📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 গায়েবী পাঁচটি বিষয় আল্লাহর জন্য খাস: কুরআন ও হাদীস থেকে দলীল

📄 গায়েবী পাঁচটি বিষয় আল্লাহর জন্য খাস: কুরআন ও হাদীস থেকে দলীল


কুরআনের আয়াতসমূহ হতে এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান যে গায়বী পাঁচটি বিষয় কেবল আল্লাহর জন্য খাস। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضِ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ
"নিশ্চয় আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। আর তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং জরায়ুতে যা আছে, তা তিনি জানেন। আর কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোনো স্থানে সে মারা যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।” (সূরা লুকমান ৩১: ৩৪)

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
اللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَحْمِلُ كُلُّ أُنثَى وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ وَمَا تَزْدَادُ وَكُلُّ شَيْءٍ عِندَهُ بِمِقْدَارٍ ۞ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَدَةِ الْكَبِيرُ الْمُتَعَالِ
আল্লাহ জানেন যা প্রতিটি নারী গর্ভে ধারণ করে এবং গর্ভাশয়ে যা কমে ও বাড়ে। আর তাঁর নিকট প্রতিটি বস্তু নির্দিষ্ট পরিমাণে রয়েছে। তিনি গায়েব ও প্রকাশ্যের জ্ঞানী, মহান, সর্বোচ্চ। (সূরা রাদ ১৩ : ৮-৯)

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
إِنَّ السَّاعَةَ ءَاتِيَةٌ أَكَادُ أُخْفِيهَا لِتُجْزَى كُلُّ نَفْسٍ بِمَا تَسْعَى
"নিশ্চয় কিয়ামত আসবে; আমি তা গোপন রাখতে চাই যাতে প্রত্যেককে স্বীয় চেষ্টা-সাধনা অনুযায়ী প্রতিদান দেয়া যায়।” (সূরা ত্ব-হা ২০: ১৫)

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
يَسْتَلُونَكَ عَنِ السَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَهَا قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ رَبِّي لَا يُجَلِّيهَا لِوَقْتِهَا إِلَّا هُوَ ثَقُلَتْ فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا تَأْتِيكُمْ إِلَّا بَغْتَةً يَسْتَلُونَكَ كَأَنَّكَ حَفِيٌّ عَنْهَا قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ اللَّهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
"তারা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করে, 'তা কখন ঘটবে'? তুমি বল, 'এর জ্ঞান তো রয়েছে আমার রবের নিকট। তিনিই এর নির্ধারিত সময়ে তা প্রকাশ করবেন। আসমানসমূহ ও যমীনের উপর তা (কিয়ামত) কঠিন হবে। তা তোমাদের নিকট হঠাৎ এসে পড়বে। তারা তোমাকে প্রশ্ন করছে যেন তুমি এ সম্পর্কে বিশেষভাবে অবহিত। বল, 'এ বিষয়ের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকট আছে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না'।" (সূরা আ'রাফ ৭: ১৮৭)।

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
يَسْتَلُكَ النَّاسُ عَنِ السَّاعَةِ قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ اللَّهِ وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ السَّاعَةَ تَكُونُ قَرِيبًا
"লোকেরা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, বল, 'এ বিষয়ের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটই আছে, আর তোমার কি জানা আছে, কিয়ামত হয়ত খুব নিকটে!” (সূরা আল আহযাব ৩৩: ৬৩)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও হাদীসে এ বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন যে, এসব গায়েবী বিষয়সমূহ আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট। সুতরাং জীবরীঈলের প্রসিদ্ধ হাদীস এ ব্যাপারে একটি বড় প্রমাণ। যখন তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করলে জবাবে তিনি বলেন, "এ ব্যাপারে যাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, তিনি জিজ্ঞেসকারী অপেক্ষা অধিক জ্ঞাত নন। তবে আমি আপনাকে কিয়ামতের আলামতসমূহ বলে দিচ্ছি। (কিয়ামতের জ্ঞান) সেই পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্গত যা আল্লাহ ব্যতীত তা আর কেউ জানে না। অতঃপর তিনি তেলাওয়াত করলেন,
إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضِ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ
“নিশ্চয় আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। আর তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং জরায়ুতে যা আছে, তা তিনি জানেন। আর কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোনো স্থানে সে মারা যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।” (সূরা লুকমান ৩১ : ৩৪) (বুখারী আস সহীহ, হা/৫০, হা/১-৯)

২. ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "গায়েবের পাঁচটি চাবি রয়েছে, আল্লাহ ছাড়া তা কেউ জানে না। মাতৃগর্ভে কী আছে, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, আগামীকাল কী ঘটবে, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, বৃষ্টি কখন হবে, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, সে কোথায় মৃত্যুবরণ করবে, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না এবং কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। (বুখারী আস সহীহ, হা/১০৩৯, ৪৬২৭,৪৬৯৭,৪৭৭৮,৭৩৭৯)।

৩. জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মৃত্যুর একমাস আগে বলেছেন, "তোমরা আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলে। (শুনে রাখ) আল্লাহ ছাড়া তা কেউ জানে না।" (সহীহ মুসলিম, হা/২৫৩৮)।

৪. বুরাইদা বর্ণনা করেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "পাঁচটি বিষয় রয়েছে এবং এগুলোর জ্ঞান আল্লাহ ব্যতীত আর কারো নেই। কিয়ামতের সময়, বৃষ্টি বর্ষণ, মাতৃজঠরে কী আছে, ভবিষ্যতের ঘটনাবলি এবং কারো মৃত্যুর স্থান।” (মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩০৩৬)

