📄 তাদের আকীদা: ‘নবীগণ ও আউলিয়াগণ ইলমে গায়েবের মালিক
বেরেলভীদের আকীদা হলো, যে সকল বিষয় ঘটেছে এবং ঘটবে, 'নবীগণ ও আউলিয়াদের সেসব বিষয়েরই জ্ঞান রয়েছে। কোনোকিছুই তাদের থেকে 'গায়েব' বা গোপন নয়, তাদের দৃষ্টিতে সবকিছুর জ্ঞানই রয়েছে। তাঁরা হলেন এমন সব ব্যক্তি যারা অন্তরের গোপন বিষয়ও জানেন এবং তারা সৃষ্টির (সকল) বিষয়ে অবগত। তাদের বিচার দিবসের জ্ঞান রয়েছে এবং তারা আগামী দিনের ঘটনাবলি সম্পর্কে অবগত। তারা জানেন মায়ের উদরে কী আছে। তাদের দৃষ্টি হাজির (উপস্থিত) ও 'গায়েব' (অনুপস্থিত) কে বেষ্টন করে আছে। এক কথায় দুনিয়ায় যা ঘটেছে, যা ঘটছে এবং যা ঘটবে – তার কোনো কিছুই ওলীদের থেকে গোপন নয়।
📄 ইলমে গায়েব সম্পর্কে কুরআন: সকল গায়েব আল্লাহর জন্য খাস
আল কুরআনের আয়াত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, সকল গায়েবের জ্ঞান আল্লাহ তা'আলার জন্য নির্দিষ্ট। অন্য কোনো সৃষ্টির এ ব্যাপারে কোনো অংশীদারিত্ব নেই। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন,
قُل لَّا يَعْلَمُ مَن فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ وَمَا يَشْعُرُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ
“বল, আল্লাহ ছাড়া আসমানসমূহ ও যমীনে যারা আছে তারা গায়েব জানে না। আর কখন তাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে তা তারা অনুভব করতে পারে না।” (সূরা নামল ২৭: ৬৫) অনুরূপ,
إِنَّ اللَّهَ عَالِمُ غَيْبِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ
“নিশ্চয় আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীনের গায়েবী বিষয়ের জ্ঞানী, অন্তরসমূহে যা রয়েছে সে বিষয়েও তিনি সবিশেষ অবগত।” (সূরা ফাতির ৩৫: ৩৮)। মহান আল্লাহ আরও বলেন,
إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ غَيْبِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ
"নিশ্চয় আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীনের গায়েব সম্পর্কে অবগত আছেন। আর তোমরা যা কর আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা।" (সূরা হুজুরাত ৪৯: ১৮)
وَلِلَّهِ غَيْبُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَإِلَيْهِ يُرْجَعُ الْأَمْرُ كُلُّهُ فَاعْبُدْهُ وَتَوَكَّلْ عَلَيْهِ وَمَا رَبُّكَ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ
"আসমানসমূহ ও যমীনের গায়েব আল্লাহরই এবং তাঁরই কাছে সব বিষয় প্রত্যাবর্তিত হবে। সুতরাং তুমি তাঁর ইবাদাত কর এবং তাঁর উপর তাওয়াক্কুল কর। আর তোমরা যা কিছু কর সে ব্যাপারে তোমার রব গাফেল নন।” (সূরা হুদ ১১:১২৩) অনুরূপ -
وَيَقُولُونَ لَوْলَا أُنزِلَ عَلَيْهِ ءَايَةٌ مِّن رَّبِّهِ، فَقُلْ إِنَّمَا الْغَيْبُ لِلَّهِ فَانتَظِرُوا إِنِّي مَعَكُم مِّنَ الْمُنتَظِرِينَ
"আর তারা বলে, 'তাঁর রবের পক্ষ থেকে তার উপর কোনো নিদর্শন কেন নাযিল করা হয় না'? বল, 'গায়েবের জ্ঞান তো কেবল আল্লাহরই। অতএব তোমরা অপেক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রয়েছি”। (সূরা ইউনুস ১০:২০)। মহান আল্লাহ আরো বলেন,
وَعِندَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَا تَسْقُطُ مِن وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الْأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ
“আর তাঁর কাছে রয়েছে গায়েবের চাবিসমূহ, তিনি ছাড়া এ বিষয়ে কেউ জানে না এবং তিনি অবগত রয়েছেন স্থলে ও সমুদ্রে যা কিছু আছে। আর কোনো পাতা ঝরে না, কিন্তু তিনি তা জানেন এবং যমীনের অন্ধকারে কোনো দানা পড়ে না, না কোনো ভেজা এবং না কোনো শুষ্ক কিছু; কিন্তু রয়েছে সুস্পষ্ট কিতাবে।” (সূরা আনআম ৬:৫৯)। আরো শুনুন,
إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ عِلْمُ السَّاعةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضِ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ
“নিশ্চয় আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। আর তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং জরায়ুতে যা আছে, তা তিনি জানেন। আর কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোনো স্থানে সে মারা যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।” (সূরা লুকমান ৩১:৩৪)
📄 তারা বলে, বিশেষভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল ইলমে গায়েবের অধিকারী
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে তার নিজের জন্য গায়েবের জ্ঞানকে অস্বীকার করার নির্দেশ দিচ্ছেন,
قُل لَّا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ وَلَوْ كُنتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
"বল, 'আমি আমার নিজের কোনো উপকার ও ক্ষতির ক্ষমতা রাখি না, তবে আল্লাহ যা চান। আর আমি যদি গায়েব জানতাম তাহলে অধিক কল্যাণ লাভ করতাম এবং আমাকে কোনো ক্ষতি স্পর্শ করতো না। আমিতো একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা এমন কওমের জন্য, যারা বিশ্বাস করে'। “(সূরা আল আরাফ ৭: ১৮৮)
বিপরীতে বেরেলভীগণ কুরআন ও সুন্নাহর সম্পূর্ণ বিরোধী আকীদা পোষণ করে যে, 'নবী আলাইহিমুস সালামগণ (সৃষ্টির) প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সবকিছু জানেন, বরং তারা (সবকিছু) দেখেন ও পর্যবেক্ষণ করেন।
আরও বলা হয়েছে, “জন্মের সময় থেকেই নবীগণ হলেন আরিফ বিল্লাহ এবং তারা ইলমে গায়েবের অধিকারী।"
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে বেরেলভী ইমাম আহমাদ রেযা লিখেছে, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পূর্ণাঙ্গভাবে সকল (কিছুর) জ্ঞান লাভ করেছেন এবং এ জ্ঞানকে বেষ্টন করে আছেন।”
অন্যত্র লিখেছে, "লাওহ, কলমের জ্ঞান, যা সকল জ্ঞানকে ধারণ করে আছে, তা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জ্ঞানের একটি অংশ মাত্র।" সে লিখেছে,
“শৃংখলা, কর্ম এবং আছার (চিহ্ন বা প্রভাব)- সংক্ষেপে সকল কিছুর হাকাইক ও দাক্বাইকু (প্রকৃত মর্ম ও সুক্ষ্ম বিষয়), 'যাতে ইলাহীর (আল্লাহর সত্তা) -এর জ্ঞান রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রয়েছে। লাওহ, কুলম এর জ্ঞান ও হুজুরের জ্ঞানভাণ্ডারের তুলনা যেমন সমুদ্রের তুলনায় একটি নদী এবং তা হুজুরের বরকতে (কল্যানে) পাওয়া। হুজুরের দৃষ্টি সারা জাহানকে পরিবেষ্টন করে আছেন।"
(অনুরূপ) "শৃংখলা, কর্ম এবং আছার (নিদর্শন/ চিহ্ন) -এক কথায় হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আল্লাহর হাকীকি আজমত (প্রকৃত বড়ত্ব/মহত্ত্ব) ও তাঁর হক গুণাবলি থেকে (প্রাপ্ত) সকল কিছুর জ্ঞান রয়েছে। তিনি শুরু হতে শেষ, প্রকাশ্য ও গোপন সকল জ্ঞানকে পরিবেষ্টন করে আছেন।
বেরেলভীদের এক ভক্ত লিখেছে, "রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বিশ্বের কোনো কিছুই গোপন রাখা হয়নি। এই পবিত্র রূহ আসমানের উপর হতে নীচ পর্যন্ত সকল কিছু এবং দুনিয়া, আখিরাত, জান্নাত, জাহান্নাম- সবকিছু সম্পর্কে অবগত। কারণ এ সবকিছু এ কামেল ব্যক্তি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। "
সে আরও লিখেছে: “হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জ্ঞান সকল বাতেনী ও ইলহামী জ্ঞানকে পরিবেষ্টন করে রয়েছে। "
অপর বেরেলভী বলেছে, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহকে ভাল জানেন এবং তিনি অস্তিত্ববান সকল সৃষ্টির অবস্থাসমূহ পরিপূর্ণভাবে এবং নির্ভুলভাবে জানেন। অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যতের কোনো কিছুই তাঁর নিকট গোপনীয় নয়। "
আরেক বেরেলভী একেও ছাড়িয়ে গিয়ে লিখেছে, "আল্লাহ হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এমন সব বাতিনী (গুপ্ত) জ্ঞান দান করেছেন যে, তিনি একটি পাথরের অন্তরের কথাও জানতেন। তবে তিনি তাঁর আশেক (প্রেমিক) লোকদের অন্তরের অবস্থা কেন জানবেন না?"
