📄 ১৮. নবী রাসূল ও ওলীদের কবর থেকে বরকত হাসিল করা
বেরেলভী আহমাদ রেযা বলে: "আউলিয়াগণের তাবাররুকাত আল্লাহর নিদর্শন সমূহের অন্যতম। সেগুলোকে সম্মান করা ওয়াজিব। "
আবার, "যে ব্যক্তি কল্যাণকর তাবাররুকাত প্রত্যাখ্যান/ অস্বীকার করে তবে সে ব্যক্তি কুরআন ও হাদীস প্রত্যাখ্যানকারী/ অস্বীকারকারী এবং সে গণ্ড-মুর্খ, বোধশক্তি রহিত, পথভ্রষ্ট এবং পাপী। "
এবং "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সম্মান করারই একটি অংশ হলো সেসকল বস্তুর মর্যাদা/সম্মান করা যা তাঁর বলে জানা যায়। "
সুতরাং যেকোনো বস্তুকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর প্রতি সম্বন্ধিত করা যেতে পারে এবং তখন এর যিয়ারত এবং (এর নামে) দান-সদকা ভিক্ষা ও নযর-নিয়ায সংগ্রহ করা যেতে পারে। সে তাবাররুকের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি-না তা যাচাই করার কোনো প্রয়োজন নেই! জনাব বেরেলভী ব্যাখ্যা করেছেন: "এর জন্য সনদের কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু যদি কোনো জিনিস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বলে বরণ করা হয়, তবে তার অতি ভক্তি করা দীনের নিদর্শনের অন্যতম।"
সম্মান ও তাজিম প্রদর্শনের পদ্ধতি কী হবে? জনাব আহমাদ রেযা বলে: "হাত দ্বারা (এর উপর) মোছা এবং দরজা, দেয়াল এবং 'তাবাররুকাত' চুম্বন করা, এমনকি যদিও এ সকল কাঠামোসমূহ সেই মুবারক সময়ে বর্তমান ছিল না, (তবুও) ........ এবং এর প্রমাণ? একজন মাজনুন (পাগল) ........ কোনো এক ব্যক্তির কী চমৎকার উক্তি
(কবিতা)
'আমি লায়লার শহরের চারপাশে ঘুরে বেড়াই এবং কখনো এ দেয়ালে চুমা খাই, কখনো সে দেয়ালে চুমা খাই।'
আর তা শহরের প্রতি প্রেমের জন্য নয়, বরং তা শহরের অধিবাসী (প্রেমিকা)-এর জন্য। "
এছাড়া, (তাদের মতে) "সৎকর্মশীল বান্দাদের কবর যিয়ারতের সময় (মাজারের) দরজার চৌকাঠে চুম্বন করাও জায়েয।”
টিকাঃ
[৩৯৩] মুকাদ্দিমা রিসালাহ বদরুল আনোয়ার ফী মাজমু'আ রাসাইল, আলা হযরত, ২য় খণ্ড, পৃ-৫১৭।
[৩৯৪] বদরুল আনোয়ার, আহমাদ রেযা, পৃ-৪৩।
[৩৯৫] প্রাগুক্ত, পৃ-২১।
[৩৯৬] প্রাগুক্ত, ৪র্থ অধ্যায়, পৃ-৪৩।
[৩৯৭] রিসাল ইবরুল মাকান ফী মাজমু'আ রাসাইল, ২য় খণ্ড, পৃ-১৪১।
[৩৯৮] প্রাগুক্ত, পৃ-১৫৯।
📄 ১৯. ছবি ও মূর্তির মাধ্যমে বরকত হাসিল করা
বেরেলভীদের নিকট মদীনায় (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কবরে) ও নেককার লোকদের কবরে চুম্বন করা ছাড়াও কবরের চিত্র এবং গম্বুজের চিত্রে চুমু খাওয়াও জরুরী। বেরেলভী সাহেব বলে: "দীনের আলিমগণ কাগজের উপর সাইয়্যেদুল বাশার (অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর পবিত্র পদযুগল এর চিত্র অংকন করা, সেগুলো চুম্বন করা, সেগুলো চোখে বুলানো এবং সেগুলো মাথায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।”
