📄 শাইখ ইহসান ইলাহী যহীর রহিমাহুল্লাহর সংক্ষিপ্ত জীবনী
(১৩৬৩ হি./১৯৩৬ খ্রি. – ১৪০৭ হি./১৯৮৬ খ্রি.)
জন্ম: শায়খ ইহসান ইলাহী যহীর বিন যুহুর ইলাহী বিন আহমাদুদ্দীন বিন নাযম বিন আলতাফ 'সীথি' বংশের লোক। তিনি পাকিস্তানের পাঞ্জাবের শিয়ালকোটে ১৩৬৩ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন।
শিক্ষাজীবন: তিনি নয় বছর বয়সে কুরআনের হাফেয হন, একই সাথে ইবতেদায়ী মাদ্রাসার পড়া শেষ করেন। অতপর তিনি বিভিন্ন আলেমদের নিকট দীনের বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। শায়খ ইহসান মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে যান এবং ১৯৬১ সনে সেখানে ভর্তি হন। যখন তিনি মদীনাতে স্নাতক শেষ করেন, তখন ভালো ফলাফলের জন্য তাকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করার প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু তিনি এ প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে বলেন, "আমাকে আমার নিজের দেশের বেশি প্রয়োজন।"
দেশে ফিরে তিনি পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে (كلية الحقوق والعلوم السياسة) এ বিষয়ে ভর্তি হন ও অনার্স শেষ করেন। একই সাথে তিনি লাহোরের আহলে হাদীস বড় মসজিদে খুতবা দিতেন। তিনি পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে (الشريعة، واللغة العربية، والفارسية والأردية، والسياسة) এ ৫ টি বিষয়ে এবং ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে (الحقوق) এ ১ টি বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন।
বাতিল ফিরকার বিরুদ্ধে সোচ্চার: তিনি বাতিল বিভ্রান্ত বিভিন্ন দল যেমন কাদিয়ানী, হাদীস অস্বীকারকারী, সমাজতন্ত্রী ইত্যাদি খণ্ডন করেন। তিনি সারাজীবন আল্লাহর পথে দাওয়াহ'র কাজে ব্যয় করেছেন। সেটা বই লেখা, লেকচার, কনফারেন্স, পত্রিকা প্রকাশ, রাজনীতি করা, খুতবা দেওয়া, বিতর্ক বাহাস করা অথবা যে মাধ্যমেই হোক না কেন, সবই ছিল সঠিক আকীদা-বিশ্বাস তথা সালফে সলেহীনদের আকীদা ও মানহাজ অনুসরণে কুরআন সুন্নাহর দিকে আহ্বান। তিনি হলেন আল আল্লামা আদ দাইয়্যাহ আল মুজাহিদ। আল্লাহ তাকে রহম করুন, সর্বোচ্চ পুরস্কার দিন তার প্রচেষ্টার জন্য এবং আরও বাড়িয়ে দিন নিজের পক্ষ থেকে। আমীন।
dাওয়াহ ইলাল্লাহ: তিনি তার জীবনের অধিকাংশ সময় নিয়োজিত করেছিলেন দাওয়াহ ইলাল্লাহ'র জন্য। তিনি খুতবা, বক্তৃতা, বিতর্ক-বাহাস ইত্যাদির জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত সফর করেছেন। যেমন আফ্রিকা, আরব বিশ্ব, মধ্য প্রাচ্য, ইউরোপ ও এশিয়া। লেকচার বা বক্তব্য প্রদানের জন্য যেসকল দেশ সফর করেছেন তার মধ্যে রয়েছে, কুয়েত, সৌদি আরব (বহু বার), ইরাক (বহু বার) ও আমেরিকা। তিনি রাজনীতিে প্রবেশ করেছিলেন এবং বহুবার বন্দী হয়েছেন বিভিন্ন সরকারের আমলে তার অনমনীয়তার জন্য এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ক্ষেত্রে তিনি বড়-ছোট বাছ-বিচার করতেন না। শায়খ বেরেলভী ও তাদের আকীদা বিশ্বাস সম্পর্কে লিখেছেন এবং নিঃসন্দেহে এ বইটি নেতাদের এবং রাজনীতিবিদদের সঙ্গে তার আপসহীনতার একটি দৃষ্টান্ত, কারণ অধিকাংশ লোকই তখন বেরেলভী মতাবলম্বী ছিল।
শায়খ ছিলেন একজন সদাচারী, নেককার, দয়ালু, দৃঢ় ঈমানের অধিকারী, দীনের ব্যাপারে অত্যন্ত দৃঢ়, সত্যকে রক্ষার ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ, যিনি প্রায়ই দীন রক্ষার ব্যাপারে তা দেখিয়েছেন। তিনি সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজে নিষেধ করেছেন এবং বক্তব্য ও লেখনীর দ্বারা পাকিস্তানে সঠিক আকীদা ও ইসলামী শরীয়াত প্রয়োগের দিকে আহ্বান করার ক্ষেত্রে সাহসী ভূমিকা পালন করতেন এবং একে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। একটি সংগ্রাম, জিহাদ, জ্ঞান অন্বেষণ, শিক্ষা গ্রহণ এবং পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে যেমন- মসজিদ, মজলিস, কনফারেন্সে আল্লাহর পথে দাওয়াহ ইত্যাদি কাজ আঞ্জাম দেওয়া শেষে তার মৃত্যু হয়।
শায়খের লেখনী:
১. الشيعة والسنة (۱۳৯৩هـ).
২. الشيعة وأهل البيت (١٤٠٣هـ) وهي الطبعة الثالثة.
৩. الشيعة والتشيع فرق وتاريخ.
৪. الإسماعيلية تاريخ وعقائد (١٤٠٥هـ).
৫. البابية عرض ونقد.
৬. القاديانية (١٣٧٦هـ).
৭. البريلوية عقائد وتاريخ (١٤٠٣هـ)
৮. البهائية نقد وتحليل (١٩٧٥م).
৯. الرد الكافي على مغالطات الدكتور علي عبدالواحد وافي (١٤٠٤هـ).
১০. التصوف، المنشأ والمصادر الجزء الأول (١٤٠٦هـ).
১১. دراسات في التصوف وهو الجزء الثاني.
১২. الشيعة والقرآن (١٤٠٣هـ).
