📘 বিহাইন্ড দ্য ইসলামোফোবিয়া > 📄 সভ্যতার সংঘাত ও ইসলামোফোবিয়ার শোরগোল

📄 সভ্যতার সংঘাত ও ইসলামোফোবিয়ার শোরগোল


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হামলার পর থেকে পাশ্চাত্য মিডিয়ায় ইসলাম সম্পর্কে আলোচনা-পর্যালোচনা বেশ বেড়ে যায়। পলিটিক্যাল ইসলাম আজ পশ্চিমা গণমাধ্যমের বিশেষ মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে। সমসাময়িক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা বেশ জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু শঙ্কার দিকটি অনেকটা আঙ্গুল তুলে বলে দিয়েছেন প্রসিদ্ধ ফ্রান্সিস রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অলিভিয়ার রায়। তিনি বলেন, 'সামাজিক ও রাজনৈতিক ফেনোমনো হিসেবে ইসলামের পাঠ সবসময়ই একটি কঠিন বিষয়।' তিনি আরও বলেন, 'ইসলামকে নতুন দৃষ্টিগ্রাহ্য বিষয়বস্তু হিসেবে বিচার-বিশ্লেষণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মারাত্মক বেশকিছু পদ্ধতিগত জটিলতা আছে।'
সমাজে ইসলামের দৃশ্যমান যেকোনো কাজ কিংবা কোন ইস্যুতে ইসলামের জোরদার উপস্থিতিতি পশ্চিমাদের চোখকে বড়ো করে তোলে। তারা ঘটনার পেছনের দিকটি তুলে আনতে শুরু করে বিভিন্ন বিশ্লেষণ। বিশ্লেষণে সর্বদা উদ্ভূত ঘটনার পেছনে ইসলামের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, দূরদর্শিতা কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থের দিকটিকে পরিকল্পিতভাবে সামনে আনে পশ্চিমা এই জনগণ। ইসলামের দৃশ্যমান যেকোনো কার্যক্রম বিশ্লেষণের আওতায় আসতেই পারে; এটা আওতাভুক্ত হওয়া খুবই স্বাভাবিক। বরং প্রতিটি ঘটনার বিশ্লেষণ একান্ত প্রয়োজনীয়। ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়া যে আধ্যাত্মিক কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে, তা পাশ্চাত্য মিডিয়া কিংবা একাডেমিতে অনুপস্থিত। ইসলামের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির ওপর পাশ্চাত্য মিডিয়ার এই অতি আগ্রহ পশ্চিমা একডেমিয়াতেও প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ইসলামকে একটি সর্বজনীন ও পূর্ণাঙ্গ ধর্ম বিবেচনা না করে বরং রাজনৈতিক ধর্ম হিসেবে তারা বিবেচনা করছে। ফলে রাষ্ট্র থেকে এখানে ধর্মকে পৃথক করা বড়ো কঠিন। ইসলামের রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যের স্বার্থে যে ইসলামের অন্যান্য বিশ্বাস ও আচার-আচরণ প্রয়োগ হতে পারে, তা এ জগতে অনেকটা অপরিচিত। পশ্চিমা মিডিয়ার চেতন কিংবা অবচেতন এই চর্চার কারণে রাজনৈতিক ইসলাম মিডিয়া ও একাডেমিতে একটি পৃথক ও স্বতন্ত্র আলোচ্য বিষয় হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
পাশ্চাত্যের বিচার-বিশ্লেষণিক পরিমণ্ডলে ইসলামপন্থিদের সামান্য উপস্থিতিকেও ধর্মীয় জাগরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সত্তরের দশকে ইসলামপন্থিদের এই জাগরণ দেখা দেয়। এবং ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সাথে সাথে এই জাগরণ সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে যায় বলে মনে করে পাশ্চাত্যবিশ্ব।