টিকাঃ
[২৫৩] প্রাগুক্ত, পৃ-৫২。
[২৫৪] তাসকীন আল খাওয়াতির ফী মাসআলাতিল হাজির ওয়া নাযির, আহমদ সাঈদ কাজমী, পৃ-৬৫。
[২৫৫] মুওয়ায়িজ নাঈমিয়্যাহ, ইকতিদার বিন আহমদ ইয়ার, পৃ-১৯২。
[২৫৬] প্রাগুক্ত, পৃ-৩৬৪-৩৬৫。
[২৫৭] খালিসুল ইতিকাদ, বেরেলভী, পৃ-২৮。

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 তাদের (ভ্রান্ত) আকীদা: গায়েবী পাঁচটি বিষয়ের জ্ঞান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছিল

📄 তাদের (ভ্রান্ত) আকীদা: গায়েবী পাঁচটি বিষয়ের জ্ঞান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছিল


আহমাদ রেযা বেরেলভী বলে: "আল্লাহ তাঁকে এ পাঁচটি গায়েবী বিষয়ের জ্ঞান না দেয়া পর্যন্ত রাসূল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দুনিয়া ছেড়ে যাননি।"

বলা হয়েছে যে, "হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পাঁচটি গায়েবী বিষয়ের সকল জ্ঞান ছিল এবং তাঁকে সেগুলো গোপন রাখতে বলা হয়েছিল।

শুনুন অপর বেরেলভী কী বলছে, “হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অতীত ও ভবিষ্যতের সকল ঘটনার জ্ঞান ছিল যা লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত আছে, বরং তাঁর জ্ঞান এর চেয়েও বেশি ছিল। তিনি কিয়ামত দিবস সংঘটিত হওয়ার সময়ের জ্ঞান লাভ করেছিলেন। "

অন্যত্র সে লিখেছে, “হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সৃষ্টির পূর্ববর্তী বিষয়ের জ্ঞান ছিল। আল্লাহ কর্তৃক সৃষ্টি হওয়ার পুর্বেই সৃষ্টিকুলের ঘটনাবলি সম্পর্কে তিনি জানতেন এবং তাদের পরবর্তী অবস্থাসমূহও। তিনি কিয়ামতের নিদর্শনসমূহ জানতেন। তিনি জানতেন সৃষ্টিকুলের ভীতি (ও শংকা) এবং আল্লাহর ক্রোধ ও অনুরূপ (বিষয়াবলি)। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তিনি তাদের অবস্থা সম্পর্কে জানেন। তিনি তাদের পরিস্থিতি, তাদের আচার-আচরণ, তাদের ঘটনাবলি এবং তাদের অতীত অবস্থার বিবরণী সম্পর্কে অবগত। তিনি জানতেন বিচার দিবসের নিদর্শনাবলি, কে জান্নাতী এবং কে জাহান্নামী, লোকেদের অবস্থা বলি এবং এ লোকেরা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জ্ঞানের কোনো কিছুই জানে না, কেবল তিনি যেটুকু ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত। নবীগণের জ্ঞানের তুলনায় আল্লাহর ওলীদের জ্ঞান সাত সমুদ্রের তুলনায় যেমন একটা ফোঁটা, নবীগণের জ্ঞান হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জ্ঞানের তুলনায় অনুরূপ। " আরো শুনুন!

"হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবিত অবস্থা ও মৃত অবস্থার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তিনি তাঁর উম্মাতকে দেখেন এবং তাদের অবস্থা, তাদের নিয়াত, ইচ্ছা, পরিকল্পনাসমূহ এবং তাদের অন্তরের কথাও জানেন। "

অপর এক বেরেলভী লিখেছে, “হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনা মুনাওয়ারায় অবস্থান করছেন এবং পুংখানুপুঙ্খ ভাবে প্রতি মুহূর্তের ঘটনাবলি প্রত্যক্ষ করছেন। "

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর মিথ্যারোপ করে বেরেলভী লিখেছে, "আমার মৃত্যুর পর আমার জ্ঞান তেমনই আছে, যেমন ছিল আমার জীবিতাবস্থায়। "

এখানেই তারা থেমে থাকে নি। জনাব বেরেলভী সাহেব গায়েবী পঞ্চকুঞ্জি সম্পর্কে বলেছে, “হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু সেগুলো জানতেনই না, বরং তিনি সেগুলো যাকে ইচ্ছা বন্টন করতে পারেন। "

আরেক বেরেলভী বলছে, “কুরআনের আয়াত 'এবং তিনি সর্ব বিষয়ে জ্ঞানী'-এর উদ্দেশ্য হলো যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর সকল বিষয়ে জ্ঞান ছিল।”

পঞ্চকুঞ্জির জ্ঞান শুধু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর জন্যই খাস নয়, বরং তার উম্মাতের অনেকেই (ওলীগণ) এ গুণাবলিতে তাঁর শরীক রয়েছেন। যেমন বেরেলভীদের ইমাম আহমাদ রেযা খান বেরেলভী লিখেছে,
“কিয়ামত কখন আসবে, কখন এবং কতটুকু বৃষ্টি হবে, মাতৃজঠরে কী আছে, আগামীকাল কী ঘটবে এবং কোথায় সে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করবে - এ পাঁচটি বিষয়ে যা আয়াতে কারীমাতে উল্লেখ করা হয়েছে, তার কোনোটিই হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর নিকট থেকে গোপন ছিল না। এ সকল বিষয়গুলো কিভাবে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে গোপন থাকতে পারে, যখন ৭ জন কুতুবের সকলেরই এ জ্ঞান রয়েছে এবং তারা গাওসের চেয়ে নিম্ন পদমর্যাদার? (তাহলে) গাওস সম্পর্কে কী বলা যেতে পারে এবং সে ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলা যেতে পারে যিনি পূর্বে এবং পরবর্তীতে আগত সকলের মালিক এবং সকল জগৎসমূহের মালিক এবং যিনি সকল বস্তুর কারণ এবং সমস্ত বিষয় তাঁর জন্যই (অর্থাৎ হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)?”