১৩. الباطنية بفرقها المشهورة.
১৪. فرق شبه القارة الهندية ومعتقداتها.
১৫. النصرانية.
১৬. القاديانية باللغة الإنجليزية.
১৭. الشيعة والسنة بالفارسية.
১৮. كتاب الوسيلة بالإنجليزية والأوردية.
১৯. كتاب التوحيد.
২০. الكفر والإسلام بالأوردية.
২১. الشيعة والسنة بالفارسية والإنجليزية والتايلندية.
শায়খের মৃত্যু:
২৩ শে রজব ১৪০৭ হিজরীতে লাহোরের নাদওয়াতুল উলামাতে বক্তৃতা চলাকালে বোমা মেরে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। সে সময় ৭ জন আলেম মারা যান ও শায়খ ইহসান ইলাহী যহীর রহিমাহুল্লাহ গুরুতর আহত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য শায়খ ইবনে বায রহিমাহুল্লাহর সুপারিশে বিশেষ বিমানে সউদী আরবে নিয়ে যাওয়া হয়। ১লা শাবান ১৪০৭ হিজরীতে সউদী আরবের রিয়াদে মারা যান। বিমান যোগে মদীনা মুনাওয়াতে নিয়ে আসা হয় এবং বাকী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
📄 লেখকের ভূমিকা
বিস্মিল্লাহির রহমা-নির রহীম
সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য যিনি ব্যতীত সত্য কোনো উপাস্য নেই এবং তিনি একক ও অদ্বিতীয়। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি, যার পরে আর কোনো নবী নেই, আর তাঁর পরিবার-পরিজনের প্রতি, তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণের প্রতি এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর প্রতি আনুগত্য ও বিশ্বস্ততা প্রদর্শন করবে তাদের প্রতিও।
অতঃপর আমি পাঠকদের সামনে পাক-ভারত উপমহাদেশের বিভিন্ন ফিরকার মধ্যে একটি নতুন ফিরকা সম্পর্কে একটি নতুন বই উপস্থাপন করছি। আর তা হলো বক্ষমান বই "আল-বেরেলভীয়্যাহ: আকাইদ ওয়াত তারিখ" বা "বেরেলভী মতবাদ: আকীদা বিশ্বাস ও ইতিহাস"।
এর সূচনা ও আকীদা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এ ফিরকা এখন উপমহাদেশের অন্যতম ফিরকা যা অনেকগুলো বিদআতী এবং অন্ধবিশ্বাসী বা কুসংস্কারাচ্ছন্ন ফিরকার জন্ম দিয়েছে যেগুলো বিভিন্ন নামে এবং বিভিন্ন আকৃতিতে মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। এজন্য ভাবলাম যে, এদের উপর আমি আরবী ভাষায় একটি বই লিখব, যেভাবে আমি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত অন্যান্য ফিরকা সম্পর্কে লিখেছি।
যেকোনো দেশের কোনো পাঠক যখন এ বইটিতে তাদের আকীদা বিশ্বাস ও তাদের শিক্ষা-উপদেশাবলি পড়বে, তখন তার মনে হবে যেন সে তার নিজের দেশে কিংবা সারা মুসলিম বিশ্বে বিভিন্ন নামে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ফিরকা। যেমন: তিজানিয়্যাহ, সানুসিয়্যাহ, মালিদাবিয়্যাহ, কাদরিয়া, চিশতিয়া, রিফাঈ এবং অন্যান্য ফিরকাসমূহের সম্পর্কেই সে পড়ছে।
(১) এসকল দেশের কিছু অধিবাসীরা বংশানুক্রমিকভাবে তাদের পূর্বপুরুষদের থেকে প্রাপ্ত সামান্য কিছু রসম-রেওয়াজ ও আচার-অনুষ্ঠান ছাড়া ইসলাম সম্পর্কে কিছুই জানে না।
(২) তারা কষ্টসাধ্য ইবাদত পালন এবং দীনের ফরয, ওয়াজিব দায়িত্ব হতে অব্যহতি লাভ হিসেবে অজ্ঞাত ওলী ও সুফী শায়খদের নিকট নযর-মানত, কুরবানী করাকে অবলম্বন করেছে।
(৩) অথবা প্রত্যেক বৃহস্পতিবার এবং বছরের নির্দিষ্ট কিছু দিনে তারা যাদেরকে ওলী ও সৎব্যক্তি মনে করে তাদের কবর (মাজার) যিয়ারত করে, কবরে 'উরস' বা মৃত্যুদিবস পালন করে, মীলাদ বা জন্মদিবস উদযাপন করে এবং অনুরূপ অন্যান্য মন্দ আচার অনুষ্ঠান পালন করা যা পার্শ্ববর্তী অমুসলিম দেশ যেমন- হিন্দু, মাজুসী-অগ্নিপূজক এবং মূর্তিপূজারীদের থেকে মুসলিম সমাজে অনুপ্রবেশ করেছে। ইতিহাসে সুপরিচিত সবচেয়ে জঘন্য সাম্রাজ্যবাদ তথা ইংরেজ ক্রুসেডারদের কিছু কিছু দেশের উপর আধিপত্য লাভের পরে সেসকল দেশ এসকল শয়তানী আচার-অনুষ্ঠান তাদের থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছে।
(৪) সামান্য জ্ঞানসম্পন্ন লোকও জানে যে, ইসলাম আমলের ধর্ম, কিন্তু সাধারণ মুসলিমদেরকে আমল ও আকীদা বিশ্বাস থেকে দূরে রাখা হয়েছে, কেবল সেই ব্যক্তি বাদে 'যে স্বীয় রবের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে এবং কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজকে বিরত রাখে'।
(৫) তাই তাদের কোনো আমলও নেই, কোনো আকীদা বিশ্বাসও নেই। তারা দীনকে সংক্ষেপ করে নিয়েছে, এতে পরিবর্তন সাধন করেছে এবং তারা আমলের পরিবর্তে কুসংস্কার, গতানুগতিক আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব-উদযাপনকে আঁকড়ে ধরেছে।