এবং "দীনের আলিমগণ এসকল ছবির মাধ্যমে রোগমুক্তি ও প্রয়োজন পূরণের জন্য ওয়াসীলা (মধ্যস্থতা) কামনা করেন।”
বেরেলভী আহমাদ রেযা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পা-এর কাল্পনিক ছবির ফায়দা ব্যাখ্যা করেছে এবং লিখেছে: “যে ব্যক্তির নিকট এ মুবারক চিত্র রয়েছে সে জালিম ও হিংসুক হতে নিরাপদে থাকবে, প্রসব বেদনায় নারীর ডানহাতে এটি রাখবে, তাহলে সহজে প্রসবের কাজ সম্পন্ন হবে এবং তার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কবরের যিয়ারত নসীব হতে পারে। যে সকল সেনাদল এটি রাখবে, তারা পলায়ন করবে না; যে কাফেলা এটি সাথে রাখবে, তাতে লুটতরাজ হবে না; যে জাহাজ এটি সাথে রাখবে, তা ডুববে না; এটি যে সম্পদের সাথে রাখা হবে, তা চুরি হবে না। যেকোনো প্রয়োজনে এর মাধ্যমে ওসীলা (দিয়ে দুআর করার) কামনা করা হলে তা দেয়া হবে এবং যেকোনো আশায় এটিকে সাথে রাখা হলে তা পূরণ হবে। "
এ কুসংস্কার ও জাহিলিয়্যাতের কুসংস্কারের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ধরনের সকল প্রকার কুসংস্কারের অবসান ঘটিয়েছেন, আর এসকল লোকেরা সেগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করছে। খাঁন সাহেব বর্ণনা করেছে: "যদি সম্ভব হয়, তবে সেই ময়লা চুম্বন করবে যা মুবারক পায়ের প্রভাবে আর্দ্র হয়ে গিয়েছে, অথবা এর (অংকিত) চিত্র কে চুম্বন করবে। "
আবার "এ চিত্র অংকনের ফায়দার মধ্যে অন্যতম হলো যদি কোনো ব্যক্তির (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর) প্রকৃত কবর যিয়ারত করার সৌভাগ্য না হয়, তবে সে এটি চুম্বন করতে পারবে এবং এটি সাদৃশ্যের দিক দিয়ে প্রকৃত যিয়ারতের সমান হবে। "
এবং “নূর জগতসমূহের মালিক হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - এর মুবারক কবরের চিত্র অংকন দীনী বিষয়কে সম্মান প্রদর্শন করার অন্তর্ভুক্ত। শরীয়াতের দৃষ্টিতে এর সম্মান করা ও ভক্তি করা সহীহ ঈমানের ঈমানী দাবিসমূহের অন্যতম। "
সে চিত্রসমূহের যিয়ারতের আদব সম্পর্কে লিখেছে: “সেগুলো যিয়ারত করার সময় সে (যিয়ারতকারী) মনে মনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর ছবি কল্পনা করবে (তাসাওরে রাসূল) এবং দরূদ পড়া বাড়িয়ে দিবে।"
অন্যত্র সে লিখেছে: “যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পায়ের (নালাইন শরীফ বা জুতার) চিত্রের উপর (হাত বুলিয়ে) মুছে দেয়, বিচার দিবসে তার জন্য অতিরিক্ত সওয়াব রয়েছে এবং প্রকৃতই সে এ জগতে পরম সুখ, গৌরব, সম্মান ও আনন্দ লাভ করবে। বিচার দিবসের সফলতা লাভের উদ্দেশ্য নিয়ে এটা চুম্বন করবে। যে এর সাথে তার চেহারা (মুখমণ্ডল) ঘষাঘষি করবে, সে অনেক অভূতপূর্ব অনুগ্রহ লাভ করবে।”
এখন আপনি চিন্তা করুন, বেরেলভীদের এ সকল কর্ম ও মূর্তিপূজারীদের কর্মে মাঝে আর কী পার্থক্য অবশিষ্ট রইল?