আরো বলা হয়েছে, “যে পশুর উপর সরকার (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পা রেখেছেন, তার চোখের পর্দা উঠে গেছে। সুতরাং সে সকল অন্তর যাদের উপর হুজুরের হাত রয়েছে, তাদের নিকট সকল গায়েবী, বাতিনী এবং জাহিরী ইলম কেন প্রকাশিত হবে না?”
বেরেলভীদের ইমাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবীগণের উপর মিথ্যারোপ করে বলেছে, "সাহাবীগণ নিঃসন্দেহে ফতোয়া দিতেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম 'ইলমে গায়েবের' অধিকারী ছিলেন। "
টিকাঃ
[২৪৬] দাওলাতুল মাক্কাহ পৃ-৫৭, লাহোর, পাকিস্তান。
[২৪৭] মুওয়াইজ নাঈমিয়া, ইকতিদার বিন আহমদ ইয়ার, পৃ-১৯২。
[২৪৮] দাওলাতুল মাক্কাহ পৃ- ২৩০。
[২৪৯] খালিস আল-ইতিকাদ, বেরেলভী, পৃ-৩৮。
[২৫০] প্রাগুক্ত, পৃ-৩৮。
[২৫১] দাওলাতুল মাক্কাহ পৃ-২১০。
[২৫২] দাওলাতুল মাক্কাহ নাঈমুদ্দীন মুরাদাবাদী, পৃ-১৪
📄 গায়েবী পাঁচটি বিষয় আল্লাহর জন্য খাস: কুরআন ও হাদীস থেকে দলীল
কুরআনের আয়াতসমূহ হতে এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান যে গায়বী পাঁচটি বিষয় কেবল আল্লাহর জন্য খাস। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضِ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ
"নিশ্চয় আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। আর তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং জরায়ুতে যা আছে, তা তিনি জানেন। আর কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোনো স্থানে সে মারা যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।” (সূরা লুকমান ৩১: ৩৪)
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
اللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَحْمِلُ كُلُّ أُنثَى وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ وَمَا تَزْدَادُ وَكُلُّ شَيْءٍ عِندَهُ بِمِقْدَارٍ ۞ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَدَةِ الْكَبِيرُ الْمُتَعَالِ
আল্লাহ জানেন যা প্রতিটি নারী গর্ভে ধারণ করে এবং গর্ভাশয়ে যা কমে ও বাড়ে। আর তাঁর নিকট প্রতিটি বস্তু নির্দিষ্ট পরিমাণে রয়েছে। তিনি গায়েব ও প্রকাশ্যের জ্ঞানী, মহান, সর্বোচ্চ। (সূরা রাদ ১৩ : ৮-৯)
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
إِنَّ السَّاعَةَ ءَاتِيَةٌ أَكَادُ أُخْفِيهَا لِتُجْزَى كُلُّ نَفْسٍ بِمَا تَسْعَى
"নিশ্চয় কিয়ামত আসবে; আমি তা গোপন রাখতে চাই যাতে প্রত্যেককে স্বীয় চেষ্টা-সাধনা অনুযায়ী প্রতিদান দেয়া যায়।” (সূরা ত্ব-হা ২০: ১৫)
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
يَسْتَلُونَكَ عَنِ السَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَهَا قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ رَبِّي لَا يُجَلِّيهَا لِوَقْتِهَا إِلَّا هُوَ ثَقُلَتْ فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا تَأْتِيكُمْ إِلَّا بَغْتَةً يَسْتَلُونَكَ كَأَنَّكَ حَفِيٌّ عَنْهَا قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ اللَّهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
"তারা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করে, 'তা কখন ঘটবে'? তুমি বল, 'এর জ্ঞান তো রয়েছে আমার রবের নিকট। তিনিই এর নির্ধারিত সময়ে তা প্রকাশ করবেন। আসমানসমূহ ও যমীনের উপর তা (কিয়ামত) কঠিন হবে। তা তোমাদের নিকট হঠাৎ এসে পড়বে। তারা তোমাকে প্রশ্ন করছে যেন তুমি এ সম্পর্কে বিশেষভাবে অবহিত। বল, 'এ বিষয়ের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকট আছে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না'।" (সূরা আ'রাফ ৭: ১৮৭)।
