📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ১. সকল মুসলিমদের কাফির বলা

📄 ১. সকল মুসলিমদের কাফির বলা


আমরা নিজেরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে, আমরা এই দল সম্পর্কে কথা ও বিধান দেওয়াতে কঠোরতা অবলম্বন করবো না। কেননা শুধু তাদের মুখ থেকে তাদের আকীদা বর্ণনা করার জন্যই ইলমী আমানত দিয়ে আমরা এই কিতাবটি লিখেছি। তাদের আকীদাই তাদের ওপর বিধান বর্তাবে এবং তাদের কথাই সাক্ষ্য দিবে ও তাদের অবস্থান, মাসলাক ও মাযহাবকে নির্দিষ্ট করবে।

বিশেষভাবে এই অধ্যায়ে আমরা চেষ্টা করবো, যেন আমাদের মাঝে দয়া বা আবেগ চেপে না বসে এবং এখানে আমরা আমাদের কলমের লাগামকে ছেড়ে দিবো না, যেটি এই সম্প্রদায় থেকে সংঘটিত হওয়া গালিগালাজ ও তিরস্কার সম্পর্কে যা খুশি তাই লিখবে।

তারা শুধু গালিগালাজ ও তিরস্কার করাতেই থেমে থাকেনি, বরং এই উম্মতের বিশিষ্ট ও পদস্থ ব্যক্তিদেরকে, মুসলিম নেতাদেরকে, মুসলিম মুহাদ্দিস ও ফকীহগণকে, সংশোধনকারীদের প্রধানদেরকে এবং সঠিক সালাফী দাওয়াতের মুজাদ্দীদদেরকে তারা ফাসিক এবং কাফির বলেছে।

তারপর আবেগ ও উত্তেজনা ইতিহাসের প্রবাহকে ও বাস্তব ঘটনাকে পরিবর্তন করতে পারবে না। আর কঠোরতা করা, ফাসিক বলা, অপদস্থ করা, অপবাদ দেওয়া এবং কাফির বলাতে কোনো কল্যাণ ও উপকার আসে না। এগুলো হককে বাতিলে পরিণত করে না এবং বাতিলকেও হকে পরিণত করে না। আর মুমিন কখনো বেশি বেশি লানতকারী ও গালি গালাজকারী হতে পারে না। হ্যাঁ, দয়া বা আবেগ হলো মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য। মানুষ অপবাদ ও লানতের কারণে ব্যথিত হয় ও আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং প্রশংসা ও উত্তম কথার কারণে আনন্দিত ও খুশি হয়। কিন্তু এই সবগুলোর পরেও আমরা আবেগ ও ক্রোধ থেকে দূরে থাকবো এবং এই উম্মত ও উম্মতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কে তাদের আকীদা বর্ণনা করবো।

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ২. বেরেলভীদের ইসলাম

📄 ২. বেরেলভীদের ইসলাম


এই সম্প্রদায় ইসলামকে শুধু সেই দলের মাঝেই সীমাবদ্ধ করেছে, যেই দল বিদআত ও নব আবিষ্কৃত বিষয়গুলোকে গ্রহণ করে, তাদের নেতা ও মাশাইখদের ইমামতকে মেনে নেয়। আর তারা আল্লাহ তা'আলার জন্য সাব্যস্ত করে যে, আল্লাহ তা'আলা হলেন, গুণশূন্য ও কর্মহীন। আল্লাহ তা'আলা কোনো কিছুরই মালিক নন, বরং তিনি তার ক্ষমতা ও ইচ্ছাকে এই বিষয়ের দায়িত্বশীলদের কাছে ও কিছু বান্দাদেরকে কাছে অর্পন করে দিয়েছেন, যেসব বান্দাকে এই সম্প্রদায়ের লোকজন সৎ মানুষ হিসেবে বিবেচনা করে। এরাই হলো সার্বিক ক্ষমতা, ইলাহী ইচ্ছা ও শ্বাশ্বত শক্তির অধিকারী। স্বয়ং আল্লাহ তা'আলাই তাদের যিয়ারত করার জন্য আরশ থেকে নেমে আসেন, তাদের চারিদিকেই কাবা প্রদক্ষিন করে এবং ফিরিশতাগণ তাদের দরজাগুলোর খাদেম। আসমান তাদের ডান হাতে ভাঁজ করা অবস্থাতে রয়েছে, আর যমীন রয়েছে তাদের বাম হাতে। তাদের আদেশে মেঘ নেমে আসে এবং তাদের ইঙ্গিতে রিযিক বন্টিত হয়। তারাই হলো জীবন, মৃত্যু, পুনরুত্থান, মৃতকে জীবিত করা, কবরে যে ব্যক্তি রয়েছে তাকে কথা শোনানো, দুঃখিত ভারাক্রান্তদের সাহায্য করা, সংকটাপন্ন ব্যক্তিদের সংকট দূর করা, সাহায্যপ্রার্থীদের সাহায্য করা এবং নিরূপায় ব্যক্তিদের সাহায্য করার মালিক। আমরা আল্লাহ তা'আলার নিকটে এগুলো থেকে আশ্রয় চাই। এছাড়াও অনেক কল্পকাহিনী ও মিথ্যা বানোয়াট কথা রয়েছে, যেগুলো পূর্বেই বর্ণনা করা হয়েছে।

