📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ১৯. ছবি ও মূর্তির মাধ্যমে বরকত হাসিল করা

📄 ১৯. ছবি ও মূর্তির মাধ্যমে বরকত হাসিল করা


বেরেলভীদের নিকট মদীনায় (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কবরে) ও নেককার লোকদের কবরে চুম্বন করা ছাড়াও কবরের চিত্র এবং গম্বুজের চিত্রে চুমু খাওয়াও জরুরী। বেরেলভী সাহেব বলে: "দীনের আলিমগণ কাগজের উপর সাইয়্যেদুল বাশার (অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর পবিত্র পদযুগল এর চিত্র অংকন করা, সেগুলো চুম্বন করা, সেগুলো চোখে বুলানো এবং সেগুলো মাথায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।”

এবং "দীনের আলিমগণ এসকল ছবির মাধ্যমে রোগমুক্তি ও প্রয়োজন পূরণের জন্য ওয়াসীলা (মধ্যস্থতা) কামনা করেন।”

বেরেলভী আহমাদ রেযা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পা-এর কাল্পনিক ছবির ফায়দা ব্যাখ্যা করেছে এবং লিখেছে: “যে ব্যক্তির নিকট এ মুবারক চিত্র রয়েছে সে জালিম ও হিংসুক হতে নিরাপদে থাকবে, প্রসব বেদনায় নারীর ডানহাতে এটি রাখবে, তাহলে সহজে প্রসবের কাজ সম্পন্ন হবে এবং তার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কবরের যিয়ারত নসীব হতে পারে। যে সকল সেনাদল এটি রাখবে, তারা পলায়ন করবে না; যে কাফেলা এটি সাথে রাখবে, তাতে লুটতরাজ হবে না; যে জাহাজ এটি সাথে রাখবে, তা ডুববে না; এটি যে সম্পদের সাথে রাখা হবে, তা চুরি হবে না। যেকোনো প্রয়োজনে এর মাধ্যমে ওসীলা (দিয়ে দুআর করার) কামনা করা হলে তা দেয়া হবে এবং যেকোনো আশায় এটিকে সাথে রাখা হলে তা পূরণ হবে। "

এ কুসংস্কার ও জাহিলিয়্যাতের কুসংস্কারের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ধরনের সকল প্রকার কুসংস্কারের অবসান ঘটিয়েছেন, আর এসকল লোকেরা সেগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করছে। খাঁন সাহেব বর্ণনা করেছে: "যদি সম্ভব হয়, তবে সেই ময়লা চুম্বন করবে যা মুবারক পায়ের প্রভাবে আর্দ্র হয়ে গিয়েছে, অথবা এর (অংকিত) চিত্র কে চুম্বন করবে। "

আবার "এ চিত্র অংকনের ফায়দার মধ্যে অন্যতম হলো যদি কোনো ব্যক্তির (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর) প্রকৃত কবর যিয়ারত করার সৌভাগ্য না হয়, তবে সে এটি চুম্বন করতে পারবে এবং এটি সাদৃশ্যের দিক দিয়ে প্রকৃত যিয়ারতের সমান হবে। "

এবং “নূর জগতসমূহের মালিক হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - এর মুবারক কবরের চিত্র অংকন দীনী বিষয়কে সম্মান প্রদর্শন করার অন্তর্ভুক্ত। শরীয়াতের দৃষ্টিতে এর সম্মান করা ও ভক্তি করা সহীহ ঈমানের ঈমানী দাবিসমূহের অন্যতম। "

সে চিত্রসমূহের যিয়ারতের আদব সম্পর্কে লিখেছে: “সেগুলো যিয়ারত করার সময় সে (যিয়ারতকারী) মনে মনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর ছবি কল্পনা করবে (তাসাওরে রাসূল) এবং দরূদ পড়া বাড়িয়ে দিবে।"

অন্যত্র সে লিখেছে: “যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পায়ের (নালাইন শরীফ বা জুতার) চিত্রের উপর (হাত বুলিয়ে) মুছে দেয়, বিচার দিবসে তার জন্য অতিরিক্ত সওয়াব রয়েছে এবং প্রকৃতই সে এ জগতে পরম সুখ, গৌরব, সম্মান ও আনন্দ লাভ করবে। বিচার দিবসের সফলতা লাভের উদ্দেশ্য নিয়ে এটা চুম্বন করবে। যে এর সাথে তার চেহারা (মুখমণ্ডল) ঘষাঘষি করবে, সে অনেক অভূতপূর্ব অনুগ্রহ লাভ করবে।”

এখন আপনি চিন্তা করুন, বেরেলভীদের এ সকল কর্ম ও মূর্তিপূজারীদের কর্মে মাঝে আর কী পার্থক্য অবশিষ্ট রইল?

