📄 নবী ও ওলীগণ মরেন না বরং কবরে জীবিত
জনাব আহমাদ রেযা বেরেলভী আকীদা পোষণ করে যে, নবী ও ওলীগণের মৃত্যু হয় না, বরং তাদেরকে জীবিত কবরস্থ করা হয়। তাদের জীব এই দুনিয়ার জীবনের চেয়ে অধিক উত্তম ও উচ্চ মর্যাদাবিশিষ্ট। নবীগণ সম্পর্কে জনাব বেরেলভী বলে, "নবীগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) জীবন আসলে জাগতিক উপলব্ধির বিষয়। এটা কেবল আল্লাহর সেই ওয়াদার পূরণ যে একমুহূর্তের জন্য তাদের উপর মৃত্যু ঘটে। অতঃপর তৎক্ষণাৎ জীবন ফিরিয়ে দেয়া হয় এবং এ জীবনেও পার্থিব জীবনের হুকুম প্রযোজ্য। তাঁদের মীরাছ বন্টিত হবে না এবং তাদের স্ত্রীদের বিবাহ করা হারাম বরং তাদের উপর কোনো ইদ্দত নেই। তাঁরা তাঁদের কবরে পানাহার করে এবং সালাত আদায় করে।"
অপর বেরেলভী বলেছে, “চল্লিশ দিন সময় পরে নবীগণ কবরে সালাত আদায় শুরু করেন।"
“নবীগণ তাঁদের কবরে জীবিত। তাঁরা (তাঁদের কবরে) হাঁটা চলা করেন। তাঁরা সালাত আদায় করেন, কথা বলেন এবং সৃষ্টিকুলের বিষয়াদি সমাধান করেন।"
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর দোষারোপ করে তারা তাদের কিতাবাদিতে লিখেছে যে, সাহাবাগণ যখন তাঁকে কবরস্থ করেন, তখন তিনি জীবিত ছিলেন। তাই বেরেলভী সাহেব লিখেছে, "যখন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে তার মুবারক কবরে নামানো হচ্ছিল তখন তিনি বলছিলেন, 'আমার উম্মত, আমার উম্মাত।"
আবার বেরেলভীর এক মুরীদ লিখেছে, "যখন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রূহ মুবারক কবয করা হয়, তখনও তাঁর দেহে প্রাণ ছিল।"
অপর বেরেলভী মুরীদ লিখেছে, "আমাদের আলেমরা বলেছেন যে, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবিত অবস্থা ও মৃত্যুর মধ্যে কোনো তফাৎ নেই। তিনি তাঁর উম্মাতকে দেখেন এবং তিনি তাদের অবস্থা, ইচ্ছা, উদ্দেশ্যসমূহ ও তাদের মনের অবস্থাও জানেন। এসব তাঁর কাছে পুরোপুরি পরিষ্কার এবং এতে কোনো বাধা-প্রতিবন্ধকতা নেই।"
অপর বেরেলভী ইমাম লিখেছে, "তিনদিন ধরে তার কবর থেকে ৫ ওয়াক্ত সালাতের আযান শোনা গিয়েছে।"
আরো বলা হয় যে, “যখন আবু বাকর (রাঃ) এর লাশ হুজরাহ মুবারকের নিকট আনা হলো তখন একটি কন্ঠ শোনা গেল, "বন্ধুকে তাঁর বন্ধুর নিকট নিয়ে এসো।"
(বেরেলভীগণের মতে) এ ক্ষমতা শুধু নবীগণের জন্যই খাস নয়, বরং দীনের বুযুর্গগণও এ মর্যাদায় পৌঁছেছেন। ফলে বলা হয়েছে, "আল্লাহর ওলীগণ মরেন না, কিন্তু এক গৃহ হতে অন্য গৃহে স্থানান্তরিত হন মাত্র। তাদের রূহ একমুহূর্তের জন্য কেবল তাদের ছেড়ে যায় এবং তারপরই পূর্বের ন্যায় তাদের দেহে ফিরে আসে।"