পাঠকরা এ বইতে সেসকল বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা দেখতে পাবেন যা আসল নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহ থেকে প্রমাণিত, যেভাবে এসকল বিষয়াবলি তিনি তাদের বাস্তব অনুশীলনে বিদ্যমান দেখতে পাবেন।
বাতিল ফিরকা ও স্বার্থান্বেষী দলসমূহ যেমন কাদিয়ানী, বাবী, বাহাঈ, বাতিনী এবং শিয়াদের সম্পর্কে লেখার পরে বেরেলভীদের সম্পর্কে লেখার কোনো ইচ্ছা আমার ছিল না, কারণ আমি ভেবেছিলাম যে, এ ফিরকাটি হলো অজ্ঞতার ফলশ্রুতি। জ্ঞান যতই ছড়িয়ে পড়বে, অজ্ঞতা দূরীভূত হবে এবং গুণী সম্প্রদায় আলোকিত হবে, ততই তাদের আমলের তিক্ততা এ আবেগকে প্রশমিত করবে, তাদের প্রচেষ্টা ততই সংকুচিত হয়ে আসবে এবং তাদের অবস্থা উল্টে যাবে। তাদের এবং মুসলিম বিশ্বের অনুরূপ অন্যন্য ফিরকার এ অবস্থা ঘটবে। কিন্তু আমি লক্ষ্য করলাম যে, তাদের কাজ-কর্ম বেড়েই চলছে এবং বহিঃদেশসমূহে একই আকীদা-বিশ্বাস পোষণকারী তাদের ভ্রাতৃবৃন্দের সহযোগিতায় তাদের প্রচেষ্টা বৃদ্ধি পাচ্ছে যাতে তারা তাদের বাতিল ও মিথ্যা আকীদা-বিশ্বাস ছড়িয়ে দিতে পারে এবং ইসলামের সুপ্রাচীন শুভ্র চেহারাকে বিকৃত করতে পারে।
কিচ্ছা-কাহিনী, নির্বোধ ও ভিত্তিহীন আকীদা-বিশ্বাস, কথাবার্তা, ধোঁকাবাজি; যেমন নবী ও ওলীগণের অলৌকিক ক্ষমতা, পীর ও সুফীদের কর্তৃত্ব-ক্ষমতা, ফিদইয়া ও নযর মানতকে সালাত, যাকাত ও হাজ্জের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা এবং এভাবে সাধারণ লোকদের কে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করার মাধ্যমে তারা এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
যারা কুরআন সুন্নাহর অনুসারী এবং আল্লাহর একত্বের দিকে আহ্বান করে, আল্লাহকে তাঁর প্রতিপালনে ও সার্বভৌম ক্ষমতায় (রুবুবিয়াতে) একত্বের পবিত্রতায় বিশ্বাস রাখে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর নবুয়াতের একত্বে বিশ্বাস রাখে এবং যারা কঠোরভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহর অনুসরণ করে এবং মুসলিমদেরকে ওলী ও সুফী শায়খদের বাণীর পরিবর্তে কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরে থাকার জন্য উদ্বুদ্ধ করে, তাদের সাথে এরা প্রতারণা করে এবং তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে।
যে ব্যক্তি আমল করার এবং কুরআন সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে অবিচল থাকার দিকে আহ্বান করে, এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকেই তারা 'ওয়াহাবী' ও 'নবী-ওলীদের অসম্মানকারী' বলে বিষোদগার করে।
উপরন্তু, যারা তাদের কুসংস্কারসমূহে বিশ্বাস করে না এবং মূর্তিপূজারী, বহু ঈশ্বরবাদী (মুশরিক) ও হিন্দুদের থেকে আগত মিথ্যা ও বাতিল কল্পনাবৃত্তি ও আকীদা বিশ্বাসের উপর নির্মিত তাদের মতামতের এবং মুসলিমদেরকে অজ্ঞতা ও নির্বুদ্ধিতার দিকে আহ্বানকারী শিক্ষাবলির যারা বিরোধিতা করে, তাদেরকে তারা 'মুরতাদ' ও 'কাফির' বলে ফতোয়া দিয়েছে।
তাছাড়া, তারা এ মিল্লাতের খ্যাত উলামায়ে কেরামকে আক্রমণ করেছে, যারা কুরআন সুন্নাহর শিক্ষা প্রসার ও এগুলো সংরক্ষণ করার মর্যাদায় আসীন হয়েছেন এবং বিদআতীদের বিদআতসমূহকে এবং যে সকল কিচ্ছা-কাহিনীকারগণ তাদের কিচ্ছা-কাহিনীসমূহ দ্বারা বৈষয়িক স্বার্থ হাসিল ও হীন শয়তানী আবেগ-অনুরাগের বহিঃপ্রকাশের উদ্দেশ্যে যেসকল কিচ্ছা-কাহিনীকে কুরআন-সুন্নাহর বিকৃত ব্যাখ্যা দ্বারা সমর্থন করেছে, তাদের কল্প-কাহিনীসমূহকে যারা খণ্ডন করার কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন। যেসব বিদআতী আলেম ওহীভিত্তিক আইন-বিধান ও তা বাস্তবায়ন করাকে স্থগিত করার চেষ্টা করেছে, হকপন্থী আলেম তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তাদের সঠিক অবস্থান সম্পর্কে অজ্ঞতা এদের সম্পর্কে লেখালেখি থেকে আমাকে বিরত রেখেছিল, কারণ আমি ভাবতাম এবং আমার মত অনেকেই ভাববে- যে, তারা সঠিক পথ থেকে এবং সালফে সালেহীনদের পরিষ্কার আকীদা বিশ্বাস থেকে পথভ্রষ্ট হয়েছে, তার কারণ প্রকৃত ইলম থেকে দূরে থাকা ও অজ্ঞতা।