পাশ্চাত্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মানদাফিল বলেন, পাশ্চাত্য সাহিত্যকলায় রাজনৈতিক ইসলাম নিয়ে সর্বদা তিনটি প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসা হয়। প্রথমত, একই সাথে ধর্ম আর রাজনীতি এটা একমাত্র ইসলামের একটি বৈশিষ্ট্য।
দ্বিতীয়ত, ইসলাম বলতেই রাজনৈতিক ইসলাম। অর্থাৎ তারা ইসলামের পূর্ণাঙ্গ রূপকে উপেক্ষা করে একমাত্র রাজনৈতিক অংশকে পূর্ণ ইসলাম বিবেচনা করছে। তৃতীয়ত, প্রকৃতিগতভাবে রাজনৈতিক ইসলাম সহিংস। 'মুসলিম বিশ্বের অনেকে পাশ্চাত্যের কথিত এনলাইটেন্টমেন্টের নীতিকে লিবারেল গণতন্ত্র আখ্যা দিয়ে অনুসরণ করেছেন। কিন্তু ক্ষমতার স্বার্থে তারা এটাকে স্বৈরতন্ত্রের রূপ দিয়েছেন। এটা ইসলামের ব্যর্থতা নয়, বরং নন প্র্যাক্টিসিং মুসলিমের ব্যক্তিক স্বার্থ এখানে জড়িত।' এমন বক্তব্যও মানতে রাজি নয় পাশ্চাত্যের ইসলামোফোবিয়া রোগাক্রান্ত ব্যক্তিরা।
ইসলাম নিয়ে পশ্চিমের জ্ঞানবহরের এই দীনতার পেছনে মূলত প্রাচ্যবাদ প্রবলভাবে জড়িত। তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পশ্চিমা একাডেমিয়া ও মিডিয়া ইসলামের সমকালীন এ অবস্থার জন্য কল্পিত একটি পাঠ তৈরি করেছেন; গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ পশ্চিম ও ইসলামের মধ্যে রয়েছে ঢের বৈপরিত্য। অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্ব যখন এ ধরনের দাবি করছে, তখন আবার ইসলামি বিশ্ব গতিহীন, স্থবির ও স্বৈরতান্ত্রিক এক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে চলছে।
প্রাচ্যবাদ পূর্ব থেকেই পরিচয় দিয়েছে, প্রাচ্যের ইসলাম ও পশ্চিমা খ্রিস্টধর্মের বিভাজনটা শুধু বাহ্যিক নয়। এবং পাশ্চাত্য দর্শন তো শুরু থেকে তাদের পরিমণ্ডল ও একাডেমিয়াতে বারবার বলে চলছে, ইসলামি সভ্যতা শুধু অগণতান্ত্রিক শক্তিকে অনুপ্রাণিত করে। প্রাচ্যবাদীদের এসব আলোচনা থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় মুসলিম সম্প্রদায় ইসলামোফোবিয়াকে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সাথে সংশ্লিষ্ট করেন। এবং তা তীব্রতর হওয়ার দাবি তোলেন। অথচ এই ইসলামোফোবিয়া বহু শতাব্দী-পুরনো পশ্চিমা ঘৃণ্য বুদ্ধিবৃত্তিক বিদ্বেষের মাত্র খণ্ডিত অংশ।
ইসলামের প্রতি খ্রিস্টধর্মের বিদ্বেষ অনুধাবন করতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে ৬৩৪ সালে। যখন মুসলিমদের হাতে জেরুসালেমের পতন হলো, খ্রিস্টানরা খ্রিস্ট ধর্মকে বৈশ্বিক সাম্রাজ্যের বৈশ্বিক ধর্ম বলে দাবি তোলে। জেরুসালেমের পতন অর্থ বৈশ্বিক সাম্রাজ্যের পতন। এভাবে বিশ্বকে মুসলিম বিশ্বের মুখোমুখি করার হীন প্রচেষ্টা চালায় খ্রিস্টবিশ্ব। এডওয়ার্ড সাঈদ বলেন, প্রাচ্যের সাথে যখন ইউরোপের পরিচয় হয়, ইউরোপীয় জনমানসে ইসলামকে বহিরাগত ও অনাকাঙ্ক্ষিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কিন্তু ইফান কালমার মনে করেন, 'ইউরোপে ইসলামের প্রকাশ হয়। কিন্তু জনমনে নতুন কোনো ধর্ম ও আইডিওলজির উপস্থিতি বা পরিবর্তনকে ইউরোপ ও বহিরাগতদের মধ্যকার বিভেদ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। বরং এই উপস্থিতি ছিল একেকজন খ্রিস্টনের ভেতর প্রকাশিত ফাঁলের মতো। অর্থাৎ প্রত্যেকের ভেতরে পরিবর্তন হচ্ছিল; কারো ভেতর ইতিবাচক কারো ভেতর নেতিবাচক। কিন্তু তা ব্যক্তিকপর্যায়ে। জাতীয়ভাবে এটাকে ফেনোমনো তৈরি করেনি।'