বেরেলভীদের আহমাদ রেযা বেরেলভী এ আকীদার সত্যায়ন করে বলেছে, "ওলীগণ তাদের মৃত্যুর পর জীবিত (হয়) এবং তাদের কর্তৃত্ব (ক্ষমতা) ও অলৌকিক কর্ম (কারামত) জারী থাকে এবং তাদের অনুগ্রহ পূর্বের মতই জারি থাকে এবং আমাদের (মত তাঁর) দাস, চাকর-বাকর, বন্ধু-বান্ধব এবং ভক্তগণের জন্য তাঁর একই রকম পূর্ণ সাহায্য-সহযোগিতা জারি থাকে।"
তার এক অনুসারী লিখেছে, "আল্লাহর ওলীগণের মৃত্যুর উপমা হলো স্বপ্নের মত।"
জনাব খাঁন সাহেব বেরেলভী লিখেছে, “ওলীরা (মৃত্যুর পর) তাদের কবরে অধিকতর উন্নত শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি লাভ করে।”
সে আরও লিখেছে, “আল্লাহর ওলীগণ জীবিত যদিও তারা মৃত্যু বরণ করে। তারা কেবল এক গৃহ হতে অন্য গৃহে স্থানান্তরিত হয় মাত্র।”
আরও মজা পাওয়ার জন্য এ বানোয়াট কিচ্ছাটিও শুনুন:
“কোনো এক সুফী হতে বর্ণিত। (একদা) মক্কায় এক মুরীদ আমাকে বলল: হে আমার পীর, আমার মুরশীদ! আগামীকাল যুহরের পরে আমি মারা যাব। আমার কাছ থেকে এ আশরাফী (মুদ্রাবিশেষ) নিন। এর অর্ধেক দিয়ে আমার কাফনের এবং বাকী অর্ধেক দিয়ে দাফনের ব্যবস্থা করবেন। যখন পরের দিন হলো, যুহরের সময় মুরীদটি (কা'বার) তাওয়াফ করল এবং এর থেকে কিছু দূরে গিয়ে শুয়ে পড়ল। অতঃপর প্রাণবিয়োগ ঘটল। আমি তাকে কবরে নামালাম। সে তার চোখ খুলল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, মৃত্যুর পরবর্তী জীবন নাকি?' সে বলল, 'আমি জীবিত এবং আল্লাহর সকল ওলীগণই জীবিত'।”
জনাব বেরেলভী একটি বই লিখেছে যার মধ্যে একটি অধ্যায় রচনা করেছে যার নাম রেখেছে, 'নবীগণ, শহীদগণ ও ওলীগণ তাদের দেহ ও কাফনসহ কবরে জীবিত'।
আমি জনাব বেরেলভী হতে আরেকটি বানোয়াট গল্প উপস্থাপন করছি। সে অপর এক ব্যক্তি থেকে উদ্ধৃত করেছে, “আমি শাম হতে বসরায় যেতাম। আমি একটি খালে নামলাম, ওযু করলাম। দু'রাকআত সলাত আদায় করলাম। আর এরপর একটি কবরের উপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লাম। আমি যখন জেগে উঠলাম তখন কবরবাসীকে দেখলাম যে, সে অভিযোগ করছিল, 'হে মশাই! সারারাত ধরে আপনি আমাকে কষ্ট দিয়েছেন'।"
তাদের বই-পত্র এ ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট গালগল্প, কারামত ও কাল্পনিক কিচ্ছা-কাহিনীতে ভরপুর। দেখে মনে হয় যেন এক্ষেত্রে তারা প্রতিযোগিতায় নেমেছে কে কার চেয়ে অধিক অবিশ্বাস্য ও বানোয়াট গল্প লিখতে পারে।
একজন ওলীর সম্পর্কে বানোয়াট গল্প তৈরীর সময় বেরেলভী ফিরকার এক ইমাম লিখেছে, "তার মৃত্যুর পর তিনি আবেদন করেন যে, তার জানাযা যেন আগে ভাগে দেয়া হয়। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জানাযার জন্য অপেক্ষা করছেন।"
টিকাঃ
[২২৬] মালফুযাত, বেরেলভী, ৩য় খণ্ড, পৃ-২৭৬।
[২২৭] রাসূলুল কালাম, দীদার আলী, পৃ-১।
[২২৮] হায়াতুন নবী, কাজমী, পৃ-৩ মুলতানে প্রকাশিত।
[২২৯] মাজমু'আ রাসাইল রিযভীয়্যাহ, ১৭শ খণ্ড, পৃ-২২১; হায়াতুন নবী, কাজমী, পৃ-১২৪।
[২৩০] হায়াতুন নবী, কাজমী, পৃ-১০৪।
