📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 কুরআন থেকে তাদের আকীদার খণ্ডন

📄 কুরআন থেকে তাদের আকীদার খণ্ডন


একদিকে এ হলো বেরেলভীদের আকীদাসমূহ এবং অপরদিকে রয়েছে কুরআন ও রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীসের শিক্ষা। আপনি এগুলো তুলনা করতে পারেন যাতে সত্য প্রকাশিত হতে পারে যে, কুরআনে উল্লেখিত তাওহীদ বলতে কী বোঝায় এবং এদের আকীদাসমূহ কী কী। আল্লাহ তা'আলা বলেন,

إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
"আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি এবং একমাত্র আপনার নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করি।” (সূরা আল ফাতিহা ১ : ৫)

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُم مِّن دُونِ اللَّهِ لَا يَمْلِكُونَ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي السَّمَوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ وَمَا لَهُمْ فِيهِمَا مِن شِرْكِ وَمَا لَهُ مِنْهُم مِّن ظَهِيرٍ
“(হে নবী) তুমি বল, তোমরা আহ্বান কর তাদেরকে যাদেরকে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে (মা'বুদ) মনে করতে, তারা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে অণু পরিমাণ কিছুর মালিক নয় এবং এতদুভয়ে তাদের কোনো অংশও নেই এবং তাদের কেউ তার সহায়কও নয়।" (সূরা সাবা ৩৪: ২২)

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
إِن تَدْعُوهُمْ لَا يَسْمَعُوا دُعَاءَكُمْ وَلَوْ سَمِعُوا مَا اسْتَجَابُوا لَكُمْ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكْفُرُونَ بِشِرْكِكُمْ وَلَا يُنَبِّئُكَ مِثْلُ خَبِيرٍ
"তোমরা তাদেরকে আহ্বান করলে তারা তোমাদের আহ্বান শুনবে না এবং শুনলেও তোমাদের আহ্বানে সাড়া দিবে না। তোমরা তাদেরকে যে শরীক করেছো তা তারা কিয়ামতের দিন অস্বীকার করবে। সর্বজ্ঞের ন্যায় কেউই তোমাকে অবহিত করতে পারে না।” (সূরা ফাতির ৩৫: ১৪)।

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
قُلْ أَرَعَيْتُمْ شُرَكَاءَكُمُ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ أَرُونِي مَاذَا خَلَقُوا مِنَ الْأَرْضِ أَمْ لَهُمْ شِرْكٌ فِي السَّমَوَاتِ أَمْ ءَاتَيْنَهُمْ কিতাবاً فَهُمْ عَلَى بَيِّنَتٍ مِّنْهُ بَلْ إِن يَعِدُ الظَّالِمُونَ بَعْضُهُم بَعْضًا إِلَّا غُرُورًا
“বল, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাকো সেই সব শরীক (দেব- দেবীর) কথা ভেবে দেখেছো কি? তারা পৃথিবীতে কিছু সৃষ্টি করে থাকলে আমাকে দেখাও; অথবা আকাশমণ্ডলীতে (সৃষ্টিতে) তাদের কোনো অংশ আছে কি.? না কি আমি তাদেরকে এমন কোনো কিতাব দিয়েছি যার প্রমাণের উপর এরা নির্ভর করে? বস্তুত যালিমরা একে অপরকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে।” (ফাতির ৩৫: ৪০)।

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِهِ لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَكُمْ وَلَا أَنفُسَهُمْ يَنصুরُونَ وَإِن تَدْعُوهُمْ إِلَى الْهُدَى لَا يَسْمَعُوا وَتَرَنَهُمْ يَنظُرُونَ إِلَيْكَ وَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ
আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের কে ডাকো, তারা তোমাদের সাহায্য করার কোনো ক্ষমতা রাখেনা এবং তারা নিজেদেরকেও সাহায্য করতে পারে না। তাদেরকে যদি সঠিক পথের দিকে ডাক, তারা শোনে না, তুমি দেখ যে তারা তোমার দিকে তাকিয়ে আছে কিন্তু আসলে তারা কিছুই দেখতে পায় না।” (সূরা আল আ'রাফ ৭: ১৯৭)।

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
لَهُ دَعْوَةُ الْحَقِّ وَالَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِهِ لَا يَسْتَجِيبُونَ لَهُم بِشَيْءٍ إِلَّا كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ إِلَى الْمَاءِ لِيَبْلُغَ فَاهُ وَمَا هُوَ بِبَالِغِهِ، وَمَا دُعَاءُ الْكَافِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَالٍ
"সত্যের আহ্বান তাঁরই; যারা তাঁকে ছাড়া আহ্বান করে অপরকে, তাদেরকে তারা কোনোই সাড়া দেয় না; তাদের দৃষ্টান্ত সেই ব্যক্তির মত, যে তার মুখে পানি পৌঁছবে এই আশায় তার হস্তদ্বয় প্রসারিত করে এমন পানির দিকে যা তার মুখে পৌঁছবার নয়, কাফিরদের আহ্বান নিষ্ফল।” (সূরা আর রা'দ ১৩: ১৪)