তারা তাদের নিজেদের হাত দিয়ে চিত্র অংকন করে এবং তারপর তাদের মনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চেহারার ধ্যান করে (তাসাওরে রাসূল) এবং অতঃপর এতে চুম্বন করে, তাদের চোখের উপর রাখে এবং তাদের চেহারায় মোছে এবং সওয়াব ও অনুগ্রহ প্রত্যাশা করে।

একদিকে তাদের অংকিত ও খোদাই করা চিত্রের প্রতি এমন ভক্তি ও সম্মান রয়েছে, আবার অন্যদিকে তারা আল্লাহর সম্মান ও মর্যাদার প্রতি অত্যন্ত উদ্ধত ও অশিষ্ট এবং তারা বলে: “খোদাইকৃত মুবারক জুতার চিত্রের উপর 'বিসমিল্লাহ' লেখায় কোনো অসুবিধা নেই।”

টিকাঃ
[৩৯৯] আবরুল মাকাম ফী কিবলাতুল জালাল, বেরেলভী, পৃ-১৪৩।
[৪০০] বদরুল আনোয়ার ফী আদবুল আসার, পৃ-৩৯।
[৪০১] প্রাগুক্ত, পৃ-৪০।
[৪০২] আবরুল মাকান, বেরেলভী, পৃ-১৪৭।
[৪০৩] প্রাগুক্ত, পৃ-১৪৭।
[৪০৪] বদরুল আনোয়ার, পৃ-৫৩।
[৪০৫] প্রাগুক্ত, পৃ-৫৪।
[৪০৬] মাজমুআহ রাসাইল, আহমাদ রেযা, পৃ-১৪৪।
[৪০৭] প্রাগুক্ত, পৃ-৩০৪।

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ২০. নযর মানত করা

📄 ২০. নযর মানত করা


জনাব আহমাদ রেযা সাহেবই হলো এ শিরকী প্রথার আসল কারণ এবং এতে সে সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে, "তাওয়াফকারী নযরানা হিসেবে কিছু দিবে যেন (তা দ্বারা) মুসলিমগণ উপকৃত হতে পারে। এভাবে যে ব্যক্তি যিয়ারত করছে এবং যে তাকে সাহায্য করছে- তারা উভয়েই সওয়াব/পুরস্কার লাভ করে। একজন তাদেরকে তৃপ্তি ও অনুগ্রহ দান করে এবং অপরজন মাল-সামানা দ্বারা উপকার করে। একটি হাদীসে এসেছে: "যে ব্যক্তি সক্ষম হয় সে যেন তার মুসলিম ভাইকে যতবেশী সম্ভব উপকার করে।” তাই তার উপকার করা উচিত (তার মুসলিম ভাইয়ের মানে কবরপূজারী বেরেলভী মাজারের খাদেমদেরকে)। (যুক্তি প্রদানের পদ্ধতি লক্ষ্য করুন!)

টিকাঃ
[৪০৮] বদরুল আনোয়ার ফী মাজমু'আ রাসাইল, পৃ-৫০।

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ২১. নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শিক্ষা

📄 ২১. নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শিক্ষা


হাদীসে আছে: "আল্লাহ তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেন যতক্ষণ সে তার ভাইদেরকে সাহায্য করে।” বিশেষভাবে, যখন 'মুবারক লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত হয়, তখন তাদের সেবা করা অনুগ্রহ ও সুখময়তার সর্বোত্তম গুনের অন্তর্ভুক্ত।”

টিকাঃ
[৪০৮] বদরুল আনোয়ার ফী মাজমু'আ রাসাইল, পৃ-৫০।

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ২২. ফন্দি করা (হীলাতুল ইস্কাত)

📄 ২২. ফন্দি করা (হীলাতুল ইস্কাত)


ধর্মকে একটি লাভজনক ব্যবসা বানিয়ে বেরেলভী পীরেরা বিদআত উদ্ভাবন করেছে যেন তারা দুহাতে জনসাধারণের সম্পদ লুট করতে পারে, যা কুরআন ও সুন্নাহর সম্পূর্ণ বিরোধী এবং কুরআন-সুন্নাহর বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও প্রকাশ্য বিদ্রোহ। বেরেলভীদের বিশ্বাস যে, যদি কোনো ব্যক্তি সারাজীবনও সালাত আদায় না করে, সারাজীবন সিয়াম না রাখে, তথাপিও সে তার মৃত্যুর পর তার সম্পদ থেকে কিছু ব্যয় করে (জাহান্নাম থেকে) নাজাত পেতে পারে। তারা এর নাম দিয়েছে 'হীলাতুল ইস্কাত' বা ফন্দি করা।