কিন্তু যখন আমি শিয়াগণ ও তাদের আকীদা বিশ্বাস সম্পর্কে লিখলাম এবং সেগুলো নিয়ে যাচাই বাছাই করলাম, দেখলাম যে, তারাও তাদের আকীদাগুলোকে সেই অবাস্তব উৎসসমূহ থেকে গ্রহণ করেছে: 'আহলুস সুন্নাহ' নামে কথিত বেরেলভীদের থেকে এবং অতীত ও বর্তমানে তাদের মত অন্যান্যদের থেকে। কিন্তু আহলুস সুন্নাহ ও এ সকল ফিরকার মাঝে বিরাট ব্যবধান রয়েছে। তারা এক উপত্যকায় আর আহলুস সুন্নাহ অন্য উপত্যকায় রয়েছে। তাই, আতঙ্কিত হই- পাঠক ও আতঙ্কিত হবেন- যখন আমি এ সকল লোকদের আকীদা বিশ্বাস তাদের আসল উৎসসমূহ থেকে পড়ি। এসকল আকীদা বিশ্বাসের সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই, বরং এ হলো সেই আকীদা বিশ্বাস, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর আসার পূর্বে জাহেলী যুগের আরবের মুশরিকরা যে আকীদা-বিশ্বাস পোষণ করতো। এমনকি এ ফিরকা কর্তৃক আল্লাহর সাথে শিরক করার ক্ষেত্রে এ ধরনের বাড়াবাড়ি, অতিরঞ্জন ও সীমাতিরিক্ততা এবং আল্লাহর কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা খর্ব করা যা আরব পৌত্তলিক যুগেও ছিল না।
তাদের কথিত ওলী, পীর ও আকাবীরদেরকে প্রদত্ত মর্যাদা, শিরকের বিভিন্ন ধরণ এবং কিচ্ছা-কাহিনী বানানো, হাদীস বানানো বা জালকরণ এবং তাদের গুজবসমূহ তৈরী করা- এ সকল কিছুই তাদের জালিয়াতি ও বিদআতের চূড়ান্ত প্রমাণ। মিথ্যার প্রমাণ মিথ্যাই। ইসলামপূর্ব আরব মুশরিক ও পৌত্তলিকদের সাথে এ বেরেলভীদের কোনো তুলনাই চলে না, কারণ বেরেলভীরা বৈচিত্র ও সংখ্যাধিক্যের দিক থেকে তাদেরকে অনেক দূর ছাড়িয়ে গেছে।
দ্বিতীয়ত আমি তাদের সম্পর্কে বিশেষভাবে আরবীতে লেখা থেকে বিরত ছিলাম, কারণ প্রথমে আমি ভেবেছিলাম ভারত-পাকিস্তান উপমহাদেশের বাইরে এ ফিরকার কোনো অস্তিত্ব নেই। যদিও এ অঞ্চলে বহু সংখ্যক মুসলিম থাকার কারণে এদের আমল, আকীদা ও বিশ্বের এ অঞ্চলে মুসলিমদের মতামতের সাথে পরিচিত হওয়ার মুসলিম বিশ্বের প্রয়োজন রয়েছে। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত ও পাশ্ববর্তী অন্যান্য দেশের মুসলিম মিলিয়ে মুসলিমের সংখ্যা ৩০ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমার এ অনুমান দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, যখন আমি দেখলাম সেই একই আকীদা, অন্ধবিশ্বাস-গোঁড়ামী, বাজে কথাবার্তা, পৌরাণিক কল্পকাহিনী, কুরআনের আয়াতের অপব্যাখ্যা এবং প্রক্ষিপ্তকরণ, হাদীস অবমাননা, কুরআন-সুন্নাহ থেকে বিচ্যুতি, অবাস্তব-অসম্ভব ঘটনাবলির উপর ভিত্তি করে যুক্তি প্রদান এবং কথিত অলৌকিক কাণ্ডসমূহ, সুদূর পূর্ব হতে সুদূর পশ্চিমের দেশ আফ্রিকা হতে এশিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
আল্লাহর নিকট সাহায্য কামনা করে এবং সফলতা প্রার্থনা করে আমি এগিয়ে এলাম এবং এ কাজটি শুরু করলাম। আমার এ মত পোষণ করতে আমাকে মোটেও বেগ পেতে হয়নি যে, তাদের সম্পর্কে উপমহাদেশের মুসলিমদের ভাষা উর্দুর সাথে সাথে আরবীতেও লিখব- কারণ এ ফিরকাটি তার সকল ধ্যান-ধারণা, আকীদা-বিশ্বাস এবং মতবাদসহ অন্যান্য মুসলিম দেশেও অঞ্চলভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন স্থানীয় রং-এ বিভিন্ন নামে অবস্থান করছে।
যারা মুসলিমদের বিষয়াদিতে জড়িত এবং তাদের সংস্কারে নিয়োজিত এবং যারা ইসলামী কর্মক্ষেত্রে কাজ করতে চায় এবং শিরক, বিদআত, সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি ইত্যাদির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য ভয়ানক অস্ত্রে সুসজ্জিত হতে চায়, তারা মন্দ কামনা-কুবাসনার অনুসারীদের বাতিল-মিথ্যা আকীদা এবং প্রতারকদের যুক্তির সাথে পরিচিত হওয়ার মাধ্যমে এ বই থেকে উপকৃত হবে। অনুরুপভাবে, সাধারণ পাঠকরাও তাদের গ্রন্থ ও পুস্তিকাদিতে লুকায়িত সত্য ও গোপন বিষয়াদির সাথে পরিচিতির দ্বারা উপকৃত হবে।
এটা অপরিহার্য্য যে, আমাদের কে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহর প্রতি প্রত্যাবর্তন এবং এর আলোকে আমাদের আকীদা বিশ্বাস সংশোধনের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং আমাদেরকে অতি গোঁড়ামী, (কুরআন-সুন্নাহর পরিবর্তে অন্যান্য) লোকদের কথা বা বাণী এবং সুফীদের তরীকা ও তাদের অন্ধবিশ্বাসসমূহে দৃঢ়ভাবে লেগে থাকাকে পরিত্যাগ করতে হবে। উল্লেখ্য যে, শুরুতে এবিষয়গুলো খুব হালকা ও সহজ মনে হয়, কিন্তু অবশেষে এগুলো ইসলাম এবং এর শিক্ষা ও পদ্ধতি থেকে পথভ্রষ্টতার দিকে নিয়ে যায়। পাঠক এ বিষয়গুলোর বিস্তারিত বিশ্লেষণ এ বইতে পাবেন।