আবারও মনোযোগ দিয়ে শুনুন এবং চিন্তা-ভাবনা করুন কিভাবে শয়তান তাদেরকে কুরআনের আয়াত (যা শিক্ষা দিয়েছে) এর পরিবর্তে (দর্শন) কাশফ ও ইলমের দ্বারা তাদেরকে প্রতারিত করেছে। তারা শয়তানের অনুসরণ-আনুগত্য করাকে 'দীন' নাম দিয়েছে এবং তারা নিজেরাই পথভ্রষ্টতার চোরাবালিতে আটকে পড়েছে। বলা হয় যে, "যেখানে রাসূলের উম্মতের মধ্য হতে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের কেউ প্রভাব বিস্তার (তাসাররুফ) করতে পারে না, যদি তার এ পঞ্চকুঞ্জির জ্ঞান না থাকে, তাহলে পঞ্চকুঞ্জির জ্ঞান রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কেন থাকবে না? তাই হে অস্বীকারকারী! এ কথা শুনে রাখ এবং আল্লাহর ওলীদের (সম্পর্কে) মিথ্যা ধারণা করো না!”

আরো একটি প্রমাণ শুনুন! "এমন দলকে আমরা দেখেছি যারা জানতে পেরেছে কোথায় তারা (বা অন্য কেউ) মৃত্যুবরণ করবে এবং গর্ভাবস্থায় কিংবা এর পূর্বে তারা জানতে পেরেছে গর্ভে কী আছে, ছেলে না মেয়ে। বল, এখনও কি তুমি এ আয়াতের অর্থ বোঝনি কিংবা এখনও কি তুমি সন্দেহের মধ্যে রয়েছ?”

বেরেলভী জিলানীর উপর মিথ্যারোপ করেছে এবং লিখেছে যে, তিনি প্রায়ই বলতেন "সূর্য আমাকে সালাম না দেয়া পর্যন্ত উদিত হয় না; যখন নতুন বছর আগমন করে, তা আমাকে সালাম দেয় ও যা এ বছর সংঘটিত হবে তা আমাকে জানিয়ে দেয়। যখন কোনো নতুন সপ্তাহ আগমণ করে তখন সে আমাকে সালাম দেয় ও এ সপ্তাহে যা সংঘটিত হবে তা আমাকে জানিয়ে দেয়। যখন কোনো নতুন দিবস আগমণ করে তখন সে আমাকে সালাম দেয় ও এ দিবসে যা সংঘটিত হবে তা আমাকে জানিয়ে দেয়। আমি আমার রবের কসম করে বলছি, সকল সাইয়্যেদ এবং শাক্বী আমার কাছে উপস্থাপন করা হয়। লাওহে মাহফুজের উপর রয়েছে আমার দৃষ্টি। আমি মুশাহাদা (আল্লাহর দর্শন) ও আল্লাহ আযযা ও জাল্লা'র জ্ঞান দ্বারা (জ্ঞানের) নদীতে অবগাহন করি। আমি সকলের উপরে আল্লাহর মুহাব্বত। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতিনিধি (খলিফা) এবং আমি হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওয়ারীছ (উত্তরাধিকারী)।”

এ গায়েবের জ্ঞান শুধু বিশেষ কিছু ওলীদের জন্য খাস নয়, বরং সকল পীর ও সুফী শায়খ এর অধিকারী। বলা হয়েছে, "কোনো লোক ততক্ষণ পর্যন্ত কামেল হতে পারে না যতক্ষণ সে তার মুরীদের কার্যাবলি না জানে, যখন সে তার পিতার ঔরসে থাকে।"

বেরেলভী কী বলে শুনুন, "ইনসানে কামেল (পরিপূর্ণ মানুষ) এর অন্তর হলো পুরো জগৎসমূহ সবিস্তারে বর্ণিত আয়নার মত। "

