📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ১. বেরেলভী মতবাদের ইতিহাস এবং এর প্রতিষ্ঠাতা আহমাদ রেযা

📄 ১. বেরেলভী মতবাদের ইতিহাস এবং এর প্রতিষ্ঠাতা আহমাদ রেযা


পাকিস্তানে হানাফী মাযহাবের অনুসারী অনেকগুলো ফিরকার মাঝে বেরেলভী একটি ফিরকা। যে সকল আকীদাকে বেরেলভীরা আঁকড়ে ধরে আছে, সে আকীদাসমূহ বেরেলভী মতবাদের অনুসারীগণের মুজাদ্দিদ, আহমাদ রেযা বেরেলভী কর্তৃক রচনা করা ও তা সুবিন্যস্ত করার কাজ সম্পাদিত হয়েছে। বেরেলভী নামকরণের পিছনে কারণও সেটাই।

জনাব আহমাদ রেযা ভারতের উত্তর প্রদেশের 'বেরেলী' শহরে জন্মগ্রহণ করেন। [২] বেরেলভীরা ছাড়াও হানাফী মাযহাবের অন্যান্য ফিরকার মধ্যে দেওবন্দী, নাদাবী, তাওহীদী ইত্যাদি।

বেরেলভীদের নেতা, তাদের মুখপাত্র, নির্মাতা ও প্রতিষ্ঠাতা আহমাদ রেযা একটি শিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করে। তার পিতা নক্বী আলী এবং তার দাদা রেযা আলী উভয়কে হানাফীদের মধ্যে খ্যাত আলেম হিসেবে বিবেচনা করা হত। [৩]

তিনি ১৪ই জুন, ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে, ১০ শাওয়াল, ১২৭২ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। [৪] তার নাম রাখা হয় মুহাম্মাদ। তার মা তার নাম রাখেন আম্মান মিয়া। তার পিতা তার নাম রাখে আহমাদ মিয়া এবং তার দাদা তার নাম রাখে আহমাদ রেযা। [৫] কিন্তু জনাব আহমাদ রেযা এ সকল নামের কোনোটাতেই সন্তুষ্ট ছিলেন না এবং (তাই) তিনি নিজের নাম রাখেন 'আব্দুল মুস্তফা'। [৬] আর সে তার লেখনী ও চিঠি পত্রে এ নাম ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে। তার গায়ের রং ছিল অত্যন্ত কালো। তার চেহারা কৃষ্ণবর্ণ হওয়ার কারণে তার বিরোধিরা প্রায়ই তাকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করতো। তার বিরুদ্ধে লেখা একটি বইয়ের নাম দেয়া হয়েছিল “(আত তীনুল লাযিব আলা আসওয়াদিল কাযিব (কৃষ্ণকায় মিথ্যাবাদীর চেহারার ময়লা)"। [৭]

তার ভ্রাতুষ্পুত্রও একথা সত্য বলে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেছে। সে লিখেছে, “জীবনের প্রারম্ভে তার গায়ের রং ছিল উজ্জ্বল শ্যামলা। কিন্তু অবিরাম কাজ ও শারীরিক পরিশ্রম তার রং এর উজ্জ্বলতা ও দীপ্তি বিদূরিত করে দেয়। [৮]

জনাব আহমাদ রেযা হাল্কা-পাতলা গড়নের ছিল। [৯] সে কিডনীর ব্যথা ও অন্যান্য রোগে ভুগছিল যা তাকে দুর্বল করে দিয়েছিল। [১০] তার পিঠে বিরামহীন ব্যথা ছিল। [১১] অনুরূপভাবে সে প্রায়ই মাথা ব্যথা ও জ্বরে আক্রান্ত হত। [১২] তার ডান চোখে ত্রুটি ছিল। তা সর্বদা রোগে আক্রান্ত হতো এবং অবিরাম পানি পড়ার ফলে তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যায়। দীর্ঘদিন যাবৎ সে এর চিকিৎসা করে কিন্তু তা আর সারেনি।

একবার তার সামনে খাবার রাখা হয়। সে খাবার খেল কিন্তু 'চাপাতি' [১৩] স্পর্শও করল না। তার স্ত্রী তাকে জিজ্ঞাসা করল, "ব্যাপার কি? আপনি কেবল ভাতই খেলেন কেন? চাপাতি খেলেন না কেন?” সে জবাবে বলল যে, সে তা দেখতে পায়নি। যদিও সেগুলো খাবারের পাশেই রাখা ছিল। [১৪]

জনাব বেরেলভী স্মৃতিভ্রমে কষ্ট পান। তার স্মৃতি দুর্বল হয়ে যায়। এমনকি তাকে তার ছাত্র ও মুরীদরা যা বলতো তা তিনি ভুলে যেতেন। তার অভ্যাস অনুযায়ী পড়া ও লেখার সময় চশমা ব্যবহার করতেন। তার দৃষ্টিশক্তি দুর্বল থাকায় চশমা ছাড়া লিখতে ও পড়তে পারতেন না। কখনো কখনো তিনি তার চশমাকে কপালে রাখতেন। এরকমই একদিন লেখার সময় কিছু লোক তার নিকট আসে। তিনি তার চশমা কপালে রাখেন ও তাদের সাথে কথা বলায় ব্যস্ত হয়ে যান। পুনঃরায় যখন লেখার ইচ্ছে করেন তখন তিনি তার চশমা খুঁজতে লাগলো। সে চশমাটি খুঁজে পাচ্ছিল না এবং সে ভুলে গিয়েছিল যে, সেটি সে তার কপালে রেখেছে। তিনি হয়রান ও দিশেহারা হয়ে হাত দিয়ে মুখ মুসতে গিয়ে তার হাত কপালে লাগে এবং চশমাটি তার নাকের উপর যথাস্থানে পড়ে। অতঃপর সে বুঝতে পারলো যে চশমাটি তার কপালেই ছিল। [১৫]

একবার সে দ্রুত সংক্রামক প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়েছিল এবং রক্ত বমি করেছিল। [১৬]
সে বদ মেজাজী ছিল। [১৭] সে খুব দ্রুত রেগে যেত। তার মুখের ভাষার ব্যাপারে সে ছিল অতি অসতর্ক। [১৮]
সে অহরহ অভিশাপ দিত এবং বিদ্রূপ করতো। সে ব্যাপকভাবে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করতো। এ ব্যাপারে সে মাঝে মাঝে সীমা ছাড়িয়ে যেত এবং এমন কথা বলতো যে, তার মুখ থেকে যা বের হতো তা কোনো জ্ঞানী ব্যক্তির জন্য শোভা পায়না, এমনকি কোনো সাধারণ লোকের জন্যও নয়। তার এক অনুসারী ও বলতে বাধ্য হয়েছে যে, “তিনি তার বিরোধিদের প্রতি অতি কঠোর মেজাজী ছিলেন এবং এক্ষেত্রে তিনি শারঈ সীমালংঘন করে যেতেন। [১৯]