এই অবস্থা স্থায়ী হয়নি। যখন উসমানি সাম্রাজ্য কসোভো যুদ্ধে জয়লাভ করে। এবং ১৩৮৮ সালে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করে। তারপর ১৪৫৩ সালে কনস্টান্টিনোপলের পতন হয়। কনস্টান্টিনোপলের পতনের পর খ্রিস্টান আর মুসলিমদের মধ্যকার সম্পর্ক খুবই নাজুক হয়ে পড়ে। অনতিক্রম্য সংকটে পড়ে যায় মুসলিম ও খ্রিস্টবিশ্ব।
পরবর্তীতে কনস্টান্টিনোপল বিজয় নতুন ইউরোপ তৈরির সূচনা করে। এই ইউরোপ হলো ধর্মীয় রীতিনীতি ও বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এক মহাদেশ। এটা হবে খ্রিস্টানদের মহাদেশ। এরই ধারিবাহিকতায় ক্যাথলিক রাজা ফার্ডিন্যান্ড ও রানি ইসাবেলা স্পেন ও পর্তুগাল থেকে ইহুদি ও মুসলিমদের তাড়াতে শুরু করেন। খ্রিস্টানরা পশ্চিমে তাদের অবস্থান দৃঢ় করে। এবং মুসলিমরা প্রাচ্যে তাদের উপস্থিতি যথারীতি বজায় রাখে।
এই সংবেদনশীল ও সংস্কারের সময়ে সহিংস আন্দোলন হিসেবে ১৫৪৪ সালে মার্টিন লুথার ইসলামকে সহিংস আন্দোলন হিসেবে বিবেচনা করেন। তার মতে, ইসলাম খ্রিস্টবিরোধী কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের কসুর করেনি। এই সহিংস আন্দোলনকে একমাত্র অনুরূপ সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিহত করা সম্ভব বলেই মনে করে মার্টিন লুথার।
ক্রোয়েশিয়ার তৎকালীন লেখক বার্থলোমিউ তার কালজয়ী Mesriz and Triplations of the Christians বই রচনা করেন। এবং এটা তৎকালীন সর্বাধিক বিক্রিত বই ছিল। এটাকে বর্তমান-মানদণ্ডে সচিত্র উপন্যাস বলা যেতে পারে। এই বইয়ের চিত্রে দেখানো হয়, মুসলিমরা ইউরোপে বন্দিদের নির্যাতন করছে। নারী ও শিশুদের হত্যা করছে। অন্যদিকে ইউরোপে তখন নিরক্ষরতার বিপদ চরম শিখরে। এই বই ব্যাপক আকারে প্রচারিত হয়। মুসলিমবিরোধী প্রচারণায় বইটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় খ্রিস্টবিশ্বে।
পরবর্তী শতাব্দীগুলোতেও ইসলামকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরার প্রয়াস দেখা যায়। পাশ্চাত্য সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্রমগুলো ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে উত্তেজনাকর বিভিন্ন সচিত্র সাহিত্য ও রম্যসাহিত্যের ট্রাডিশন গড়ে তোলে। অনেক সময় এ ধরনের কার্যক্রমে মুসলিমদের তুর্কি, মোরো ও সারাসিন নামে উল্লেখ করা হয়। ভলতেয়ার ইসলামকে থিওক্রেসি ও স্বেচ্ছাচারী, শেক্সপিয়র মোরোদের হিংস্র, হেগেল ইসলামি সভ্যতাকে প্রাণহীন হিসেবে চিহ্নিত করে। ফ্রান্সিস দার্শনিক মনটেস্কু তো বলেন, স্বৈরতন্ত্রই ইসলামি ভূখণ্ডে শাসন প্রতিষ্ঠার একমাত্র মাধ্যম। হেগেল আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, ইসলাম বিজ্ঞানসম্মত নয়। মুসলিমরা নতুন নতুন চিন্তার সাথে চলতে অক্ষম।
পশ্চিমা একাডেমিয়ার বিজ্ঞানীরা আজও এ ধরনের অবৈজ্ঞানিক ও পশ্চাদপদ ট্রাডিশনে ডুবে আছে। স্যামুয়েল পি. হান্টিংটন, এলি কেদুরি, ডেনিয়েল ও বার্নাড লিউসের মতো ইউরোপের খ্যাতিমান দার্শনিকরা তাদের পূর্বসূরিদের রেখে যাওয়া এই গন্ধময় উত্তরাধিকার রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন। 'ইসলাম পাশ্চাত্য সভ্যতার জন্য হুমকি'- এই তত্ত্ব প্রচারে পাশ্চাত্যের মৌলিক ভূমিকাকে যদিও ভুলে থাকার অপপ্রয়াস করেছে, তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে মুসলিম সমাজ ইসলামোফোবিয়ার মূল শেকড় সন্ধানে ব্যর্থ হয়।