টিকাঃ
[২৫৮] খালিসুল ইতিকাদ, বেরেলভী, পৃ-৫৩。
[২৫৯] প্রাগুক্ত, পৃ-৫৪。
[২৬০] জা আল-হাক্ব, পৃ-৪৩。
[২৬১] প্রাগুক্ত, পৃ-৫০-৫১。
[২৬২] খালিসুল ইতিকাদ, বেরেলভী, পৃ-৩৯; জা আল-হাক্ক, পৃ-১৫১。
[২৬৩] মুওয়ায়েজ নাঈমিয়া, আহমদ ইয়ার, পৃ-৩২৬。
[২৬৪] খালিসুল ইতিকাদ, বেরেলভী, পৃ-১৪。
[২৬৫] প্রাগুক্ত, পৃ-১৪。
[২৬৬] তাসকীন আল খাওয়াতির, কাজমী বেরেলভী, পৃ-৫২-৫৩。
[২৬৭] খালিসুল ইতিকাদ, পৃ-৫৩-৫৪。
[২৬৮] এমন ব্যক্তি যিনি কবর হতে জীবিতদের বিষয়াবলি প্রভাবিত (তাসাররুফ) করতে পারে- বলে ধারণা করা হচ্ছে。
[২৬৯] প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা-৫৪, দাওলাতুল মাক্কাহ পৃ-৪৮。
[২৭০] খালিসুল ইতিকাদ, পৃ-৫৩; আল কালিমাতুল উলিয়্যা, মুরাদাবাদী, পৃ-৩৫。
[২৭১] আল কালিমাতুল উলিয়্যা, মুরাদাবাদী, পৃ-৯৪-৯৫。
[২৭২] দাওলাতুল মাক্কাহ, বেরেলভী, পৃ-১৬৪。
[২৭৩] সাইয়েদ: উর্দু শব্দ এসেছে 'সাদ' যার অর্থ সৌভাগ্যবান。
[২৭৪] 'শাক্বী' অর্থ দুর্ভাগা, হতভাগ্য。
[২৭৫] আল আমান ওয়াল আলা, বেরেলভী, পৃ-১০৯; আরো দেখুন, আল কালিমাতুল 'উলিয়্যা, মুরাদাবাদী, পৃ-৬৭; খালিসুল ইতিকাদ, বেরেলভী, পৃ-৪৯。
[২৭৬] খালিসুল ইতিকাদ, বেরেলভী, পৃ-৪৯。
[২৭৭] আল কালিমাতুল উলিয়্যা, মুরাদাবাদী, পৃ-৭৯; তাসকীন আল খাওয়াতির, কাজমী, পৃ-১৪৬; জা আল-হাক্ব, পৃ-৮৭。
[২৭৮] ইনসানে কামেল: সুফীদের একটি বিশেষ পরিভাষা, এর দ্বারা তারা অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন সুফী শায়খকে বোঝায়。
[২৭৯] খালিসুল ইতিকাদ, বেরেলভী, পৃ-৫১。
[২৮০] প্রাগুক্ত。
[২৮১] প্রাগুক্ত, পৃ-৫২。
[২৮২] জা আল-হাক, আহমদ ইয়ার, পৃ-৮৫。

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 শুধু তিনিই নন, ওলীগণও (জিলানীসহ) এ গায়েবী পাঁচটি বিষয় অবগত

📄 শুধু তিনিই নন, ওলীগণও (জিলানীসহ) এ গায়েবী পাঁচটি বিষয় অবগত


পঞ্চকুঞ্জির জ্ঞান শুধু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর জন্যই খাস নয়, বরং তার উম্মাতের অনেকেই (ওলীগণ) এ গুণাবলিতে তাঁর শরীক রয়েছেন। যেমন বেরেলভীদের ইমাম আহমাদ রেযা খান বেরেলভী লিখেছে,

“কিয়ামত কখন আসবে, কখন এবং কতটুকু বৃষ্টি হবে, মাতৃজঠরে কী আছে, আগামীকাল কী ঘটবে এবং কোথায় সে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করবে - এ পাঁচটি বিষয়ে যা আয়াতে কারীমাতে উল্লেখ করা হয়েছে, তার কোনোটিই হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর নিকট থেকে গোপন ছিল না। এ সকল বিষয়গুলো কিভাবে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে গোপন থাকতে পারে, যখন ৭ জন কুতুবের সকলেরই এ জ্ঞান রয়েছে এবং তারা গাওসের চেয়ে নিম্ন পদমর্যাদার? (তাহলে) গাওস সম্পর্কে কী বলা যেতে পারে এবং সে ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলা যেতে পারে যিনি পূর্বে এবং পরবর্তীতে আগত সকলের মালিক এবং সকল জগৎসমূহের মালিক এবং যিনি সকল বস্তুর কারণ এবং সমস্ত বিষয় তাঁর জন্যই (অর্থাৎ হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)?”

আবারও মনোযোগ দিয়ে শুনুন এবং চিন্তা-ভাবনা করুন কিভাবে শয়তান তাদেরকে কুরআনের আয়াত (যা শিক্ষা দিয়েছে) এর পরিবর্তে (দর্শন) কাশফ ও ইলমের দ্বারা তাদেরকে প্রতারিত করেছে।

তারা শয়তানের অনুসরণ-আনুগত্য করাকে 'দীন' নাম দিয়েছে এবং তারা নিজেরাই পথভ্রষ্টতার চোরাবালিতে আটকে পড়েছে। বলা হয় যে, "যেখানে রাসূলের উম্মতের মধ্য হতে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের কেউ প্রভাব বিস্তার (তাসাররুফ) করতে পারে না, যদি তার এ পঞ্চকুঞ্জির জ্ঞান না থাকে, তাহলে পঞ্চকুঞ্জির জ্ঞান রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কেন থাকবে না? তাই হে অস্বীকারকারী! এ কথা শুনে রাখ এবং আল্লাহর ওলীদের (সম্পর্কে) মিথ্যা ধারণা করো না!”

আরো একটি প্রমাণ শুনুন! "এমন দলকে আমরা দেখেছি যারা জানতে পেরেছে কোথায় তারা (বা অন্য কেউ) মৃত্যুবরণ করবে এবং গর্ভাবস্থায় কিংবা এর পূর্বে তারা জানতে পেরেছে গর্ভে কী আছে, ছেলে না মেয়ে। বল, এখনও কি তুমি এ আয়াতের অর্থ বোঝনি কিংবা এখনও কি তুমি সন্দেহের মধ্যে রয়েছ?”