এ হলো সেই কারণ যার জন্য লোকজন তার প্রতি ঘৃণা পোষণ করতে শুরু করেছিল। তার এ অভ্যাসের জন্য তার ভাল বন্ধুদের অনেকেই তাকে পরিত্যাগ করেছিল। তাদের মধ্যে রয়েছে মৌলভী মুহাম্মদ ইয়াসীন, যিনি মাদ্রাসা 'ইশা'আতুল উলুম'-এর অধ্যক্ষ ছিলেন এবং যিনি আহমাদ রেযা কর্তৃক তার শিক্ষক হিসেবে গণ্য হতেন। এমনকি তিনিও তাকে পরিত্যাগ করেন। [২০] আর তার পর সে 'মিসবাহ উত-তাহযীব' মাদরাসার উপর তার প্রভাব হারাতে থাকলো, যেটি তার পিতা কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল। তার বিকৃত বুদ্ধি, বদমেজাজ, রূঢ় ভাষা এবং মুসলিমদের তাকফীর করা [২১] এবং এর ব্যবস্থাপনা করা তাকে আলাদা করে দেয়। এ অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, বেরেলভীয়্যার কেন্দ্রে আহমাদ রেযার দলের সাথে একটি মাদরাসা ও আর অবশিষ্ট ছিল না। তা সত্ত্বেও আলা হযরত তার সকল কার্যক্রম সহ সেখানে উপস্থিত ছিল। [২২]

বেরেলভীদের বিষয় হলো, তারপর অন্যান্য বাতিল ফিরকার মত তাদের ইমামগণের ও আকীদার শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার সময় তারাও অনেক মিথ্যা কাহিনী ও ভিত্তিহীন গল্প উদ্ভাবন করল। তারা লক্ষ্য করেনি যে, যে মিথ্যাসমূহ তারা উদ্ভাবন করেছে, তা তাদের মর্যাদা ও শা'ন উন্নত করার পরিবর্তে তাদের মর্যাদাহানীর বা তাদেরকে উপহাসের পাত্র বানানোর কারণ হবে। ফলে তার (আহমাদ রেযা) সম্পর্কে বলা হয় যে, “তার বুদ্ধিমত্তা/ মেধা এবং ধীশক্তি এমন ছিল যে, যখন তার বয়স মাত্র ৪ বছর, যখন অন্যান্য শিশুরা তাদের নিজেদের প্রতি খেয়ালই করে না, সে সময় তিনি পুরো কুরআন পড়া শেষ করেছিলেন। প্রচলিত 'বিসমিল্লাহ খাওয়ানি'র অনুষ্ঠান উপলক্ষে একটি ঘটনা ঘটেছিল, যা লোকদেরকে (একই সাথে) বিস্মিত এবং ব্যথিত করেছিল। তাকে 'বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম' শিখানোর পর তার উস্তাদ তাকে 'আলিফ' 'বা' 'তা' শিখানো শুরু করলেন। 'লাম আলিফ' বলার সময় যখন 'লাম' এলো, তখন সে চুপ করে থাকল। শিক্ষক তাকে পুণরায় বললেন, "বল, 'লাম আলিফ'।” তখন হুজুর (আহমাদ রেযা) বলল, "আমরা তো ইতোমধ্যে এগুলো পড়েছি, তবে পুনরাবৃত্তি কেন? এ কথা শুনে তার দাদা শ্রদ্ধেয় মাওলানা রেযা আলী খাঁন সাহেব বললেন, "হে বৎস! শিক্ষককে মান্য কর।" হুজুর তার দিকে তাকালো। তার দাদা ইলহামের মাধ্যমে জানতে পারলেন যে, এটি যে হুরুফে মুফারিদাহ'র [২৩] বর্ণনা সে সম্পর্কে এ বালকের সন্দেহ রয়েছে। তাহলে এর মধ্যে মুরাক্কাব [২৪] অক্ষর কেন? বালকের বয়সের দিকে লক্ষ্য করে দাদা ভাবলেন যে, এ বালকটি ধীশক্তি ও জ্ঞানের সূর্য হিসেবে বেড়ে উঠতে যাচ্ছে এবং বিশ্বের দিগন্ত সীমা পেরিয়ে যাবে। ফলে তিনি বললেন, “হে বৎস! তোমার কথা ঠিক। কিন্তু আসলে যে 'আলিফ' টি তুমি পূর্বে পড়ে এসেছ, সেটি ছিল একটি 'হামযাহ' এবং আসলে এটিই হলো 'আলিফ'। কিন্তু 'আলিফ' সর্বদা 'সাকিন' হয় এবং যেহেতু শুরুতে 'সাকিন' হওয়া সম্ভব নয়, এজন্য 'লাম' অর্থের একটি অক্ষর এর সম্মুখে নিয়ে আসা হয়েছে এবং এর সম্পূর্ণ করা বা সমাপ্ত করাই এর উদ্দেশ্য।" অতঃপর এর জবাবে হুজুর বললেন, যেকোনো অক্ষরই যখন এর জন্য যথেষ্ট হতো, তখন নির্দিষ্টভাবে 'লাম' এলো কেন? 'বা' 'তা' 'দাল' কিংবা 'সীন' ও শুরুতে ব্যবহার করা যেতো।" দাদা তাকে আনন্দের আতিশয্যে জড়িয়ে ধরলেন এবং তার জন্য অন্তর থেকে দুআ করলেন। অতঃপর বললেন, "'লাম' এবং 'আলিফে'র মাঝে আপাতভাবে এক বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে এবং প্রকাশ্যভাবে বা খোলাখুলিভাবে এ উভয়ের লেখার সময় আকৃতি সাদৃশ্যপূর্ণ হয়। 'লা' অথবা 'আল' এর কারণ হলো 'লাম' এর 'কালব' [২৫] হলো 'আলিফ' এবং 'আলিফ' এর কালব হলো 'লাম'।

এ অর্থহীন কাহিনীটি বিশ্লেষণ করুন! চিন্তা করুন, 'আহমাদ রেযার মেধা ও যোগ্যতা প্রমাণ করতে কী ধরনের জ্ঞান ভিত্তিক যুক্তি এবং অদ্ভুত নিয়ম- কানুন ও বিধি-বিধানকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি আরবী ভাষা ভাষী কোনো লোকেরও এরূপ পুরোপুরি উদ্ভট অযৌক্তিক নিয়ম বোঝার এবং ব্যাখ্যা করার যোগ্যতা নেই। কিন্তু এ সকল আযমী (অনারবী)'রা 'লাম' ও 'আলিফ' এর আকার-আকৃতি ও প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সেগুলোর মাঝের উদ্ভট সম্পর্কটি বুঝে ফেলেছে এবং তা ব্যাখ্যাও করেছে!!

