📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ৫. কবরে মোমবাতি ও আগরবাতি জ্বালানো

📄 ৫. কবরে মোমবাতি ও আগরবাতি জ্বালানো


৫. কবরে মোমবাতি ও আগরবাতি জ্বালানো: অপর বেরেলভী আলিম লিখেছে: "যদি কোথাও একজন ওলীর কবর থাকে, তবে তার রূহের সম্মানের জন্য এবং এ কবর যে একজন ওলীর তা ঘোষণা করার জন্য এর নিকট বাতি জ্বালানো জায়েয যাতে লোকেরা এর ফায়েয থেকে উপকৃত হতে পারে।”

এ হলো বেরেলভী আকাবীরগণের ফতোয়া। কিন্তু হাদীসে এর পরিষ্কার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লানত করেছেন সেই সকল নারীদেরকে যারা কবর যিয়ারত করে এবং সেই সকল লোকদেরকে যারা কবরসমূহের উপর (গম্বুজ) নির্মাণ করে এবং তাদেরকে যারা কবরের উপর বাতি/মোমবাতি জ্বালায়।” [যঈফ: আবু দাউদ, হা/৩২৩৬; নাসাঈ, হা/২০৪৩; তিরমিযী, হা/৩২০।]

টিকাঃ
[৩৩৮] জা আল-হাক্ব, আহমদ ইয়ার গুজরাটী, পৃ-৩০০।

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ৬. হানাফী ফিকহের শিক্ষা

📄 ৬. হানাফী ফিকহের শিক্ষা


৬. হানাফী ফিকহের শিক্ষা: মোল্লা আলী কারী হানাফী লিখেছেন: "কবরের উপর বাতি জ্বালানোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে কারণ তা সম্পদের অপচয় এবং কারণ এতে জাহান্নামের আগুনের নিদর্শন (চিহ্ন) রয়েছে এবং এতে রয়েছে কবরকে সম্মান প্রদর্শন।"

কাজী ইবরাহীম কবর পূজারীদের ভিত্তি উল্লেখ করে বলেন: "আজকাল কিছু পথভ্রষ্ট লোকেরা (বেরেলভী ও তার অনুসারী অন্যান্য সুফীরা) কবরে হাজ্জ সম্পাদন করতে শুরু করেছে এবং এর জন্য বিধি-বিধান প্রনয়ণ করেছে। সেই সকল বিষয় যা দীন ও শরীয়াতের বিরুদ্ধে যায়, এদের মধ্যে রয়েছে যেমন- লোকেরা তাদের অসহায়ত্ব ও দীনতা কবরের নিকট প্রকাশ করে এবং তার উপর বাতি জ্বালায়, কবরে চাদর চড়ায়, প্রহরী নিয়োগ করে, সেগুলো চুম্বন করে এবং তাদের নিকট জীবিকা ও সন্তান চায়... এসকল বিষয়ের কোনোটিই আলিমগণের ইজমা অনুসারে জায়েয নয়।"

আহমাদ ইয়ার নিজেও “ফতোয়া আলমগীরী” হতে উদ্ধৃত করেছে: "কবরের উপর বাতি জ্বালানো একটি বিদআত। এটি ভিত্তিহীন।”

অনুরূপভাবে "ফতোয়া বায্যাযিয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে: “কবরস্থানে বাতি নিয়ে যাওয়া বিদআত। এর কোনো ভিত্তি নেই। "

ইবনু আবিদীন শামী বলেন, "কবরে তেল বা বাতি দেওয়ার নযর মানত করা বাতিল। "

আল্লামা হাসকাফী আল হানাফী বলেন: "নযর নিয়ায এবং মানত হিসেবে কবরসমূহের নিকট সাধারণ লোকেরা যা নিয়ে যায় তা নগদ অর্থ হোক কিংবা তেল হোক, এর উপর ফতোয়া হলো, তা বাতিল এবং নিষিদ্ধ। "

ফতোয়া আলমগীরী' তে উল্লেখ করা হয়েছে: "কবরকে আলোকিত করা হলো জাহেলী প্রথার অন্তর্ভুক্ত। "

আল্লামা আলুসী আল-হানাফী বলেন: “কবরসমূহ হতে বাতি এবং মোমবাতি অপসারণ করা ওয়াজিব। এ ধরনের কোনো নযর মানত জায়েয নয়। "

অনুরূপভাবে, “চাদর বা অনুরূপ কিছু দিয়ে কবর ঢেকে দেয়া সঠিক নয়। "

আবার, “এসবই বাতিল। এ থেকে দূরে থাকা উচিত।”

আরো শুনুন, "বাতি জ্বালানো এবং চাদর চড়ানো হারাম।”