প্রসিদ্ধ মার্কিন দার্শনিক ও লেখক হ্যাম হারিস বলেন, 'আমাদের সমস্যার মূল জায়গাটি যদি আমাকে কেহ নির্ধারণ করতে বলে, তবে আমি বলবো, ইসলামি বিশ্বই আমাদের মূল সমস্যা। আমরা এখন সভ্যতার সংঘাতের মধ্যে আছি। বিভিন্ন মানদণ্ড নির্ধারণ করে আমরা মূলত আমাদেরই প্রবঞ্চিত করছি। কখন কোনটি ইসলাম ও মুসলিম-বিদ্বেষ হচ্ছে, তা নির্ধারণ করে দূর করার প্রয়াস একান্তই অবান্তর। বরং পাশ্চাত্য সভ্যতায় এর সন্ধান মিলবে বহু শতাব্দী পূর্বে।'
আমরা যদি ইসলামোফোবিয়ার মূল কাঠামো ও প্রকৃতির মূলে পৌঁছতে না পারি, আমরা কিছুতেই কার্যকর কোনো প্রতিবিধান করতে পারব না। ইসলামোফোবিয়া শুধু বর্ণবাদী কিছু কর্মকাণ্ড নয়। বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী হাত বদল হয়ে এটা আজ পাশ্চাত্য সভ্যতার অবিভাজ্য নীতি বনে গেছে।

টিকাঃ
[৫১] সম্পূর্ণ লেখাটি মুসলিম হান্ট অবলম্বনে রচিত

📘 বিহাইন্ড দ্য ইসলামোফোবিয়া > 📄 আইন ও ইসলামোফোবিয়া

📄 আইন ও ইসলামোফোবিয়া


চেতনার মশাল জ্বেলে অচেতন হয়ে পড়া যেন হাল আমলের ব্যাধি। সবটা দোষই কি অবচেতন মনটার? সভ্যতা, মানবতা, গণতন্ত্রের ধ্বজাধারীরা কোনো বিষয়ে অপরের ক্ষেত্রে যখন তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে কদাকার হায়েনার আকৃতি নেয় তারাই তো নিজেদের বেলায় ভেজা বেড়ালের রূপ ধরে অনায়াসেই মিউ মিউ করতে কিঞ্চিত কুণ্ঠাও বোধ করে না। করবেই বা কি করে, মজ্জাজুড়ে যে লজ্জার ছিটেফোঁটোও তাদের নেই। না থাকারই কথা। লজ্জা তো ইমানের ভূষণ। বেইমানের চোখের বালি। তাই লজ্জার ভূষণে সজ্জিত ইমানদার মানুষগুলোকে নিয়ে তাদের মাথাব্যথার বিরাম নেই। শুধু এক জীবন নয়, সুযোগ থাকলে এমন বহু জীবন তারা “এ মানুষগুলোর ক্ষতিসাধনে বিলিয়ে দিত। মানবতা, সভ্যতা, সংস্কৃতি, গণতন্ত্র ও জাতীয় সুরক্ষার নামে তারা কী না করেছে! সবকিছুর গোঁড়ায় সেই ইসলাম-বিদ্বেষ।
তাই সে-বিদ্বেষ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে ইসলামের বিরুদ্ধে নানা তৎপরতার আঞ্জাম দেয় তারা। এসব বিষয়াদি সেই প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে। একেবারে নববি যুগ থেকে। তবে পার্থক্য হলো এখন এ-বিদ্বেষ একটি আন্দোলনে রূপ নিয়েছে, হয়েছে ইনস্টিটিউশনালাইজড, পেয়েছে অর্থায়ন এবং বিভিন্ন মহল থেকে জুটেছে মদতদাতা। সব মিলিয়ে পেয়েছে বিশাল এক পরিচয়, বিশাল এক নেটওয়ার্ক। যাকে এককথায় বলা হয়- ইসলামোফোবিয়া।
মদদ, ফুরসত সব যখন ষোলকলায় পূর্ণ তখনই তারা অলীক সব আইনের ছত্রচ্ছায়ায় মেতে উঠলো ঘৃণ্য খেলায়। বর্ধিত সেই কদাকার নখরগুলো বসাতে থাকলো مسلمانوں শিরা-উপশিরা ভেদ করে। যাতে তারা জর্জরিত হয়, হয়ে যায় লীন। রাজ্যের সব শয়তানির আখড়া, আঁতুড়ঘর, বীজতলা সে ইউরোপ থেকে বরাবরের মতো উৎসারিত ষড়যন্ত্রের এ বিষফোঁড়া পৃথিবীজুড়ে জেঁকে বসলো।
আজ একবিংশ শতাব্দীতে এসে আমরাও যেন তাদের সে তুরুপের তাস। মুসলিম দেশগুলোতেই হচ্ছে অনায়াসে ইসলাম-বিদ্বেষচর্চা। ইসলামের যাবতীয় মৌলিক সৌন্দর্যগুলো আজ বিদ্রূপ ও কটাক্ষের শিকার। ইসলামের সৌন্দর্যগুলো থেকে মানুষকে বিমুখ করার কিংবা ইসলাম সম্পর্কে মানুষকে বিদ্বিষ্ট করে তোলার এর চেয়ে ভালো কৌশল কী হতে পারে?