আসলে এই বেরেলভীরা শুধু যে তাদের ইমাম ও নবী রাসূলগণের মাঝে সাদৃশ্যের ধারণা দিতে চায়, তা-ই নয়, বরং তারা তাদের ইমামদেরকে নবী রাসূলগণেরও উপরে প্রাধান্য দিতে চায়। আর তারা একথা প্রতিষ্ঠা করতে চায় যে, তাদের ইমাম ও প্রতিষ্ঠাতা অন্যকারো থেকে জ্ঞান অর্জনের মুখাপেক্ষী ছিল না। বরং আল্লাহ তার অন্তরকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের কেন্দ্র বানিয়েছেন। আর এসব জ্ঞান তার প্রতি ওহী করা হয়েছে। এ বিষয়টি নাসিম বাস্তাওয়ীর বিবরণী থেকেও ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, যেখানে তিনি লিখেছেন, “আল্লাহ আপনার অন্তরকে সৃষ্টি করেছেন, তাকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ভাণ্ডার বানিয়েছেন। আপনার মন, মস্তিষ্ক ও অন্তরকে ঈমান ও ইখলাসের এবং পবিত্র অনুভূতি ও চিন্তায় পরিপূর্ণ ও সমৃদ্ধশালী করেছেন এবং আয়না বানিয়েছেন। কিন্তু যেহেতু প্রত্যেক মানুষকে দুনিয়াতে কাজকর্ম করতে হয় ও সম্পর্ক রক্ষা করতে হয়, এজন্য বাহ্যিকভাবে আহমাদ রেযাকে জ্ঞান চর্চার পথে বের হতে হয়েছিল। [২৬] এ দ্বারা বোঝা যায় যে, বাহ্যিকভাবে জনাব আহমাদ রেযা সাহেব তার শিক্ষকের নিকট জ্ঞান আহরণ করেছিল, কিন্তু আসলে এর কোনো প্রয়োজন তার ছিল না, কারণ তার শিক্ষক স্বয়ং আল্লাহ!

জনাব বেরেলভী তার নিজের সম্পর্কে লিখেছে, "মাথা ব্যথা ও জ্বর হলো সেই বরকতপূর্ণ রোগ যা নবী আলাইহিমুস সালামগণের হতো।" আরো সামনে এগিয়ে সে লিখেছে, আলহামদু লিল্লাহ যে, আমারও বারবার জ্বর ও মাথাব্যথা হয়েছে। জনাব আহমাদ রেযা এ চিত্র ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন যে, তার দৈহিক অবস্থা ও নবীগণের দৈহিক অবস্থার মধ্যে মিল রয়েছে। তার পবিত্রতা প্রমাণ করতে সে লিখেছে, "আবজাদী পদ্ধতিতে আমার জন্ম তারিখ কুরআনের সেই আয়াত হতে এসেছে যেখানে বলা হয়েছে: অউনাইকা কাতাবা ফী কুলুবিহিমুল ঈমান ওয়া আইয়াদাহুম বিরূহিম মিনহু - এরাই, যাদের অন্তরে আল্লাহ ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ দ্বারা তাদের শক্তিশালী করেছেন।" [২৭],[২৮]

আবার, তার অনুসারী কর্তৃক তার শিশুকাল সম্পর্কে লেখা হয়েছে, যখন তার বয়স চার বছরের কম ছিল, "তার শিক্ষক একটি নির্দিষ্ট আয়াতে বারবার 'ফাত্হাহ্' (যবর) দিয়ে পড়ছিলেন এবং সে কাসরাহ (যের) দিয়ে পড়ছিল। এ দেখে তার দাদা তাকে ডাকলেন এবং কুরআনের মুসহাফ চাইলেন। দেখলেন যে, মুসহাফে হারকাতে ভুল আছে। অর্থাৎ হুজুর সাইয়্যেদীর মুখ থেকে যে কাসরাহ' বের হচ্ছিল, তা সঠিক ছিল; এবং তখন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কেন সেভাবে তেলাওয়াত করছ না যেভাবে মৌলভী সাহেব তেলাওয়াত করছেন? তিনি জবাবে বলেন, "তিনি যেভাবে তেলাওয়াত করছেন আমিও সেভাবে তেলাওয়াত করার ইচ্ছা করছি কিন্তু আমি আমার জিহবাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না।" [২৯]

ফলাফল হলো 'আহমাদ রেযা "ভুল-ত্রুটি হতে রক্ষিত”- এর স্থান অর্জন করেছেন তার শিশুকাল থেকেই। বেরেলভীরা যে শুধু এমন ঘটনা বর্ণনার মাধ্যমে উপসংহারে পৌঁছতে চান, তাই নয় বরং তারা তাদের ইমাম ও প্রতিষ্ঠাতার ব্যাপারে পরিষ্কারভাবে তাদের এ আকীদার ঘোষণা দিয়েছে। অনুরূপ আব্দুল হাকীম কাদরী লিখেছে, "আহমাদ রেযার কলম এবং জিহবা সকল প্রকার বিচ্যুতি ও ভুল হতে রক্ষিত, যদিও জানি যে, একজন আলিম সর্বদা কোনো না কোনো প্রকারের ভুলের মধ্যে পতিত হন, কিন্তু আহমাদ রেযা থেকে একটি ক্ষেত্রেও এমনকি একটি ভুলও সংঘটিত হয়নি।" [৩০]

অপর একজন লিখেছেন, "আহমাদ রেযা বেরলভী তার মুখ দিয়ে কখনো শরীয়া বিরোধী কোনো কথা উচ্চারণ করেননি। আল্লাহ তাকে সকল প্রকার বিচ্যুতি ও ভুল থেকে হেফাজত করেছেন।” [৩১] আবার, "আহমাদ রেযা শিশুকাল হতেই ভুল-ত্রুটি হতে মুক্ত। সরল পথের অনুসরণ তার মধ্যে একটি বিশ্বস্ততা তৈরি করেছে।" [৩২] 'আনওয়ার রেযা'-র লেখক এতে লিখেছেন, "আল্লাহ তার কলম ও মুখকে সকল প্রকার ভুল থেকে মুক্ত রেখেছেন।” [৩৩] আরও বলা হয়েছে: "আহমাদ রেযা গাওসে আযমের হাতে তেমনি, একটি কলম একজন লেখকের হাতে যেমন এবং গাওসে আযম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাতে তেমনি, একটি কলম একজন লেখকের হাতে যেমন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওহী ব্যতীত নিজের থেকে কোনো কথা বলতেন না।" [৩৪]

