📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 তারা বলে, বিশেষভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল ইলমে গায়েবের অধিকারী

📄 তারা বলে, বিশেষভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল ইলমে গায়েবের অধিকারী


নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে তার নিজের জন্য গায়েবের জ্ঞানকে অস্বীকার করার নির্দেশ দিচ্ছেন,
قُل لَّا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ وَلَوْ كُنتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
"বল, 'আমি আমার নিজের কোনো উপকার ও ক্ষতির ক্ষমতা রাখি না, তবে আল্লাহ যা চান। আর আমি যদি গায়েব জানতাম তাহলে অধিক কল্যাণ লাভ করতাম এবং আমাকে কোনো ক্ষতি স্পর্শ করতো না। আমিতো একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা এমন কওমের জন্য, যারা বিশ্বাস করে'। “(সূরা আল আরাফ ৭: ১৮৮)

বিপরীতে বেরেলভীগণ কুরআন ও সুন্নাহর সম্পূর্ণ বিরোধী আকীদা পোষণ করে যে, 'নবী আলাইহিমুস সালামগণ (সৃষ্টির) প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সবকিছু জানেন, বরং তারা (সবকিছু) দেখেন ও পর্যবেক্ষণ করেন।

আরও বলা হয়েছে, “জন্মের সময় থেকেই নবীগণ হলেন আরিফ বিল্লাহ এবং তারা ইলমে গায়েবের অধিকারী।"

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে বেরেলভী ইমাম আহমাদ রেযা লিখেছে, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পূর্ণাঙ্গভাবে সকল (কিছুর) জ্ঞান লাভ করেছেন এবং এ জ্ঞানকে বেষ্টন করে আছেন।”

অন্যত্র লিখেছে, "লাওহ, কলমের জ্ঞান, যা সকল জ্ঞানকে ধারণ করে আছে, তা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জ্ঞানের একটি অংশ মাত্র।" সে লিখেছে,
“শৃংখলা, কর্ম এবং আছার (চিহ্ন বা প্রভাব)- সংক্ষেপে সকল কিছুর হাকাইক ও দাক্বাইকু (প্রকৃত মর্ম ও সুক্ষ্ম বিষয়), 'যাতে ইলাহীর (আল্লাহর সত্তা) -এর জ্ঞান রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রয়েছে। লাওহ, কুলম এর জ্ঞান ও হুজুরের জ্ঞানভাণ্ডারের তুলনা যেমন সমুদ্রের তুলনায় একটি নদী এবং তা হুজুরের বরকতে (কল্যানে) পাওয়া। হুজুরের দৃষ্টি সারা জাহানকে পরিবেষ্টন করে আছেন।"

(অনুরূপ) "শৃংখলা, কর্ম এবং আছার (নিদর্শন/ চিহ্ন) -এক কথায় হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আল্লাহর হাকীকি আজমত (প্রকৃত বড়ত্ব/মহত্ত্ব) ও তাঁর হক গুণাবলি থেকে (প্রাপ্ত) সকল কিছুর জ্ঞান রয়েছে। তিনি শুরু হতে শেষ, প্রকাশ্য ও গোপন সকল জ্ঞানকে পরিবেষ্টন করে আছেন।

বেরেলভীদের এক ভক্ত লিখেছে, "রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বিশ্বের কোনো কিছুই গোপন রাখা হয়নি। এই পবিত্র রূহ আসমানের উপর হতে নীচ পর্যন্ত সকল কিছু এবং দুনিয়া, আখিরাত, জান্নাত, জাহান্নাম- সবকিছু সম্পর্কে অবগত। কারণ এ সবকিছু এ কামেল ব্যক্তি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। "

সে আরও লিখেছে: “হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জ্ঞান সকল বাতেনী ও ইলহামী জ্ঞানকে পরিবেষ্টন করে রয়েছে। "

অপর বেরেলভী বলেছে, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহকে ভাল জানেন এবং তিনি অস্তিত্ববান সকল সৃষ্টির অবস্থাসমূহ পরিপূর্ণভাবে এবং নির্ভুলভাবে জানেন। অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যতের কোনো কিছুই তাঁর নিকট গোপনীয় নয়। "

আরেক বেরেলভী একেও ছাড়িয়ে গিয়ে লিখেছে, "আল্লাহ হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এমন সব বাতিনী (গুপ্ত) জ্ঞান দান করেছেন যে, তিনি একটি পাথরের অন্তরের কথাও জানতেন। তবে তিনি তাঁর আশেক (প্রেমিক) লোকদের অন্তরের অবস্থা কেন জানবেন না?"