এসব হলো তাদের মিথ্যা প্রমাণাদি যা গ্রহণ করা না হলে তা হবে আউলিয়াগণের প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শন।

প্রকাশ্য মিথ্যাচারের মাধ্যমে বেরেলভী জিলানীর উপর মিথ্যারোপ করেছে এবং লিখেছে যে, তিনি প্রায়ই বলতেন "সূর্য আমাকে সালাম না দেয়া পর্যন্ত উদিত হয় না; যখন নতুন বছর আগমন করে, তা আমাকে সালাম দেয় ও যা এ বছর সংঘটিত হবে তা আমাকে জানিয়ে দেয়। যখন কোনো নতুন সপ্তাহ আগমণ করে তখন সে আমাকে সালাম দেয় ও এ সপ্তাহে যা সংঘটিত হবে তা আমাকে জানিয়ে দেয়। যখন কোনো নতুন দিবস আগমণ করে তখন সে আমাকে সালাম দেয় ও এ দিবসে যা সংঘটিত হবে তা আমাকে জানিয়ে দেয়। আমি আমার রবের কসম করে বলছি, সকল সাইয়্যেদ এবং শাক্বী আমার কাছে উপস্থাপন করা হয়। লাওহে মাহফুজের উপর রয়েছে আমার দৃষ্টি। আমি মুশাহাদা (আল্লাহর দর্শন) ও আল্লাহ আযযা ও জাল্লা'র জ্ঞান দ্বারা (জ্ঞানের) নদীতে অবগাহন করি।

"আমি সকলের উপরে আল্লাহর মুহাব্বত। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতিনিধি (খলিফা) এবং আমি হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওয়ারীছ (উত্তরাধিকারী)।”

অপর একটি মিথ্যা অপবাদ লক্ষ্য করুন, "সাইয়্যেদুনা গাওসুল আযম হুজুরের প্রতি নূর প্রেরণ করেন। যদি শরীয়াত আমার জিহবাকে আটকে না রাখত তবে আমি তোমাদেরকে সবকিছু জানিয়ে দিতাম যা তোমরা খাও এবং যা তোমরা তোমাদের ঘরে সংরক্ষণ করে রাখ। আমার জন্য তোমরা (স্বচ্ছ) কাঁচের মত। আমি তোমাদের গোপন অবস্থা দেখতে পাই। "

এ গায়েবের জ্ঞান শুধু বিশেষ কিছু ওলীদের জন্য খাস নয়, বরং সকল পীর ও সুফী শায়খ এর অধিকারী। বলা হয়েছে, "কোনো লোক ততক্ষণ পর্যন্ত কামেল হতে পারে না যতক্ষণ সে তার মুরীদের কার্যাবলি না জানে, যখন সে তার পিতার ঔরসে থাকে। অর্থাৎ 'ইয়ামুস সাত' থেকে যদি সে জানতে না পারে কোনো ঔরসে সে অবস্থান করেছিল এবং অগ্রসর হচ্ছিল, যতক্ষণ না তার জন্য জান্নাত বা জাহান্নাম নির্ধারণ করা হয়।”

বেরেলভী কী বলে শুনুন, "ইনসানে কামেল (পরিপূর্ণ মানুষ) এর অন্তর হলো পুরো জগৎসমূহ সবিস্তারে বর্ণিত আয়নার মত। "

অর্থাৎ ইনসানে কামেল দুনিয়া ও আখিরাতের সকল গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বহীন সকল ঘটনাবলি বিস্তারিতভাবে অবগত। আসমানে এবং জমীনে সংঘটিত হয়, এমন কোনো ঘটনা নাই, যা তার দৃষ্টি থেকে লুকায়িত থাকে। যা প্রকাশ্য এবং যা গোপন- সবই সে জানে।

আবার বলা হয়, “যে ব্যক্তি আরশ এবং যা এর সীমানা দ্বারা পরিবেষ্টিত, সেসব, আসমানসমূহ, জান্নাত, জাহান্নাম এর মত (সামান্য) বিষয়াবলিতে সীমাবদ্ধ বা আবদ্ধ থাকে, সে (পরিপূর্ণ) মানুষ নয়। (পরিপূর্ণ) মানুষ হলো সেই ব্যক্তি যার দৃষ্টি সকল জগৎসমূহকে অতিক্রম করে যায় অর্থাৎ গায়েবের পরিপূর্ণ জ্ঞান ছাড়া কেউ-ই আল্লাহর ওলী হতে পারে না। "

আরো শুনুন, "পরিপূর্ণ মু'মিনের দৃষ্টি সাত আসমান ও সাত জমীনকে এমনভাবে বেষ্টন করে যেমন বিরান ভূমিতে একটি বৃত্তাকার আংটি। "

অনুরূপ অপর বেরেলভী লিখেছে, “একজন ইনসানে কামেল (পরিপূর্ণ মানুষ) ঘটনাবলির হাকীকাত (মূলতত্ত্ব) সম্পর্কে অবগত এবং তার জন্য 'গায়েব' এবং 'গায়েব আল-গায়েব' উন্মুক্ত করা হয়। "

