📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ৯. আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় জিহাদ ও লড়াইয়ের পতাকা বহনকারীরা সীমালংঘনকারী

📄 ৯. আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় জিহাদ ও লড়াইয়ের পতাকা বহনকারীরা সীমালংঘনকারী


আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় জিহাদ ও লড়াইয়ের পতাকা বহনকারীরা হলো সীমালংঘনকারী, তারা বাড়াবাড়ি করে ও মানুষের রক্তকে বৈধ করে। কেননা তারা দুর্বল ও অভাবীদের মধ্যে জিহাদের চেতনাকে ফুঁকে দেয়, তাদেরকে খানকা ও সূফী সাধকদের আশ্রম থেকে বের করে আনে, তাদেরকে বৃহত্তর জিহাদ থেকে ক্ষুদ্রতর জিহাদের দিকে নিয়ে যায় এবং মীলাদ, উরস ও কবরে উৎসব করাতে অর্থ খরচ করার পরিবর্তে অস্ত্র ও ঘোড়া কেনার জন্য আল্লাহ তা'আলার রাস্তাতে ব্যয় করার প্রতি তাদেরকে উৎসাহিত করে।

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ১০. ইসলামী সরকার, নববী খিলাফত ও শারঈ নেতৃত্বের অধিকারী ব্যক্তিগণ বিভ্রান্ত, পথভ্রষ্ট

📄 ১০. ইসলামী সরকার, নববী খিলাফত ও শারঈ নেতৃত্বের অধিকারী ব্যক্তিগণ বিভ্রান্ত, পথভ্রষ্ট


ইসলামী সরকার, নববী খিলাফত ও শারঈ নেতৃত্বের অধিকারী ব্যক্তিগণ বিভ্রান্ত, পথভ্রষ্ট। কেননা তারা মানুষদেরকে ইসলামী রাষ্ট্রের দিকে দিক নির্দেশনা দেন। বেরেলভীরা তাদের মহলে যেই রাষ্ট্র কায়েম করেছে ও তাদের সূফী সাধকদের আশ্রমে যেই খিলাফতকে বন্টন করেছে এবং নিজেদের মধ্যে যেই ইমারাত কায়েম করেছে সেগুলোর দিকে তারা মানুষদেরকে দিক নির্দেশনা দেন না।

এই সকল ব্যক্তিরা সকলেই ফাসিক ফাজের, কাফির, মুরতাদ, দীন থেকে তারা বেরিয়ে গেছে এবং তারা মাযহাবের গণ্ডির বাহিরে। কেননা তারা বেরেলভী ও তার সহমত ব্যক্তিকে অস্বীকার করে, তারা বেরেলভীর আকীদা ও তার বিশ্বাস করা বিষয়গুলোর ওপর ঈমান আনে না।

যেই ব্যক্তিই বর্ণিত কাজগুলো করেছে অথবা আমরা পূর্বে যেগুলো বর্ণনা করলাম সেগুলো বিশ্বাস করেছে, তাদের কেউই এই বেরেলভীদের থেকে রেহাই পায়নি, হোক সেই ব্যক্তি এই উপমহাদেশের অথবা বাহিরের, অথবা হোক সেই ব্যক্তি পূর্ববর্তীদের অথবা পরবর্তীদের মধ্যে থেকে। ইসলামের দিকে সম্পৃক্তকারী কোনো দল ও ফিরকাই কাফির বলার ক্ষেত্রে এমন চরম সীমাতে গিয়েছে বলে আমি মনে করি না, যেই চরম সীমাতে বেরেলভীরা গিয়েছে। ছোট-বড়, আকীদা ও মতামতের যেকোনো বিষয়েই তাদের সাথে মতভেদ হলেই তাকে তারা কাফির বলে। এমনকি তারা যাদেরকে কাফের বলে আখ্যায়িত করেছে, তার সাথে কেউ একমত না হলে তাকেও তারা কাফের বলে, যদিও সেই ব্যক্তি তাদের সাথে অন্য বিষয়ে মতভেদ না করুক। কেননা তাদের সাথে একমত না হওয়াটা তাদের মানহাজে অনুমোদিত নয়, ইখতেলাফ করা তো দূরের কথা। এটি তাদের ক্ষেত্রে সুবিদিত যে, একমত না হওয়াটা অনেক বিরোধিতা ও ইখতেলাফ থেকে তাদের নিকটে হালকা।

