📄 এদের আকীদা খণ্ডনে কুরআনে কারীম
তাদের মতবাদের ভিত্তিই স্থাপন করেছে এসকল ইসরাঈলী রেওয়ায়েত ও বানোয়াট কিচ্ছা-কাহিনীর উপর।
এখন এ সকল শিরকী আকীদার ব্যাখ্যা শুনুন এবং বিচার করুন কিভাবে তাদের শিরা-উপশিরায় ধীরে ধীরে শিরকের মহামারী প্রবেশ করেছে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّن يَدْعُوا مِن دُونِ اللَّهِ مَن لَّا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَن دُعَائِهِمْ غَافِلُونَ
"তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে, যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কাউকে ডাকে, যে কিয়ামত দিবস পর্যন্তও তার ডাকে সাড়া দেবে না? আর তারা তাদের আহ্বান সম্পর্কে উদাসীন।" (সূরা আহকাফ ৪৬: ৫)
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
أَيُشْرِكُونَ مَا لَا يَخْلُقُ شَيْئًا وَهُمْ يُخْلَقُونَ ۞ وَلَا يَسْتَطِيعُونَ لَهُمْ نَصْرًا وَلَا أَنفُسَهُمْ يَنصُرُونَ ۞ وَإِن تَدْعُوهُمْ إِلَى الْهُدَى لَا يَتَّبِعُوكُمْ سَوَاءٌ عَلَيْكُمْ أَدَعَوْتُمُوهُمْ أَمْ أَنتُمْ صَمِتُونَ ۞ إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ عِبَادُ أَمْثَالُكُمْ فَادْعُوهُمْ فَلْيَسْتَجِيبُوا لَكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ ۞ أَلَهُمْ أَرْجُلٌ يَمْشُونَ بِهَا أَمْ لَهُمْ أَيْدٍ يَبْطِشُونَ بِهَا أَمْ لَهُمْ أَعْيُنٌ يُبْصِرُونَ بِهَا أَمْ لَهُمْ وَاذَانٌ يَسْمَعُونَ بِهَا قُلِ ادْعُوا شُرَكَاءَكُمْ ثُمَّ كِيدُونِ فَلَا تُنظِرُونِ ۞ إِنَّ وَلِيَ اللَّهُ الَّذِي نَزَّلَ الْكِতَابَ وَهُوَ يَتَوَلَّى الصَّلِحِينَ ۞ وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِهِ لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَكُمْ وَلَا أَنفُسَهُمْ يَنصُرُونَ ۞ وَإِن تَدْعُوهُمْ إِلَى الْهُدَى لَا يَسْمَعُوا وَتَرَتْهُمْ يَنظُرُونَ إِلَيْكَ وَهُمْ لَا يُবْصِرُونَ
"তারা কি এমন কিছুকে শরীক করে, যারা কোনো কিছু সৃষ্টি করে না, বরং তাদেরকেই সৃষ্টি করা হয়? আর তারা তাদেরকে কোনো সাহায্য করতে পারে না এবং তারা নিজদেরকেও সাহায্য করতে পারে না। আর তোমরা যদি তাদেরকে হিদায়াতের দিকে আহ্বান কর, তারা তোমাদের অনুসরণ করবে না। তোমরা তাদেরকে ডাক অথবা তোমরা চুপ থাক, তা তোমাদের নিকট সমান। আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাক তারা তোমাদের মত বান্দা। সুতরাং তোমরা তাদেরকে ডাক। অতঃপর তারা যেন তোমাদের ডাকে সাড়া দেয়, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। তাদের কি পা আছে যার সাহায্যে তারা চলে? বা তাদের কি হাত আছে যা দ্বারা তারা ধরে? বা তাদের কি চক্ষু আছে যার মাধ্যমে তারা দেখে? অথবা তাদের কি কান আছে যা দ্বারা তারা শুনে? বল, ' তোমরা তোমাদের শরীকদের ডাক। তারপর আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কর এবং আমাকে অবকাশ দিয়ো না'। 'নিশ্চয় আমার অভিভাবক আল্লাহ, যিনি কিতাব নাযিল করেছেন। আর তিনি নেককারদের দেখাশোনা করেন'। আর তাঁকে ছাড়া তোমরা যাদেরকে ডাক তারা তোমাদেরকে সাহায্য করতে পারে না এবং তারা নিজদেরকেও সাহায্য করতে পারে না। তুমি যদি তাদেরকে হিদায়াতের দিকে আহ্বান কর, তারা শুনবে না। আর তুমি তাদেরকে দেখবে যে, তারা তোমার দিকে তাকিয়ে আছে অথচ তারা দেখছে না।” (সূরা আল আরাফ ৭: ১৯১-১৯৮)
মক্কার কুরাইশগণের আকীদা বিশ্বাস উল্লেখ করে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
هُوَ الَّذِي يُسَيِّرُكُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ حَتَّى إِذَا كُنتُمْ فِي الْفُلْكِ وَجَرَيْنَ بِهِم بِرِيحٍ طَيِّبَةٍ وَفَرِحُواْ بِهَا جَاءَتْهَا رِيحٌ عَاصِفٌ وَجَاءَهُمُ الْمَوْجُ مِن كُلِّ مَكَানٍ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ أُحِيطَ بِهِمْ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ لَبِنْ أَنجَيْتَنَا مِنْ هَذِهِ لَنَكُونَنَّ مِنَ الشَّاكِرِينَ
