📄 ১১. বেরেলভীদের বিষয়ে সায়েদ আব্দুল হাই লক্ষনভী
বিশিষ্ট হানাফী আলেম শাইখ আব্দুল বারী লক্ষনভী, যিনি অনেক বিশ্বাসে তাদের সাথে একমত ছিলেন, তাদের সমর্থক ছিলেন এবং তাদের মতামতকে সমর্থন করতেন, এমন ব্যক্তিকেও তারা কাফের বলে ঘোষণা করেছিল। সায়্যেদ বেরেলভী নিজেই শাইখ আব্দুল বারী লক্ষনভীর কাফের হওয়ার কারণ বর্ণনা করে বলে যে, তিনি কিছু হানাফী আলেমকে স্পষ্টভাবে কাফের বলতে দ্বিধা করেছিলেন, যেই আলেমগণ সায়্যেদ বেরেলভীর ও বেরেলভী মতবাদের বিরোধী ছিলেন (মুসাহহিহু দিমাগি মাজনূন, ১৪ পৃ.)।
সায়্যেদ বেরেলভী বলে, তার কুফরীটা একেবারে স্পষ্ট কুফরী। তারপর সে শাইখ আব্দুল বারীর কাফের হওয়ার বিষয়ে অন্যান্য ফাতওয়াগুলোর সাথে তার ফাতওয়াকে যুক্ত করে দেয়। সায়্যেদ বেরেলভীর পুত্র তার এই ফাতওয়াগুলো একটি স্বতন্ত্র কিতাবে একত্রিত করে, যার নাম হলো, 'আত-তরী আদ-দারী লি হাফওয়াতি আব্দিল বারী'।
যেসকল মুসলিমরা বেরেলভীকে অস্বীকার করেছে, তাদেরকে সে ও তার অনুসারীরা কাফের বলার পরেও কতই না কথা বলেছে! যে ব্যক্তি সেই কাফের আখ্যা দেওয়াতে সন্দেহ করবে সেও কাফের হয়ে যাবে।
বিখ্যাত ইসলামী লেখক সায়্যেদ আবুল হাসান আলী আন নাদাভীর পিতা সায়্যেদ আব্দুল হাই লক্ষণভী এই কথারই সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি তার কিতাব 'আহমাদ রেযা বেরেলভীর জীবনী' তে বলেন, আহমাদ রেযা ফিকহী ও তর্কশাস্ত্রের মাসআলাতে অনেক কঠোর ছিল, খুবই দ্রুত অন্যকে কাফের বলে আখ্যায়িত করতো, শেষ যুগে ভারতবর্ষে সে কাফের আখ্যায়িত করার ও মুসলিমদেরকে বিচ্ছিন্ন করার পতাকা বহন করেছিল। সে নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং সেই সম্প্রদায়ের নেতাতে পরিণত হয়েছিল, যেই সম্প্রদায়ের লোকজন তাকে সমর্থন করতো, তার দিকে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করতো এবং তার বক্তব্য প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতো। যারা তার বিশ্বাস ও উপলব্ধিতে তার সাথে একমত হয়নি, অথবা যারা মনে করেছে যে, তার পথ পদ্ধতি ও তার পিতৃপুরুষদের পথ পদ্ধতিতে বিচ্যুতি রয়েছে, তাদের কাফের হওয়ার বিষয়ে সে কোনো উদারতা প্রদর্শন করেনি। সে ছিল সকল ধরনের সংস্কার আন্দোলনের ঘোর বিরোধী এবং সর্বদাই তাদের পিছনে লেগে থাকতো।
১৩১১ সালে কানপুরের (ভারতের একটি শহর) ফাইয আম মাদ্রাসাতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে বিখ্যাত অনেক আলেম উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানেই আলেমগণের একটি পরিষদ গঠন করা হয়েছিল। এই পরিষদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল মুসলিমদেরকে ঐক্যবদ্ধ করা, বিভিন্ন দলের আলেমগণের মাঝে সম্পর্কের পুনর্মিলন করা এবং ধর্মীয় শিক্ষার সংস্কার করা। মুফতী আহমাদ রেযা এই পরিষদে উপস্থিত ছিল এবং পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। আর সে এই পরিষদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং এজন্য সে একটি পত্রিকা বের করে, যার নাম দেয় 'আত তুহফাতুল হানাফীয়্যাহ লি মুআরাযাতি নাদওয়াতিল উলামাহ'।
এই পরিষদের খণ্ডন করার জন্য সে প্রায় এক হাজার পুস্তিকা ও কিতাব রচনা করে। আর সে এই পরিষদের আলেমগণের কাফের হওয়ার বিষয়ে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের আলেমগণের ফাতওয়া ও তাদের সাক্ষর গ্রহণ করে একটি কিতাবে সেগুলো জমা করে, যেই কিতাবের নাম দেয়, 'ইলজামুস সুন্নাহ লি আহলিল ফিতনাহ'। আর সে এর জন্য হারামাইনের আলেমগণের সমর্থনও গ্রহণ করে এবং সেটিকে ১৩১৭ সালে একটি সংকলনে প্রকাশ করে, যার নাম হলো, 'ফাতওয়াল হারামাইন বি রাজফি নাদওয়াতিল মাইন' (নুঝহাতুল খাওয়াতির, ৮/৩৯)।
📄 ১২. দেওবন্দের আলেমদেরকে কাফের বলা ও তার কারণ
