📄 ৬. হানাফী ফিকহের শিক্ষা
৬. হানাফী ফিকহের শিক্ষা: মোল্লা আলী কারী হানাফী লিখেছেন: "কবরের উপর বাতি জ্বালানোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে কারণ তা সম্পদের অপচয় এবং কারণ এতে জাহান্নামের আগুনের নিদর্শন (চিহ্ন) রয়েছে এবং এতে রয়েছে কবরকে সম্মান প্রদর্শন।"
কাজী ইবরাহীম কবর পূজারীদের ভিত্তি উল্লেখ করে বলেন: "আজকাল কিছু পথভ্রষ্ট লোকেরা (বেরেলভী ও তার অনুসারী অন্যান্য সুফীরা) কবরে হাজ্জ সম্পাদন করতে শুরু করেছে এবং এর জন্য বিধি-বিধান প্রনয়ণ করেছে। সেই সকল বিষয় যা দীন ও শরীয়াতের বিরুদ্ধে যায়, এদের মধ্যে রয়েছে যেমন- লোকেরা তাদের অসহায়ত্ব ও দীনতা কবরের নিকট প্রকাশ করে এবং তার উপর বাতি জ্বালায়, কবরে চাদর চড়ায়, প্রহরী নিয়োগ করে, সেগুলো চুম্বন করে এবং তাদের নিকট জীবিকা ও সন্তান চায়... এসকল বিষয়ের কোনোটিই আলিমগণের ইজমা অনুসারে জায়েয নয়।"
আহমাদ ইয়ার নিজেও “ফতোয়া আলমগীরী” হতে উদ্ধৃত করেছে: "কবরের উপর বাতি জ্বালানো একটি বিদআত। এটি ভিত্তিহীন।”
অনুরূপভাবে "ফতোয়া বায্যাযিয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে: “কবরস্থানে বাতি নিয়ে যাওয়া বিদআত। এর কোনো ভিত্তি নেই। "
ইবনু আবিদীন শামী বলেন, "কবরে তেল বা বাতি দেওয়ার নযর মানত করা বাতিল। "
আল্লামা হাসকাফী আল হানাফী বলেন: "নযর নিয়ায এবং মানত হিসেবে কবরসমূহের নিকট সাধারণ লোকেরা যা নিয়ে যায় তা নগদ অর্থ হোক কিংবা তেল হোক, এর উপর ফতোয়া হলো, তা বাতিল এবং নিষিদ্ধ। "
ফতোয়া আলমগীরী' তে উল্লেখ করা হয়েছে: "কবরকে আলোকিত করা হলো জাহেলী প্রথার অন্তর্ভুক্ত। "
আল্লামা আলুসী আল-হানাফী বলেন: “কবরসমূহ হতে বাতি এবং মোমবাতি অপসারণ করা ওয়াজিব। এ ধরনের কোনো নযর মানত জায়েয নয়। "
অনুরূপভাবে, “চাদর বা অনুরূপ কিছু দিয়ে কবর ঢেকে দেয়া সঠিক নয়। "
আবার, “এসবই বাতিল। এ থেকে দূরে থাকা উচিত।”
আরো শুনুন, "বাতি জ্বালানো এবং চাদর চড়ানো হারাম।”
আলী (রাঃ) সম্পর্কে হানাফী আলিমগণ বলেন: “যখনই তিনি কোনো কবর অতিক্রম করতেন যা চাদর বা অনুরূপ কোনোকিছু দ্বারা আবৃত/ ঢাকা থাকতো, তিনি তা থেকে নিষেধ করতেন।”
টিকাঃ
[৩৩৯] মিরকাত, মোল্লা আলী কারী, ১ম খণ্ড, পৃ-৪৭০।
[৩৪০] মাজালিসুল আবরার, কাজী ইবরাহীম, পৃ-১১৮।