আরো বলা হয়েছে, “যে পশুর উপর সরকার (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পা রেখেছেন, তার চোখের পর্দা উঠে গেছে। সুতরাং সে সকল অন্তর যাদের উপর হুজুরের হাত রয়েছে, তাদের নিকট সকল গায়েবী, বাতিনী এবং জাহিরী ইলম কেন প্রকাশিত হবে না?”

বেরেলভীদের ইমাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবীগণের উপর মিথ্যারোপ করে বলেছে, "সাহাবীগণ নিঃসন্দেহে ফতোয়া দিতেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম 'ইলমে গায়েবের' অধিকারী ছিলেন। "

টিকাঃ
[২৪৬] দাওলাতুল মাক্কাহ পৃ-৫৭, লাহোর, পাকিস্তান。
[২৪৭] মুওয়াইজ নাঈমিয়া, ইকতিদার বিন আহমদ ইয়ার, পৃ-১৯২。
[২৪৮] দাওলাতুল মাক্কাহ পৃ- ২৩০。
[২৪৯] খালিস আল-ইতিকাদ, বেরেলভী, পৃ-৩৮。
[২৫০] প্রাগুক্ত, পৃ-৩৮。
[২৫১] দাওলাতুল মাক্কাহ পৃ-২১০。
[২৫২] দাওলাতুল মাক্কাহ নাঈমুদ্দীন মুরাদাবাদী, পৃ-১৪

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 গায়েবী পাঁচটি বিষয় আল্লাহর জন্য খাস: কুরআন ও হাদীস থেকে দলীল

📄 গায়েবী পাঁচটি বিষয় আল্লাহর জন্য খাস: কুরআন ও হাদীস থেকে দলীল


কুরআনের আয়াতসমূহ হতে এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান যে গায়বী পাঁচটি বিষয় কেবল আল্লাহর জন্য খাস। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضِ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ
"নিশ্চয় আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। আর তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং জরায়ুতে যা আছে, তা তিনি জানেন। আর কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোনো স্থানে সে মারা যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।” (সূরা লুকমান ৩১: ৩৪)

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
اللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَحْمِلُ كُلُّ أُنثَى وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ وَمَا تَزْدَادُ وَكُلُّ شَيْءٍ عِندَهُ بِمِقْدَارٍ ۞ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَدَةِ الْكَبِيرُ الْمُتَعَالِ
আল্লাহ জানেন যা প্রতিটি নারী গর্ভে ধারণ করে এবং গর্ভাশয়ে যা কমে ও বাড়ে। আর তাঁর নিকট প্রতিটি বস্তু নির্দিষ্ট পরিমাণে রয়েছে। তিনি গায়েব ও প্রকাশ্যের জ্ঞানী, মহান, সর্বোচ্চ। (সূরা রাদ ১৩ : ৮-৯)

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
إِنَّ السَّاعَةَ ءَاتِيَةٌ أَكَادُ أُخْفِيهَا لِتُجْزَى كُلُّ نَفْسٍ بِمَا تَسْعَى
"নিশ্চয় কিয়ামত আসবে; আমি তা গোপন রাখতে চাই যাতে প্রত্যেককে স্বীয় চেষ্টা-সাধনা অনুযায়ী প্রতিদান দেয়া যায়।” (সূরা ত্ব-হা ২০: ১৫)

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
يَسْتَلُونَكَ عَنِ السَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَهَا قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ رَبِّي لَا يُجَلِّيهَا لِوَقْتِهَا إِلَّا هُوَ ثَقُلَتْ فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا تَأْتِيكُمْ إِلَّا بَغْتَةً يَسْتَلُونَكَ كَأَنَّكَ حَفِيٌّ عَنْهَا قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ اللَّهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
"তারা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করে, 'তা কখন ঘটবে'? তুমি বল, 'এর জ্ঞান তো রয়েছে আমার রবের নিকট। তিনিই এর নির্ধারিত সময়ে তা প্রকাশ করবেন। আসমানসমূহ ও যমীনের উপর তা (কিয়ামত) কঠিন হবে। তা তোমাদের নিকট হঠাৎ এসে পড়বে। তারা তোমাকে প্রশ্ন করছে যেন তুমি এ সম্পর্কে বিশেষভাবে অবহিত। বল, 'এ বিষয়ের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকট আছে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না'।" (সূরা আ'রাফ ৭: ১৮৭)।