[২৩১] জা আল-হাক্ব, আহমদ ইয়ার বেরেলভী, পৃ-১৫।
[২৩২] হায়াতত তারিক বয়ান আত তাহকীক ওয়াত তাক্বলীদ, দীদার আলী।
[২৩৩] হায়াতুন নবী, পৃ-১২৫।
[২৩৪] ফতোয়া নাঈমিয়া, পৃ-২৪৫।
[২৩৫] ফতোয়া রিজভীয়্যাহ, ৪র্থ খণ্ড, পৃ-২৩৬।
[২৩৬] ফতোয়া নাঈমিয়া, পৃ-২৪৫; বাহারে শরীয়াত, আমজাদ আলী, পৃ-৫৮।
[২৩৭] হিকায়াত রিযভিয়্যাহ, পৃ-৪।
[২৩৮] আহকাম কুবুর মু'মিনীন ফী রাসাইল রিযভিয়্যাহ, পৃ-২৪৩।
[২৩৯] প্রাগুক্ত, পৃ-২৪৩।
[২৪০] প্রাগুক্ত, পৃ- ২৩৯।
[২৪১] প্রাগুক্ত, পৃ-২৪৭।
[২৪২] হায়াতুন নবী, কাজমী বেরেলভী, পৃ-৪৬।
📄 এদের আকীদা খণ্ডনে কুরআনে কারীম
তাদের মতবাদের ভিত্তিই স্থাপন করেছে এসকল ইসরাঈলী রেওয়ায়েত ও বানোয়াট কিচ্ছা-কাহিনীর উপর।
এখন এ সকল শিরকী আকীদার ব্যাখ্যা শুনুন এবং বিচার করুন কিভাবে তাদের শিরা-উপশিরায় ধীরে ধীরে শিরকের মহামারী প্রবেশ করেছে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّن يَدْعُوا مِن دُونِ اللَّهِ مَن لَّا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَن دُعَائِهِمْ غَافِلُونَ
"তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে, যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কাউকে ডাকে, যে কিয়ামত দিবস পর্যন্তও তার ডাকে সাড়া দেবে না? আর তারা তাদের আহ্বান সম্পর্কে উদাসীন।" (সূরা আহকাফ ৪৬: ৫)
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
أَيُشْرِكُونَ مَا لَا يَخْلُقُ شَيْئًا وَهُمْ يُخْلَقُونَ ۞ وَلَا يَسْتَطِيعُونَ لَهُمْ نَصْرًا وَلَا أَنفُسَهُمْ يَنصُرُونَ ۞ وَإِن تَدْعُوهُمْ إِلَى الْهُدَى لَا يَتَّبِعُوكُمْ سَوَاءٌ عَلَيْكُمْ أَدَعَوْتُمُوهُمْ أَمْ أَنتُمْ صَمِتُونَ ۞ إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ عِبَادُ أَمْثَالُكُمْ فَادْعُوهُمْ فَلْيَسْتَجِيبُوا لَكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ ۞ أَلَهُمْ أَرْجُلٌ يَمْشُونَ بِهَا أَمْ لَهُمْ أَيْدٍ يَبْطِشُونَ بِهَا أَمْ لَهُمْ أَعْيُنٌ يُبْصِرُونَ بِهَا أَمْ لَهُمْ وَاذَانٌ يَسْمَعُونَ بِهَا قُلِ ادْعُوا شُرَكَاءَكُمْ ثُمَّ كِيدُونِ فَلَا تُنظِرُونِ ۞ إِنَّ وَلِيَ اللَّهُ الَّذِي نَزَّلَ الْكِতَابَ وَهُوَ يَتَوَلَّى الصَّلِحِينَ ۞ وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِهِ لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَكُمْ وَلَا أَنفُسَهُمْ يَنصُرُونَ ۞ وَإِن تَدْعُوهُمْ إِلَى الْهُدَى لَا يَسْمَعُوا وَتَرَتْهُمْ يَنظُرُونَ إِلَيْكَ وَهُمْ لَا يُবْصِرُونَ