[৩৪১] জা আল-হাক্ক, পৃ-৩০২।
[৩৪২] রদ্দুল মুহতার, ইবনু আবিদীন শামী, ২য় খণ্ড, পৃ-১৩৯।
[৩৪৩] দুররে মুখতার, হাসকাফী, ২য় খণ্ড, পৃ-১৩৯
[৩৪৪] ফতোয়া আলমগীরী, ১ম খণ্ড, পৃ-১৭৮।
[৩৪৫] রূহুল মা'আনী, ১৫ খণ্ড, পৃ-২১৯।
[৩৪৬] ফতোয়া মাতালিব আল মু'মিনীন।
[৩৪৭] ফতোয়া আজিজিয়্যাহ, পৃ-৯।
[৩৪৮] ফতোয়া শাহ রফীউদ্দীন, পৃ-১৪।
[৩৪৯] মাতালিব আল মু'মিনীন।
📄 ৭. প্রথম যুগ
৭. প্রথম যুগ: ইসলামী শরীয়াতে এ সকল বিদআতের কোনো ভিত্তি নাই, আর তা প্রথম তিন প্রজন্ম হতে প্রমাণিতও নয়। সেগুলোতে যদি কোনো দীনি ফায়দা থাকতো তবে, আমরা সাহাবীগণকে ও তাবিঈগণকে এর উপর আমল করতে দেখতে পেতাম। বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুআ করেছেন, “হে আল্লাহ! আমার কবরকে ঈদ (সমাবেশস্থল) বানিও না যার ইবাদত করা হয়।” [(মিশকাতুল মাসাবীহ, বাবুল মাসাজিদ; মুয়াত্তা মালিক ১/১৭২; মুসনাদে আহমাদ ২/২৪৬; আলবানী সহীহ বলেছেন।)]
📄 ৮. উৎসব ও উরস উদ্যাপন করা
৮. উৎসব ও উরস উদ্যাপন করা: বেরেলভীগণ বহু বিদআতী প্রথা চালু করেছে। যেমন- উরস, মিলাদ উৎসব, ফাতিহা মানত, একাদশী এবং চল্লিশা ইত্যাদি যাতে তাদের খাদ্য সরবরাহের বিরামহীন ব্যবস্থা তারা করতে পারে। তাই তারা লিখেছে: "আউলিয়াগণ আল্লাহর রহমতের দুয়ার। দুয়ার হতেই রহমত পাওয়া যায়। কুরআনে বলা হয়েছে: "যখন যাকারিয়া তাঁর রবের নিকট প্রার্থনা করছিলেন।" সুতরাং (এ থেকে) জানা যায় যে, যাকারিয়া মারইয়ামের সামনে একজন সন্তানের জন্য দুআ করেছিল। অর্থাৎ জানা যায় যে, কোনো ওলীর সম্মুখে দুআ করা জায়েয।
আবার, "কবরে/মাজারে উরস পালন আউলিয়াগণের খিদমতের অন্যতম উপায় এবং এটি আল্লাহর নিদর্শনকে সম্মান করা এবং এতে বহুত ফায়দা রয়েছে। "
টিকাঃ
[৩৫০] দেখুন কিভাবে তারা কুরআনের আয়াতের অর্থ বিকৃত করেছে এবং নবুয়াতের মর্যাদার সাথে বিদ্রূপ করছে। এখানে যা ইঙ্গিত করা হয়েছে তা হলো, নবুয়াত এর চেয়ে বেলায়েত শ্রেষ্ঠ। আর এ আকীদা হলো পথভ্রষ্ট সুফী ইবনু আরাবীর আকীদা।
[৩৫১] মাওয়ায়িজ নাঈমিয়া, গুজরাটী, ১ম খণ্ড, পৃ- ২২৪।
[৩৫২] বাহারে শরীয়াত, আমজাদ আলী, ১ম খণ্ড, পৃ-৫৪।
📄 ৯. কুরআন ও ফাতিহা পাঠ করা এবং বাৎসরিক উৎসব পালন