আহমাদ রেযা সম্পর্কে একজন বেরেলভী লেখক বলেন- "আল্লাহর সন্তুষ্টি আল্লাহর রসূলের সন্তুষ্টিতে রসূলের সন্তুষ্টি বেরলভীর সন্তুষ্টিতে।" [৩৫] অপর একজন অনুসারী লিখেছে: "আহমাদ রেযার আবির্ভাব আল্লাহর নিদর্শনাবলি হতে একটি অন্যতম নিদর্শন।" [৩৬] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবীগণের বিদ্রুপকারীদের একজন তার ইমাম ও পীর সম্পর্কে লিখেছে, "আহমদ রেযার যিয়ারত (সাক্ষাত) সাহাবাগণের যিয়ারতের আকাঙ্ক্ষা কমিয়ে দিয়েছে।” [৩৭]

এসব বাতিল বাড়াবাড়ি করতে তারা মিথ্যা কল্পকাহিনী তৈরি করেছে, এগুলো মিথ্যা ছাড়া কিছুই নয়। বেরেলভীর এক অনুসারী এ বিষয়ের প্রমাণ দিতে গিয়ে লিখেছে: “একদা মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সে (তিনি) তার মসজিদের নিকটে উপস্থিত ছিলেন এবং আরবীয় পোশাকে একজন লোক এলেন এবং আরবীতে তার সাথে কথা বললেন। তিনি তার সাথে অনর্গল আরবীতে কথা বললেন। তারপর তাকে (আরবী পোশাক পরা লোকটিকে) আর কখনও দেখা যায়নি।" [৩৮] অপর একজন লিখেছে: "একদিন তার শিক্ষক বললেন, হে আহমদ! তুমি কি মানুষ, না জ্বিন! তোমার কাছে আসতে আমার সময় লাগে, কিন্তু তোমার শিখতে কোনো সময়ই লাগে না। ১০ বছর বয়সে, তার বাবাও তাকে শিক্ষা দিতেন। তিনি বলেন "তুমি আমার কাছ থেকে শিক্ষা নিও না, বরং (আমাকে) শিক্ষা দাও।" [৩৯] এখানে উল্লেখযোগ্য যে, তার শিক্ষক মির্জা গোলাম কাদের বেগ গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর ভাই ছিল। [৪০]

বাস্তাওয়ী সাহেব তার ইমামের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করে লিখেন, “তিনি ১৪ বছর বয়সে ডিগ্রী এবং দান্তর [৪১]-এর সম্মান অর্জন করেন এবং একইদিনে তিনি তার সম্মানিত পিতাকে একটি দুধপানের মাসআলার উত্তর প্রদান করেন। আর উত্তরটি সম্পূর্ণ সঠিক ছিল। এ থেকে তার সম্মানিত পিতা তার বুদ্ধিমত্তা ও তার মেধার পরিচয় পেয়েছিল এবং সেই দিন থেকে তিনি ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব নেন।”

এর পূর্বে তার ৮ বছর বয়সে উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে একটি জওয়াব লিখেন। যা ঘটেছিল তা হলো, তার সম্মানিত পিতা শহরের বাইরে ছিলেন, একটি প্রশ্ন এসেছিল এবং তিনি এর জওয়াব দিয়েছিলেন। তার সম্মানিত পিতা ফিরে আসার পর তিনি তাকে এটা দেখিয়েছিলেন। এটি দেখে তিনি বলেছিলেন, মনে হচ্ছে উত্তরটি আম্মান মিয়া কর্তৃক লেখা হয়েছে। তার এত আগেই লেখা উচিত নয়। কিন্তু একই সময়ে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, যদি কোনো মুরব্বী এমন উত্তর লিখত তবে এটি যথাযোগ্য হতো। [৪২] এ বক্তব্য প্রমাণ করে যে, আলা হযরত ৮ বছর বয়সেই ফতোয়া দেওয়া শুরু করেছিলেন, কিন্তু আহমাদ রেযা নিজে লিখেন, "আমি ১ম ফতোয়াটি দেই ১২৮৬ হিজরীতে যখন আমার বয়স ছিল ১৩ বছর এবং একই দিনে সালাত এবং অন্যান্য আহকাম আমার উপর ফরয হয়েছিল।" [৪৩] এর মানে বাস্তাওয়ী সাহেব বলছেন যে, আহমাদ রেযা মাত্র ৮ বছর বয়সে উত্তরাধিকারের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফতোয়া দেয়া শুরু করেছিল কিন্তু 'আহমাদ রেযা' নিজেই তার বিরোধিতা করেছে এবং বলেছে যে, ১৩ বছর বয়সে সে প্রথম ফতোয়া দেয়।

আরো অসম্ভব হলো বেরেলভীরা দাবি করে যে, সে তার লেখাপড়া শেষ করে এবং সে তার 'সনদ ফারেগাহ' (ফাইনাল ডিগ্রী) অর্জন করে যখন তার বয়স মাত্র ১৪ বছর। [৪৪] আরো অনেক বার তারা নিজেরাই মতবিরোধ করেছে এবং তাই "হায়াতে আলা হযরত”- এর লেখক জাফরুদ্দীন বিহারী লিখেছে, "আহমদ রেযা মাওলানা আব্দুল হক খারাবাদি থেকে কিছু বিশেষ জ্ঞান শিখতে চেয়েছিলেন কিন্তু তিনি তাকে শেখাতে রাজি হননি। তিনি কারণ উল্লেখ করেছেন যে, আহমাদ রেযা তার বিরোধিদের উপর রূঢ় ভাষা প্রয়োগ করেন।" [৪৫] বাস্তাওয়ী বলেন যে, যখন এ ঘটনা ঘটেছিল, তার বয়স তখন ২০ বছর। [৪৬] অনুরূপভাবে বেরেলভী সাহেবের এক অনুসারী লিখেছে, “আহমাদ রেযা সাইয়েদ আর রাসুল শাহ-এর সম্মানিত ছাত্র হয়েছিলেন ১২৯৪ হিজরীতে এবং তার কাছ থেকে হাদীসের উপর সনদ এবং অন্যান্য জ্ঞান লাভ করেছিলেন। [৪৭] জাফর বিহারী সাহেব বলে, তিনি সাইয়্যেদ আর রাসুল শাহ'র পুত্র আবুল হুসাইন আহমেদের নিকট হতে অনেক (বিষয়ে) জ্ঞান লাভ করেছিলেন ১২৯৬ হিজরীতে। [৪৮] যাহোক, একদিকে বেরেলভীরা ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছে যে, আহমাদ রেযা তের বা চৌদ্দ বছর বয়সে তার পড়ালেখা শেষ করে এবং অপরদিকে তারাই আবার এ বিষয়ে মতবিরোধ করে। এখন কে না জানে যে, ১২৭২ হিজরীতে যখন আহমাদ রেযা জন্মগ্রহণ করে, তখন থেকে ১২৯৬ হিজরী ২৬ বছর সময়। যদি ১২৯৬ হিজরীতে তখনও সে কিছু জ্ঞান অর্জন করতে থাকে, তবে এর দ্বারা কী বুঝায় যে, যখন তার বয়স ১৪ বছর তখন সে তার সনদে ফারেগাহ লাভ করে? কিন্তু কোনো একজন ব্যক্তি বেশ আগে বলেছিলেন, লা যাকিরাহ লিল কাযযাব অর্থাৎ মিথ্যাবাদীর কোনো স্মৃতি শক্তি নেই।