টিকাঃ
[২৬৭] খালিসুল ইতিকাদ, পৃ-৫৩-৫৪।
[২৬৮] এমন ব্যক্তি যিনি কবর হতে জীবিতদের বিষয়াবলি প্রভাবিত (তাসাররুফ) করতে পারে- বলে ধারণা করা হচ্ছে।
[২৬৯] প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা-৫৪, দাওলাতুল মাক্কাহ পৃ-৪৮।
[২৭০] খালিসুল ইতিকাদ, পৃ-৫৩; আল কালিমাতুল উলিয়্যা, মুরাদাবাদী, পৃ-৩৫।
[২৭১] আল কালিমাতুল উলিয়্যা, মুরাদাবাদী, পৃ-৯৪-৯৫।
[২৭২] দাওলাতুল মাক্কাহ, বেরেলভী, পৃ-১৬৪।
[২৭৩] সাইয়েদ: উর্দু শব্দ এসেছে 'সাদ' যার অর্থ সৌভাগ্যবান।
[২৭৪] 'শাক্বী' অর্থ দুর্ভাগা, হতভাগ্য।
[২৭৫] আল আমান ওয়াল আলা, বেরেলভী, পৃ-১০৯; আরো দেখুন, আল কালিমাতুল 'উলিয়্যা, মুরাদাবাদী, পৃ-৬৭; খালিসুল ইতিকাদ, বেরেলভী, পৃ-৪৯।
[২৭৬] খালিসুল ইতিকাদ, বেরেলভী, পৃ-৪৯।
[২৭৭] আল কালিমাতুল উলিয়্যা, মুরাদাবাদী, পৃ-৭৯; তাসকীন আল খাওয়াতির, কাজমী, পৃ-১৪৬; জা আল-হাক্ব, পৃ-৮৭।
[২৭৮] ইনসানে কামেল: সুফীদের একটি বিশেষ পরিভাষা, এর দ্বারা তারা অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন সুফী শায়খকে বোঝায়।
[২৭৯] খালিসুল ইতিকাদ, বেরেলভী, পৃ-৫১।
[২৮০] প্রাগুক্ত
[২৮১] প্রাগুক্ত, পৃ-৫২।
[২৮২] জা আল-হাক, আহমদ ইয়ার, পৃ-৮৫।

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 কুরআন ও হাদীসে এ ভ্রান্ত আকীদার খণ্ডন

📄 কুরআন ও হাদীসে এ ভ্রান্ত আকীদার খণ্ডন


যতদূর সম্ভব এ সংক্রান্ত কুরআনের আয়াতসমূহ এবং হাদীসের নির্দেশাবলি উল্লেখ করছি যার দ্বারা এ ধরনের আকীদা-বিশ্বাস পরিষ্কারভাবে খণ্ডন করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,

وَلِلَّهِ غَيْبُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا أَمْرُ السَّاعَةِ إِلَّا كَلَمْহِ الْبَصَرِ أَوْ هُوَ أَقْرَبُ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
"আর আসমানসমূহ ও যমীনে গায়েবী বিষয় আল্লাহরই। আর কিয়ামতের ব্যাপারটি শুধু চোখের পলকের ন্যায়। কিংবা তা আরো নিকটবর্তী। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।” (সূরা নাহল ১৬: ৭৭)

আল্লাহ তা'আলা বলেন,
قُلِ اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا لَبِثُوا لَهُ غَيْبُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ أَبْصِرْ بِهِ، وَأَسْمِعْ مَا لَهُم مِّن دُونِهِ مِن وَلِي وَلَا يُشْرِكُ فِي حُكْمِهِ أَحَدًا
"বল, 'তারা যে সময়টুকু অবস্থান করেছিল, সে ব্যাপারে আল্লাহই অধিক জানেন'। আসমানসমূহ ও যমীনের গায়েবী বিষয় তাঁরই। এ ব্যাপারে তিনিই উত্তম দ্রষ্টা ও উত্তম শ্রোতা। তিনি ছাড়া তাদের কোনো অভিভাবক নেই। তাঁর সিদ্ধান্তে তিনি কাউকে শরীক করেন না।” (সূরা আল কাহফ ১৮: ২৬)

আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إِنَّ اللَّهَ عَلِمُ غَيْبِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ
“নিশ্চয় আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীনের গায়েবী বিষয়ের জ্ঞানী, অন্তরসমূহে যা রয়েছে সে বিষয়েও তিনি সবিশেষ অবগত।” (সূরা ফাতির ৩৫: ৩৮)। আল্লাহ তা'আলা বলেন,

يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِهِ عِلْمًا
"তিনি তাদের আগের ও পরের সব কিছুই জানেন, কিন্তু তারা জ্ঞান দিয়ে তাঁকে বেষ্টন করতে পারবে না।" (সূরা ত্ব-হা ২০: ১১০)

আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নির্দেশ দিচ্ছেন লোকদেরকে বলতে,
قُل لَّا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ وَلَوْ كُنتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْথَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
"বল, 'আমি আমার নিজের কোনো উপকার ও ক্ষতির ক্ষমতা রাখি না, তবে আল্লাহ যা চান। আর আমি যদি গায়েব জানতাম তাহলে অধিক কল্যাণ লাভ করতাম এবং আমাকে কোনো ক্ষতি স্পর্শ করতো না। আমিতো একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা এমন কওমের জন্য, যারা বিশ্বাস করে'। “(সূরা আ'রাফ ৭: ১৮৮)

قُل لَّا أَقُولُ لَكُمْ عِندِي خَزَايِنُ اللهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ لَكُمْ إِنِّي مَلَكَ إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَى إِلَى قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمَى وَالْبَصِيرُ أَفَلَا تَتَفَكَّرُونَ
"বল, 'তোমাদেরকে আমি বলি না, আমার কাছে আল্লাহর ভাণ্ডারসমূহ রয়েছে এবং আমি গায়েব জানি না এবং তোমাদেরকে বলি না যে, নিশ্চয় আমি ফেরেশতা। আমি কেবল তাই অনুসরণ করি যা আমার কাছে ওহী প্রেরণ করা হয়'। বল, 'অন্ধ আর চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে? অতএব তোমরা কি চিন্তা করবে না'?" (সূরা আল আনআম ৬: ৫০)