এ বই লিখতে আমার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিয়োগ করেছি এবং বোধ ও জ্ঞান শূন্য ৩০০'র ও বেশি পুস্তিকা ও গ্রন্থ পড়ার আপ্রান চেষ্টা করেছি। এ বিষয়ে যে জড়িত রয়েছে কেবল সে ব্যক্তিই এ বিষয়টি সবচেয়ে ভাল বুঝবে। কিন্তু যখন আমি নিজের জন্য অপরিহার্য্য করে নিলাম যে, যে ফিরকার খণ্ডন করতে যাচ্ছি তাদের উৎসসমূহ হতে এ বইয়ের প্রত্যেকটি বিষয় উল্লেখ করব, আমার জন্য জরুরী হলো আমার ধৈর্য্য ও অধ্যবসায় থাকা। আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ আমাকে এর বিনিময় দেবেন।
আমাকে লিখতে দিন যে, কিছু মুদ্রণ ভ্রম ও যত্নের অভাব সত্ত্বেও এ বইটি এত সুন্দর সাজে প্রকাশিত হতে পারতো না- যদি না মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার কিছু শুভানুধ্যায়ী ও শিক্ষক এবং এখানকার কর্তৃপক্ষ এর দায়িত্ব না নিতেন। তাঁদের প্রত্যেকেই আমাকে দিতে চেষ্টা করেছেন আমার কিসের প্রয়োজন এবং এমনকি আমার কি প্রয়োজন নেই। তাদের প্রচেষ্টার ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শহরের একটি প্রেসে এ বইটি মুদ্রণ আমার জন্য সম্ভব হয়েছে। আমি এ সকল জালিমদের বিরুদ্ধে জিহাদ করছি এবং তাদের আক্রমণ করছি সুন্নাহকে সমুন্নত করা ও তাঁর শিক্ষাকে সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে। আমার কৃতজ্ঞতা রইল মদীনায় মাতাবি'-আর রাশীদ এর ভাইদের প্রতি যারা এ কাজটি অতি সংক্ষিপ্ত সময়ে সম্পন্ন করার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করেছেন। আল্লাহ তাঁদের সবাইকে পুরস্কৃত করুন।
মধ্যরাত্রিতে বিশ্বের পবিত্র স্থানে মসজিদে নববীর সম্মুখে আমি যে মুহূর্তে এ লাইন কয়টি লিখছি, এ মুহূর্তে নিজেকে খুব গর্বিত অনুভব করছি। আমি আশা করি যে, সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমার এ বিনীত খেদমত আমার থেকে গ্রহণ করবেন এবং তাঁর নিজের জন্য একে খালিস ও পবিত্র করবেন এবং তাঁর একত্ব, মুখাপেক্ষীহীনতা, ক্ষমতা এবং মহত্ত্বকে রক্ষা করতে এবং তাঁর মনোনীত পুরুষ, নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহকে সংরক্ষণ করতে আমাকে সাহায্য করবেন, যতক্ষণ আমি জীবিত থাকি, যতক্ষণ আমার হাত নড়াচড়া করে, আমার জিহবা কথা বলে এবং হৃৎপিণ্ড স্পন্দিত হয়। তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী। আল্লাহ তা'আলার শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক সাইয়্যেদিনা মুহাম্মদ খাতামান নাবিয়্যিন ওয়া সাইয়্যেদুল মুরসালীন ওয়া ইমামুল মুত্তাকীন-এর উপর এবং তাঁর সাহাবীগণ, যাদের ললাট আলোকিত এবং যারা পবিত্র, তাঁদের উপর এবং তাঁদের অনুসারী (তাবিঈ) গণের উপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা পুরোপুরি তাঁদের অনুসরণ করেন এবং যারা দীনের মধ্যে নতুন (বিদআত) সৃষ্টিকারী নন, তাদের উপর।
ইহসান ইলাহী যহীর
আল-মদীনা আল মুনাওয়ারাহ্, বৃহস্পতিবার রাত্রি, ২৩ শে মার্চ, ১৯৮৩। ১২ই জুমাদাল আখিরাহ, ১৪০৩ হিজরী
📄 গ্রন্থপঞ্জি
যে সকল গ্রন্থ এবং উৎস এ বইতে উল্লিখিত হয়েছে:
১. আল-কুরআনুল কারীম।
২. ইমাম বুখারী, আস সহীহ।
৩. ইমাম মুসলিম, আস সহীহ।
৪. ইমাম তিরমিযী, আল জামি'।
৫. ইমাম আবু দাউদ, আস সুনান।
৬. ইমাম নাসাঈ, আস সুনান
৭. ইমাম ইবনু মাজাহ, আস সুনান।
৮. ইমাম মালিক, মুয়াত্ত্বা।
৯. ইমাম আহমদ, আল মুসনাদ।
১০. বাইহাকী, আস সুনান
১১. হাকিম, আল মুসতাদরাক।
১২. সাঈদ ইবনে মানসুর, আস সুনান
১৩. ইবনে আবী শাইবা, আল মুসান্নাফ।
১৪. আব্দুর রায্যাক, আল মুসান্নাফ।
১৫. মুহাম্মদ বিন হাসান আশ শাইবানী, 'আল আসার।
১৬. মুহাম্মদ বিন হাসান আশ শাইবানী, কিতাবুল আসল।
১৭. খতীব তিবরিযী, মেশকাতুল মাসাবীহ।
১৮. হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ।
১৯. ইমাম ইবনু কাসীর, তাফসীরে ইবনু কাসীর।
২০. ইমাম ইবনু জারীর তাবারী, তাফসীরে তাবারী।
২১. ইমাম কুরতুবী, তাফসীর আল কুরতুবী।
২২. সিদ্দিক হাসান খান, ফাতহুল বয়ান।
২৩. আশ শাওকানী, ফতহুল কাদীর।
২৪. ইমাম তিরমিযী, শামাইলে তিরমিযী।
২৫. বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান।
২৬. ইবনু হাজার আসকালানী, ফাতহুল বারী।
২৭. মুল্লা আলী কারী, মিরকাত শরহে মিশকাত।
২৮. আল আলুসী, রুহুল মা'আনী।
২৯. রশীদ রেযা, তাফসীর আল মানার।
৩০. কাজী সানাউল্লাহ, তাফসীরে মাযহারী।
৩১. মুল্লা আলী কারী, মাওযু'আত।
৩২. মুহাম্মদ তাহের পাটনী, তাযকেরাতুল মাওযু'আত।
৩৩. আশ শাওকানী, আল ফাওয়াইদুল মাজমু'আ ফিল আহাদীসুল মাওযু'আহ।
৩৪. আলবানী, সিলসিলাতু আহাদিসুস সহীহাহ।
৩৫. সাখাবী, মাকাসিদুল হাসানা।
৩৬. সুয়ূতী, তাহির আল মাকালা।
৩৭. যারকাশী, আল বুরহান ফি উলুমুল কুরআন।