টিকাঃ
১. দায়িরাহ আল মা'আরিফ ৪র্থ খণ্ড, পৃ-৪৮৭
২. 'আলা হযরত বেরেলভী, বাস্তাওয়ী পৃ-২৫, আরও দেখুন, হায়াত আলা হযরত, জাফরুদ্দীন বিহারী রিযভী, করাচীতে প্রকাশিত।
৩. তাযকিরাতু উলামায়ে হিন্দ, পৃ-৬৪।
৪. হায়াত আলা হযরত, জাফররুদ্দীন বিহারী রিযভী, ১ম খণ্ড, পৃ- ১।
৫. আলা হযরত, বাস্তাওয়ী, পৃ-২৫।
৬. দ্রষ্টব্য: মান হুয়া আহমাদ রেযা, শুজা'আত কাদরী, পৃ-১৫।
৭. এ বইয়ের লেখক মাওলানা মুর্তজা হাসান দেওবন্দী।
৮. আলা হযরত, বাস্তাওয়ী, পৃ-২০
৯. হায়াত আলা হযরত, জাফরুদ্দীন বিহারী রিযভী, ১ম খণ্ড, পৃ- ৩৫
১০. মাজমূন হাসনাইন রাযা দারজ শাদাহ্ আলা হযরত বেরেলভী, পৃ- ২০-২১ দ্রষ্টব্য।
১১. 'আলা হযরত, বাস্তাওয়ী, পৃ-২৮।
১২. মালফুযাত আলা হযরত, পৃ-৬৪
১৩. চাপাতি: গমের তৈরি এক ধরনের ভাজা রুটি।
১৪. আনোয়ার রেযা, পৃ-৩২০।
১৫. হায়াত আলা হযরত, পৃ-৬৪।
১৬. প্রাগুক্ত, পৃ-২২।
১৭. আনোয়ার রেযা, পৃ- ৩৫৮।
১৮. আল-ফাযিল আল-বেরেলভী, মাসুদ আহমাদ, পৃ-১৯৯।
১৯. মুকাদ্দিমাহ মুকালাত রেযা, কুতাব, পৃ-৩০ লাহোরে প্রকাশিত।
২০. হায়াত আলা হযরত, পৃ-২১১
২১. তাকফীর: মুসলিমদের কাফির ঘোষণা দেয়া।
২২. প্রাগুক্ত, পৃ-২১১।
২৩. সরল বা একক, যৌগিক নয়।
২৪. যৌগিক।
২৫. আনুভূমিকভাবে কিংবা খাঁড়াভাবে বাঁকানো।
২৬. আনোয়ার রেযা, পৃ-৩৫৫; বাস্তাওয়ী, পৃ-২৭
২৭. (সূরা মুজাদালাহ ৫৮:২২)
২৮. হায়াত আলা হযরত, বিহারী পৃ-১।
২৯. বাস্তাওয়ী, পৃ-২৮; হায়াত আলা হযরত, পৃ-২২।
৩০. ইয়াদ আলা হযরত, আবদুল হাকীম শরফ আলকাদরী, পৃ-৩২
৩১. মুকাদ্দমা আল-ফতোয়া আর-রিভীয়া, ২য় খণ্ড, পৃ-৫, মুহাম্মদ আসগর আলী
৩২. আনওয়ার রেযা, পৃ-২২৩
৩৩. প্রাগুক্ত, পৃ-২৭১।
৩৪. প্রাগুক্ত, পৃ-২৭০।
৩৫. বাগে ফেরদৌস, আইয়ুব রিজভী, পৃ-৭
৩৬. আনওয়ার রেযা, পৃ-১০০।
৩৭. ওসীয়াত শরীফ, পৃ-২৪।
৩৮. হায়াতে আলা হযরত, বিহারী, পৃ-২২।
৩৯. মুকাদ্দিমা ফাতোয়া রিযভিয়া, ২য় খণ্ড, পৃ-৬।
৪০. বাস্তাওয়ী, পৃ-৩২।
৪১. দান্তর: (আলিমকে তার মাথায় পাগড়ী পড়ানোর দ্বারা সম্মানিত করার অনুষ্ঠান)।
৪২. আলা হযরত বেরেলভী, পৃ-৩২।
৪৩. আলা হযরত বেরেলভী, পৃ-৩২।
৪৪. হায়াতে আলা হযরত, বিহারী, পৃ-৩৩ দ্র. আরও দেখুন, আনওয়ার রেযা, পৃ- ৩৫৭ এবং অন্যান্য।
৪৫. বিহারী পৃ-৩৩; আনওয়ার রেযা, পৃ-৩৫৭।
৪৬. নাসীম বাস্তাওয়ী, পৃ-৩৫।
৪৭. আনওয়ার রেযা, পৃ-৩৫৬।
৪৮. হায়াত আলা হযরত, পৃ. ৩৪-৩৫।

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ২. বেরেলভীর বংশ, পরিবার ও পেশা

📄 ২. বেরেলভীর বংশ, পরিবার ও পেশা


আহমাদ রেযার পরিবার সম্পর্কে কেবল এতটুকু জানা যায় যে, তার পিতা ও দাদাকে হানাফি আলেমদের মধ্যে গণ্য করা হতো। যদিও আহমাদ রেযার বিরোধিরা অভিযোগ করে যে, তার পরিবার শিয়া ছিল এবং সে 'তাকিয়া' [৪৯] করতো এবং তার পুরো জীবনে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করেনি যাতে সে 'আহলুস সুন্নাহ'র মাঝে বসবাস করতে পারে এবং শিয়া আকীদা-বিশ্বাস প্রচার করতে পারে।