বেরেলভীরা এমন বহু মানুষকে কাফের আখ্যায়িত করেছে, যারা তাদের সাধারণ বিশ্বাস ও বিশেষ বিশ্বাসের ক্ষেত্রে তাদের মতোই। কিন্তু তাদের সমস্যা হলো, বেরেলভীদের প্রতিপক্ষকে তারা নিজেরা যে দলীল ও নথি দিয়েছে তাতে তারা সাক্ষর করেনি, যেমন কাফির হওয়া ও মুরতাদ হওয়ার সাক্ষ্য দেওয়া। এসব মানুষদেরকে স্পষ্টভাবে কাফির আখ্যা দেওয়াতে তারা বেরেলভীদের সাথে একমত হয়নি এবং ঐসব লোকদের সম্পর্কে বেরেলভীরা যা বলেছে সেগুলো তারা বলেনি, যদিও প্রতিপক্ষের ক্ষেত্রে বেরেলভীদের চিন্তা চেতনা ও তাদের বিশ্বাসের মতোই তারাও বিশ্বাস পোষণ করে। বেরেলভীরা বলে যে, আমরা যাদেরকে কাফের বলে ঘোষণা করেছি, তাকে কাফের বলাতে কেউ যদি দ্বিধা করে ও বিলম্ব করে অথবা তার কুফরীতে যদি সন্দেহ পোষন করে, তাহলে সেই ব্যক্তিও কাফের।

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ১১. বেরেলভীদের বিষয়ে সায়েদ আব্দুল হাই লক্ষনভী

📄 ১১. বেরেলভীদের বিষয়ে সায়েদ আব্দুল হাই লক্ষনভী


বিশিষ্ট হানাফী আলেম শাইখ আব্দুল বারী লক্ষনভী, যিনি অনেক বিশ্বাসে তাদের সাথে একমত ছিলেন, তাদের সমর্থক ছিলেন এবং তাদের মতামতকে সমর্থন করতেন, এমন ব্যক্তিকেও তারা কাফের বলে ঘোষণা করেছিল। সায়্যেদ বেরেলভী নিজেই শাইখ আব্দুল বারী লক্ষনভীর কাফের হওয়ার কারণ বর্ণনা করে বলে যে, তিনি কিছু হানাফী আলেমকে স্পষ্টভাবে কাফের বলতে দ্বিধা করেছিলেন, যেই আলেমগণ সায়্যেদ বেরেলভীর ও বেরেলভী মতবাদের বিরোধী ছিলেন (মুসাহহিহু দিমাগি মাজনূন, ১৪ পৃ.)।

সায়্যেদ বেরেলভী বলে, তার কুফরীটা একেবারে স্পষ্ট কুফরী। তারপর সে শাইখ আব্দুল বারীর কাফের হওয়ার বিষয়ে অন্যান্য ফাতওয়াগুলোর সাথে তার ফাতওয়াকে যুক্ত করে দেয়। সায়্যেদ বেরেলভীর পুত্র তার এই ফাতওয়াগুলো একটি স্বতন্ত্র কিতাবে একত্রিত করে, যার নাম হলো, 'আত-তরী আদ-দারী লি হাফওয়াতি আব্দিল বারী'।

যেসকল মুসলিমরা বেরেলভীকে অস্বীকার করেছে, তাদেরকে সে ও তার অনুসারীরা কাফের বলার পরেও কতই না কথা বলেছে! যে ব্যক্তি সেই কাফের আখ্যা দেওয়াতে সন্দেহ করবে সেও কাফের হয়ে যাবে।

বিখ্যাত ইসলামী লেখক সায়্যেদ আবুল হাসান আলী আন নাদাভীর পিতা সায়্যেদ আব্দুল হাই লক্ষণভী এই কথারই সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি তার কিতাব 'আহমাদ রেযা বেরেলভীর জীবনী' তে বলেন, আহমাদ রেযা ফিকহী ও তর্কশাস্ত্রের মাসআলাতে অনেক কঠোর ছিল, খুবই দ্রুত অন্যকে কাফের বলে আখ্যায়িত করতো, শেষ যুগে ভারতবর্ষে সে কাফের আখ্যায়িত করার ও মুসলিমদেরকে বিচ্ছিন্ন করার পতাকা বহন করেছিল। সে নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং সেই সম্প্রদায়ের নেতাতে পরিণত হয়েছিল, যেই সম্প্রদায়ের লোকজন তাকে সমর্থন করতো, তার দিকে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করতো এবং তার বক্তব্য প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতো। যারা তার বিশ্বাস ও উপলব্ধিতে তার সাথে একমত হয়নি, অথবা যারা মনে করেছে যে, তার পথ পদ্ধতি ও তার পিতৃপুরুষদের পথ পদ্ধতিতে বিচ্যুতি রয়েছে, তাদের কাফের হওয়ার বিষয়ে সে কোনো উদারতা প্রদর্শন করেনি। সে ছিল সকল ধরনের সংস্কার আন্দোলনের ঘোর বিরোধী এবং সর্বদাই তাদের পিছনে লেগে থাকতো।