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
يَسْتَلُكَ النَّاسُ عَنِ السَّاعَةِ قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ اللَّهِ وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ السَّاعَةَ تَكُونُ قَرِيبًا
"লোকেরা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, বল, 'এ বিষয়ের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটই আছে, আর তোমার কি জানা আছে, কিয়ামত হয়ত খুব নিকটে!” (সূরা আল আহযাব ৩৩: ৬৩)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও হাদীসে এ বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন যে, এসব গায়েবী বিষয়সমূহ আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট। সুতরাং জীবরীঈলের প্রসিদ্ধ হাদীস এ ব্যাপারে একটি বড় প্রমাণ। যখন তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করলে জবাবে তিনি বলেন, "এ ব্যাপারে যাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, তিনি জিজ্ঞেসকারী অপেক্ষা অধিক জ্ঞাত নন। তবে আমি আপনাকে কিয়ামতের আলামতসমূহ বলে দিচ্ছি। (কিয়ামতের জ্ঞান) সেই পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্গত যা আল্লাহ ব্যতীত তা আর কেউ জানে না। অতঃপর তিনি তেলাওয়াত করলেন,
إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضِ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ
“নিশ্চয় আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। আর তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং জরায়ুতে যা আছে, তা তিনি জানেন। আর কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোনো স্থানে সে মারা যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।” (সূরা লুকমান ৩১ : ৩৪) (বুখারী আস সহীহ, হা/৫০, হা/১-৯)

২. ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "গায়েবের পাঁচটি চাবি রয়েছে, আল্লাহ ছাড়া তা কেউ জানে না। মাতৃগর্ভে কী আছে, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, আগামীকাল কী ঘটবে, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, বৃষ্টি কখন হবে, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, সে কোথায় মৃত্যুবরণ করবে, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না এবং কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। (বুখারী আস সহীহ, হা/১০৩৯, ৪৬২৭,৪৬৯৭,৪৭৭৮,৭৩৭৯)।

৩. জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মৃত্যুর একমাস আগে বলেছেন, "তোমরা আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলে। (শুনে রাখ) আল্লাহ ছাড়া তা কেউ জানে না।" (সহীহ মুসলিম, হা/২৫৩৮)।

৪. বুরাইদা বর্ণনা করেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "পাঁচটি বিষয় রয়েছে এবং এগুলোর জ্ঞান আল্লাহ ব্যতীত আর কারো নেই। কিয়ামতের সময়, বৃষ্টি বর্ষণ, মাতৃজঠরে কী আছে, ভবিষ্যতের ঘটনাবলি এবং কারো মৃত্যুর স্থান।” (মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩০৩৬)

টিকাঃ
[২৫৩] প্রাগুক্ত, পৃ-৫২。
[২৫৪] তাসকীন আল খাওয়াতির ফী মাসআলাতিল হাজির ওয়া নাযির, আহমদ সাঈদ কাজমী, পৃ-৬৫。
[২৫৫] মুওয়ায়িজ নাঈমিয়্যাহ, ইকতিদার বিন আহমদ ইয়ার, পৃ-১৯২。
[২৫৬] প্রাগুক্ত, পৃ-৩৬৪-৩৬৫。
[২৫৭] খালিসুল ইতিকাদ, বেরেলভী, পৃ-২৮。

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 তাদের (ভ্রান্ত) আকীদা: গায়েবী পাঁচটি বিষয়ের জ্ঞান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছিল

📄 তাদের (ভ্রান্ত) আকীদা: গায়েবী পাঁচটি বিষয়ের জ্ঞান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছিল


আহমাদ রেযা বেরেলভী বলে: "আল্লাহ তাঁকে এ পাঁচটি গায়েবী বিষয়ের জ্ঞান না দেয়া পর্যন্ত রাসূল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দুনিয়া ছেড়ে যাননি।"

বলা হয়েছে যে, "হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পাঁচটি গায়েবী বিষয়ের সকল জ্ঞান ছিল এবং তাঁকে সেগুলো গোপন রাখতে বলা হয়েছিল।

শুনুন অপর বেরেলভী কী বলছে, “হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অতীত ও ভবিষ্যতের সকল ঘটনার জ্ঞান ছিল যা লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত আছে, বরং তাঁর জ্ঞান এর চেয়েও বেশি ছিল। তিনি কিয়ামত দিবস সংঘটিত হওয়ার সময়ের জ্ঞান লাভ করেছিলেন। "