তারপর সে দেওবন্দের আলেমদেরকে কাফের বলার দিকে গিয়েছে। দেওবন্দের আলেমদের মধ্যে রয়েছে, ইমাম মুহাম্মাদ কাসেম নানুতভী, রশীদ আহমেদ কানকূহী, শাইখ খলীল আহমেদ সাহরানপুরী, মাওলানা আশরাফ আলী থানভী এবং তাদের ঘনিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। আহমাদ রেযা তাদের দিকে এমন আকীদাকে সম্পৃক্ত করেছে, যেগুলো থেকে তারা সম্পূর্ণ মুক্ত। আহমাদ রেযা তাদের কাফের হওয়ার বিষয়ে দলীল পেশ করেছে, এর জন্য সে হারামাইনের আলেমগণের সমর্থন গ্রহণ করেছে অথচ সেই আলেমগণ প্রকৃত বিষয় সম্পর্কে অবগত ছিলেন না, তারপর সে একটি সংকলনে প্রকাশ করেছে, যার নাম দিয়েছে, 'হিসামুল হারামাইন আলা মানহারি আহলিল কুফরী ওয়াল মাইন'। সে তার সেই সংকলনে বলেছে, 'যে ব্যক্তি তাদের কাফের হওয়া সম্পর্কে ও তাদের শাস্তি হওয়া সম্পর্কে সন্দেহ করবে, সেই ব্যক্তি কাফের হয়ে যাবে'। আর সে এর দ্বারা প্রত্যাখ্যান, লড়াই ও বিরোধিতাতেই লিপ্ত থাকে, যেখানে কোনো নমনীয়তা নেই ও দুর্বলতাও সেখানে আসেনি। এমনকি অন্যকে কাফের বানানোই মানুষের চিন্তা ভাবনাতে পরিণত হয়েছে। আর এতে চরম ফিতনা ও অশান্তির সৃষ্টি হয়েছিল (নুঝহাতুল খাওয়াতির, ৮/৩৯)।
সে তার পদ্ধতি ও কাজ কর্মে একাই ছিল না। বরং তার দলের সকলেই তার পন্থা অবলম্বন করেছিল ও তার পথ অনুসরণ করেছিল এবং তার মতবাদ অনুযায়ী চলেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার অনুসারীগণ অনেক কষ্ট, যন্ত্রণা ও কঠিন মুহুর্ত সহ্য করে ও অনেক বাধা অতিক্রম করে তারা কাফিরদেরকে ইসলামে প্রবেশ করিয়েছিল। কাফিরদেরকে ইসলামে প্রবেশ করানোর পরে আহমাদ রেযা ও তার অনুসারীরা তাদের গদি ও সিংহাসনে বসেই সমগ্র বিশ্বকেই তারা কাফের বলে ঘোষণা দিলো এবং তাদেরকে ইসলাম থেকে বের করে দিলো। সে ও তার অনুসারীরা কুফরী ধর্মকে ইসলামে প্রবেশ করিয়েছিল এবং তারা মুসলিম জাতিকে ইসলাম থেকে বের করে দিয়েছিল।
📄 ১৩. আহলুল হাদীসদেরকে কাফের বলার কারণ
তারা আহলুল হাদীসদেরকে কোনো অপরাধ ও পাপ ছাড়াই কাফের বলে ঘোষণা করেছে। তাদের অপরাধ শুধু এটিই ছিল যে, তারা এমন একটি অবস্থান বেছে নিয়েছে, যেটিকে তারা কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করেছে, তারা মুসলিমদেরকে মতভেদ প্রত্যাখ্যান করতে আহবান করেছে এবং মতভেদ পূর্ণ বিষয়গুলোকে তারা আল্লাহর কিতাব ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আহবান করেছে। কেননা আল্লাহ তা'আলা এমনটিরই নির্দেশ ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ কُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ﴾
অতঃপর কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটলে তা ফিরিয়ে দাও আল্লাহ ও রাসূলের দিকে, যদি তোমরা আল্লাহ ও আখেরাতে ঈমান এনে থাক (সূরা আন নিসা ৪ : ৫৯)।
📄 ১৪. আহলুল হাদীসদের আকীদা-বিশ্বাস
(১) আহলুল হাদীসগণ বলেন যে, আল্লাহ তা'আলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মাতের ওপর একমাত্র তাঁর ও তার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করাকে ফরয করেছেন। তা ব্যতীত অন্যদের আনুগত্যের বিষয়ে কুরআন থেকে কোনো প্রমাণ নেই, আবার সুন্নাহ থেকেও কোনো প্রমাণ নেই। তবে কারো বক্তব্য যদি এই দুই উৎস অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তাহলে ভিন্ন কথা। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াহীর মাধ্যমে এমনটির আদেশ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন যে, আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস ছেড়ে যাচ্ছি, সেগুলো হলো, আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাত। তোমরা যতদিন সেগুলো আঁকড়ে ধরে থাকবে, ততদিন তোমরা বিভ্রান্ত হবে না (দারাকুতনী, হা/৪৬০৬, সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৭৬১)।
(২) পক্ষান্তরে অন্যান্য আলেম ও মাশাইখদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা তদন্ত করতে হবে। যদি সেগুলোর কোনো ভিত্তি থাকে, তাহলে সেগুলো গ্রহণ করা হবে, নইলে সেগুলোকে দেয়ালে ছুড়ে মারতে হবে।