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
وَمَا أَنتُم بِمُعْجِزِينَ فِي الْأَرْضِ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ اللَّهِ مِن وَلِي وَلَا نَصِيرِ
“তোমরা পৃথিবীতে (আল্লাহকে) ব্যর্থ করতে পারবে না এবং আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই, সাহায্যকারীও নেই।" (সূরা আশ শুরা ৪২ : ৩১)

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, মুশরিকদের এবং যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যদেরকে ডাকে, তাদেরকে প্রশ্ন করেন যাতে তারা জবাব দিতে পারে। যেমন- আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ قُلْ أَفَرَءَيْتُم مَّا تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ إِنْ أَرَادَنِيَ اللَّهُ بِضُرٍ هَلْ هُنَّ كَاشِفَاتُ ضُرِّهِ أَوْ أَرَادَنِي بِرَحْمَةٍ هَلْ هُنَّ مُمْسِكَاتُ رَحْمَتِهِ، قُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ عَلَيْهِ يَتَوَكَّلُ الْمُتَوَكِّلُونَ
"তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। বল, তোমরা কি ভেবে দেখেছো যে, আল্লাহ আমার অনিষ্ট চাইলে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের কে ডাকো তারা কি সেই অনিষ্ট দূর করতে পারবে? অথবা, তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করতে চাইলে তারা কি সে অনুগ্রহকে বন্ধ করতে পারবে? বল, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। নির্ভরকারীরা তাঁর উপরই নির্ভর করে।" (সূরা আয যুমার ৩৯: ৩৮)।

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
أَمْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَاءَ الْأَرْضِ أَءِلَهُ مَّعَ اللَّهِ قَلِيلًا مَّا تَذَكَّرُونَ
"কে তিনি, যিনি (নিরুপায়ের) আর্তের আহ্বানে সাড়া দেন, যখন সে তাঁকে ডাকে এবং বিপদ-আপদ দূরীভূত করেন এবং কে তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেন? আল্লাহর সাথে অন্য কোনো মা'বুদ আছে কি? তোমরা অতি সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করে থাকো।" (সূরা আন নামল ২৭: ৬২)

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ عِبَادُ أَمْثَالُكُمْ فَادْعُوهُمْ فَلْيَسْتَجِيبُواْ لَكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদেরকে ডাকো, তারা তো তোমাদেরই ন্যায় বান্দা, সুতরাং তোমরা তাদেরকে ডাকতে থাকো, যদি তোমরা (তোমাদের দাবিতে) সত্যবাদী হও তবে তারা তোমাদের ডাকে সাড়া দিক।” (সূরা আল আ'রাফ ৭:১৯৪)

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
قُلْ مَن رَّبُّ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ قُلِ اللَّهُ قُلْ أَفَاتَّخَذْتُم مِّن دُونِهِ أَوْلِيَاءَ لَا يَمْلِكُونَ لِأَنفُسِهِمْ نَفْعًا وَلَا ضَرًّا قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمَى وَالْبَصِيرُ أَمْ هَلْ تَسْتَوِي الظُّلُمَاتُ وَالنُّورُ أَمْ جَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ خَلَقُوا كَخَلْقِهِ، فَتَشَبَهَ الْخَلْقُ عَلَيْهِمْ قُلِ اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ الْوَاحِدُ الْقَهَّرُ
“বল, কে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর প্রতিপালক? বল, (তিনি) আল্লাহ; বল, তবে কি তোমরা অভিভাবকরূপে গ্রহণ করছো আল্লাহর পরিবর্তে অপরকে, যারা নিজেদের লাভ বা ক্ষতি সাধনে সক্ষম নয়? বল, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান অথবা অন্ধকার ও আলো কি এক? তবে কি তারা আল্লাহর এমন শরীক স্থাপন করেছে যারা তাঁর সৃষ্টির মত সৃষ্টি করেছে যে কারণে সৃষ্টি তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ঘটিয়েছে? বল, আল্লাহ সকল বস্তুর স্রষ্টা; তিনি এক, পরাক্রমশালী।” (সূরা আর রা'দ ১৩: ১৬)।

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
إِن يَدْعُونَ مِن دُونِهِ إِلَّا إِنَّاثًا وَإِن يَدْعُونَ إِلَّا شَيْطَانَا مَّরِيدًا
"তাঁর (আল্লাহর) পরিবর্তে তারা কেবল নারী প্রতিমাপুঞ্জকেই আহ্বান করে (দেবীদের পূজা) এবং তারা কেবল বিদ্রোহী শয়তানদেরই আহ্বান করে।” (সূরা আন নিসা ৪: ১১৭)।