তার বিরোধিরা এর (শিয়া বিশ্বাস প্রচারের) যে সকল প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন সেগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. আহমাদ রেযার পিতা, দাদা ও তাদের পূর্ববর্তীগণের নাম শিয়াদের মাঝে পাওয়া নামের সাথে মিলে যায়। তার বংশ তালিকাসহ তার পূর্ণ নাম হলো- আহমাদ রেযা বিন নকী আলা বিন রেযা আলী বিন কাজিম আলী। [৫০]
২. বেরেলভী আহমাদ রেযা সাহাবী আবু বকর সিদ্দিক (রা) ও উম্মুল মু'মিনীন আয়শা (রা) এর বিরুদ্ধে এমন কিছু অসঙ্গত উক্তি করেছিল, যা মুখে উচ্চারণ করার মতো নয়।
৩. শিয়া মতবাদ হতে গৃহীত কিছু ভ্রান্ত আকীদা, রীতিনীতি প্রচারে সে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে, ইতঃপূর্বে যা আর কেউ করেনি। [৫১] যেমন, নবীদের গায়েব জানা, যা হবে ও যা হয়েছে এমন জ্ঞান নবীরা জানেন বলে বিশ্বাস করা, ইচ্ছা, শক্তি ইত্যাদি।
৪. জনাব আহমাদ রেযা সাহেব তার অনেক লেখায় সেই সকল বর্ণনা (হাদীস) ব্যবহার করেছিল যা শিয়াদের বিশিষ্ট বর্ণনা এবং এসকল বর্ণনা (হাদীস) আহলুস সুন্নাহর আকীদার সাথে কোনোই সম্পর্ক নেই। উদাহরণস্বরূপ: ক. আলী (রা) কিয়ামত দিবসে জাহান্নাম বিতরণ করবেন। [৫২] খ. ফাতিমা (রা) এর এ নাম রাখা হয়েছিল কারণ আল্লাহ তাঁকে এবং তাঁর বংশধরদেরকে আগুন হতে রক্ষা করেছেন। [৫৩] গ. শিয়াদের ইমামগণকে পবিত্র ঘোষণা করে এ আকীদার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে যে, আগওয়াস (গাওস এর বহুবচন। অর্থ সাহায্যকারী, ত্রাণকর্তা) আলী (রা.)-এর মাধ্যমে শুরু হয়েছে এবং হাসান আসকারী পর্যন্ত চলেছে। যার মধ্যে শিয়াদের ১১ জন ইমাম আছে। [৫৪]
ঘ. আহমাদ রেযা সকল সাহাবীগণকে পরিত্যাগ করেছে এবং আলী (রা.)-কে 'মুশকিল কোশা' (বিপদ দূরকারী) বলে ঘোষণা করেছে। সে বলেছে: “যে বিখ্যাত সাইফী দুআ (যা শিয়াদের আকীদা প্রতিফলিত করে) দ্বারা প্রার্থনা করবে, তার বিপদ দূর হয়ে যাবে।” সাইফী দুআটি হলো: "আলীকে ডাকো, যিনি 'কারামত' (অলৌকিক কার্য) দেখিয়েছেন। তুমি তাঁকে সাহায্যকারী হিসেবে পাবে। হে আলী! আপনার বেলায়েতের (ওলীত্বের) মধ্যস্থতায় সকল দুঃশ্চিন্তা দূর হয়ে যায়।" [৫৫], [৫৬]
ঙ. অনুরূপভাবে, সে 'পাক পাঞ্জাতন' পরিভাষাটি কে সুবিদিত করেছে এবং এ কবিতা ব্যাপকভাবে (সবার মাঝে) ছড়িয়ে দিয়েছে। "এমন পাঁচজন ব্যক্তি রয়েছেন, যাদের বরকত সকল দুঃখ-কষ্ট দূর করে দেয়। (তাঁরা হলেন) মুহাম্মদ মুস্তফা, আলী, হাসান, হুসেইন ও ফাতিমা।” [৫৭]
চ. শিয়াদের আকীদার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ একটি প্রবন্ধ “জাফর” কে দৃঢ়ভাবে সমর্থন ঘোষণা করে তার বই 'খালিসুল ইতিকাদ' এ সে লিখেছে: 'জাফর' হলো চামড়া দিয়ে তৈরি একটি বই, যা ইমাম জাফর কর্তৃক “আহল-বাইত" এর জন্য লেখা হয়। এতে প্রয়োজনীয় সকল জিনিসের উল্লেখ আছে। অনুরূপভাবে, কিয়ামত পর্যন্ত যেসকল ঘটনা ঘটবে, তার সবকিছু এতে উল্লেখ করা আছে।" [৫৮], [৫৯]
ছ. অনুরূপভাবে, সে শিয়াদের পরিভাষা "আল-জামিয়াহ” উল্লেখ করে লিখেছে যে, আল-জামিয়াহ হলো সেই সহীফা (বই) যাতে আলী (রা.) বিশ্বের সকল ঘটনা বর্ণমালার ক্রম অনুযায়ী লিখেছেন। তার সন্তানদের ইমামগণও এ সকল ঘটনাবলি সম্পর্কে অবগত ছিলেন।" [৬০]
জ. জনাব বেরেলভী শিয়াদের আরেকটি বর্ণনা উল্লেখ করেছে যে, “イমাম রেযা (শিয়াদের ৮ম ইমাম)-কে এমন একটি দুআ শিক্ষা দিতে বলা হয়েছিল যা তারা আহলে বাইতের কবরের কাছে পাঠ করবে। তখন তিনি বলেছিলেন যে, 'কবরের কাছে যাও এবং চল্লিশবার 'আল্লাহু আকবার' পড় এবং বল, 'আস্সালামু আলাইকুম ইয়া আহলে বাইত।' হে আহলে বাইত! আমি আল্লাহর সামনে তোমাদেরকে ওয়াসীলা বানাচ্ছি আমার সমস্যা ও আমার অসুস্থতার জন্য আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আহলে বাইতের শত্রুদের থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করছি।" [৬১]

তার মানে সে এমন সব বর্ণনা (হাদীস) কে পরিচিত (মাশহুর) করেছে যাতে মুসলিমদের নিকট শিয়াদের ইমামদেরকে সাদরে গ্রহণীয় করে বর্ণনা করতে পারে এবং তাদেরকে সাহাবীগণ ও আহলুস সুন্নাহর আলেমগণের চেয়ে উত্তম হিসেবে ঘোষণা করতে পারে। যদিও শিয়াদের ইমামদের শাজরানামার সাথে এবং এসকল (জাল) বর্ণনার সাথে আহলুস সুন্নাহ'র কোনো সম্পর্ক নেই।

ঝ. জনাব আহমাদ রেযা "শিয়াদের তাজিয়াহ" কে গ্রহণযোগ্য করার উদ্দেশ্যে তার বইতে লিখেছে যে, হুসাইনের কবরের হুবহু নকল (রেপ্লিকা) তোমার ঘরে রাখাতে কোনো দোষ নেই, যেনো তুমি তা থেকে বরকত হাসিল করতে পার। [৬২] এরকম আরো অনেক উদাহরণ তার বই ও লিখনীতে পাওয়া যাবে।

আহমাদ রেযার বাইয়াতের ধারাবাহিকতা শিয়া ইমামদের মধ্যস্থতায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছাত, তা তিনি নিজেই আরবীতে উল্লেখ করেছেন। [৬৩]
اللهم صل و سلم وبارك على سيدنا مولانا محمد المصطفى رفيع المكان المرتضا على الشان الذى رجيل من امته خير من رجال من السالفين وحسين من زمرতে أحسن من كذا وكنا حسنا من السابقين السيد السجاد زين العابدين باقر علوم الانبياء والمرسلين ساقى القوثر ومالك تسنيم وجعفر الذى يطلب موسى الكليم رضاريه بالصلاة عليه

