📄 ১০. ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা
ঈদে মিলাদুন্নবী, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মদিবস উদযাপন একটি অনৈসলামী উৎসব। প্রথম (তিনটি উত্তম যুগে) প্রজন্মে এ ধরনের উদযাপনের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। দীদার আলী নিজেও স্বীকার করেছে যে, ঈদে মিলাদুন্নবী সালফে সালেহীনের সময় ছিল না বরং পরবর্তী সময়ে এটি (নতুনভাবে) উদ্ভাবন করা হয়েছিল।
এমনকি তা স্বীকার করার পরও তাদের আকীদা হলো: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্ম দিবস উদযাপন এবং (এর জন্য) সমাবেশ কায়েম করা, এ দিনে আতর ও তেল মাখা, গোলাপজল ছিটানো, শিরনী (মিষ্টি) বিতরণ করা, এদিনে যেকোনো জায়েয উপায়ে খুশী-আনন্দ প্রকাশ করা মুস্তাহাব এবং এর মধ্যে প্রভুত কল্যাণ রয়েছে। এমনকি আজও খৃষ্টানরা রবিবার দিন উদযাপন করে কারণ এ দিনে খাদ্য নাযিল হয়েছিল এবং সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আগমন আরও বড় নিয়ামত; তাই তাঁর জন্মদিবস হলো ঈদের দিন।”
আবার, "মিলাদ উৎযাপন কুরআন, হাদীস এবং নবীগণ হতে প্রমাণিত। "
অনুরূপ, "মিলাদ উৎযাপন ফেরেশতাগণের সুন্নাত এবং এ থেকে শয়তানরাই পালিয়ে যায়। "
দীদার আলী লিখেছে: "মিলাদ উদযাপন সুন্নাত ও ওয়াজিব।”
আবার, “এটি কি কুরআন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত যে, যখন জন্মবৃত্তান্ত উল্লেখ করা হয়, তখন দাঁড়ানো উচিত!”
টিকাঃ
[৩৬৪] রাসূলুল কালাম ফী বায়ানিল মাওলিদ ওয়াল কিয়াম, দীদার আলী, পৃ-১৫।
[৩৬৫] জা আল-হাক্ব, ১ম খণ্ড, পৃ-২৩১।
[৩৬৬] প্রাগুক্ত, পৃ-২৩১।
[৩৬৭] প্রাগুক্ত, পৃ-২৩১।
[৩৬৮] রাসূলুল কালাম ফী বায়ানিল মাওলিদ ওয়াল কিয়াম, দীদার আলী, পৃ-৫৮।
[৩৬৯] প্রাগুক্ত, পৃ-৬০।
📄 ১১. প্রতারণার মাধ্যমে খাওয়া ও পান করা
একে বাতিল সুফী বেরেলভী তরীকা ইসলাম ধর্মের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে যা শরীয়াত সম্মত নয়, যাতে তারা এমন একটি উপলক্ষ পেতে পারে যেখানে তারা নিজেদের খানা-পিনার সাধ মেটাতে পারে। এ উদ্দেশ্যে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম ব্যবহার করে এতদূর পর্যন্ত পৌঁছেছে যাতে তারা তাদের মুখ ও পেটকে পানাহারে ডুবিয়ে রাখতে পারে।
📄 ১২. ইসলামের শিক্ষা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদআত করতে নিষেধ করেছেন:
مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدُّ
"যে আমাদের এ (দীনী) কাজের মধ্যে এমন কিছু নতুন উদ্ভাবন করল যা এর মধ্যে নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যাত।” (বুখারী, আস সহীহ, কিতাবুস সুলহ্, হা/২৬৯৭; মুসলিম, আস সহীহ, কিতাবুল আকযিয়া, হা/১৭১৮)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
إِنَّ أَصْدَقَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللهِ، وَأَحْسَنَ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ، وَشَرُّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا، وَكُلُّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ، وَكُلُّ ضَلَالَةٍ فِي النَّارِ
"সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম আদর্শ মুহম্মদের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদর্শ, (দীনে) সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো নতুন উদ্ভাবিত বিষয়, প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত। আর প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা এবং সকল পথভ্রষ্টতাই জাহান্নামে যাবে।” (সহীহ: সুনানে নাসাঈ, হা/১৫৭৮; সহীহ মুসলিম, কিতাবুল জুমু'আ, হা/১৪৩৫।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জীবদ্দশায় কখনো কারো জন্মদিবস পালন করেননি, আর না কারো মৃত্যুর পরে কুরআন পাঠের মত কোনো অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন। তাঁর পূত্রগণ, কন্যাগণ, তাঁর নেককার স্ত্রী খাদিজা (রাঃ), তাঁর চাচা হামযাহ্ (রাঃ)- সবাই তাঁর জীবদ্দশায় মৃত্যুবরণ করেছেন, তথাপিও তিনি এমন কোনো আচার-অনুষ্ঠান পালন করেননি যে সকল আচার অনুষ্ঠান (এ সকল বেরেলভী ও দেওবন্দী সুফীদের মাঝে) পরিলক্ষিত হয়। এসকল আচার-অনুষ্ঠান উদ্যাপনের মাঝে যদি কোনো কল্যাণ থাকতো, অথবা এর মধ্যে কোনো সওয়াব অর্জন (এর ব্যাপার) থাকতো, তবে নিশ্চয়ই তিনি তা করতেন এবং সেগুলো করার জন্য তাঁর সাহাবীগণকে নির্দেশ দিতেন। উরসে যাওয়ায় যদি কোনো কল্যাণ থাকতো তবে হেদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীন তা করার ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে আমাদের ছাড়িয়ে যেতেন। তাঁদের চেয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বেশি ভালবাসার দাবি করতে পারে, এমন কে আছে? তথাপিও তাঁদের থেকে এ ধরনের আমলের কোনো প্রমাণ আমরা পাই না। এখন এটি জানা কথা যে, এসব আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব-উদ্যাপন নিছক দুনিয়াবী স্বার্থ/ লাভের জন্য করা হয় এবং কল্যাণ লাভ ও সওয়াবের কথা একটি প্রতারণা/ছুতো মাত্র।
শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলবী বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধুমাত্র কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করতে নিষেধ করেছেন এবং কবরের নিকট সংঘটিত বিদআতসমূহ মন্দ প্রকৃতির। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে দুআ করেছেন যে, তাঁর কবর যেন ঈদ (উৎসবের)-এর স্থল না হয়'।
বিখ্যাত হানাফী মুফাস্সির কাজী সানাউল্লাহ পানিপথী বলেন: "আজকাল কিছু জাহিল লোকেরা কবরকে কেন্দ্র করে কিছু অবৈধ বিদআতী কর্মকাণ্ড চালু করেছে, এর পক্ষে তাদের নিকট কোনো দলীল নেই। উরস ও এসকল স্থানগুলোতে বাতি জ্বালানো- এসবই বিদআত।”
টিকাঃ
[৩৭১] হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ, ২য় খণ্ড, পৃ-৭৭।
[৩৭২] তাফসীরে মাযহারী, ২য় খণ্ড, পৃ-৬৫।
📄 ১৩. কবরের চারপাশে তাওয়াফ করা ও হানাফী মাযহাবের শিক্ষা
ইবনু নুজাইম আল হানাফী কবরের চারপাশে তাওয়াফ করা সম্পর্কে বলেন, “কা'বা ব্যতীত অন্য যেকোনো কিছুর চারপাশে তাওয়াফ করা কুফরী। "
মোল্লা আলী কারী হানাফী বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কবর তাওয়াফ করা জায়েয নয়, কারণ এটি আল্লাহর ঘর (বায়তুল্লাহ)-এর অবমাননা এবং মর্যাদাহানী। ইদানিং কিছু জাহিল লোকেরা নিজে আলিম সেজেছে এবং এ সকল জাহিলী কর্মকাণ্ডকে চালু করেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কোনো অবকাশ নেই এবং এ সকল কর্মকাণ্ডের ভিত্তি জাহিলিয়াত (মুর্খতা) ছাড়া আর কিছুই নয়।”
টিকাঃ
[৩৭৩] আল বাহরুর রায়িক।
[৩৭৪] শারহুল মানাসিক।