📄 ২৪. বৃদ্ধাঙ্গুলীতে চুমু খাওয়া খণ্ডন করা
জনাব আহমাদ রেযা এ বর্ণনাটি ইমাম সাখাবী হতে উদ্ধৃত করেছে। কিন্তু ইমাম সাখাবী এ হাদীস উল্লেখ করার পর লিখেছেন: "কিছু সুফী তাদের বইতে এ হাদীস উদ্ধৃত করেছে। এর সনদে যে সকল রাবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা অজ্ঞাত এবং মুহাদ্দীসীনের নিকট অপরিচিত। অর্থাৎ এটি একটি স্বরচিত বানোয়াট সনদ এবং খিযির হতে এটি কে শুনেছে তার কোনো উল্লেখ নাই।"
অর্থাৎ বর্ণনাটি ইমাম সাখাবী সুফীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছেন, যে বর্ণনাটির তিনি সমালোচনা করেছেন এবং একে বানোয়াট হাদীস ঘোষণা করেছেন, জনাব আহমাদ রেযা তার আলেম হওয়ার অযোগ্যতা প্রমাণ করে এর পক্ষে যুক্তি দিয়েছে যাতে করে একটি অনৈসলামী বিদআতের প্রচার প্রসার করা যায়। ইমাম সুয়ূতী লিখেছেন, যে সকল বর্ণনায় বৃদ্ধাঙ্গুলী চুমু খাওয়ার কথা উল্লেখ আছে, সে সকল বর্ণনা জাল বা বানোয়াট। "
অনুরূপভাবে, ইমাম সাখাবী, মোল্লা আলী কারী, মুহাম্মদ তাহির আল- পাটনী, আল্লামা শাওকানী এবং অন্যান্যরাও এসকল বর্ণনাকে জাল বলে ঘোষণা করেছেন। "
কিন্তু জনাব আহমাদ রেযা সাহেব জোরে শোরে প্রচার করে যে, “বৃদ্ধাঙ্গুলী চুমু খাওয়াকে প্রত্যাখ্যান করা মুসলিম উম্মাহর (অর্থাৎ বেরেলভী উম্মাহর!) ইজমার বিরোধী। "
এবং “কেবল সেই ব্যক্তিই একে (বৃদ্ধাঙ্গুলী চুমু খাওয়াকে) না জায়েয বলতে পারে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর নাম বিদ্বেষী। "
টিকাঃ
[৪১২] মাকাসিদুল হাসানা, ইমাম সাখাবী।
[৪১৩] তাইসীরুল মাকাল, ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী।
[৪১৪] আল মাউযুয়াত, আল-পাটনী; মাওযুয়াত, মোল্লা আলী কারী; ফাওয়াইদুল মাজমুআহ, শাওকানী ১৮ নং হাদীস।
[৪১৫] মুনীরুল আইন ফী হুকুমু তাকীল আল বাহামীন- ফতোয়া রিজভীয়্যাহ, ২য় খণ্ড, পৃ-৪৮৮।
[৪১৬] প্রাগুক্ত, পৃ-৪৯৪।
📄 ২৫. কাফনের উপর লেখা
বেরেলভী মতবাদের অন্যতম নোংরামী হলো, তারা বলে: কোনো ব্যক্তি "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু... "এ পূর্ণ দুআটি লিখে মৃত ব্যক্তির কাফনের সাথে রেখে দেয়, তাহলে সে (মৃতব্যক্তি) কবরের সংকুচিত হওয়া থেকে নিরাপদে থাকবে এবং মুনকার-নাকীর তার কাছে (প্রশ্ন করতে) আসবে না।
অনুরূপভাবে, বেরেলভীগণ 'আহাদনামা' নামক একটি দুআ ব্যবহার করেছে যার কোনো ভিত্তি নেই। এ সম্পর্কে তারা বিশ্বাস করে: "যার কাফনের সাথে এটা রাখা হবে, আল্লাহ তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিবেন। "
আহমাদ ইয়ার লিখেছে: “যে ব্যক্তি মারা গেছে সে যখন এ 'আহাদনামা' দেখে, তখন মুনকার-নাকীরের প্রশ্নের জবাব স্মরণ করতে পারবে। "