এমনকি সাধারণ জ্ঞান সম্পন্ন আলিমই এর আনাড়িপনা, (শব্দের) অসংগতি এবং উদ্দেশ্যহীনতা বুঝতে পারবে। এ ধরনের লোকের জন্য এ দাবি করা যে, 'তিন বছর বয়স থেকে সে অনর্গল আরবীতে কথা বলতো' পুরোপুরিই অবাস্তব!! নিচের বাক্যাংশের গঠন কতই না অসংগত!
وحسين من زمرته أحسن من كذا وكنا حسنا من السابقين
يطلب موسى الكليم رضاريه بالصلاة عليه - এর মধ্যে - موسى الكليم দ্বারা কাকে বোঝানো হয়েছে? যদি মূসা কাজিম উদ্দেশ্য হয়; তবে 'কালিম' দ্বারা কী বুঝায়? যদি নবী মূসা আলাইহিস সালাম উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তবে কি মূসা (আ.) (মা'যা আল্লাহ) ইমাম জাফর সাদিকের উপর দরূদ পাঠাতেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রত্যাশা করতেন? উভয় দিক দিয়েই এ অনুচ্ছেদটি পুরোটাই শব্দের অসংগত ব্যবহার এবং পুরো অর্থহীনতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এ যুক্তির সারমর্ম হলো, আহমাদ রেযা নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে শিয়া ইমামগণের উল্লেখের মাধ্যমে মুসলিমদেরকে শিয়া রাফিজীদের অধিকতর নিকটে আনার চেষ্টা করেছে।

৬. জনাব বেরেলভী ভারতীয় উপমহাদেশে (প্রকৃত) আহলুস সুন্নাহর আলেমদের উপর তাকফীর করেছে এবং ফতোয়া জারি করেছে যে, তাদের মসজিদ ও বাড়ি-ঘরের হুকুম একই এবং সেগুলোকে (মসজিদগুলোকে) আল্লাহর ঘর মনে করা ঠিক নয়। [৬৪] অনুরূপভাবে সে (প্রকৃত) আহলুস সুন্নাহদের সাথে বসা এবং তাদের বিবাহ করা হারাম ঘোষণা করেছে। এরপর বিপরীতে, যখন শিয়ারা প্রথম 'ইমাম বাড়া' [৬৫] তৈরী করে, তখন শিয়ারা বেরেলভীতে এসে তার কাছে একটি নাম রাখার আবেদন করে। তখন সে আবজাদী পদ্ধতি অনুসারে নাম রাখার সুপারিশ করে। [৬৬]

৭. আহমাদ রেযা বেরেলভীর প্রতি অভিযোগ রয়েছে যে, সে ছিল একজন শিয়া রাফেযী। কারণ সে শিয়াদের মতই শিয়াদের ইমামগণের প্রশংসায় অনেক অতিরঞ্জিত কাসীদা (কবিতা) রচনা করেছে। [৬৭]

টিকাঃ
৪৯. তাকিয়া: শিয়া আকীদার স্বতন্ত্র অংশ যেখানে কোনো ব্যক্তি তার প্রকৃত বিশ্বাসকে লোকদের থেকে লুকিয়ে রাখে এবং বাহ্যিকভাবে কোনো বিষয়ে সম্মতি দেখায়।
৫০. হায়াতে আলা হযরত' পৃ-২।
৫১. ফতওয়া বেরেলভীয়া, পৃ-১৪।
৫২. আলামান ওয়াল আলী, আহমাদ রেযা বেরেলভী, পৃ-৫৩।
৫৩. খতমে নবুয়াত, আহমাদ রেযা, পৃ-৯৭।
৫৪. মালফুযাত, পৃ-১১৮।
৫৫. আল আমান ওয়াল আলী, পৃ-১২-১৩
৫৬. এটি শিয়াদের বানানো একটি জাল হাদীস যা এ বেরেলভীগণ ও তার অনুসারী কবরপূজারী যেমন দেওয়ানবাগী, মাইজভাণ্ডারী, আটরশী, রাজারবাগী, সুরেশ্বরী, চন্দ্রপাড়া, বারো শরীফ ইত্যাদির দোসররা সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলন করেছে। একে এরা দলীল বানিয়ে এসব বিভ্রান্তিকর শিরকী আকীদা প্রচার করছে। যেমন- মোল্লা আলী কারী বলেন, শিয়াদের বানানো একটি ঘৃণ্য জাল ও মিথ্যা কথা: "আলীকে ডাক, সে আশ্চর্য কর্মাদি প্রকাশ করে, তাকে তুমি বিপদে আপদে তোমার সহায়ক পাবে। হে মুহাম্মদ, আপনার নবুয়াতের ওসীলায়। হে আলী, আপনার বেলায়েতের ওসীলায়।" (মোল্লা আলী কারী, আল-আসরার, পৃ-২৬৫- ২৬৬; আজলুনী, কাশফুল খফা ২/৪৮৯) উল্লেখ্য যে, আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য যে কোনো মৃত বা অনুপস্থিত ব্যক্তিকে ডাকা বা তার কাছে দুআ করা বড় শিরক। (ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, হাদীসের নামে জালিয়াতি, পৃ-৪০৯-৪১১)
৫৭. ফতোয়া রিযভিয়‍্যাহ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ-১৮৭।
৫৮. খালিসুল ইতিকাদ, আহমাদ রেযা, পৃ-৪৭।
৫৯. এটিও শিয়াদের বানোয়াট বর্ণনার অন্যতম। যেমন "আবূ আবদিল্লাহ (জাফর সাদিক) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি অবশ্যই আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে, তা জানি এবং আমি আরও জানি জান্নাত ও জাহান্নামে যা কিছু আছে। আর যা হয়েছে এবং যা হবে, তাও আমি জানি।” (আল্-কুলাইনী, উসূলুল কাফী, পৃ-১৬০; হাদীসের নামে জালিয়াতি দ্র.)
৬০. খালিসুল ইতিকাদ, আহমাদ রেযা, পৃ-৪৭।
৬১. ফতোয়া রিজভীয়্যাহ, আহমাদ রেযা, ৪র্থ খণ্ড, পৃ-২৯৯।
৬২. রিসালাহ বদরুল আনোয়ার, পৃ-৫৭।
৬৩. আনওয়ার রেযা, পৃ-২৭।
৬৪. মালফুযাত, পৃ-১০৪ দ্র.।
৬৫. ইমাম বাড়া: শিয়াদের মুহাররম অনুষ্ঠানের তীর্থস্থান।
৬৬. ইয়াদ আলা হযরত, পৃ-২৯।
৬৭. হাদায়িক বাকশীশ, আহমাদ রেযা, বহু পৃষ্ঠায় এর প্রমাণ দেখুন।