অন্যত্র সে লিখেছে, “হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সৃষ্টির পূর্ববর্তী বিষয়ের জ্ঞান ছিল। আল্লাহ কর্তৃক সৃষ্টি হওয়ার পুর্বেই সৃষ্টিকুলের ঘটনাবলি সম্পর্কে তিনি জানতেন এবং তাদের পরবর্তী অবস্থাসমূহও। তিনি কিয়ামতের নিদর্শনসমূহ জানতেন। তিনি জানতেন সৃষ্টিকুলের ভীতি (ও শংকা) এবং আল্লাহর ক্রোধ ও অনুরূপ (বিষয়াবলি)। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তিনি তাদের অবস্থা সম্পর্কে জানেন। তিনি তাদের পরিস্থিতি, তাদের আচার-আচরণ, তাদের ঘটনাবলি এবং তাদের অতীত অবস্থার বিবরণী সম্পর্কে অবগত। তিনি জানতেন বিচার দিবসের নিদর্শনাবলি, কে জান্নাতী এবং কে জাহান্নামী, লোকেদের অবস্থা বলি এবং এ লোকেরা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জ্ঞানের কোনো কিছুই জানে না, কেবল তিনি যেটুকু ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত। নবীগণের জ্ঞানের তুলনায় আল্লাহর ওলীদের জ্ঞান সাত সমুদ্রের তুলনায় যেমন একটা ফোঁটা, নবীগণের জ্ঞান হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জ্ঞানের তুলনায় অনুরূপ। " আরো শুনুন!

"হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবিত অবস্থা ও মৃত অবস্থার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তিনি তাঁর উম্মাতকে দেখেন এবং তাদের অবস্থা, তাদের নিয়াত, ইচ্ছা, পরিকল্পনাসমূহ এবং তাদের অন্তরের কথাও জানেন। "

অপর এক বেরেলভী লিখেছে, “হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনা মুনাওয়ারায় অবস্থান করছেন এবং পুংখানুপুঙ্খ ভাবে প্রতি মুহূর্তের ঘটনাবলি প্রত্যক্ষ করছেন। "

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর মিথ্যারোপ করে বেরেলভী লিখেছে, "আমার মৃত্যুর পর আমার জ্ঞান তেমনই আছে, যেমন ছিল আমার জীবিতাবস্থায়। "

এখানেই তারা থেমে থাকে নি। জনাব বেরেলভী সাহেব গায়েবী পঞ্চকুঞ্জি সম্পর্কে বলেছে, “হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু সেগুলো জানতেনই না, বরং তিনি সেগুলো যাকে ইচ্ছা বন্টন করতে পারেন। "

আরেক বেরেলভী বলছে, “কুরআনের আয়াত 'এবং তিনি সর্ব বিষয়ে জ্ঞানী'-এর উদ্দেশ্য হলো যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর সকল বিষয়ে জ্ঞান ছিল।”

পঞ্চকুঞ্জির জ্ঞান শুধু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর জন্যই খাস নয়, বরং তার উম্মাতের অনেকেই (ওলীগণ) এ গুণাবলিতে তাঁর শরীক রয়েছেন। যেমন বেরেলভীদের ইমাম আহমাদ রেযা খান বেরেলভী লিখেছে,
“কিয়ামত কখন আসবে, কখন এবং কতটুকু বৃষ্টি হবে, মাতৃজঠরে কী আছে, আগামীকাল কী ঘটবে এবং কোথায় সে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করবে - এ পাঁচটি বিষয়ে যা আয়াতে কারীমাতে উল্লেখ করা হয়েছে, তার কোনোটিই হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর নিকট থেকে গোপন ছিল না। এ সকল বিষয়গুলো কিভাবে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে গোপন থাকতে পারে, যখন ৭ জন কুতুবের সকলেরই এ জ্ঞান রয়েছে এবং তারা গাওসের চেয়ে নিম্ন পদমর্যাদার? (তাহলে) গাওস সম্পর্কে কী বলা যেতে পারে এবং সে ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলা যেতে পারে যিনি পূর্বে এবং পরবর্তীতে আগত সকলের মালিক এবং সকল জগৎসমূহের মালিক এবং যিনি সকল বস্তুর কারণ এবং সমস্ত বিষয় তাঁর জন্যই (অর্থাৎ হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)?”