তারা তাদের নিজেদের হাত দিয়ে চিত্র অংকন করে এবং তারপর তাদের মনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চেহারার ধ্যান করে (তাসাওরে রাসূল) এবং অতঃপর এতে চুম্বন করে, তাদের চোখের উপর রাখে এবং তাদের চেহারায় মোছে এবং সওয়াব ও অনুগ্রহ প্রত্যাশা করে।
একদিকে তাদের অংকিত ও খোদাই করা চিত্রের প্রতি এমন ভক্তি ও সম্মান রয়েছে, আবার অন্যদিকে তারা আল্লাহর সম্মান ও মর্যাদার প্রতি অত্যন্ত উদ্ধত ও অশিষ্ট এবং তারা বলে: “খোদাইকৃত মুবারক জুতার চিত্রের উপর 'বিসমিল্লাহ' লেখায় কোনো অসুবিধা নেই।”
টিকাঃ
[৩৯৯] আবরুল মাকাম ফী কিবলাতুল জালাল, বেরেলভী, পৃ-১৪৩।
[৪০০] বদরুল আনোয়ার ফী আদবুল আসার, পৃ-৩৯।
[৪০১] প্রাগুক্ত, পৃ-৪০।
[৪০২] আবরুল মাকান, বেরেলভী, পৃ-১৪৭।
[৪০৩] প্রাগুক্ত, পৃ-১৪৭।
[৪০৪] বদরুল আনোয়ার, পৃ-৫৩।
[৪০৫] প্রাগুক্ত, পৃ-৫৪।
[৪০৬] মাজমুআহ রাসাইল, আহমাদ রেযা, পৃ-১৪৪।
[৪০৭] প্রাগুক্ত, পৃ-৩০৪।
📄 ২০. নযর মানত করা
জনাব আহমাদ রেযা সাহেবই হলো এ শিরকী প্রথার আসল কারণ এবং এতে সে সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে, "তাওয়াফকারী নযরানা হিসেবে কিছু দিবে যেন (তা দ্বারা) মুসলিমগণ উপকৃত হতে পারে। এভাবে যে ব্যক্তি যিয়ারত করছে এবং যে তাকে সাহায্য করছে- তারা উভয়েই সওয়াব/পুরস্কার লাভ করে। একজন তাদেরকে তৃপ্তি ও অনুগ্রহ দান করে এবং অপরজন মাল-সামানা দ্বারা উপকার করে। একটি হাদীসে এসেছে: "যে ব্যক্তি সক্ষম হয় সে যেন তার মুসলিম ভাইকে যতবেশী সম্ভব উপকার করে।” তাই তার উপকার করা উচিত (তার মুসলিম ভাইয়ের মানে কবরপূজারী বেরেলভী মাজারের খাদেমদেরকে)। (যুক্তি প্রদানের পদ্ধতি লক্ষ্য করুন!)
টিকাঃ
[৪০৮] বদরুল আনোয়ার ফী মাজমু'আ রাসাইল, পৃ-৫০।
📄 ২১. নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শিক্ষা
হাদীসে আছে: "আল্লাহ তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেন যতক্ষণ সে তার ভাইদেরকে সাহায্য করে।” বিশেষভাবে, যখন 'মুবারক লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত হয়, তখন তাদের সেবা করা অনুগ্রহ ও সুখময়তার সর্বোত্তম গুনের অন্তর্ভুক্ত।”
টিকাঃ
[৪০৮] বদরুল আনোয়ার ফী মাজমু'আ রাসাইল, পৃ-৫০।