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ৩. আয়ের উৎস

📄 ৩. আয়ের উৎস


আহমাদ রেযা বেরেলভীর পেশা সম্পর্কে অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। বলা হয়েছে যে, তার পরিবার ছিল কৃষিনির্ভর পরিবার। পরিবারের খরচের জন্য বাৎসরিক পরিমাণে অর্থ গ্রহণ করতেন, যা দিয়ে সে ব্যয় নির্বাহ করতো। [৬৮] মাঝে মাঝে বাৎসরিক অর্থের পরিমাণ অপর্যাপ্ত হতো এবং তাকে ঋণের আশ্রয় নিতে হতো, কারণ (মাঝে মাঝে) তার পোষ্টাল স্ট্যাম্প কেনার মত অর্থ থাকতো না। [৬৯]

আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঊর্ধ্বতন (অলৌকিক) দাতা হতেও সে অর্থ-সম্পদ পেত। জাফর উদ্দীন বিহারী কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে যে, বেরেলভী সাহেবের একটি তালাবদ্ধ সিন্দুক ছিল সেটি কেবল প্রয়োজনের সময়ই খুলতো এবং যখনই এটা খুলতো তখন পুরোটা খুলতো না। সে এর ভেতরে হাত ঢুকিয়ে গলিয়ে দিত এবং অর্থ, গহনা, কাপড়-চোপড় অথবা যা ইচ্ছা বের করতো। [৭০]

জনাব বেরেলভীর পুত্র বলেন যে, আহমাদ রেযা প্রায়ই তার বন্ধু-বান্ধব ও অন্যান্য লোকদের মাঝে অলংকার ও অন্যান্য জিনিস বিতরণ করতো। আর এ সবগুলো জিনিসই তিনি এ ছোট সিন্দুক হতে নিত। আমরা আশ্চর্য হতাম যে, এত জিনিস এটা থেকে কিভাবে আসে। [৭১]

তার বিরোধিরা অভিযোগ করে যে, কোনো দৈব হাত (দাতা) ও তালাবদ্ধ সিন্দুক বলে কিছু ছিল না। এটা ছিল ইংরেজ সাম্রাজ্যের হাত যা মুসলিমদের মাঝে বিভক্তি ও ফাটল সৃষ্টি ও অন্যান্য উদ্দেশ্য পূরনের জন্য তাকে এসকল সম্পদ প্রদান করতো। [৭২]

আমার অভিমত এই যে, তার অধিকাংশ সম্পদ ছিল দান ও আমানত রাখা অর্থ, যেমন এখানে এ প্রথাটি সাধারণভাবে পরিলক্ষিত হয় যে, গ্রামবাসীরা তাদের মধ্যকার শিক্ষিত/জ্ঞানী ব্যক্তির নিকট তাদের সহায়-সম্পদ ও মূল্যবান জিনিসপাতি আমানত রাখত এবং তাদের জন্য এটি ছিল জীবনধারনের উপায়।

তার এক অনুসারী বলেছে, “একদা (আহমাদ রেযা) এক 'ডামডি' [৭৩] খরচ করার মত ও কোনো অর্থ তার কাছে ছিল না। সে সারা রাত চিন্তিত ছিল। সকালে একজন ব্যবসায়ী এসে গেল এবং তাকে ৫১ রুপি দান করল। [৭৪] একবার তার হাতে এমনকি পোষ্টাল স্ট্যাম্প কেনার মতোও কোনো অর্থকড়ি ছিল না এবং তার একজন মুরীদ তাকে ২০০ রুপী পাঠালেন। [৭৫]

জমিদারী এবং তালাবদ্ধ সিন্দুকের ব্যাপার হলো, এর কোনো সত্যতা নেই। কোনো সূত্রের মাধ্যমেই প্রমাণিত নয় যে, তার পরিবার কৃষিকাজের সাথে জড়িত ছিল, অলৌকিক কর্মের এবং সিন্দুকের কিচ্ছা-কাহিনী তার অনুসারীরা তার মান-মর্যাদা বাড়াতে বানোয়াটভাবে তৈরী করেছে। এসবই ভিত্তিহীন কথা। তাহলে এটি কিভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, সিন্দুক থাকা সত্ত্বেও সে অর্থ ধার নিয়েছে এবং তার অনুসারীদের নিকট হতে অর্থ গ্রহণ করতে হয়েছে?

টিকাঃ
৬৮. আনোয়ার রেযা, পৃ. ৩৬০।
৬৯. হায়াতে আলা হযরত, পৃ-৫৮।
৭০. আলা হযরত বাস্তাওয়ী পৃ-৭৫, আনওয়ার রেযা, পৃ-৫৭।
৭১. হযরত আলা হযরত, পৃ-৫৭।
৭২. সামনের পৃষ্ঠাগুলোতে এর বিস্তারিত বিবরণ আসছে।
৭৩. ডামডি: মূদ্রার ক্ষুদ্রতর একক (যেমন আনা, পয়সা)
৭৪. হায়াতে আলা হযরত, পৃ-৫৬।
৭৫. প্রাগুক্ত, পৃ-৫৮।

📘 বেরেলভী মতবাদ আকীদাবিম্বাস ও ইতিহাস 📄 ৪. অভ্যাস ও আচরণ

📄 ৪. অভ্যাস ও আচরণ


বেরেলভী আহমাদ রেযা প্রায়ই পান চিবাত এবং তা এতই অধিক পরিমাণে ছিল যে, রমযানে ইফতারের পরে সে কেবল পানের উপরেই সন্তষ্ট হয়ে যেতো। [৭৬] আবার সে হুক্কা খেত। অন্যান্য খাদ্য ও পানীয়ের উপর সে হুক্কাকে প্রাধান্য দিত এবং এখানে সচরাচর যাদেরকে দেখা যায়, এধরনের সেকেলে ও অসভ্য লোকদের মতো সে হুক্কা দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন করতো। [৭৭]

মজার বিষয় জানা যায় যে, বেরেলভী আহমাদ রেযা কর্তৃক বর্ণিত যে, "আমি হুক্কা পানের সময় বিসমিল্লাহ বলতাম না যাতে শয়তানও এতে আমার সাথে অংশীদার হতে পারে। [৭৮] তার একটা অভ্যাস ছিল লোকদের পদচুম্বন করা। তার এক মুরীদ লিখেছে, “সে হযরত আশরাফী মিয়ার পদচুম্বন করতেন। [৭৯] একটি বর্ণনানুযায়ী, কোনো ব্যক্তি হজ্জ সমাপন করে ফিরে এলে, সে তার পদচুম্বন করতো। [৮০]

টিকাঃ
৭৬. আনোয়ার রেযা, পৃ-২৫৬।
৭৭. হায়াতে আলা হযরত, পৃ-২৭।
৭৮. মালফুযাত।
৭৯. আযকার হাবীব রেযা... পৃ-২৪।
৮০. আনওয়ার রেযা, পৃ-৩০৬।

ফন্ট সাইজ
15px
17px