আবারও মনোযোগ দিয়ে শুনুন এবং চিন্তা-ভাবনা করুন কিভাবে শয়তান তাদেরকে কুরআনের আয়াত (যা শিক্ষা দিয়েছে) এর পরিবর্তে (দর্শন) কাশফ ও ইলমের দ্বারা তাদেরকে প্রতারিত করেছে। তারা শয়তানের অনুসরণ-আনুগত্য করাকে 'দীন' নাম দিয়েছে এবং তারা নিজেরাই পথভ্রষ্টতার চোরাবালিতে আটকে পড়েছে। বলা হয় যে, "যেখানে রাসূলের উম্মতের মধ্য হতে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের কেউ প্রভাব বিস্তার (তাসাররুফ) করতে পারে না, যদি তার এ পঞ্চকুঞ্জির জ্ঞান না থাকে, তাহলে পঞ্চকুঞ্জির জ্ঞান রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কেন থাকবে না? তাই হে অস্বীকারকারী! এ কথা শুনে রাখ এবং আল্লাহর ওলীদের (সম্পর্কে) মিথ্যা ধারণা করো না!”

আরো একটি প্রমাণ শুনুন! "এমন দলকে আমরা দেখেছি যারা জানতে পেরেছে কোথায় তারা (বা অন্য কেউ) মৃত্যুবরণ করবে এবং গর্ভাবস্থায় কিংবা এর পূর্বে তারা জানতে পেরেছে গর্ভে কী আছে, ছেলে না মেয়ে। বল, এখনও কি তুমি এ আয়াতের অর্থ বোঝনি কিংবা এখনও কি তুমি সন্দেহের মধ্যে রয়েছ?”

বেরেলভী জিলানীর উপর মিথ্যারোপ করেছে এবং লিখেছে যে, তিনি প্রায়ই বলতেন "সূর্য আমাকে সালাম না দেয়া পর্যন্ত উদিত হয় না; যখন নতুন বছর আগমন করে, তা আমাকে সালাম দেয় ও যা এ বছর সংঘটিত হবে তা আমাকে জানিয়ে দেয়। যখন কোনো নতুন সপ্তাহ আগমণ করে তখন সে আমাকে সালাম দেয় ও এ সপ্তাহে যা সংঘটিত হবে তা আমাকে জানিয়ে দেয়। যখন কোনো নতুন দিবস আগমণ করে তখন সে আমাকে সালাম দেয় ও এ দিবসে যা সংঘটিত হবে তা আমাকে জানিয়ে দেয়। আমি আমার রবের কসম করে বলছি, সকল সাইয়্যেদ এবং শাক্বী আমার কাছে উপস্থাপন করা হয়। লাওহে মাহফুজের উপর রয়েছে আমার দৃষ্টি। আমি মুশাহাদা (আল্লাহর দর্শন) ও আল্লাহ আযযা ও জাল্লা'র জ্ঞান দ্বারা (জ্ঞানের) নদীতে অবগাহন করি। আমি সকলের উপরে আল্লাহর মুহাব্বত। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতিনিধি (খলিফা) এবং আমি হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওয়ারীছ (উত্তরাধিকারী)।”

এ গায়েবের জ্ঞান শুধু বিশেষ কিছু ওলীদের জন্য খাস নয়, বরং সকল পীর ও সুফী শায়খ এর অধিকারী। বলা হয়েছে, "কোনো লোক ততক্ষণ পর্যন্ত কামেল হতে পারে না যতক্ষণ সে তার মুরীদের কার্যাবলি না জানে, যখন সে তার পিতার ঔরসে থাকে।"

বেরেলভী কী বলে শুনুন, "ইনসানে কামেল (পরিপূর্ণ মানুষ) এর অন্তর হলো পুরো জগৎসমূহ সবিস্তারে বর্ণিত আয়নার মত। "