১৩১১ সালে কানপুরের (ভারতের একটি শহর) ফাইয আম মাদ্রাসাতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে বিখ্যাত অনেক আলেম উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানেই আলেমগণের একটি পরিষদ গঠন করা হয়েছিল। এই পরিষদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল মুসলিমদেরকে ঐক্যবদ্ধ করা, বিভিন্ন দলের আলেমগণের মাঝে সম্পর্কের পুনর্মিলন করা এবং ধর্মীয় শিক্ষার সংস্কার করা। মুফতী আহমাদ রেযা এই পরিষদে উপস্থিত ছিল এবং পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। আর সে এই পরিষদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং এজন্য সে একটি পত্রিকা বের করে, যার নাম দেয় 'আত তুহফাতুল হানাফীয়্যাহ লি মুআরাযাতি নাদওয়াতিল উলামাহ'।

এই পরিষদের খণ্ডন করার জন্য সে প্রায় এক হাজার পুস্তিকা ও কিতাব রচনা করে। আর সে এই পরিষদের আলেমগণের কাফের হওয়ার বিষয়ে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের আলেমগণের ফাতওয়া ও তাদের সাক্ষর গ্রহণ করে একটি কিতাবে সেগুলো জমা করে, যেই কিতাবের নাম দেয়, 'ইলজামুস সুন্নাহ লি আহলিল ফিতনাহ'। আর সে এর জন্য হারামাইনের আলেমগণের সমর্থনও গ্রহণ করে এবং সেটিকে ১৩১৭ সালে একটি সংকলনে প্রকাশ করে, যার নাম হলো, 'ফাতওয়াল হারামাইন বি রাজফি নাদওয়াতিল মাইন' (নুঝহাতুল খাওয়াতির, ৮/৩৯)।

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ১২. দেওবন্দের আলেমদেরকে কাফের বলা ও তার কারণ

📄 ১২. দেওবন্দের আলেমদেরকে কাফের বলা ও তার কারণ


তারপর সে দেওবন্দের আলেমদেরকে কাফের বলার দিকে গিয়েছে। দেওবন্দের আলেমদের মধ্যে রয়েছে, ইমাম মুহাম্মাদ কাসেম নানুতভী, রশীদ আহমেদ কানকূহী, শাইখ খলীল আহমেদ সাহরানপুরী, মাওলানা আশরাফ আলী থানভী এবং তাদের ঘনিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। আহমাদ রেযা তাদের দিকে এমন আকীদাকে সম্পৃক্ত করেছে, যেগুলো থেকে তারা সম্পূর্ণ মুক্ত। আহমাদ রেযা তাদের কাফের হওয়ার বিষয়ে দলীল পেশ করেছে, এর জন্য সে হারামাইনের আলেমগণের সমর্থন গ্রহণ করেছে অথচ সেই আলেমগণ প্রকৃত বিষয় সম্পর্কে অবগত ছিলেন না, তারপর সে একটি সংকলনে প্রকাশ করেছে, যার নাম দিয়েছে, 'হিসামুল হারামাইন আলা মানহারি আহলিল কুফরী ওয়াল মাইন'। সে তার সেই সংকলনে বলেছে, 'যে ব্যক্তি তাদের কাফের হওয়া সম্পর্কে ও তাদের শাস্তি হওয়া সম্পর্কে সন্দেহ করবে, সেই ব্যক্তি কাফের হয়ে যাবে'। আর সে এর দ্বারা প্রত্যাখ্যান, লড়াই ও বিরোধিতাতেই লিপ্ত থাকে, যেখানে কোনো নমনীয়তা নেই ও দুর্বলতাও সেখানে আসেনি। এমনকি অন্যকে কাফের বানানোই মানুষের চিন্তা ভাবনাতে পরিণত হয়েছে। আর এতে চরম ফিতনা ও অশান্তির সৃষ্টি হয়েছিল (নুঝহাতুল খাওয়াতির, ৮/৩৯)।

সে তার পদ্ধতি ও কাজ কর্মে একাই ছিল না। বরং তার দলের সকলেই তার পন্থা অবলম্বন করেছিল ও তার পথ অনুসরণ করেছিল এবং তার মতবাদ অনুযায়ী চলেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার অনুসারীগণ অনেক কষ্ট, যন্ত্রণা ও কঠিন মুহুর্ত সহ্য করে ও অনেক বাধা অতিক্রম করে তারা কাফিরদেরকে ইসলামে প্রবেশ করিয়েছিল। কাফিরদেরকে ইসলামে প্রবেশ করানোর পরে আহমাদ রেযা ও তার অনুসারীরা তাদের গদি ও সিংহাসনে বসেই সমগ্র বিশ্বকেই তারা কাফের বলে ঘোষণা দিলো এবং তাদেরকে ইসলাম থেকে বের করে দিলো। সে ও তার অনুসারীরা কুফরী ধর্মকে ইসলামে প্রবেশ করিয়েছিল এবং তারা মুসলিম জাতিকে ইসলাম থেকে বের করে দিয়েছিল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px