টিকাঃ
[৪১৭] ফতোয়া রিজভীয়্যাহ, ৪র্থ খণ্ড, পৃ-১২৭।
[৪১৮] প্রাগুক্ত, পৃ-১২৯।
[৪১৯] জা আল-হাক্ব, পৃ-৩৪০।
📄 ২৬. জানাযার সালাত শেষে দুআ করা
তাদের এ সকল বিদআতের যারা বিরোধীতা করে তাদেরকে তারা গালি দেয়, অপবাদ দেয়, ওয়াহাবী বলে কুৎসা রটনা করে। যারা কিতাব ও সুন্নাতের অনুসরণ করে তাদেরকে পূর্ব যুগ থেকেই বিদআতী, প্রবৃত্তির অনুসারী, বক্র ও পথভ্রষ্টরা গালি, নিন্দা ও অপবাদ দিয়েই আসছে। সুতরাং অবাক হওয়ার কিছু নেই। এ সকল মুকাল্লিদ ও বিদআতীদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো কুরআন ও হাদীসের বিপরীতে গিয়ে জানাযার সালাত শেষে দুআ করা, যা হানাফী ফিকহেরও বিরোধী।
আহমাদ রেযা বেরলভী বলে, যারা জানাযার শেষে দুআ করে না তারা স্পষ্ট হানাফী ফিকহের বিরোধী, তারা নাজদী ওয়াহাবী ও মুর্খ। ফতোয়া রিজভীয়্যাহ, ৪র্থ খণ্ড, পৃ-২৫,২৬।
জানাযার সালাতের পরে ফিকহে হানাফীতে দুআ করা নিষেধ করা প্রসঙ্গে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে সেগুলো সম্পর্কে বেরেলভী বলে, এগুলো সর্বদা করা নিষেধ। তারপর সে একটি নাপাক কবিতা দিয়ে দলীল দিয়েছে আর তার বিরোধীতাকারীদের গালাগালি দিয়েছে। ফতোয়া রিজভীয়্যাহ, ৪র্থ খণ্ড, পৃ-২৬।
📄 ২৭. কবরের উপর আযান দেয়া
বেরেলভীগণ কুরআন, সুন্নাহ ও হানাফী ফিকহের বিপরীতে এত বেশি বিদআত রচনা করেছে যার কোনো দলীল-প্রমাণ সালফে সালেহীনদের মাঝে পাওয়া যায় না। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কবরে আযান দেওয়া। খাঁন সাহেব বেরেলভী লিখেছে: "কবরে আযান দেওয়াটা অধিক পছন্দনীয়। এটি মৃতব্যক্তিদেরকে উপকার করে।”
এবং "কবরে আযান দেওয়ার কারণে শয়তান দৌড়ে পালায় এবং রহমত নাযিল হয়। "
কিন্তু এমনকি হানাফী ফিকহেও এর স্পষ্ট বিরোধিতা পাওয়া যায়।
আল্লামা ইবনুল হুমাম বলেন: "কবরের উপর আযান দেওয়া এবং অন্যান্য বিদআত পালন করা ঠিক নয়। সুন্নাহ কেবল এটাই প্রমাণ করে যে, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জান্নাতুল বাকী' (বাকী'উল গারকাদ) যিয়ারত করতেন, তখন তিনি বলতেন: "আস্ সালামু আলাইকুম দা-রা ক্বওমিন মু'মিনীন .... শেষ পর্যন্ত।” এ ব্যতীত অন্য কোনো কিছুই প্রমাণিত নয়। এসকল বিদআত হতে দূরে থাকা উচিত। "
ইমাম শামী বলেন: "আজকাল কবরে আযান দেওয়ার রীতি চালু হয়েছে। এর কোনো দালীল নেই, এটি বিদআত। "
মাহমুদ বালখী লিখেছেন: "কবরের উপর আযান দেওয়ার কোনো ভিত্তি নেই। "
টিকাঃ
[৪২০] ফতোয়া রিজভীয়্যাহ, বেরেলভী, ৪র্থ খণ্ড, পৃ-৫৪।
[৪২১] জা আল-হাক্ব, ১ম খণ্ড, পৃ-৩১৫।
[৪২২] ফতহুল কাদীর, ২য় খণ্ড, পৃ-২২।
[৪২৩] রদ্দুল মুহতার, ১ম খণ্ড, পৃ-৬৫৯।
[৪২৪] জা আল-হাক্ব হতে উদ্ধৃত, পৃ-৩১৮।