"তারা কি এমন কিছুকে শরীক করে, যারা কোনো কিছু সৃষ্টি করে না, বরং তাদেরকেই সৃষ্টি করা হয়? আর তারা তাদেরকে কোনো সাহায্য করতে পারে না এবং তারা নিজদেরকেও সাহায্য করতে পারে না। আর তোমরা যদি তাদেরকে হিদায়াতের দিকে আহ্বান কর, তারা তোমাদের অনুসরণ করবে না। তোমরা তাদেরকে ডাক অথবা তোমরা চুপ থাক, তা তোমাদের নিকট সমান। আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাক তারা তোমাদের মত বান্দা। সুতরাং তোমরা তাদেরকে ডাক। অতঃপর তারা যেন তোমাদের ডাকে সাড়া দেয়, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। তাদের কি পা আছে যার সাহায্যে তারা চলে? বা তাদের কি হাত আছে যা দ্বারা তারা ধরে? বা তাদের কি চক্ষু আছে যার মাধ্যমে তারা দেখে? অথবা তাদের কি কান আছে যা দ্বারা তারা শুনে? বল, ' তোমরা তোমাদের শরীকদের ডাক। তারপর আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কর এবং আমাকে অবকাশ দিয়ো না'। 'নিশ্চয় আমার অভিভাবক আল্লাহ, যিনি কিতাব নাযিল করেছেন। আর তিনি নেককারদের দেখাশোনা করেন'। আর তাঁকে ছাড়া তোমরা যাদেরকে ডাক তারা তোমাদেরকে সাহায্য করতে পারে না এবং তারা নিজদেরকেও সাহায্য করতে পারে না। তুমি যদি তাদেরকে হিদায়াতের দিকে আহ্বান কর, তারা শুনবে না। আর তুমি তাদেরকে দেখবে যে, তারা তোমার দিকে তাকিয়ে আছে অথচ তারা দেখছে না।” (সূরা আল আরাফ ৭: ১৯১-১৯৮)
মক্কার কুরাইশগণের আকীদা বিশ্বাস উল্লেখ করে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
هُوَ الَّذِي يُسَيِّرُكُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ حَتَّى إِذَا كُنتُمْ فِي الْفُلْكِ وَجَرَيْنَ بِهِم بِرِيحٍ طَيِّبَةٍ وَفَرِحُواْ بِهَا جَاءَتْهَا رِيحٌ عَاصِفٌ وَجَاءَهُمُ الْمَوْجُ مِن كُلِّ مَكَানٍ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ أُحِيطَ بِهِمْ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ لَبِنْ أَنجَيْتَنَا مِنْ هَذِهِ لَنَكُونَنَّ مِنَ الشَّاكِرِينَ
“তিনিই তোমাদেরকে স্থলে ও সমুদ্রে ভ্রমণ করান। এমনকি যখন তোমরা নৌকায় থাক, আর তা তাদেরকে নিয়ে চলতে থাকে অনুকূল হাওয়ায় এবং তারা তা নিয়ে আনন্দিত হয়, (এ সময়) তাকে পেয়ে বসে ঝড়ো হাওয়া, আর চারদিক থেকে ধেয়ে আসে তরঙ্গ এবং তাদের নিশ্চিত ধারণা হয় যে, তাদেরকে পরিবেষ্টন করা হয়েছে। তখন তারা আল্লাহকে ডাকতে থাকে তাঁর জন্য দীনকে একনিষ্ঠ করে, 'যদি আপনি এ থেকে আমাদেরকে নাজাত দেন, তাহলে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব”। (সূরা ইউনুস ১০: ২২)