টিকাঃ
[২৫৮] খালিসুল ইতিকাদ, বেরেলভী, পৃ-৫৩。
[২৫৯] প্রাগুক্ত, পৃ-৫৪。
[২৬০] জা আল-হাক্ব, পৃ-৪৩。
[২৬১] প্রাগুক্ত, পৃ-৫০-৫১。
[২৬২] খালিসুল ইতিকাদ, বেরেলভী, পৃ-৩৯; জা আল-হাক্ক, পৃ-১৫১。
[২৬৩] মুওয়ায়েজ নাঈমিয়া, আহমদ ইয়ার, পৃ-৩২৬。
[২৬৪] খালিসুল ইতিকাদ, বেরেলভী, পৃ-১৪。
[২৬৫] প্রাগুক্ত, পৃ-১৪。
[২৬৬] তাসকীন আল খাওয়াতির, কাজমী বেরেলভী, পৃ-৫২-৫৩。
[২৬৭] খালিসুল ইতিকাদ, পৃ-৫৩-৫৪。
[২৬৮] এমন ব্যক্তি যিনি কবর হতে জীবিতদের বিষয়াবলি প্রভাবিত (তাসাররুফ) করতে পারে- বলে ধারণা করা হচ্ছে。
[২৬৯] প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা-৫৪, দাওলাতুল মাক্কাহ পৃ-৪৮。
[২৭০] খালিসুল ইতিকাদ, পৃ-৫৩; আল কালিমাতুল উলিয়্যা, মুরাদাবাদী, পৃ-৩৫。
[২৭১] আল কালিমাতুল উলিয়্যা, মুরাদাবাদী, পৃ-৯৪-৯৫。
[২৭২] দাওলাতুল মাক্কাহ, বেরেলভী, পৃ-১৬৪。
[২৭৩] সাইয়েদ: উর্দু শব্দ এসেছে 'সাদ' যার অর্থ সৌভাগ্যবান。
[২৭৪] 'শাক্বী' অর্থ দুর্ভাগা, হতভাগ্য。
[২৭৫] আল আমান ওয়াল আলা, বেরেলভী, পৃ-১০৯; আরো দেখুন, আল কালিমাতুল 'উলিয়্যা, মুরাদাবাদী, পৃ-৬৭; খালিসুল ইতিকাদ, বেরেলভী, পৃ-৪৯。
[২৭৬] খালিসুল ইতিকাদ, বেরেলভী, পৃ-৪৯。
[২৭৭] আল কালিমাতুল উলিয়্যা, মুরাদাবাদী, পৃ-৭৯; তাসকীন আল খাওয়াতির, কাজমী, পৃ-১৪৬; জা আল-হাক্ব, পৃ-৮৭。
[২৭৮] ইনসানে কামেল: সুফীদের একটি বিশেষ পরিভাষা, এর দ্বারা তারা অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন সুফী শায়খকে বোঝায়。
[২৭৯] খালিসুল ইতিকাদ, বেরেলভী, পৃ-৫১。
[২৮০] প্রাগুক্ত。
[২৮১] প্রাগুক্ত, পৃ-৫২。
[২৮২] জা আল-হাক, আহমদ ইয়ার, পৃ-৮৫。

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 শুধু তিনিই নন, ওলীগণও (জিলানীসহ) এ গায়েবী পাঁচটি বিষয় অবগত

📄 শুধু তিনিই নন, ওলীগণও (জিলানীসহ) এ গায়েবী পাঁচটি বিষয় অবগত


পঞ্চকুঞ্জির জ্ঞান শুধু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর জন্যই খাস নয়, বরং তার উম্মাতের অনেকেই (ওলীগণ) এ গুণাবলিতে তাঁর শরীক রয়েছেন। যেমন বেরেলভীদের ইমাম আহমাদ রেযা খান বেরেলভী লিখেছে,

“কিয়ামত কখন আসবে, কখন এবং কতটুকু বৃষ্টি হবে, মাতৃজঠরে কী আছে, আগামীকাল কী ঘটবে এবং কোথায় সে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করবে - এ পাঁচটি বিষয়ে যা আয়াতে কারীমাতে উল্লেখ করা হয়েছে, তার কোনোটিই হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর নিকট থেকে গোপন ছিল না। এ সকল বিষয়গুলো কিভাবে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে গোপন থাকতে পারে, যখন ৭ জন কুতুবের সকলেরই এ জ্ঞান রয়েছে এবং তারা গাওসের চেয়ে নিম্ন পদমর্যাদার? (তাহলে) গাওস সম্পর্কে কী বলা যেতে পারে এবং সে ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলা যেতে পারে যিনি পূর্বে এবং পরবর্তীতে আগত সকলের মালিক এবং সকল জগৎসমূহের মালিক এবং যিনি সকল বস্তুর কারণ এবং সমস্ত বিষয় তাঁর জন্যই (অর্থাৎ হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)?”