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সতর্ক করে এবং 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে গায়েবের খবর জানতেন না' সে ব্যাপারে তাঁর উম্মাতকে জানাতে গিয়ে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَأَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ تَبْتَغِي مَرْضَاتَ أَزْوَاجِكَ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
“হে নবী, আল্লাহ তোমার জন্য যা হালাল করেছেন তোমার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি কামনায় তুমি কেন তা হারাম করছ? আর আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা আত তাহরীম ৬৬ : ১)

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর গায়েবের জ্ঞান থাকাকে আল্লাহ অস্বীকার করেছেন নিম্নোক্ত আয়াতে:
وَمِمَّنْ حَوْلَكُم مِّنَ الْأَعْرَابِ مُنَافِقُونَ وَمِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ مَرَدُوا عَلَى النِّفَاقِ لَا تَعْلَمُهُمْ نَحْنُ نَعْلَمُهُمْ سَنُعَذِّبُهُم مَّرَّتَيْنِ ثُمَّ يُرَدُّونَ إِلَى عَذَابٍ عَظِيمٍ
"আর তোমাদের আশপাশের মরুবাসীদের মধ্যে কিছু লোক মুনাফিক এবং মদীনাবাসীদের মধ্যেও কিছু লোক অতিমাত্রায় মুনাফিকীতে লিপ্ত আছে। তুমি তাদেরকে জান না। আমি তাদেরকে জানি। অচিরে আমি তাদেরকে দু'বার আযাব দেব তারপর তাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে মহাআযাবের দিকে।" (সূরা আত তাওবা ৯: ১০১)। আল্লাহ তা'আলা বলেন,

عَفَا اللَّهُ عَنكَ لِمَ أَذِنتَ لَهُمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَتَعْلَمَ الْكَذِبِينَ
"আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করেছেন। তুমি তাদেরকে কেন অনুমতি দিলে, যতক্ষণ না তোমার কাছে স্পষ্ট হয় তারা যারা সত্য বলেছে এবং তুমি জেনে নাও মিথ্যাবাদীদেরকে।” (সূরা আত তাওবা ৯: ৪৩)

অনুরূপভাবে আল্লাহ তা'আলা অন্যান্য নবীগণের গায়েবের জ্ঞান থাকাকেও অস্বীকার করেন এবং বলেন-
يَوْمَ يَجْمَعُ اللَّهُ الرُّسُلَ فَيَقُولُ مَاذَا أُجِبْتُمْ قَالُوا لَا عِلْمَ لَنَا إِنَّكَ أَنتَ عَلَّمُ الْغُيُوبِ
"(স্মরণ কর) যেদিন আল্লাহ রাসূলগণকে একত্র করবেন, অতঃপর বলবেন, 'তোমাদেরকে কী জবাব দেয়া হয়েছিল'? তারা বলবে, 'আমাদের কোনো ইলম নেই, নিশ্চয় আপনি গায়েবী বিষয়সমূহের সর্বজ্ঞানী'।” (সূরা আল মায়িদা ৫: ১০৯)

অনুরূপভাবে আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদের ইলমে গায়েবকে অস্বীকার করেছেন-
قَالُوا سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا إِنَّكَ أَنتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ
"তারা বলল, 'আপনি পবিত্র মহান। আপনি আমাদেরকে যা শিখিয়েছেন, তা ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই। নিশ্চয় আপনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়'।" (সূরা আল বাকারা ২: ৩২)।

এ ধরনের ঘটনাবলি কুরআন-সুন্নাহয় বিভিন্ন নবী ও রাসূলগণ যেমন- আদম (আঃ) থেকে নূহ (আঃ) পর্যন্ত, ইবরাহীম খলীল (আঃ) থেকে মূসা কালীম (আঃ) পর্যন্ত এবং সাইয়্যেদুল মুরসালীন খাতামুল আম্বিয়া মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত অগণিত নবী রাসূলগণ থেকে অগণিত ঘটনা বর্ণিত আছে।

অনুরূপভাবে, বড় বড় ঘটনাবলি এর প্রকাশ্য প্রমাণ যে, তারা গায়েব জানতেন না, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সীরাত (জীবনচরিত) গ্রন্থাবলিও এর একটি প্রমাণ। উদাহরণস্বরূপ, বীরে মাউনার ঘটনা এবং বাইয়াতে রিদওয়ান, ইফকের ঘটনা, খেজুর গাছের তাবীর, 'উরনিয়্যিন' এবং এছাড়াও এ জাতীয় অসংখ্য ঘটনা, আয়েশা (রাঃ) এর প্রতি ইফকের/অপবাদের ঘটনা।

যদি কেউ এ সকল ঘটনাবলির প্রতি গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করে, তার নিকট সুস্পষ্টভাবে পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, গায়েবের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর জন্য খাস- আল্লাহ তা'আলা এতে নবী-রাসূল বা কোনো ওলীকে শরীক গ্রহণ করেননি।