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন,
وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّن يَدْعُوا مِن دُونِ اللَّهِ مَن لَّا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَن دُعَائِهِمْ غَافِلُونَ
সে ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক বিভ্রান্ত আর কে, যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে যা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দিবে না। আর তারা তাদের ডাক সম্বন্ধে অবহিতও নয়।” (সূরা আল আহকাফ ৪৬:৫)

কুরআনের এ সকল আয়াতসমূহ হতে একথা পরিষ্কার যে,
১. কেবল আল্লাহই তাঁর বান্দাদেরকে সাহায্য করতে পারেন,
২. যারা অভাবী ও বিপদগ্রস্ত আল্লাহই তাদের কাজ সহজ করে দিতে পারেন এবং তাদের দুঃখ কষ্ট দূর করে দিতে পারেন।
৩. সকল মালিকানা ও আধিপত্যের এবং ক্ষমতার সীমা কেবল আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত।
৪. এই পুরো সৃষ্টিজগতের শৃংখলা তাঁরই নিয়ন্ত্রণাধীন এবং কর্তৃত্বাধীন।
৫. আর সকল নবী-রাসূলগণ তাদের অভাব-অভিযোগ ও বিপদ-আপদে কেবল তাঁরই নিকট সকাতর প্রার্থনা করতেন এবং কেবল তাঁকেই সাজদা করতেন।
৬. 'আল্লাহ বাদে অন্য যে কারো (যেমন- নবী-রাসূলগণের) কাছে দুআ করা এবং অভাব - অভিযোগ পেশ করা জায়েয' - তাদের এ আকীদা পোষণ করা কুরআনের স্পষ্ট ও প্রকাশ্য আয়াতের সম্পূর্ণ বিরোধী।
৭. আল্লাহর নিকট আদম আলাইহিস সালাম এর ক্ষমা প্রার্থনা, নূহ আলাইহিস সালাম কর্তৃক তাঁর সন্তানের ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষার জন্য তাঁর প্রভুর নিকট প্রার্থনা করা, ইবরাহীম আলাইহিস সালাম কর্তৃক তাঁর সন্তানের জন্য আল্লাহর নিকট অনুনয় বিনয় করা, মূসা আলাইহিস সালাম, যিনি দুঃখ-কষ্ট দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিলেন, তাঁর সাহায্যের জন্য কেবল আল্লাহকেই ডাকা, ইউনুস আলাইহিস সালাম কর্তৃক ক্ষমা প্রার্থনা ও অনুশোচনার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট মাছের পেট হতে পরিত্রাণ প্রার্থনা করা, আয়ুব আলাইহিস সালাম কর্তৃক কেবল আল্লাহর নিকটই রোগমুক্তি প্রার্থনা করা - এ সকল ঘটনাবলি পরিষ্কার এবং নির্ভরযোগ্য প্রমাণ যে, আল্লাহ ছাড়া এমন আর কেউ নেই যার বিপদ-আপদ থেকে উদ্ধার করার ক্ষমতা আছে।

এসকল সাক্ষ্য-প্রমাণের বিপরীতে বেরেলভীদের আকীদা হলো, যদি কেউ যেকোনো নবী বা রাসূল কিংবা ওলীর সাথে সম্পর্কিত থাকে, তবে তিনি তাকে সাহায্য করতে আসেন। [১৬৮]

আহমাদ রেযার এক অনুসারী লিখেছে, "সকল আউলিয়া একটি স্থানে একত্রিত হয়ে বিশ্বজগৎ এমনভাবে দেখতে থাকে, যেন তা তাদের হাতের তালু এবং তারা নিকট ও দূর (সর্বস্থান) হতে শোনে। অথবা একমুহূর্তের মধ্যে পুরো জগৎ ভ্রমণ করে এবং বহু দূরের অভাবীরও অভাব মোচন (প্রয়োজন পূরণ) করে।" [১৬৯]

একদিকে এ হলো তাদের আকীদা এবং অন্যদিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর চাচাত ভাই ইবনে আব্বাস (রাঃ) কে বলছেন,
"ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়ল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন একদা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পেছনে ছিলাম।
فقال: يا غلام إني أعلمك كلمات احفظ الله يحفظك احفظ الله تجده تجاهك إذا سألت فاسأل الله وإذا استعنت فاستعن بالله واعلم أن الأمة لو اجتمعت على أن ينفعوك بشيء لم ينفعوك إلا بشيء قد كتبه الله لك ولو اجتمعوا على أن يضروك بشيء لم يضروك إلا بشيء قد كتبه الله عليك رفعت الأقلام وجفت الصحف.