আবারও মনোযোগ দিয়ে শুনুন এবং চিন্তা-ভাবনা করুন কিভাবে শয়তান তাদেরকে কুরআনের আয়াত (যা শিক্ষা দিয়েছে) এর পরিবর্তে (দর্শন) কাশফ ও ইলমের দ্বারা তাদেরকে প্রতারিত করেছে।

তারা শয়তানের অনুসরণ-আনুগত্য করাকে 'দীন' নাম দিয়েছে এবং তারা নিজেরাই পথভ্রষ্টতার চোরাবালিতে আটকে পড়েছে। বলা হয় যে, "যেখানে রাসূলের উম্মতের মধ্য হতে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের কেউ প্রভাব বিস্তার (তাসাররুফ) করতে পারে না, যদি তার এ পঞ্চকুঞ্জির জ্ঞান না থাকে, তাহলে পঞ্চকুঞ্জির জ্ঞান রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কেন থাকবে না? তাই হে অস্বীকারকারী! এ কথা শুনে রাখ এবং আল্লাহর ওলীদের (সম্পর্কে) মিথ্যা ধারণা করো না!”

আরো একটি প্রমাণ শুনুন! "এমন দলকে আমরা দেখেছি যারা জানতে পেরেছে কোথায় তারা (বা অন্য কেউ) মৃত্যুবরণ করবে এবং গর্ভাবস্থায় কিংবা এর পূর্বে তারা জানতে পেরেছে গর্ভে কী আছে, ছেলে না মেয়ে। বল, এখনও কি তুমি এ আয়াতের অর্থ বোঝনি কিংবা এখনও কি তুমি সন্দেহের মধ্যে রয়েছ?”

এসব হলো তাদের মিথ্যা প্রমাণাদি যা গ্রহণ করা না হলে তা হবে আউলিয়াগণের প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শন।

প্রকাশ্য মিথ্যাচারের মাধ্যমে বেরেলভী জিলানীর উপর মিথ্যারোপ করেছে এবং লিখেছে যে, তিনি প্রায়ই বলতেন "সূর্য আমাকে সালাম না দেয়া পর্যন্ত উদিত হয় না; যখন নতুন বছর আগমন করে, তা আমাকে সালাম দেয় ও যা এ বছর সংঘটিত হবে তা আমাকে জানিয়ে দেয়। যখন কোনো নতুন সপ্তাহ আগমণ করে তখন সে আমাকে সালাম দেয় ও এ সপ্তাহে যা সংঘটিত হবে তা আমাকে জানিয়ে দেয়। যখন কোনো নতুন দিবস আগমণ করে তখন সে আমাকে সালাম দেয় ও এ দিবসে যা সংঘটিত হবে তা আমাকে জানিয়ে দেয়। আমি আমার রবের কসম করে বলছি, সকল সাইয়্যেদ এবং শাক্বী আমার কাছে উপস্থাপন করা হয়। লাওহে মাহফুজের উপর রয়েছে আমার দৃষ্টি। আমি মুশাহাদা (আল্লাহর দর্শন) ও আল্লাহ আযযা ও জাল্লা'র জ্ঞান দ্বারা (জ্ঞানের) নদীতে অবগাহন করি।

"আমি সকলের উপরে আল্লাহর মুহাব্বত। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতিনিধি (খলিফা) এবং আমি হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওয়ারীছ (উত্তরাধিকারী)।”

অপর একটি মিথ্যা অপবাদ লক্ষ্য করুন, "সাইয়্যেদুনা গাওসুল আযম হুজুরের প্রতি নূর প্রেরণ করেন। যদি শরীয়াত আমার জিহবাকে আটকে না রাখত তবে আমি তোমাদেরকে সবকিছু জানিয়ে দিতাম যা তোমরা খাও এবং যা তোমরা তোমাদের ঘরে সংরক্ষণ করে রাখ। আমার জন্য তোমরা (স্বচ্ছ) কাঁচের মত। আমি তোমাদের গোপন অবস্থা দেখতে পাই। "

এ গায়েবের জ্ঞান শুধু বিশেষ কিছু ওলীদের জন্য খাস নয়, বরং সকল পীর ও সুফী শায়খ এর অধিকারী। বলা হয়েছে, "কোনো লোক ততক্ষণ পর্যন্ত কামেল হতে পারে না যতক্ষণ সে তার মুরীদের কার্যাবলি না জানে, যখন সে তার পিতার ঔরসে থাকে। অর্থাৎ 'ইয়ামুস সাত' থেকে যদি সে জানতে না পারে কোনো ঔরসে সে অবস্থান করেছিল এবং অগ্রসর হচ্ছিল, যতক্ষণ না তার জন্য জান্নাত বা জাহান্নাম নির্ধারণ করা হয়।”

