📄 ২২. ফন্দি করা (হীলাতুল ইস্কাত)
ধর্মকে একটি লাভজনক ব্যবসা বানিয়ে বেরেলভী পীরেরা বিদআত উদ্ভাবন করেছে যেন তারা দুহাতে জনসাধারণের সম্পদ লুট করতে পারে, যা কুরআন ও সুন্নাহর সম্পূর্ণ বিরোধী এবং কুরআন-সুন্নাহর বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও প্রকাশ্য বিদ্রোহ। বেরেলভীদের বিশ্বাস যে, যদি কোনো ব্যক্তি সারাজীবনও সালাত আদায় না করে, সারাজীবন সিয়াম না রাখে, তথাপিও সে তার মৃত্যুর পর তার সম্পদ থেকে কিছু ব্যয় করে (জাহান্নাম থেকে) নাজাত পেতে পারে। তারা এর নাম দিয়েছে 'হীলাতুল ইস্কাত' বা ফন্দি করা।
এর পদ্ধতি লক্ষ্য করুন, অতঃপর বেরেলভী (মতবাদ ও) চিন্তা ধারার গুণকীর্তন (!) করুন: "যে ব্যক্তি মারা গেছে তার আয়ুষ্কালের ব্যাপারে অনুমান করতে হবে এবং পুরুষের ক্ষেত্রে ১২ বছর এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৯ বছর (নাবালিগ থাকার সর্বনিম্ন মেয়াদ) বাদ দিতে হবে। তারপর বাকি জীবন অনুমান করতে হবে যে, জীবনে কত সংখ্যক ফরয আমল সে পালন করেনি, এমনকি তার কাযাও করেনি। অতঃপর প্রতি ওয়াক্ত (তরককৃত) সালাতের জন্য সাদাকাতুল ফিতরের সমপরিমাণ (অর্থ বা মাল) ফিদইয়া হিসেবে দান করতে হবে। আর সাদাকাতুল ফিতরের পরিমাণ হলো অর্ধ সা' গম বা এক সা' যব। সুতরাং বিতরসহ প্রতিদিনের ছয়টি সালাতের জন্য ফিদইয়া হলো ১২ সের। প্রতি মাসের জন্য ৯ মন এবং প্রতি বছরের জন্য তা হবে একশত আট মণ।" আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ নَارًا وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيرًا
"নিশ্চয় যারা ইয়াতীমদের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে তারা তো তাদের পেটে আগুন খাচ্ছে; আর অচিরেই তারা প্রজ্জ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে।” (সূরা আন নিসা ৪: ১০) আল্লাহ তা'আলা বলেন,
أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى وَأَن لَّيْسَ لِلْإِنسَانِ إِلَّا مَا سَعَى
“কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।” “আর এই যে, মানুষ যা চেষ্টা করে, তাই সে পায়।” (সূরা আন নাজম ৫৩:৩৮-৩৯)
কিন্তু এ সকল বেরেলভী এসব 'হীলাহ' কোথা থেকে গ্রহণ করেছে কে জানে? এগুলোর উৎস ইসলাম বাদে অন্য কোনো ধর্ম হতে পারে কিন্তু ইসলামী শরীয়াতে এর কোনো ভিত্তি নেই।
তারা বলে যে, কোনো লোক তার প্রিয়জনদের মাগফিরাত (ক্ষমা) লাভের জন্য এত অর্থ-সম্পদ ব্যয় করবে। তারপর এটা কমিয়ে দেয়ার মাধ্যমে তারা অন্য অনেক হীলাহর সমাধান করে যেন লোকেরা এটিকে তাদের সাধ্যাতীত ভেবে ছেড়ে না দেয়।
যেসকল লোকেরা এ ধরনের 'হীলাহ' করার পক্ষপাতি নয়, তারা তাদের সম্পর্কে বলে, "যারা মৃত্যুবরণ করে তাদের জন্য ওয়াহাবী ও অন্যান্যদের কোনো কল্যাণকামীতা নেই, আর ফুকারা ও গুরাবাদের (বেরেলভী মোল্লাদের) প্রতি তাদের কোনো সহানুভূতি নেই। যদি কেউ তার সাধ্য অনুযায়ী ফিদইয়া দেয়, তবে তা কতই না চমৎকার হয়!”