এর পদ্ধতি লক্ষ্য করুন, অতঃপর বেরেলভী (মতবাদ ও) চিন্তা ধারার গুণকীর্তন (!) করুন: "যে ব্যক্তি মারা গেছে তার আয়ুষ্কালের ব্যাপারে অনুমান করতে হবে এবং পুরুষের ক্ষেত্রে ১২ বছর এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৯ বছর (নাবালিগ থাকার সর্বনিম্ন মেয়াদ) বাদ দিতে হবে। তারপর বাকি জীবন অনুমান করতে হবে যে, জীবনে কত সংখ্যক ফরয আমল সে পালন করেনি, এমনকি তার কাযাও করেনি। অতঃপর প্রতি ওয়াক্ত (তরককৃত) সালাতের জন্য সাদাকাতুল ফিতরের সমপরিমাণ (অর্থ বা মাল) ফিদইয়া হিসেবে দান করতে হবে। আর সাদাকাতুল ফিতরের পরিমাণ হলো অর্ধ সা' গম বা এক সা' যব। সুতরাং বিতরসহ প্রতিদিনের ছয়টি সালাতের জন্য ফিদইয়া হলো ১২ সের। প্রতি মাসের জন্য ৯ মন এবং প্রতি বছরের জন্য তা হবে একশত আট মণ।" আল্লাহ তা'আলা বলেন,

إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ নَارًا وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيرًا
"নিশ্চয় যারা ইয়াতীমদের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে তারা তো তাদের পেটে আগুন খাচ্ছে; আর অচিরেই তারা প্রজ্জ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে।” (সূরা আন নিসা ৪: ১০) আল্লাহ তা'আলা বলেন,

أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى وَأَن لَّيْسَ لِلْإِنسَانِ إِلَّا مَا سَعَى
“কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।” “আর এই যে, মানুষ যা চেষ্টা করে, তাই সে পায়।” (সূরা আন নাজম ৫৩:৩৮-৩৯)

কিন্তু এ সকল বেরেলভী এসব 'হীলাহ' কোথা থেকে গ্রহণ করেছে কে জানে? এগুলোর উৎস ইসলাম বাদে অন্য কোনো ধর্ম হতে পারে কিন্তু ইসলামী শরীয়াতে এর কোনো ভিত্তি নেই।

তারা বলে যে, কোনো লোক তার প্রিয়জনদের মাগফিরাত (ক্ষমা) লাভের জন্য এত অর্থ-সম্পদ ব্যয় করবে। তারপর এটা কমিয়ে দেয়ার মাধ্যমে তারা অন্য অনেক হীলাহর সমাধান করে যেন লোকেরা এটিকে তাদের সাধ্যাতীত ভেবে ছেড়ে না দেয়।

যেসকল লোকেরা এ ধরনের 'হীলাহ' করার পক্ষপাতি নয়, তারা তাদের সম্পর্কে বলে, "যারা মৃত্যুবরণ করে তাদের জন্য ওয়াহাবী ও অন্যান্যদের কোনো কল্যাণকামীতা নেই, আর ফুকারা ও গুরাবাদের (বেরেলভী মোল্লাদের) প্রতি তাদের কোনো সহানুভূতি নেই। যদি কেউ তার সাধ্য অনুযায়ী ফিদইয়া দেয়, তবে তা কতই না চমৎকার হয়!”

এ সব হীলাহর কারণে সালাত ও সিয়াম পরিত্যাগকারীর সংখ্যা বেড়ে যাবে এবং বেরেলভী মোল্লাদের সিন্দুকসমূহ ভরে ওঠবে, কিন্তু যে সকল মৃতরা আল্লাহর শাস্তির উপযোগী, তারা নাজাত পাবেনা। কারণ এ সকল হীলাহ কুরআনেও উল্লেখ নেই, হাদীসেও নেই। এ দুনিয়াতে যে যা অর্জন করবে, আখিরাতে সে তা-ই পাবে। সে যদি নেককার হয়, তবে তার এসব 'হীলাহর' কোনো প্রয়োজন নেই এবং সে যদি বদকার বা পাপী হয়, তবে সে এ 'হীলাহ থেকে কোনো কিছুই (উপকার) পাবে না।

টিকাঃ
[৪০৯] গায়াতুল ইহতিয়াত ফী যাওয়াইজ হীলাতুল ইস্কাত; বরাতে, বজলুল যাওয়াইজ, পৃ-৩৪; লাহোরে প্রকাশিত।
[৪১০] হীলাতুল ইস্কাত, পৃ-৩৫।

ফন্ট সাইজ
15px
17px