৩৮. আল যাজারী, তাশিল উলুমুল কুরআন।
৩৯. শাহ ওয়ালী উল্লাহ, তাফহীমাত আল ইলাহিয়্যাহ।
৪০. শাহ ওয়ালী উল্লাহ, হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ।
৪১. আলুসী, আল আয়াতুল বাইয়্যিনাত ফী আদাম সামা' আল আনওয়াত।
৪২. ইবনু কাসীর আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া।
৪৩. ইবনু হাজার আসকালানী, লিসানুল মীযান।
৪৪. আহমদ মুহাম্মদ আল মিশরী, আল কওলুল মুতামাদ ফী 'আমালিল মাওলিদ।
৪৫. ইবনু তাইমিয়্যাহ, আল ফাতওয়া।
৪৬. আল মারগিনানী, আল হিদায়া।
৪৭. ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর।
৪৮. হাসকাফী, দুররুল মুখতার।
৪৯. ইবনু নুজাইম, আল বাহরুর রায়েক।
৫০. জাইলায়ী, তাবিঈনুল হাকাইক।
৫১. ফাতওয়া হিন্দিয়া।
৫২. সারাখসী, আল মাবসুত।
৫৩. আল কাসানী, বাদাই ওয়াস সানাই।
৫৪. আল বুখারী আল হানাফী, খুলাসাতুল ফাতওয়া।
৫৫. ফাতওয়া কাযী খান।
৫৬. ইবনুল বাযযায, ফাতওয়া বাযযাযিয়্যা।
৫৭. আল হালওয়ানী, আল কুনিয়া।
৫৮. কাযী সানাউল্লাহ, মা লা বুদ মিনহু।
৫৯. শাহ আবদুল আযীয, ফাতওয়া আযীযিয়্যাহ।
৬০. শাহ রফিউদ্দিন, ফাতওয়া।
৬১. ইবনু আবিদীন শামী, মাজমু'আ রাসাইল।
৬২. ইবনু আবিদীন শামী, রদ্দুল মুখতার।
৬৩. আইনী, আল বিনায়া শরহে হিদায়া।
৬৪. মাহমুদ আল হানাফী, শরহে দিরায়া।
৬৫. ইবরাহীম আল কাযী, মাজালিসুল আবরার।
৬৬. আহমাদ রেযা বেরেলভী, আল ফাতওয়া (পাকিস্তান ও ভারতীয় সংস্করণ)।
৬৭. আল বেরেলভী, ফাতওয়া আফ্রিকিয়্যাহ। (পাকিস্তানী সংস্করণ)
৬৮. আল বেরেলভী, নাফিউল ফাইয়ান মান আনারা বিনুরিহী কুল্লা শাইন, (পাকিস্তানী সংস্করণ)
৬৯. আল বেরেলভী, আহকামুল কুবুর মু'মিনীন (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
৭০. আল বেরেলভী, বারাকাতুল ইসতিমদাদ, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
৭১. আল বেরেলভী, সালাতুস সফা ফী নুরুল মুস্তফা (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
৭২. আল বেরেলভী, রিসালা বালিগান নূর, (ভারতীয় সংস্করণ)।
৭৩. আল বেরেলভী, রিসালা মাহী আদ্ দালালাহ, (পাকিস্তানী সংস্করণ)
৭৪. আল বেরেলভী, হুজ্জাতুল মু'তামানাহ, (ভারতীয় সংস্করণ)।
৭৫. আল বেরেলভী, শারহুল হুকুক, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
৭৬. আল বেরেলভী, হাযিজ আল বাহরাইন (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
৭৭. আল বেরেলভী, রিসালা আল বাররুল মিকাল ফী কুবুলাতুল ইকলাল (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
৭৮. আল বেরেলভী, বাযলুয যাওয়াইজ ফীদ্দু'আই ওয়াল কিয়াম বা'দাল জানাইয, লাহোর।
৭৯. আল বেরেলভী, মুনীরুল আইন ফী হুকুমি তাকবিলিল ইবহামাইন' (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
৮০. আল বেরেলভী, আল হারফুল হাসান ফী কিতাবুল কাফন, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
৮১. আল বেরেলভী, আযকার হাবীব রিযা (মাজমুয়াহ মাকালাত), লাহোর।
৮২. আল বেরেলভী, মাকালাত রিযা (মাজমুয়াহ মাকালাত), লাহোর।
৮৩. আল বেরেলভী, আনওয়ার রিযা, (মাজমুয়াহ মাকালাত আল বেরেলভীয়্যাহ), লাহোর।
৮৪. আল বেরেলভী, হাদাইকে বাকশিশ (বেরেলভীর কবিতার সংকলন)।
৮৫. আল বেরেলভী, রিসালা হায়াত আল মামাত, (পাকিস্তানী সংস্করণ), এন.ডি.।
৮৬. আল বেরেলভী, খালিসুল ইতিকাদ, লাহোর, এন.ডি.।
৮৭. আল বেরেলভী, বাদরুল আনওয়ার ফিত্ তাবাররুক ওয়াল আদাব লিল আসার, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
৮৮. আল বেরেলভী, বারিকুল মানার লিশুমুল মাজার, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
৮৯. আল বেরেলভী, আহকামে শরীয়ত, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
৯০. আল বেরেলভী, ইযান আল আযর ফী আযান আল কুবুর, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
৯১. আল বেরেলভী, রিসালাতুল হুজ্জাতুল ফা'ইহা ফী তাতাইয়্যেবুত তাইয়্যুম ওয়াল ফাতিহা, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
৯২. আল বেরেলভী, আদ দাওলাতুল মাক্কিয়াহ বিল মাদ্দাতুল গাইবিয়্যাহ, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
৯৩. আল বেরেলভী, রিসালা আল কিয়াম, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
৯৪. আল বেরেলভী, রিসালা আল খতমে নুবুওয়াত, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
৯৫. আল বেরেলভী, রিসালা তামহীদুল ঈমান, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