তিনি বললেন, হে যুবক! আমি তোমাকে কয়েকটি কথা শিখিয়ে দিচ্ছি- তুমি আল্লাহকে (বিধান) হেফাযত করবে, তিনি তোমাকে রক্ষা করবেন। তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ্য রাখবে, তুমি আল্লাহকে নিকটে পাবে। তোমার কোনো কিছু চাইতে হলে আল্লাহর নিকটই চাইবে, আর সাহায্য প্রার্থনা করতে হলে আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করবে। আর জেনে রাখ, সমস্ত উম্মাতও যদি একত্রিত হয়ে তোমার কোনো কল্যাণ করতে চায়, তবে আল্লাহ তোমার জন্য যেটুকু লিখে রেখেছেন, তা ব্যতীত কোনো কল্যাণই করতে পারবে না। আর যদি তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তোমার কোনো ক্ষতি করতে চায়, তবে আল্লাহ যতটুকু তোমার জন্য লিখে রেখেছেন, তা ব্যতীত কোনো ক্ষতিই করতে পারবে না। কলমসমূহ উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে, দফতরসমূহ শুকিয়ে গেছে। (তিরমিযী, তাহকীক আলবানী হা/২৫১৬, বঙ্গানুবাদ তিরমিযী হা/২৪৫৬, তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ)।"

কিন্তু জনাব বেরেলভী বলছে, “যখন দুঃখ-কষ্টের মুখোমুখি হবে তখন কবরবাসীর নিকট সাহায্য কামনা কর।” [১৭০]

সর্বোপরি, জনাব বেরেলভী সাহেব শুধু কুরআনের আয়াতেরই বিরোধিতা করেননি, বরং যারা মুজাহিদী শক্তি নিয়ে শিরক ও বিদআতের বিরুদ্ধে সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান হয় এবং যারা এ সকল সুস্পষ্ট আয়াতের অনুসরণ করে ও এ বিশ্বাস পোষণ করে যে, অভাবী ও দুঃখ-দুর্দশাগ্রস্ত লোকদের আহ্বান একমাত্র আল্লাহ তা'আলাই শোনেন, তাদের প্রয়োজন পূরণ করেন এবং কেবল তিনিই এককভাবে কারো প্রয়োজন পূরণে ও দুঃখ- দুর্দশা দূরীকরণে সক্ষম, এ বেরেলেভী খান সাহেব (আহমাদ রেযা) তাদের বিরোধী হয়ে পড়ে এবং তাদেরকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে, গালমন্দ করে এবং অসন্তুষ্টির সাথে (তাদের বিরুদ্ধে) লিখে যে, “আমাদের যুগে এমন কতিপয় লোক রয়েছে যারা আউলিয়াগণের থেকে সাহায্য চাওয়াকে অবিশ্বাস করে এবং বলে, 'তারা যা বলে সে ব্যাপারে তাদের কোনো জ্ঞান নেই, তারা কেবল নিজেরা আন্দাজ-অনুমান করে।” [১৭১]

এ ধরনের লোকদের ব্যাপারেই আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ ءَابَاءَنَا أَوَلَوْ كَانَ ءَابَاؤُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ
"আর যখন তাদেরকে বলা হয়, 'তোমরা অনুসরণ কর, যা আল্লাহ নাযিল করেছেন', তারা বলে, 'বরং আমরা অনুসরণ করব আমাদের পিতৃ-পুরুষদেরকে যার উপর পেয়েছি'। যদি তাদের পিতৃ-পুরুষরা কিছু না বুঝে এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত না হয়, তাহলেও কি?” (সূরা আল বাকারা ২: ১৭০)

আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ
"আর যখন আমার বান্দাগণ তোমাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে, আমি তো নিশ্চয় নিকটবর্তী। আমি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেই, যখন সে আমাকে ডাকে। সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি ঈমান আনে। আশা করা যায় তারা সঠিক পথে চলবে।” (সূরা আল বাকারা ২: ১৮৬)

আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ
আর তোমাদের রব বলেছেন, ' তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের জন্য সাড়া দেব। নিশ্চয় যারা অহঙ্কারবশত আমার ইবাদাত থেকে বিমুখ থাকে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” (সূরা গাফির (মু'মিন) ৪০ : ৬০)

টিকাঃ
১৬৮. ফতোয়া আফ্রিকা, বেরেলভী, পৃ-১৩৫
১৬৯. জা-আল হাক্ব, আহমাদ ইয়ার খান, পৃ-১৩৮-১৩৯।
১৭০. আল-আমান ওয়াল আলা, পৃ-৪৬।
১৭১. রিসালা আল হায়াত ওয়াল মাউত ফী ফতোয়া রিযভিয়‍্যাহ, ৪র্থ খণ্ড, পৃ-৩০১-৩০২।

ফন্ট সাইজ
15px
17px