কিন্তু বেরেলভী ফিরকা জোরে শোরে প্রচার করে যে, সকল নবীগণ এবং বুযুর্গাণে দীন (দরবেশ-ওলীরা) ও আল্লাহর এ গুণাবলিতে শরীক আছে এবং যে একে তার আকীদা হিসেবে গ্রহণ না করবে, সে হবে তাদের অসম্মানকারী। যদিও বেরেলভীগণ বানোয়াট ও উদ্ভট কাহিনীর মাধ্যমে এ বিষয়টি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে যে, "মৃত্যুর পূর্বে আহমাদ রেযা তার মৃত্যুর দিন ক্ষণ সম্পর্কে অবগত ছিল।"

নবী ও ওলীগণের ব্যাপারে অতিরঞ্জন বা বাড়াবাড়ি এবং যে সকল গুণাবলি জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য খাস, সে সকল গুণাবলি ও ক্ষমতা তাদের আছে বলে প্রমাণ করা তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন নয়, বরং এটি কুরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট বিরোধিতা। এ ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীস:

আনাস বিন মালিক (র.) বলেন,
এক ব্যক্তি বলে: "ইয়া মুহাম্মদ, ইয়া সাইয়্যেদুনা, ইবনা সাইয়্যেদুনা, খাইরানা, ইবনা খাইরানা: হে মুহাম্মদ, হে আমাদের নেতা, আমাদের নেতার পূত্র, আমাদের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি ও শ্রেষ্ঠতম মানুষের সন্তান।” তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: "হে মানুষেরা! তোমরা তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অবলম্বন কর। শয়তান যেন তোমাদেরকে বিপথগামী বা প্রবৃত্তির অনুসারী না করে ফেলে। আমি মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ (আব্দুল্লাহর পূত্র মুহাম্মদ), আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহর কসম! আল্লাহ জাল্লা শানুহু আমাকে যে স্থানে রেখেছেন, যে মর্যাদা প্রদান করেছেন তোমরা আমাকে তার উপরে উঠাবে, তা আমি পছন্দ করি না।”

ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি উমার (রা.) কে মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেন যে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, তোমরা আমার প্রশংসা করতে গিয়ে বাড়াবাড়ি কর না, যেমন 'ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে খ্রিষ্টানরা বাড়াবাড়ি করেছিল। আমি তাঁর বান্দা, তোমরাও তাই বলবে: আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। "

আবুল হুসাইন খালিদ মাদানী রহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণিত তিনি বলেন: একবার আমরা আশুরার দিন মদীনায় ছিলাম। বালিকারা দফ বাজাচ্ছিল এবং গান গাচ্ছিল। এরপর আমরা রবী' বিনত মু'য়ওয়িয এর কাছে উপস্থিত হলাম এবং ঘটনাটি তাকে জানালাম। তখন তিনি বললেন: আমার বাসর দিনের সকাল বেলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার নিকট আসেন। এ সময় আমার নিকট দুটি বালিকা গান গাচ্ছিল এবং বদর যুদ্ধে নিহত আমার পিতৃ-পুরুষদের কীর্তিগাঁথা গাইছিল। তারা একথাও বলছিল: “আমাদের মধ্যে এমন নবী আছেন, যিনি আগামী কালের খবরও জানেন।” তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "এ কথা বলো না। কেননা, আগামী কালের খবর আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না।”

এখন বলুন! আল্লাহর কুরআন ও রাসূলের হাদীস সঠিক নাকি ঐ বেরেলভীগণ সঠিক? রায় দেয়ার আগে আয়শা (রাঃ)- যা বলেন তা শুনে নিন,

আয়শা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি তোমাকে বলে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর রবকে দেখেছেন, সে মিথ্যা বলছে। কেননা, আল্লাহ বলেছেন, "চক্ষুসমূহ তাঁকে দেখতে পায়না”। আর যে ব্যক্তি তোমাকে বলে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গায়েব জানে, সেও মিথ্যা বলল। কেননা, আল্লাহ তা'আলা বলেন, "গায়েব জানেন একমাত্র আল্লাহ"। "

কুরআনের এসকল আয়াত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীসসমূহ এবং আয়েশা (রা.) এর বক্তব্য শ্রবণের পরও সে এখনও যদি এ আকীদা পোষণ করে যে, শুধু নবীগণই নন, বরং বুযুর্গানে দীন (দরবেশ ওলীরা) ও গায়েবের জ্ঞান রাখে, তাহলে তুমিই বল, এ ধরনের আকীদা-বিশ্বাসের সাথে ইসলামী শরীয়াতের কি সম্পর্ক থাকতে পারে?

টিকাঃ
[২৮৩] ওসীয়ত, বেরেলভী, পৃ-৭。
[২৮৪] সহীহ: মুসনাদে আহমাদ, তাহকীক ৩/১৫৩, ২৪১, ২৪৯ হা/১২৫৭৩, ১৩১১৭, ১৩১৮৪। মুহাক্কিক শুয়াইব আরনাউত বলেন: হাদীসটির সনদ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ
[২৮৫] (বুখারী, আস-সহীহ, ৬০/৪৮, হা/২৪৬২, ৩৪৪৫, ফাতহুল বারী ৬/৪৭৮; শামাইলে তিরিমিযী, বাব: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিনয় ( تواضع ) সম্পর্কে যা এসেছে)।
[২৮৬] সুনানে ইবনু মাজাহ, কিতাবুন নিকাহ, ৩/৯১, হা/১৮৯৭, হাদীসটি সহীহ। (বুখারী: ৪০০১, ৫১৩৭; তিরমিযী: ১০৯০; আবু দাউদ: ৪৯২২ আলবানী, সহীহ আবু দাউদ。
[২৮৭] বুখারী, ৯৭/৪, হা/৭৩৮০

ফন্ট সাইজ
15px
17px