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
يَسْتَلُكَ النَّاسُ عَنِ السَّاعَةِ قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ اللَّهِ وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ السَّاعَةَ تَكُونُ قَرِيبًا
"লোকেরা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, বল, 'এ বিষয়ের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটই আছে, আর তোমার কি জানা আছে, কিয়ামত হয়ত খুব নিকটে!” (সূরা আল আহযাব ৩৩: ৬৩)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও হাদীসে এ বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন যে, এসব গায়েবী বিষয়সমূহ আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট। সুতরাং জীবরীঈলের প্রসিদ্ধ হাদীস এ ব্যাপারে একটি বড় প্রমাণ। যখন তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করলে জবাবে তিনি বলেন, "এ ব্যাপারে যাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, তিনি জিজ্ঞেসকারী অপেক্ষা অধিক জ্ঞাত নন। তবে আমি আপনাকে কিয়ামতের আলামতসমূহ বলে দিচ্ছি। (কিয়ামতের জ্ঞান) সেই পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্গত যা আল্লাহ ব্যতীত তা আর কেউ জানে না। অতঃপর তিনি তেলাওয়াত করলেন,
إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضِ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ
“নিশ্চয় আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। আর তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং জরায়ুতে যা আছে, তা তিনি জানেন। আর কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোনো স্থানে সে মারা যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।” (সূরা লুকমান ৩১ : ৩৪) (বুখারী আস সহীহ, হা/৫০, হা/১-৯)
২. ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "গায়েবের পাঁচটি চাবি রয়েছে, আল্লাহ ছাড়া তা কেউ জানে না। মাতৃগর্ভে কী আছে, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, আগামীকাল কী ঘটবে, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, বৃষ্টি কখন হবে, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, সে কোথায় মৃত্যুবরণ করবে, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না এবং কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। (বুখারী আস সহীহ, হা/১০৩৯, ৪৬২৭,৪৬৯৭,৪৭৭৮,৭৩৭৯)।
৩. জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মৃত্যুর একমাস আগে বলেছেন, "তোমরা আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলে। (শুনে রাখ) আল্লাহ ছাড়া তা কেউ জানে না।" (সহীহ মুসলিম, হা/২৫৩৮)।
৪. বুরাইদা বর্ণনা করেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "পাঁচটি বিষয় রয়েছে এবং এগুলোর জ্ঞান আল্লাহ ব্যতীত আর কারো নেই। কিয়ামতের সময়, বৃষ্টি বর্ষণ, মাতৃজঠরে কী আছে, ভবিষ্যতের ঘটনাবলি এবং কারো মৃত্যুর স্থান।” (মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩০৩৬)
টিকাঃ
[২৫৩] প্রাগুক্ত, পৃ-৫২。
[২৫৪] তাসকীন আল খাওয়াতির ফী মাসআলাতিল হাজির ওয়া নাযির, আহমদ সাঈদ কাজমী, পৃ-৬৫。
[২৫৫] মুওয়ায়িজ নাঈমিয়্যাহ, ইকতিদার বিন আহমদ ইয়ার, পৃ-১৯২。
[২৫৬] প্রাগুক্ত, পৃ-৩৬৪-৩৬৫。
[২৫৭] খালিসুল ইতিকাদ, বেরেলভী, পৃ-২৮。