আলী (রাঃ) সম্পর্কে হানাফী আলিমগণ বলেন: “যখনই তিনি কোনো কবর অতিক্রম করতেন যা চাদর বা অনুরূপ কোনোকিছু দ্বারা আবৃত/ ঢাকা থাকতো, তিনি তা থেকে নিষেধ করতেন।”

টিকাঃ
[৩৩৯] মিরকাত, মোল্লা আলী কারী, ১ম খণ্ড, পৃ-৪৭০।
[৩৪০] মাজালিসুল আবরার, কাজী ইবরাহীম, পৃ-১১৮।
[৩৪১] জা আল-হাক্ক, পৃ-৩০২।
[৩৪২] রদ্দুল মুহতার, ইবনু আবিদীন শামী, ২য় খণ্ড, পৃ-১৩৯।
[৩৪৩] দুররে মুখতার, হাসকাফী, ২য় খণ্ড, পৃ-১৩৯
[৩৪৪] ফতোয়া আলমগীরী, ১ম খণ্ড, পৃ-১৭৮।
[৩৪৫] রূহুল মা'আনী, ১৫ খণ্ড, পৃ-২১৯।
[৩৪৬] ফতোয়া মাতালিব আল মু'মিনীন।
[৩৪৭] ফতোয়া আজিজিয়্যাহ, পৃ-৯।
[৩৪৮] ফতোয়া শাহ রফীউদ্দীন, পৃ-১৪।
[৩৪৯] মাতালিব আল মু'মিনীন।

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ৭. প্রথম যুগ

📄 ৭. প্রথম যুগ


৭. প্রথম যুগ: ইসলামী শরীয়াতে এ সকল বিদআতের কোনো ভিত্তি নাই, আর তা প্রথম তিন প্রজন্ম হতে প্রমাণিতও নয়। সেগুলোতে যদি কোনো দীনি ফায়দা থাকতো তবে, আমরা সাহাবীগণকে ও তাবিঈগণকে এর উপর আমল করতে দেখতে পেতাম। বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুআ করেছেন, “হে আল্লাহ! আমার কবরকে ঈদ (সমাবেশস্থল) বানিও না যার ইবাদত করা হয়।” [(মিশকাতুল মাসাবীহ, বাবুল মাসাজিদ; মুয়াত্তা মালিক ১/১৭২; মুসনাদে আহমাদ ২/২৪৬; আলবানী সহীহ বলেছেন।)]

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ৮. উৎসব ও উরস উদ্‌যাপন করা

📄 ৮. উৎসব ও উরস উদ্‌যাপন করা


৮. উৎসব ও উরস উদ্‌যাপন করা: বেরেলভীগণ বহু বিদআতী প্রথা চালু করেছে। যেমন- উরস, মিলাদ উৎসব, ফাতিহা মানত, একাদশী এবং চল্লিশা ইত্যাদি যাতে তাদের খাদ্য সরবরাহের বিরামহীন ব্যবস্থা তারা করতে পারে। তাই তারা লিখেছে: "আউলিয়াগণ আল্লাহর রহমতের দুয়ার। দুয়ার হতেই রহমত পাওয়া যায়। কুরআনে বলা হয়েছে: "যখন যাকারিয়া তাঁর রবের নিকট প্রার্থনা করছিলেন।" সুতরাং (এ থেকে) জানা যায় যে, যাকারিয়া মারইয়ামের সামনে একজন সন্তানের জন্য দুআ করেছিল। অর্থাৎ জানা যায় যে, কোনো ওলীর সম্মুখে দুআ করা জায়েয।

আবার, "কবরে/মাজারে উরস পালন আউলিয়াগণের খিদমতের অন্যতম উপায় এবং এটি আল্লাহর নিদর্শনকে সম্মান করা এবং এতে বহুত ফায়দা রয়েছে। "

টিকাঃ
[৩৫০] দেখুন কিভাবে তারা কুরআনের আয়াতের অর্থ বিকৃত করেছে এবং নবুয়াতের মর্যাদার সাথে বিদ্রূপ করছে। এখানে যা ইঙ্গিত করা হয়েছে তা হলো, নবুয়াত এর চেয়ে বেলায়েত শ্রেষ্ঠ। আর এ আকীদা হলো পথভ্রষ্ট সুফী ইবনু আরাবীর আকীদা।
[৩৫১] মাওয়ায়িজ নাঈমিয়া, গুজরাটী, ১ম খণ্ড, পৃ- ২২৪।
[৩৫২] বাহারে শরীয়াত, আমজাদ আলী, ১ম খণ্ড, পৃ-৫৪।

ফন্ট সাইজ
15px
17px