৯. কুরআন ও ফাতিহা পাঠ করা এবং বাৎসরিক উৎসব পালন: আহমাদ রেযা সাহেবের আরেক ভক্ত লিখেছে: "ওলীদের কবরে উরস পালন এবং ফাতিহা পাঠ উপকার লাভের উপায়। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর ওলীগণ তাদের কবরে জীবিত এবং তাদের মৃত্যুর পর তাদের শক্তি আরও বেড়ে যায়। "
নাঈমুদ্দীন মুরাদাবাদী লিখেছে: "উরস উদযাপন করা, এ উৎসবে আলোকসজ্জা করা, খাবার আয়োজন করা শরীয়াত থেকে প্রমাণিত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একটি সুন্নাত। "
আবার, "ওলীদের কবরে সালাত আদায় এবং তাদের রূহের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা ফয়েয-বরকত লাভের উপায়। "
“কবরকে চুমা দেওয়া শিরক'- ওয়াহাবীদের এ কথা তাদের বাড়াবাড়ির অন্যতম। "
আবার, "গাইরুল্লাহর নামে মানত/শপথ করার কারণে কেউ মুশরিক হয় না। "
বেরেলভী শরীয়াতে এমনকি কবরের চারপাশে তাওয়াফ করাও জায়েয। "যদি কেউ অনুগ্রহ প্রার্থনার জন্য কবরের চারপাশে তাওয়াফ করে তবে এতে কোনো সমস্যা নেই। "
এবং এর কারণ: “ওলীদের কবরসমূহ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম এবং তাদের সম্মান করার নির্দেশ রয়েছে। "
আবার, (কবরের চারপাশে) তাওয়াফ করাকে (না-জায়েয) ঘোষণা করা নিছক ওয়াহাবীদের আন্দাজ-অনুমান, বাড়াবাড়ি এবং মিথ্যাচার।”
উরসের নামকরণ: "উরসকে উরস বলা হয় কারণ, এটা 'উরস' কে দেখার দিন; অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বর হিসেবে দেখার দিন। "
আহমদ ইয়ার গুজরাটীর ফতোয়া: "কেবল এমন লোকের পিছনেই সালাত বৈধ, যে উরস'-এ অংশ গ্রহণ করে এবং যে এর বিরোধিতা করে, তার পিছনে সালাত আদায় বৈধ নয়। "
টিকাঃ
[৩৫৩] এটি বেরেলভী শরীয়াতে প্রমাণিত হতে পারে, ইসলামী শরীয়াতে নয়।
[৩৫৪] রিসালাহ আল মু'জিযাহ আল আজমী আল মুহাম্মদীয়া ফী ফতোয়া সদরুল ফাযিল, নাঈমুদ্দীন মুরাদাবাদী, পৃ-১৬০।
[৩৫৫] রিসালাহ হাজিয আল বাহরাইন ফী ফতোয়া রিযভিয়্যাহ, বেরেলভী, ২য় খণ্ড, পৃ-৩৩৩।
[৩৫৬] ফতোয়া রিজভীয়্যাহ, ১০ খণ্ড, পৃ-৬৬।
[৩৫৭] প্রাগুক্ত, পৃ-২১০।
[৩৫৮] বাহারে শরীয়াত, আমজাদ আলী রিজভী, ৪র্থ খণ্ড, পৃ-১৩৩।
[৩৫৯] ইলমুল কুরআন, আহমদ ইয়ার, পৃ-৩৬।
[৩৬০] হিকায়াত রিজভীয়্যাহ, পৃ-৪৬।
[৩৬১] উরস: শাব্দিক অর্থ 'কনে' বা 'নববধূ'; বিশেষণ বিয়ে সম্বন্ধীয়, কনে সম্পর্কিত।
[৩৬২] জা আল-হাক্ব, পৃ-১৪৬।