বেরেলভী কী বলে শুনুন, "ইনসানে কামেল (পরিপূর্ণ মানুষ) এর অন্তর হলো পুরো জগৎসমূহ সবিস্তারে বর্ণিত আয়নার মত। "

অর্থাৎ ইনসানে কামেল দুনিয়া ও আখিরাতের সকল গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বহীন সকল ঘটনাবলি বিস্তারিতভাবে অবগত। আসমানে এবং জমীনে সংঘটিত হয়, এমন কোনো ঘটনা নাই, যা তার দৃষ্টি থেকে লুকায়িত থাকে। যা প্রকাশ্য এবং যা গোপন- সবই সে জানে।

আবার বলা হয়, “যে ব্যক্তি আরশ এবং যা এর সীমানা দ্বারা পরিবেষ্টিত, সেসব, আসমানসমূহ, জান্নাত, জাহান্নাম এর মত (সামান্য) বিষয়াবলিতে সীমাবদ্ধ বা আবদ্ধ থাকে, সে (পরিপূর্ণ) মানুষ নয়। (পরিপূর্ণ) মানুষ হলো সেই ব্যক্তি যার দৃষ্টি সকল জগৎসমূহকে অতিক্রম করে যায় অর্থাৎ গায়েবের পরিপূর্ণ জ্ঞান ছাড়া কেউ-ই আল্লাহর ওলী হতে পারে না। "

আরো শুনুন, "পরিপূর্ণ মু'মিনের দৃষ্টি সাত আসমান ও সাত জমীনকে এমনভাবে বেষ্টন করে যেমন বিরান ভূমিতে একটি বৃত্তাকার আংটি। "

অনুরূপ অপর বেরেলভী লিখেছে, “একজন ইনসানে কামেল (পরিপূর্ণ মানুষ) ঘটনাবলির হাকীকাত (মূলতত্ত্ব) সম্পর্কে অবগত এবং তার জন্য 'গায়েব' এবং 'গায়েব আল-গায়েব' উন্মুক্ত করা হয়। "

টিকাঃ
[২৬৭] খালিসুল ইতিকাদ, পৃ-৫৩-৫৪।
[২৬৮] এমন ব্যক্তি যিনি কবর হতে জীবিতদের বিষয়াবলি প্রভাবিত (তাসাররুফ) করতে পারে- বলে ধারণা করা হচ্ছে।
[২৬৯] প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা-৫৪, দাওলাতুল মাক্কাহ পৃ-৪৮।
[২৭০] খালিসুল ইতিকাদ, পৃ-৫৩; আল কালিমাতুল উলিয়্যা, মুরাদাবাদী, পৃ-৩৫।
[২৭১] আল কালিমাতুল উলিয়্যা, মুরাদাবাদী, পৃ-৯৪-৯৫।
[২৭২] দাওলাতুল মাক্কাহ, বেরেলভী, পৃ-১৬৪।
[২৭৩] সাইয়েদ: উর্দু শব্দ এসেছে 'সাদ' যার অর্থ সৌভাগ্যবান।
[২৭৪] 'শাক্বী' অর্থ দুর্ভাগা, হতভাগ্য।
[২৭৫] আল আমান ওয়াল আলা, বেরেলভী, পৃ-১০৯; আরো দেখুন, আল কালিমাতুল 'উলিয়্যা, মুরাদাবাদী, পৃ-৬৭; খালিসুল ইতিকাদ, বেরেলভী, পৃ-৪৯।
[২৭৬] খালিসুল ইতিকাদ, বেরেলভী, পৃ-৪৯।
[২৭৭] আল কালিমাতুল উলিয়্যা, মুরাদাবাদী, পৃ-৭৯; তাসকীন আল খাওয়াতির, কাজমী, পৃ-১৪৬; জা আল-হাক্ব, পৃ-৮৭।
[২৭৮] ইনসানে কামেল: সুফীদের একটি বিশেষ পরিভাষা, এর দ্বারা তারা অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন সুফী শায়খকে বোঝায়।
[২৭৯] খালিসুল ইতিকাদ, বেরেলভী, পৃ-৫১।
[২৮০] প্রাগুক্ত
[২৮১] প্রাগুক্ত, পৃ-৫২।
[২৮২] জা আল-হাক, আহমদ ইয়ার, পৃ-৮৫।

ফন্ট সাইজ
15px
17px