📄 ২০. নযর মানত করা
জনাব আহমাদ রেযা সাহেবই হলো এ শিরকী প্রথার আসল কারণ এবং এতে সে সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে, "তাওয়াফকারী নযরানা হিসেবে কিছু দিবে যেন (তা দ্বারা) মুসলিমগণ উপকৃত হতে পারে। এভাবে যে ব্যক্তি যিয়ারত করছে এবং যে তাকে সাহায্য করছে- তারা উভয়েই সওয়াব/পুরস্কার লাভ করে। একজন তাদেরকে তৃপ্তি ও অনুগ্রহ দান করে এবং অপরজন মাল-সামানা দ্বারা উপকার করে। একটি হাদীসে এসেছে: "যে ব্যক্তি সক্ষম হয় সে যেন তার মুসলিম ভাইকে যতবেশী সম্ভব উপকার করে।” তাই তার উপকার করা উচিত (তার মুসলিম ভাইয়ের মানে কবরপূজারী বেরেলভী মাজারের খাদেমদেরকে)। (যুক্তি প্রদানের পদ্ধতি লক্ষ্য করুন!)
টিকাঃ
[৪০৮] বদরুল আনোয়ার ফী মাজমু'আ রাসাইল, পৃ-৫০।
📄 ২১. নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শিক্ষা
হাদীসে আছে: "আল্লাহ তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেন যতক্ষণ সে তার ভাইদেরকে সাহায্য করে।” বিশেষভাবে, যখন 'মুবারক লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত হয়, তখন তাদের সেবা করা অনুগ্রহ ও সুখময়তার সর্বোত্তম গুনের অন্তর্ভুক্ত।”
টিকাঃ
[৪০৮] বদরুল আনোয়ার ফী মাজমু'আ রাসাইল, পৃ-৫০।
📄 ২২. ফন্দি করা (হীলাতুল ইস্কাত)
ধর্মকে একটি লাভজনক ব্যবসা বানিয়ে বেরেলভী পীরেরা বিদআত উদ্ভাবন করেছে যেন তারা দুহাতে জনসাধারণের সম্পদ লুট করতে পারে, যা কুরআন ও সুন্নাহর সম্পূর্ণ বিরোধী এবং কুরআন-সুন্নাহর বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও প্রকাশ্য বিদ্রোহ। বেরেলভীদের বিশ্বাস যে, যদি কোনো ব্যক্তি সারাজীবনও সালাত আদায় না করে, সারাজীবন সিয়াম না রাখে, তথাপিও সে তার মৃত্যুর পর তার সম্পদ থেকে কিছু ব্যয় করে (জাহান্নাম থেকে) নাজাত পেতে পারে। তারা এর নাম দিয়েছে 'হীলাতুল ইস্কাত' বা ফন্দি করা।
এর পদ্ধতি লক্ষ্য করুন, অতঃপর বেরেলভী (মতবাদ ও) চিন্তা ধারার গুণকীর্তন (!) করুন: "যে ব্যক্তি মারা গেছে তার আয়ুষ্কালের ব্যাপারে অনুমান করতে হবে এবং পুরুষের ক্ষেত্রে ১২ বছর এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৯ বছর (নাবালিগ থাকার সর্বনিম্ন মেয়াদ) বাদ দিতে হবে। তারপর বাকি জীবন অনুমান করতে হবে যে, জীবনে কত সংখ্যক ফরয আমল সে পালন করেনি, এমনকি তার কাযাও করেনি। অতঃপর প্রতি ওয়াক্ত (তরককৃত) সালাতের জন্য সাদাকাতুল ফিতরের সমপরিমাণ (অর্থ বা মাল) ফিদইয়া হিসেবে দান করতে হবে। আর সাদাকাতুল ফিতরের পরিমাণ হলো অর্ধ সা' গম বা এক সা' যব। সুতরাং বিতরসহ প্রতিদিনের ছয়টি সালাতের জন্য ফিদইয়া হলো ১২ সের। প্রতি মাসের জন্য ৯ মন এবং প্রতি বছরের জন্য তা হবে একশত আট মণ।" আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ নَارًا وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيرًا
"নিশ্চয় যারা ইয়াতীমদের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে তারা তো তাদের পেটে আগুন খাচ্ছে; আর অচিরেই তারা প্রজ্জ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে।” (সূরা আন নিসা ৪: ১০) আল্লাহ তা'আলা বলেন,
أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى وَأَن لَّيْسَ لِلْإِنسَانِ إِلَّا مَا سَعَى
“কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।” “আর এই যে, মানুষ যা চেষ্টা করে, তাই সে পায়।” (সূরা আন নাজম ৫৩:৩৮-৩৯)
কিন্তু এ সকল বেরেলভী এসব 'হীলাহ' কোথা থেকে গ্রহণ করেছে কে জানে? এগুলোর উৎস ইসলাম বাদে অন্য কোনো ধর্ম হতে পারে কিন্তু ইসলামী শরীয়াতে এর কোনো ভিত্তি নেই।
তারা বলে যে, কোনো লোক তার প্রিয়জনদের মাগফিরাত (ক্ষমা) লাভের জন্য এত অর্থ-সম্পদ ব্যয় করবে। তারপর এটা কমিয়ে দেয়ার মাধ্যমে তারা অন্য অনেক হীলাহর সমাধান করে যেন লোকেরা এটিকে তাদের সাধ্যাতীত ভেবে ছেড়ে না দেয়।
যেসকল লোকেরা এ ধরনের 'হীলাহ' করার পক্ষপাতি নয়, তারা তাদের সম্পর্কে বলে, "যারা মৃত্যুবরণ করে তাদের জন্য ওয়াহাবী ও অন্যান্যদের কোনো কল্যাণকামীতা নেই, আর ফুকারা ও গুরাবাদের (বেরেলভী মোল্লাদের) প্রতি তাদের কোনো সহানুভূতি নেই। যদি কেউ তার সাধ্য অনুযায়ী ফিদইয়া দেয়, তবে তা কতই না চমৎকার হয়!”
এ সব হীলাহর কারণে সালাত ও সিয়াম পরিত্যাগকারীর সংখ্যা বেড়ে যাবে এবং বেরেলভী মোল্লাদের সিন্দুকসমূহ ভরে ওঠবে, কিন্তু যে সকল মৃতরা আল্লাহর শাস্তির উপযোগী, তারা নাজাত পাবেনা। কারণ এ সকল হীলাহ কুরআনেও উল্লেখ নেই, হাদীসেও নেই। এ দুনিয়াতে যে যা অর্জন করবে, আখিরাতে সে তা-ই পাবে। সে যদি নেককার হয়, তবে তার এসব 'হীলাহর' কোনো প্রয়োজন নেই এবং সে যদি বদকার বা পাপী হয়, তবে সে এ 'হীলাহ থেকে কোনো কিছুই (উপকার) পাবে না।
টিকাঃ
[৪০৯] গায়াতুল ইহতিয়াত ফী যাওয়াইজ হীলাতুল ইস্কাত; বরাতে, বজলুল যাওয়াইজ, পৃ-৩৪; লাহোরে প্রকাশিত।
[৪১০] হীলাতুল ইস্কাত, পৃ-৩৫।
📄 ২৩. বৃদ্ধাঙ্গুলীতে চুমু খাওয়া
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর নাম শুনে বৃদ্ধাঙ্গুলী চুমু খাওয়াও একটি বিদআত যা কোনো হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। বেরেলভীগণ এটা প্রমাণ করতে গিয়ে নিজেদের রচিত বানোয়াট কিচ্ছা-কাহিনী এবং জাল-বানোয়াট হাদীস ব্যবহার করে।
জনাব বেরেলভী সাহেব বলে: "খিজির (আ.) হতে বর্ণিত, কোনো ব্যক্তি যখন 'আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল) শোনে, তখন যদি সে ব্যক্তি তার বৃদ্ধাঙ্গুলীতে চুমু খায় এবং চোখে লাগায়, তবে তার চোখে কোনো অসুখ হবে না। "
টিকাঃ
[৪১১] মুনীরুল আইন ফী হুকুমু তাকীল আল বাহামীন- ফতোয়া রিজভীয়্যাহ, ২য় খণ্ড, পৃ-৩৮৩।