এ সব হীলাহর কারণে সালাত ও সিয়াম পরিত্যাগকারীর সংখ্যা বেড়ে যাবে এবং বেরেলভী মোল্লাদের সিন্দুকসমূহ ভরে ওঠবে, কিন্তু যে সকল মৃতরা আল্লাহর শাস্তির উপযোগী, তারা নাজাত পাবেনা। কারণ এ সকল হীলাহ কুরআনেও উল্লেখ নেই, হাদীসেও নেই। এ দুনিয়াতে যে যা অর্জন করবে, আখিরাতে সে তা-ই পাবে। সে যদি নেককার হয়, তবে তার এসব 'হীলাহর' কোনো প্রয়োজন নেই এবং সে যদি বদকার বা পাপী হয়, তবে সে এ 'হীলাহ থেকে কোনো কিছুই (উপকার) পাবে না।
টিকাঃ
[৪০৯] গায়াতুল ইহতিয়াত ফী যাওয়াইজ হীলাতুল ইস্কাত; বরাতে, বজলুল যাওয়াইজ, পৃ-৩৪; লাহোরে প্রকাশিত।
[৪১০] হীলাতুল ইস্কাত, পৃ-৩৫।
📄 ২৩. বৃদ্ধাঙ্গুলীতে চুমু খাওয়া
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর নাম শুনে বৃদ্ধাঙ্গুলী চুমু খাওয়াও একটি বিদআত যা কোনো হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। বেরেলভীগণ এটা প্রমাণ করতে গিয়ে নিজেদের রচিত বানোয়াট কিচ্ছা-কাহিনী এবং জাল-বানোয়াট হাদীস ব্যবহার করে।
জনাব বেরেলভী সাহেব বলে: "খিজির (আ.) হতে বর্ণিত, কোনো ব্যক্তি যখন 'আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল) শোনে, তখন যদি সে ব্যক্তি তার বৃদ্ধাঙ্গুলীতে চুমু খায় এবং চোখে লাগায়, তবে তার চোখে কোনো অসুখ হবে না। "
টিকাঃ
[৪১১] মুনীরুল আইন ফী হুকুমু তাকীল আল বাহামীন- ফতোয়া রিজভীয়্যাহ, ২য় খণ্ড, পৃ-৩৮৩।
📄 ২৪. বৃদ্ধাঙ্গুলীতে চুমু খাওয়া খণ্ডন করা
জনাব আহমাদ রেযা এ বর্ণনাটি ইমাম সাখাবী হতে উদ্ধৃত করেছে। কিন্তু ইমাম সাখাবী এ হাদীস উল্লেখ করার পর লিখেছেন: "কিছু সুফী তাদের বইতে এ হাদীস উদ্ধৃত করেছে। এর সনদে যে সকল রাবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা অজ্ঞাত এবং মুহাদ্দীসীনের নিকট অপরিচিত। অর্থাৎ এটি একটি স্বরচিত বানোয়াট সনদ এবং খিযির হতে এটি কে শুনেছে তার কোনো উল্লেখ নাই।"
অর্থাৎ বর্ণনাটি ইমাম সাখাবী সুফীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছেন, যে বর্ণনাটির তিনি সমালোচনা করেছেন এবং একে বানোয়াট হাদীস ঘোষণা করেছেন, জনাব আহমাদ রেযা তার আলেম হওয়ার অযোগ্যতা প্রমাণ করে এর পক্ষে যুক্তি দিয়েছে যাতে করে একটি অনৈসলামী বিদআতের প্রচার প্রসার করা যায়। ইমাম সুয়ূতী লিখেছেন, যে সকল বর্ণনায় বৃদ্ধাঙ্গুলী চুমু খাওয়ার কথা উল্লেখ আছে, সে সকল বর্ণনা জাল বা বানোয়াট। "
অনুরূপভাবে, ইমাম সাখাবী, মোল্লা আলী কারী, মুহাম্মদ তাহির আল- পাটনী, আল্লামা শাওকানী এবং অন্যান্যরাও এসকল বর্ণনাকে জাল বলে ঘোষণা করেছেন। "
কিন্তু জনাব আহমাদ রেযা সাহেব জোরে শোরে প্রচার করে যে, “বৃদ্ধাঙ্গুলী চুমু খাওয়াকে প্রত্যাখ্যান করা মুসলিম উম্মাহর (অর্থাৎ বেরেলভী উম্মাহর!) ইজমার বিরোধী। "
এবং “কেবল সেই ব্যক্তিই একে (বৃদ্ধাঙ্গুলী চুমু খাওয়াকে) না জায়েয বলতে পারে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর নাম বিদ্বেষী। "
টিকাঃ
[৪১২] মাকাসিদুল হাসানা, ইমাম সাখাবী।
[৪১৩] তাইসীরুল মাকাল, ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী।
[৪১৪] আল মাউযুয়াত, আল-পাটনী; মাওযুয়াত, মোল্লা আলী কারী; ফাওয়াইদুল মাজমুআহ, শাওকানী ১৮ নং হাদীস।
[৪১৫] মুনীরুল আইন ফী হুকুমু তাকীল আল বাহামীন- ফতোয়া রিজভীয়্যাহ, ২য় খণ্ড, পৃ-৪৮৮।
[৪১৬] প্রাগুক্ত, পৃ-৪৯৪।
📄 ২৫. কাফনের উপর লেখা
বেরেলভী মতবাদের অন্যতম নোংরামী হলো, তারা বলে: কোনো ব্যক্তি "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু... "এ পূর্ণ দুআটি লিখে মৃত ব্যক্তির কাফনের সাথে রেখে দেয়, তাহলে সে (মৃতব্যক্তি) কবরের সংকুচিত হওয়া থেকে নিরাপদে থাকবে এবং মুনকার-নাকীর তার কাছে (প্রশ্ন করতে) আসবে না।
অনুরূপভাবে, বেরেলভীগণ 'আহাদনামা' নামক একটি দুআ ব্যবহার করেছে যার কোনো ভিত্তি নেই। এ সম্পর্কে তারা বিশ্বাস করে: "যার কাফনের সাথে এটা রাখা হবে, আল্লাহ তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিবেন। "
আহমাদ ইয়ার লিখেছে: “যে ব্যক্তি মারা গেছে সে যখন এ 'আহাদনামা' দেখে, তখন মুনকার-নাকীরের প্রশ্নের জবাব স্মরণ করতে পারবে। "
টিকাঃ
[৪১৭] ফতোয়া রিজভীয়্যাহ, ৪র্থ খণ্ড, পৃ-১২৭।
[৪১৮] প্রাগুক্ত, পৃ-১২৯।
[৪১৯] জা আল-হাক্ব, পৃ-৩৪০।