“তিনিই তোমাদেরকে স্থলে ও সমুদ্রে ভ্রমণ করান। এমনকি যখন তোমরা নৌকায় থাক, আর তা তাদেরকে নিয়ে চলতে থাকে অনুকূল হাওয়ায় এবং তারা তা নিয়ে আনন্দিত হয়, (এ সময়) তাকে পেয়ে বসে ঝড়ো হাওয়া, আর চারদিক থেকে ধেয়ে আসে তরঙ্গ এবং তাদের নিশ্চিত ধারণা হয় যে, তাদেরকে পরিবেষ্টন করা হয়েছে। তখন তারা আল্লাহকে ডাকতে থাকে তাঁর জন্য দীনকে একনিষ্ঠ করে, 'যদি আপনি এ থেকে আমাদেরকে নাজাত দেন, তাহলে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব”। (সূরা ইউনুস ১০: ২২)
অর্থাৎ মক্কার মুশরিকরা জাহিলিয়্যাতের যুগে যখন নৌকা ও জাহাজে ভ্রমণ করতো এবং তাদের জাহাজ (ও নৌকা) ঝড়ের কবলে পড়ত, তারা তখন (তাদের সকল ইলাহকে বাদ দিয়ে) একমাত্র আল্লাহকেই ডাকত এবং তাদের প্রকৃত ফিতরাত বের হয়ে আসত/ প্রকাশ হয়ে পড়ত যে, আল্লাহ ছাড়া এমন কেউ নেই যার (সকল বস্তুর উপর) ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব রয়েছে এবং সকল কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ একমাত্র তাঁরই। (বিপরীতে) এসকল লোকের আকীদার অধ্যায়ে দেখুন যে, তারা পানিতে হোক বা স্থলে হোক, সর্বত্রই আল্লাহকে বাদ দিয়ে হয় 'বাহাউল হাক্ব, অথবা 'মুঈনুদ্দীন চিশতী' অথবা অন্য কোনো ওলীর নাম ধরে গয়রুল্লাহ'র কাছে দুআ করে। বেরেলভীদের ইমাম আহমাদ রেযা খাঁন সাহেব নিজেই লিখেছে, "যখনই আমার সাহায্য প্রার্থনার প্রয়োজন হয়েছে, আমি (সর্বদা) বলেছি 'হে গাওস'।”
তাদের আকীদা-বিশ্বাস খণ্ডন করতে গিয়ে হানাফী মুফাসসির আল্লামা আলুসী উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন,
"এ আয়াত হতে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, (জাহিলিয়্যা যুগের) মুশরিকগণ বিপদের সময় কেবল আল্লাহকেই ডাকত। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এসকল লোকেরা বিপদের সময়ে আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যের নিকট সাহায্য কামনা করে এবং এমন ব্যক্তিদের আহ্বান করে যারা না তাদের কথা শুনতে পায়, আর না তাদের ডাকে সাড়া দিতে পারে, আর না তাদের কোনো উপকার বা ক্ষতি করতে পারে। তাদের কেউ কেউ 'খিযির' অথবা 'ইলিয়াস' কে আহ্বান করে কিংবা 'আবুল হামীস' এবং 'আব্বাস' এবং অন্যান্যদের নাম ধরে সাহায্য কামনা করে এবং তাদের কেউ কেউ তাদের ইমামগণকে আহ্বান করে। তাদের কেউই আল্লাহর নিকট তার হাত দু'খানা উত্তোলন করার তৌফিক পায় না। (সম্ভবত) তার মনের কোনো একবারও এ চিন্তা উকি দেয় না যে, যদি সে একমাত্র আল্লাহকেই ডাকত তবে এ সকল বিপদ থেকে রক্ষা পেত। হে পাঠক, আল্লাহর কসম দিয়ে আপনাকে বলছি, আমাকে বলুন তো, এ দিক থেকে মক্কার মুশরিকগণ এবং বর্তমানের মানুষদের মধ্যে কোনোটি হেদায়েতের অধিক নিকটবর্তী এবং কোনোটি মিথ্যার চোরাবালিতে আটকে পড়েছে? উভয় প্রার্থনা কারী ও আহ্বানকারীর মধ্যে কার প্রার্থনা অধিকতর সত্য? আল্লাহর নিকটই মনোবেদনা জ্ঞাপন করছি এমন এক যুগে, যে যুগে অজ্ঞতার প্রবল ঘূর্ণিঝড় সকলকে আচ্ছন্ন করেছে, বিভ্রান্তির প্রবল ঢেউ বিশাল আকৃতি নিয়ে আছড়ে পড়ছে, শরীয়াতের নৌকার রশি ছিন্ন হয়েছে, গাইরুল্লাহর নিকট সাহায্য ও ত্রাণ প্রার্থনাকেই মুক্তির ওসীলা রূপে গণ্য করা হয়েছে, জ্ঞানীদের জন্য সৎকাজে আদেশ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং অন্যায় থেকে নিষেধ করার ক্ষেত্রে নানা প্রকার বিপদ বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। আল্লাহ আমাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করুন। "
টিকাঃ
[২৪৩] মালফুযাত, পৃ-৩০৭।
[২৪৪] আলুসী, রুহুল মা'আনী ৭/৪৭৪।
[২৪৫] তাফসীর মানার ১১শ খণ্ড পৃ. ৩৩৮, ৩৩৯।