তারা বলে, সকলের জন্য আবশ্যক হলো, নিজের মতকে বোকা বানানো, নিজের বিবেককে বাধা দেওয়া, অন্তরকে আচ্ছাদিত করা, এই ধরনের কথাবার্তা বলা ও এই বিশ্বাসগুলো নিজেরা বিশ্বাস করা। নইলে সে ইসলাম থেকেই বেরিয়ে যাবে। কেননা বেরেলভীদের ইসলামই হলো একমাত্র সঠিক ব্যাখ্যা।

তারা আরো বলে, আহলুল হাদীসগণ হলো কাফির ও পাপাচারী, তারা ইসলাম থেকে বেরিয়ে গেছে। কেননা তারা আল্লাহর কিতাবের অনুসরণের কথা বলে, যেই কিতাব আল্লাহ তা'আলা সকল মানুষের জন্য হিদায়াত ও মুমিনদের জন্য রহমত হিসেবে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষের ওপর নাযিল করেছেন। এছাড়াও আহলুল হাদীসগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের অনুসরণের কথা বলেন, যেই রাসূলকে আল্লাহ তা'আলা হিদায়াত ও সঠিক দীন দিয়ে পাঠিয়েছেন, যাতে আল্লাহ তা'আলা অন্য সকল দীনের ওপর এই দীনকে বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা এটি অপছন্দ করে। আহলুল হাদীসগণ এই দুটি (কুরআন ও সুন্নাহ) আঁকড়ে ধরার কারণে তারা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে এবং অন্যদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে। কেননা এগুলোর মাধ্যমে তারা আহমাদ রেযা বেরেলভীর আনুগত্যে প্রবেশ করতে তারা পারে না। আর কুরআন ও সুন্নাহ তাদেরকে এর অনুমতিও দেয় না। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই বাণীকে আঁকড়ে ধরে থাকেন, যাতে তিনি বলেছেন,
تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا: كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ رَسُولِهِ
আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস ছেড়ে যাচ্ছি। যতদিন তোমরা সেই দুটি জিনিস আঁকড়ে ধরে থাকবে, ততদিন তোমরা পথভ্রষ্ট হবে। সেগুলো হলো, আল্লাহ তা'আলার কিতাব ও তার রাসূলের সুন্নাত (মুআত্তা মালেক, হা/১৫৯৪, মিশকাত, হা/১৮৬)।

আহলুল হাদীসগণ আরো বলেন যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর কিতাবের বহু আয়াতে শুধু তাঁর আনুগত্য করতে এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করার আদেশ করেছেন। আমরা এখানে শুধু তিনটি আয়াত বর্ণনা করছি। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ﴾
আর তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো, যাতে তোমাদের ওপর অনুগ্রহ করা হয় (সূরা আলে ইমরান: ১৩২)।

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَوَلَّوْا عَنْهُ وَأَنْتُمْ تَسْمَعُونَ﴾
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমরা যখন তাঁর কথা শোন তখন তা হতে মুখ ফিরিয়ে নিও না (সূরা আল আনফাল: ২০)।

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ﴾
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো, (সূরা আন নিসা: ৫৯)।

এগুলোর কোথাও আহমাদ রেযাসহ অন্য কারো কথা বর্ণনা করা হয়নি এবং তাঁর ওপর ঈমান আনাকেও আবশ্যক করা হয়নি। আহলুল হাদীসগণ কেনই বা কাফের হবে না! অথচ তারা আল্লাহ তা'আলার কিতাব ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের দিকে আহবান করে, কিন্তু সেই কিতাব তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করেনি এবং সুন্নাত তাদের মতানুযায়ীও হয়নি।

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ৩. শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহাব রহিমাহুল্লাহ ও তার অনুসারীগণ কাফের

📄 ৩. শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহাব রহিমাহুল্লাহ ও তার অনুসারীগণ কাফের


আর শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু আব্দিল ওয়াহাব রহিমাহুল্লাহর অনুসারীগণও কাফের ও পাপাচারী। কেননা বেরেলভীদের বিদআত, নব আবিষ্কৃত বিষয়গুলো এবং তারা মহান আরশের অধিপতি রব সম্পর্কে ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে যা বিশ্বাস করে, সেগুলোকে মুহাম্মাদ ইবনু আব্দিল ওয়াহাব রহিমাহুল্লার অনুসারীরা অস্বীকার করে।

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ৪. দেওবন্দীগণ মুরতাদ

📄 ৪. দেওবন্দীগণ মুরতাদ


তারা বলে, দেওবন্দীরা মুরতাদ, দীন ইসলাম থেকে বেরিয়ে গেছে। কেননা বেরেলভীরা যেসব মিথ্যা কাহিনী বানিয়েছে এবং বিভিন্ন উপকথা ও কল্পকাহিনীর উদ্ভাবন ঘটিয়ে সেগুলোকে দীন ও শরীআত বানিয়েছে সেগুলোকে দেওবন্দীরা বিশ্বাস করে না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px