়ে গোমরাহীকে ক্রয় করা হয়েছিল এবং আলোর বিনিময়ে অন্ধকারকে ক্রয় করা হয়েছিল।

এমন পরিস্থিতিতে শাহ ইসমাঈল শহীদ রহিমাহুল্লাহ দাঁড়ালেন, তার কলম, জবান, হাত ও অস্ত্র দিয়ে তাদের প্রতিরোধ করলেন ও সংগ্রাম করলেন। তিনি একটি কিতাব রচনা করলেন এবং সেটি শিক্ষা দিতে, ব্যাখ্যা করতে ও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে শুরু করলেন। তিনি মানুষকে তার আলো দিয়ে হিদায়াতের দিকে আহবান করতেন ও তারা রেশমী পর্দায় আবৃত থাকার পরে তিনি তাদেরকে তার শিক্ষা মেনে চলার আহবান জানিয়েছিলেন, যেই পর্দার পিছনে ছিল কবরের বরকত হাসিল করা, সেটি চুম্বন করা, শপথ বা কসম করা। তিনি আল্লাহ তা'আলার কিতাবের আলোকে একটি কিতাব রচনা করলেন, যার নাম দিলেন 'তাকবিয়াতুল ঈমান'। এর মাধ্যমে তিনি মানুষদেরকে এক আল্লাহ তা'আলার ইবাদত করা ও বিশুদ্ধ তাওহীদের দিকে আহবান করেন এবং শিরক পরিহার করা ও আল্লাহ ছাড়া অন্য মাশাইখ ও কবরবাসীর নিকটে সাহায্য চাওয়াকে বর্জন করার জন্য আহবান করেন। আর তিনি মানুষকে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ডাকতে এবং তাঁর নামে শপথ করা থেকে বিরত রেখেছিলেন এবং তাদেরকে আল্লাহ তা'আলার কিতাবের দিকে এবং যিনি সেই কিতাব স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন সেই রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে আহবান করেছিলেন। সাথে সাথে তিনি বাপ দাদাদের ও মাযহাবের অন্ধ তাকলীদ বর্জন করার দিকে আহবান করেছিলেন।

আবার আল্লাহ তা'আলার কালেমাকে উঁচু করার জন্য ও একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্টা করার তিনি তাদেরকে যুদ্ধের ময়দানের দিকেও আহবান করেছিলেন, যেই ইসলামী রাষ্ট্রে আল্লাহ তা'আলার কিতাব ও রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত অনুযায়ী ফায়সালা করা হবে। তিনি, তাঁর পরিবার ও তার ছাত্ররা জিহাদের ময়দানের দিকে ছুটে চলেছেন। তিনি ও তারা আল্লাহ তা'আলার রাস্তাতে লড়াই করেছেন, সারা দিনব্যাপী তারা বর্শা ও তরবারী নিয়ে নিজেদেরকে উন্মোচিত করেছেন এবং সারা দিনব্যাপী তারা আল্লাহ তা'আলার কিতাব কুরআন মাজীদ ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ শিক্ষা দিয়েছিলেন। তারপর যখন রাত চলে আসতো, তখন তারা বিছানা থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখতেন (অর্থাৎ রাত ব্যাপী ইবাদত করতেন)। আর যখন সকাল হতো, তখন তারা আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় লড়াই করতেন, তারা শত্রুদেরকে হত্যা করতেন এবং নিজেরাও নিহত হতেন। তারা রাত জেগে ইবাদত করতেন আর দিনের বেলাতে সিয়াম পালন করতেন। তারা আল্লাহ তা'আলার এই বাণীর সত্যায়ণ করেছেন, যেখানে আল্লাহ তা'আলা বলেন,

إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُمْ بِهِ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ

নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের কাছ থেকে তাদের জীবন ও সম্পদ কিনে নিয়েছেন (এর বিনিময়ে) যে, তাদের জন্য আছে জান্নাত। তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, অতঃপর তারা মারে ও মরে তাওরাত, ইঞ্জীল ও কুরআনে এ সম্পর্কে তাদের হক ওয়াদা রয়েছে। আর নিজ প্রতিজ্ঞা পালনে আল্লাহর চেয়ে শ্রেষ্ঠতর কে আছে? সুতরাং তোমরা যে ক্রয় বিক্রয় করেছ তার জন্য আনন্দিত হও। আর সেটাই তো মহাসাফল্য (সূরা আত তাওবাহ ৯ : ১১১)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px