অর্থাৎ মক্কার মুশরিকরা জাহিলিয়্যাতের যুগে যখন নৌকা ও জাহাজে ভ্রমণ করতো এবং তাদের জাহাজ (ও নৌকা) ঝড়ের কবলে পড়ত, তারা তখন (তাদের সকল ইলাহকে বাদ দিয়ে) একমাত্র আল্লাহকেই ডাকত এবং তাদের প্রকৃত ফিতরাত বের হয়ে আসত/ প্রকাশ হয়ে পড়ত যে, আল্লাহ ছাড়া এমন কেউ নেই যার (সকল বস্তুর উপর) ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব রয়েছে এবং সকল কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ একমাত্র তাঁরই। (বিপরীতে) এসকল লোকের আকীদার অধ্যায়ে দেখুন যে, তারা পানিতে হোক বা স্থলে হোক, সর্বত্রই আল্লাহকে বাদ দিয়ে হয় 'বাহাউল হাক্ব, অথবা 'মুঈনুদ্দীন চিশতী' অথবা অন্য কোনো ওলীর নাম ধরে গয়রুল্লাহ'র কাছে দুআ করে। বেরেলভীদের ইমাম আহমাদ রেযা খাঁন সাহেব নিজেই লিখেছে, "যখনই আমার সাহায্য প্রার্থনার প্রয়োজন হয়েছে, আমি (সর্বদা) বলেছি 'হে গাওস'।”
তাদের আকীদা-বিশ্বাস খণ্ডন করতে গিয়ে হানাফী মুফাসসির আল্লামা আলুসী উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন,
"এ আয়াত হতে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, (জাহিলিয়্যা যুগের) মুশরিকগণ বিপদের সময় কেবল আল্লাহকেই ডাকত। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এসকল লোকেরা বিপদের সময়ে আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যের নিকট সাহায্য কামনা করে এবং এমন ব্যক্তিদের আহ্বান করে যারা না তাদের কথা শুনতে পায়, আর না তাদের ডাকে সাড়া দিতে পারে, আর না তাদের কোনো উপকার বা ক্ষতি করতে পারে। তাদের কেউ কেউ 'খিযির' অথবা 'ইলিয়াস' কে আহ্বান করে কিংবা 'আবুল হামীস' এবং 'আব্বাস' এবং অন্যান্যদের নাম ধরে সাহায্য কামনা করে এবং তাদের কেউ কেউ তাদের ইমামগণকে আহ্বান করে। তাদের কেউই আল্লাহর নিকট তার হাত দু'খানা উত্তোলন করার তৌফিক পায় না। (সম্ভবত) তার মনের কোনো একবারও এ চিন্তা উকি দেয় না যে, যদি সে একমাত্র আল্লাহকেই ডাকত তবে এ সকল বিপদ থেকে রক্ষা পেত। হে পাঠক, আল্লাহর কসম দিয়ে আপনাকে বলছি, আমাকে বলুন তো, এ দিক থেকে মক্কার মুশরিকগণ এবং বর্তমানের মানুষদের মধ্যে কোনোটি হেদায়েতের অধিক নিকটবর্তী এবং কোনোটি মিথ্যার চোরাবালিতে আটকে পড়েছে? উভয় প্রার্থনা কারী ও আহ্বানকারীর মধ্যে কার প্রার্থনা অধিকতর সত্য? আল্লাহর নিকটই মনোবেদনা জ্ঞাপন করছি এমন এক যুগে, যে যুগে অজ্ঞতার প্রবল ঘূর্ণিঝড় সকলকে আচ্ছন্ন করেছে, বিভ্রান্তির প্রবল ঢেউ বিশাল আকৃতি নিয়ে আছড়ে পড়ছে, শরীয়াতের নৌকার রশি ছিন্ন হয়েছে, গাইরুল্লাহর নিকট সাহায্য ও ত্রাণ প্রার্থনাকেই মুক্তির ওসীলা রূপে গণ্য করা হয়েছে, জ্ঞানীদের জন্য সৎকাজে আদেশ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং অন্যায় থেকে নিষেধ করার ক্ষেত্রে নানা প্রকার বিপদ বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। আল্লাহ আমাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করুন। "
টিকাঃ
[২৪৩] মালফুযাত, পৃ-৩০৭।
[২৪৪] আলুসী, রুহুল মা'আনী ৭/৪৭৪।
[২৪৫] তাফসীর মানার ১১শ খণ্ড পৃ. ৩৩৮, ৩৩৯।