(৩) পৌত্তলিক ও হিন্দুদের থেকে ইসলামের নামে যেসব কুসংস্কার বা ধর্মবিশ্বাস ও বিদআতের প্রবেশ করেছে আহলুল হাদীসগণ সেগুলোকে প্রতিহত করেছে এবং তারা বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের যুগেই এই দীন পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে। এই বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা সাক্ষ্য দিয়ে বলেন,
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ ديনা
আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামতকে সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দীন হিসেবে পছন্দ করলাম (সূরা আল মায়েদা: ৩)।
(৪) যেগুলো ইসলামের নামে উদ্ভাবন করা হয়েছে, যেগুলো সমর্থনে আল্লাহ তা'আলার কিতাবের কোনো আয়াত নেই অথবা সেগুলোর পক্ষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা নেই, সেগুলোর সবই বিদআত, সবই বর্জনীয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدّ
কেউ যদি আমাদের এই শরীআতে এমন কিছুর উদ্ভাবন করে, যা তাতে নেই, তাহলে সেটি বর্জনীয় (সহীহ বুখারী, হা/২৬৯৭, সহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮)। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন,
إِنَّ أَحسن الحَدِيثِ كِتَابُ اللهِ، وَخير الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ، وَشَرُّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا ، وَكُلُّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ ، وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ، وَكُلُّ ضَلَالَةٍ فِي النَّارِ
নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ হচ্ছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো দীনের নামে নতুন জিনিস সৃষ্টি করা এবং (এ রকম) সব নতুন সৃষ্টিই হলো বিদআত। আর প্রতিটি বিদআতই হলো পথভ্রষ্টতা। আর প্রত্যেক পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম (সহীহ মুসলিম, হা/৮৬৭, নাসাঈ, হা/১৫৭৮)।
(৫) যদি নব আবিষ্কৃত (বিদআত) এই বিষয়গুলো দীনের অন্তর্ভুক্ত হতো, তাহলে কখনোই আল্লাহ তা'আলা সেগুলো বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকতেন না এবং তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও সেগুলো অবশ্যই বিস্তারিত বর্ণনা করতেন। কুরআন ও সুন্নাহতে সেগুলো বর্ণিত না হওয়াই প্রমাণ করে যে, সেগুলো দীনের অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা সেগুলো যদি দীনের অন্তর্ভুক্ত হতোই অথচ কুরআন ও সুন্নাহতে সেগুলোর কোনো বর্ণনা আসেনি, তাহলে এই দীন পরিপূর্ণ থাকতো না।
(৬) বেরেলভীরা দেখলো যে, আহলুল হাদীসদের কারণে তারা যে কবরে উৎসব করে, মৃতদের জন্য উরস করে, খেল তামাশা করে, ঢাক ঢোলের তালে নাচানাচি করে, গান বাজনা শোনে এবং ধর্মের রং দিয়ে তারা বাদ্যযন্ত্র বাজায়, এগুলো বাতিল হয়ে যাবে। আর তারা ধর্মশালা, দুস্থদের সাহায্য করা, সংকটাপন্ন ব্যক্তিদেরকে সহযোগিতা করা, রোগীদের আরোগ্য করা, সন্তান দেওয়া, তাবিজ কবজ দেওয়ার নামে যেই ব্যবসা তারা চালু করেছিল সেগুলো হারিয়ে যাবে, তাদের পীর মাশাইখদের পথ বন্ধ হয়ে যাবে এবং তাদের গণকীর মাধ্যমে অর্থ উপার্জনও আর থাকবে না। যার ফলে তারা তাদের অন্যায় কাজের ওপরেই অটল থেকেছে এবং আহলুল হাদীসদের বিরোধিতাতে অনড় থেকেছে। কেননা আহলুল হাদীসগণ চান মানুষদেরকে তাদের তৈরি করা শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে এবং মানুষদেরকে শিকার করার জন্য তারা যুগের পর যুগ যেই ষড়যন্ত্রের জাল পেতে রেখেছে তা থেকে মানুষদেরকে রেহাই দিতে। এই কারণে বেরেলভীরা আহলুল হাদীসদেরকে কাফির বলে আখ্যায়িত করেছে এবং তাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, আলেমগণ, কুরআন ও সুন্নাহর দিকে আহবানকারী, হক, হিদায়াত ও সত্যের প্রচারকদেরকে কাফির বলে বলে আখ্যায়িত করেছে। তাদের শীর্ষে রয়েছেন-