📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ৭. জ্ঞান শিক্ষাদানকারীগণ নেতৃবর্গ পাপাচারী ও নাস্তিক

📄 ৭. জ্ঞান শিক্ষাদানকারীগণ নেতৃবর্গ পাপাচারী ও নাস্তিক


আর জ্ঞান শিক্ষাদানকারীদের মধ্যে প্রধান প্রধান ব্যক্তিগণ হলো পাপাচারী ও নাস্তিক। কেননা মুসলিম উম্মতকে জ্ঞান শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে তারা অজ্ঞতার অন্ধকারকে দূর করেন ও এমন মানুষের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেন, যারা যুগ পরস্পরাতে মাশাইখদের ইবাদত করে, যেই মাশাইখরা আল্লাহর বন্ধু হওয়া ও আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়া এবং সৃষ্টির জন্য আল্লাহ তা'আলার নিকটে সুপারিশ করার দাবী করে।

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ৮. রাজনীতিবিদ্গণ কাফির ও লানতপ্রাপ্ত

📄 ৮. রাজনীতিবিদ্গণ কাফির ও লানতপ্রাপ্ত


ঔপনিবেশিকতার শৃঙ্খল থেকে জাতিকে মুক্তিদানকারীগণ ও রাজনীতিবিদরা হলেন কাফির ও লানতপ্রাপ্ত। কেননা তারা শুধু ভারত পাকিস্থানের ভূমিকে বর্বর ইংরেজদের কবল থেকে মুক্ত করতে চায় না এবং দূর্বল নিপীড়িত মানুষদের শৃঙ্খলকে ভেঙ্গে দিতে চায় না, বরং তারা এর সাথে সাথে ধর্মের নামে শোষক ও অত্যাচারীদের কারাগার ও শৃঙ্খল থেকে মানুষদেরকে মুক্ত করতে চায়।

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ৯. আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় জিহাদ ও লড়াইয়ের পতাকা বহনকারীরা সীমালংঘনকারী

📄 ৯. আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় জিহাদ ও লড়াইয়ের পতাকা বহনকারীরা সীমালংঘনকারী


আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় জিহাদ ও লড়াইয়ের পতাকা বহনকারীরা হলো সীমালংঘনকারী, তারা বাড়াবাড়ি করে ও মানুষের রক্তকে বৈধ করে। কেননা তারা দুর্বল ও অভাবীদের মধ্যে জিহাদের চেতনাকে ফুঁকে দেয়, তাদেরকে খানকা ও সূফী সাধকদের আশ্রম থেকে বের করে আনে, তাদেরকে বৃহত্তর জিহাদ থেকে ক্ষুদ্রতর জিহাদের দিকে নিয়ে যায় এবং মীলাদ, উরস ও কবরে উৎসব করাতে অর্থ খরচ করার পরিবর্তে অস্ত্র ও ঘোড়া কেনার জন্য আল্লাহ তা'আলার রাস্তাতে ব্যয় করার প্রতি তাদেরকে উৎসাহিত করে।

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ১০. ইসলামী সরকার, নববী খিলাফত ও শারঈ নেতৃত্বের অধিকারী ব্যক্তিগণ বিভ্রান্ত, পথভ্রষ্ট

📄 ১০. ইসলামী সরকার, নববী খিলাফত ও শারঈ নেতৃত্বের অধিকারী ব্যক্তিগণ বিভ্রান্ত, পথভ্রষ্ট


ইসলামী সরকার, নববী খিলাফত ও শারঈ নেতৃত্বের অধিকারী ব্যক্তিগণ বিভ্রান্ত, পথভ্রষ্ট। কেননা তারা মানুষদেরকে ইসলামী রাষ্ট্রের দিকে দিক নির্দেশনা দেন। বেরেলভীরা তাদের মহলে যেই রাষ্ট্র কায়েম করেছে ও তাদের সূফী সাধকদের আশ্রমে যেই খিলাফতকে বন্টন করেছে এবং নিজেদের মধ্যে যেই ইমারাত কায়েম করেছে সেগুলোর দিকে তারা মানুষদেরকে দিক নির্দেশনা দেন না।

এই সকল ব্যক্তিরা সকলেই ফাসিক ফাজের, কাফির, মুরতাদ, দীন থেকে তারা বেরিয়ে গেছে এবং তারা মাযহাবের গণ্ডির বাহিরে। কেননা তারা বেরেলভী ও তার সহমত ব্যক্তিকে অস্বীকার করে, তারা বেরেলভীর আকীদা ও তার বিশ্বাস করা বিষয়গুলোর ওপর ঈমান আনে না।

যেই ব্যক্তিই বর্ণিত কাজগুলো করেছে অথবা আমরা পূর্বে যেগুলো বর্ণনা করলাম সেগুলো বিশ্বাস করেছে, তাদের কেউই এই বেরেলভীদের থেকে রেহাই পায়নি, হোক সেই ব্যক্তি এই উপমহাদেশের অথবা বাহিরের, অথবা হোক সেই ব্যক্তি পূর্ববর্তীদের অথবা পরবর্তীদের মধ্যে থেকে। ইসলামের দিকে সম্পৃক্তকারী কোনো দল ও ফিরকাই কাফির বলার ক্ষেত্রে এমন চরম সীমাতে গিয়েছে বলে আমি মনে করি না, যেই চরম সীমাতে বেরেলভীরা গিয়েছে। ছোট-বড়, আকীদা ও মতামতের যেকোনো বিষয়েই তাদের সাথে মতভেদ হলেই তাকে তারা কাফির বলে। এমনকি তারা যাদেরকে কাফের বলে আখ্যায়িত করেছে, তার সাথে কেউ একমত না হলে তাকেও তারা কাফের বলে, যদিও সেই ব্যক্তি তাদের সাথে অন্য বিষয়ে মতভেদ না করুক। কেননা তাদের সাথে একমত না হওয়াটা তাদের মানহাজে অনুমোদিত নয়, ইখতেলাফ করা তো দূরের কথা। এটি তাদের ক্ষেত্রে সুবিদিত যে, একমত না হওয়াটা অনেক বিরোধিতা ও ইখতেলাফ থেকে তাদের নিকটে হালকা।

বেরেলভীরা এমন বহু মানুষকে কাফের আখ্যায়িত করেছে, যারা তাদের সাধারণ বিশ্বাস ও বিশেষ বিশ্বাসের ক্ষেত্রে তাদের মতোই। কিন্তু তাদের সমস্যা হলো, বেরেলভীদের প্রতিপক্ষকে তারা নিজেরা যে দলীল ও নথি দিয়েছে তাতে তারা সাক্ষর করেনি, যেমন কাফির হওয়া ও মুরতাদ হওয়ার সাক্ষ্য দেওয়া। এসব মানুষদেরকে স্পষ্টভাবে কাফির আখ্যা দেওয়াতে তারা বেরেলভীদের সাথে একমত হয়নি এবং ঐসব লোকদের সম্পর্কে বেরেলভীরা যা বলেছে সেগুলো তারা বলেনি, যদিও প্রতিপক্ষের ক্ষেত্রে বেরেলভীদের চিন্তা চেতনা ও তাদের বিশ্বাসের মতোই তারাও বিশ্বাস পোষণ করে। বেরেলভীরা বলে যে, আমরা যাদেরকে কাফের বলে ঘোষণা করেছি, তাকে কাফের বলাতে কেউ যদি দ্বিধা করে ও বিলম্ব করে অথবা তার কুফরীতে যদি সন্দেহ পোষন করে, তাহলে সেই ব্যক্তিও কাফের।

ফন্ট সাইজ
15px
17px