৯৬. আল বেরেলভী, হুসাইন আল হারামাইন আলা মানহারুল কুফর ওয়ালমাইন (ভারতীয় সংস্করণ)।
৯৭. আল বেরেলভী, রিসালা তাজাল্লী আল ইয়াক্বিন, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
৯৮. আল বেরেলভী, রিসালা রুহুন কি দুনইয়া, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
৯৯. আল বেরেলভী, রিসালা সুবহানাল সুব্বুহ্, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১০০. আল বেরেলভী, রিসালা আল ইন্তিবা ফী হাল নিদা ইয়া রাসূলুল্লাহ', করাচী পাকিস্তান।
১০১. আল বেরেলভী, বারাকাতুল ইস্তিমদাদ, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১০২. আল বেরেলভী, আল ইস্তিমদাদ আলা আযইয়ালুল ইরতিদাদ, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১০৩. আল বেরেলভী, আল জমজমাতুল কামরিয়্যাহ ফীল দব্ব আনিল খামরিয়্যাহ, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১০৪. আল বেরেলভী, ই'লাম আল আ'লাম বিআন্না হিন্দুস্তান দারুল ইসলাম, (ভারতীয় সংস্করণ)।
১০৫. আল বেরেলভী, দাওয়ামুল আইশ ফী আন্নাল আইম্মাতা মিন কুরাইশ (লাহোর, পাকিস্তান)।
১০৬. আল বেরেলভী, সাইফুল মুস্তফা আলা আদইয়ানুল ইফতিরাহ, ভারতীয় সংস্করণ।
১০৭. আল বেরেলভী, রিসালা কাফলুল ফকীহুল ফাহীম, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১০৮. আল বেরেলভী, আহসানুল উই'আ লি আদাবিদ দুআ, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১০৯. আল বেরেলভী, হাক্কুল আইব ফী হুরমাতি তাসবীদুশ শাইব, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১১০. আল বেরেলভী, আন নাহিল হাযিজ আন তাকরার সালাতিল জানাইয, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১১১. আল বেরেলভী, রিসালা আল মুবীন ফী খাতামুন নাবিয়্যিন (ভারতীয় সংস্করণ)।
১১২. আল বেরেলভী, রিসালা আল কাউকাবিয়াতুশ শিহাবিয়্যা ফী কুফরিয়াত আবিল ওয়াহহাবিয়্যাহ, পাকিস্তানী সংস্করণ।
১১৩. আল বেরেলভী, রিসালা আযলাল ই'লাম, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১১৪. আল বেরেলভী, রিসালা হুক্কাত আল মারজান ফী হুকমুল দুখান, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১১৫. আল বেরেলভী, রিসালা মাজকু তালবিস বার ইদ্দা'আ তাকদীস, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১১৬. আল বেরেলভী, দিমানী বাগ (পাকিস্তানী সংস্করণ)
১১৭. আল বেরেলভী, আল কামাল আল মুবীন, (পাকিস্তানী সংস্করণ)
১১৮. আল বেরেলভী, আনফাসুল ফিকর ফী কুরবানুল বাকর, (পাকিস্তানী সংস্করণ)
১১৯. আল বেরেলভী, রিসালা কামারুল তামাম ফী নফী আল জীল্ল, (পাকিস্তানী সংস্করণ)
১২০. আল বেরেলভী, রিসালা আল মুন্নাত আল মুমতাজা, (পাকিস্তানী সংস্করণ)
১২১. আল বেরেলভী, আল উইফাক আল মুবীন, (পাকিস্তানী সংস্করণ)
১২২. আল বেরেলভী, দাওয়াহীম ফাতওয়া, লাহোর
১২৩. আল বেরেলভী, রিসালা আল নূর ওয়াল নাওয়ারাক, (পাকিস্তানী সংস্করণ)
১২৪. আল বেরেলভী, হুসনুল তাওমিনুম, (পাকিস্তানী সংস্করণ)
১২৫. আল বেরেলভী, রিসালা রাহবুস সা'হ, (পাকিস্তানী সংস্করণ)
১২৬. আল বেরেলভী, রিসালা আত তারসুল মুয়াদ্দাল, (পাকিস্তানী সংস্করণ)
১২৭. আল বেরেলভী, লাম' আল আহকাম, (পাকিস্তানী সংস্করণ)
১২৮. আল বেরেলভী, আল মাদাম আত তারাজ, (পাকিস্তানী সংস্করণ)
১২৯. আল বেরেলভী, রিসালা 'আল আহকাম ওয়াল 'ইলাল, (পাকিস্তানী সংস্করণ)
১৩০. আল বেরেলভী, মালাক আসমানী, (পাকিস্তানী সংস্করণ)
১৩১. আল বেরেলভী, রিসালা নুযুল আয়াত ফুরকান বিসুকুন জামিন ওয়া আসমান, (ভারতীয় এবং পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১৩২. আল বেরেলভী, রিসালা আর্ক বিলাদুল হাবীব ওয়াল বিসাল',
১৩৩. আল বেরেলভী, আল হিদায়াত আল মুবারাক ফী ফালাকিল মালাইকা।
১৩৪. আল বেরেলভী, রিসালা ইলযামুস সুন্নাহ লি আহলিল ফিতনা, ভারতীয় সংস্করণ।
১৩৫. আল বেরেলভী, ফাতওয়া আল হারামাইন বার রাযফু নাদওয়াতুল মাইন, ভারতীয় সংস্করণ।
১৩৬. আল বেরেলভী, আল হাজার ওয়াল ইবাহা, ভারতীয় সংস্করণ।
১৩৭. আল বেরেলভী, রিসালা ইজালাতুল আর, পাকিস্তানী সংস্করণ।
১৩৮. নুরুল্লাহ আল কাদরী, আল ফাতওয়া নুরিয়্যাহ। (পাকিস্তানী সংস্করণ)
১৩৯. আল কাদরী, রিসালা গায়াতুল ইহতিয়াত, লাহোর।
১৪০. আহমদ ইয়ার নাঈমী, আল ফাতওয়া নাঈমীয়্যাহ (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১৪১. আহমাদ ইয়ার, ইলমুল কুরআন, লাহোর, এন.ডি.
১৪২. আহমাদ ইয়ার, সালতানাত মুস্তফা, (পাকিস্তানী সংস্করণ)
১৪৩. আহমাদ ইয়ার, জা আল-হাক্ক (লাহোর, পাকিস্তান)
১৪৪. সদরুল আল ফাযিল নাঈমুদ্দীন মুরাদাবাদী, ফাতওয়া।
১৪৫. নাঈমুদ্দীন, আল কালিমাতুল উলিয়্যা লিইলাম 'ইলমুত মুস্তফা (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১৪৬. নাঈমুদ্দীন, আতিয়াব আল বায়ান ফী রদ্দু তাকভীয়াতুল ঈমান।
১৪৭. আমজাদ আলী রিযভী, বাহারে শারিয়াত। (লাহোর)
১৪৮. আহমাদ সাঈদ কাজমী, হায়াতুন নাফী (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১৪৯. আহমাদ সাঈদ, আল হাক্কুল মুবীন (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১৫০. আহমাদ সাঈদ কাজমী, মাকালাতুল কাজিমী, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১৫১. আহমাদ সাঈদ কাজমী, তাসকীন আল খাওয়াতির ফী মাসআলাতিল হাজির ওয়া নাযির, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১৫২. সাঈদ আহমাদ কাজিমী, হায়াতুন নবী, মুলতান পাকিস্তান, এন.ডি.
১৫৩. সাঈদ বেরেলভী, রিসালা সুরুরুল আইন (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১৫৪. আল কাজমী, মিরাজুন নবী, (পাকিস্তানী সংস্করণ)
১৫৫. আবদুল কাদীর, ইজালাতুদ দালালাহ (ভারতীয় সংস্করণ)।
১৫৬. খলীল আল বারকাতী, হিকায়াত রিযভীয়্যাহ, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১৫৭. আবদে সামী', আনওয়ার সাতিয়া' (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১৫৮. আইয়ুব রিযভী, বাগ-ই ফিরদাউস (বেরেলী, ভারত)।
১৫৯. আইয়ুব রিজভী, মাদায়েহ আলা হযরত, ভারতীয় সংস্করণ।
১৬০. শারাফ আল কাদরী, ইয়াদে আলা হযরত, লাহোর, এন, ডি.
১৬১. শারাফ আল কাদরী, তাযকিরা আকাবির আহলি সুন্নাত, পাকিস্তানী সংস্করণ।
১৬২. শুযায়াত আলী কাদরী, মান হুয়া আহমাদ রেযা, লাহোর, এন, ডি.
১৬৩. নাসিম আল বাস্তাওবী, আলা হযরত বেরেলভী, লাহোর।
১৬৪. জাফর উদ্দীন বিহারী, হায়াতে আলা হযরত, করাচী, এন, ডি.
১৬৫. আল বিহারী, আল মুজমালুল মাওয়াদ্দিদ বি তাহফাতুল মুজাদ্দিদ, ভারতীয় সংস্করণ।
১৬৬. বদরুদ্দীন, সাওয়ানেহ আলা হযরত, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১৬৭. সিদ্দীক বেরেলভী, তাযকিরাত উলামায়ে আহলুস সুন্নাত', (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১৬৮. দীদার আলী, হিদায়াতুত তারিকু ফী বায়ানুত তাহকীক, লাহোর এন.ডি।
১৬৯. দীদার আলী, রাসূলুল কালাম ফীল মাওলিদ ওয়াল কিয়াম, লাহোর, এন.ডি.
১৭০. দীদার আলী, তাফসীর মীযানুল আদইয়ান, লাহোর এন.ডি।
১৭১. দীদার আলী, তারিক খাতম ওয়াল সাআল জাওয়াব, লাহোর এন.ডি।
১৭২. দীদার আলী মাদাদ গাফ্ফার, লাহোর, এন.ডি.
১৭৩. দীদার আলী, সুলুক কাদেরিয়া, লাহোর এন.ডি.
১৭৪. হাসনাইন রেযা, (সম্পা.) মালফুযাত আল বেরেলভী, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১৭৫. হাসনাইন রেযা, (সম্পা.) ওয়াসাইয়া আল বেরেলভী, বেরেলী, ভারত।
১৭৬. মুহাম্মদ উসমান আল বেরেলভী, কাশফ্ ফুয়ুষ, পাকিস্তানী সংস্করণ।
১৭৭. আব্দুস সাত্তার, নাগমাতুর রুহ (বেরেলী, ভারত)।
১৭৮. মুহাম্মদ তাইয়্যেব কাদরী, তাযানুব আহলুস সুন্নাহ আন আহলুল ফিতনাহ, (ভারতীয় সংস্করণ)।
১৭৯. শুমুলুল ইসলাম লি আবা আন নবী আল কারীম, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১৮০. আল হাইবাতুল জাব্বারিয়্যাহ (পাকিস্তানী সংস্করণ)
১৮১. আজমল শাহ, রদ্দু শিহাবুস সাকিব বার ওয়াহাবী খাইব, করাচী।
১৮২. মাসুদ আহমেদ, ফাযিল বেরেলভী আওর তারক মাওয়ালাত, (পাকিস্তানী সংস্করণ)
১৮৩. মাসুদ আহমেদ, ফাযিল বেরেলভী ফী নাজর উলামা আল হিযাজ, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১৮৪. হায়াত সদরুল আফাযিল, (পাকিস্তানী সংস্করণ)
১৮৫. মাহমুদ আল কাদরী, তাযকিরা উলামায়ে আহলুস সুন্নাহ, (ভারতীয় সংস্করণ)।
১৮৬. আবদুন নবী, সিরাত সালিক, (পাকিস্তানী সংস্করণ)।
১৮৭. আল ইয়াওয়াকিত আল মাহরিয়া, (পাকিস্তানী সংস্করণ)
১৮৮. গোলারবী, মাহী মুনীর, (পাকিস্তানী সংস্করণ)
১৮৯. মুস্তফা রেযা, আল কাসওয়ারা আলা আদবারুল হুমারুল কাফারা, ভারতীয় সংস্করণ।
১৯০. মুস্তফা রেযা, তানাবীর আল হুজ্জা লিমান ইউজাব্বিজু ইলতিবাল হাজ্জ, ভারতীয় সংস্করণ।
১৯১. আওলাদুর রাসূল, রিসালা মুসলিম লীগ কি জাররিন বাখেয়া দারী, ভারতীয় সংস্করণ।
১৯২. আবুল বারাকাত, আল জাওয়াবাতুল সানিয়্যা আলা জুহা আল সাওয়ালাত আল লীগিয়্যা, লাহোর এন.ডি.