কোনো বিষয়ে মানুষকে বিদ্বিষ্ট করতে কয়েকটি কৌশল অবলম্বন করা হয়। প্রথমত, অপপ্রচার ও তথাকথিত সচেতনতা। এতে যখন কাজ না করা হয় তখন আশ্রয় নেয়া হয় আইনের। আইনের মাধ্যমে অর্গানাইজড-বিদ্বেষচর্চা করা হয়। আর আইন প্রয়োগ করে ঘৃণা ও বিদ্বেষচর্চার মতো পৃথিবীতে বোধহয় আর কোনো জঘন্য কাজ খুব কমই আছে।
দাড়ি: নীল ছকে নাম লেখাল জাপান। উত্তর-পূর্ব জাপানের ইয়েসাসি শহরে সকল কর্মকর্তাকে দাড়ি রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ৫২ ৯৮ শতাংশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ তাজিকিস্তানে দাড়ি রাখায় নিষেধাজ্ঞা বহু আগ থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্মশ্রুমণ্ডিত ছাত্র অনেক বঞ্চনার শিকার হয়। দুশানবের তাজিক স্টেট পিডাগোগিকাল ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন মির্জাবেক শারিপভ বলেন, দাড়ি তাদের ঐতিহ্য পরিপন্থি; শ্মশ্রুমণ্ডিত ছাত্রের বক্তৃতা দেয়ার অনুমতি নেই, সে আরও বলে ভার্সিটি কোনো মসজিদ না। পুলিশের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দাড়ি-হিজাব নিষিদ্ধ নিশ্চিত করা হয়। কেউ দাড়ি রাখলে জোর করে তা মুণ্ডণ করা হয়। এমনকি বিগত তিন বছরে (১৫-১৮) তে স্কুলে দাড়ি-হিজাবের নিয়ম ভঙ্গের কারণে ৬ হাজার শিক্ষককে আদালত শাস্তি দিয়েছে এবং বেশ কয়েকজন প্রধান শিক্ষক তাদের চাকরি হারিয়েছেন। ৫৩
হিজাব: এ যাত্রায় বেলজিয়াম নাম লেখায় সর্বাগ্রে। ২০১১ সালে ইসলামোফোবিয়ার সূতিকাগার ইউরোপ থেকে বেলজিয়াম আওয়াজ তোলে। বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ। ২০১৭ সালে ইরোপিয়া কোর্ট অব হিউম্যান রাইটস রায় দেয় এ আইন কোনো ধর্মবিরোধী আইন নয়। বুলগেরিয়া ও লাটভিয়া পালে হাওয়া জোগায়। তারাও নিকাব নিষিদ্ধ করে। বুলগেরিয়ায় নিকাব পরিহিতাকে জরিমানা গুণতে হয়। আর লাটভিয়ায় প্রকাশ্যে মাত্র তিনটি নিকাব পড়ার ঘটনা ঘটে। এত অল্প পরিসরে নেকাবের বিস্তৃতি থাকা সত্ত্বেও তারা এ নিয়ে শঙ্কা বোধ করে।
অস্ট্রিয়া আর কতদিন পিছিয়ে থাকবে! ২০১৭ সালে প্রকাশ্যে হিজাব পরা নিষিদ্ধ করে আইন পাস করে। পরিহিতাকে মাশুল দিতে হবে ১৫০ ইউরো। যোগ দিল ডেনমার্ক ২০১৮ সালে। তারা ধাপ কয়েক এগিয়ে গেল। ১১৫ ডলার ধার্য হলো প্রথম বারে হিজাব পরিধানের মাশুল হিসেবে। আর মাশুল না দিয়ে অসম্মতি প্রকাশ করলে গুণতে হবে তার দশগুণ।
এবার হালে তাল দিতে চলে এলো নেদারল্যান্ড। স্কুল, হাসপাতাল, গণপরিবহন এবং সরকারি ভবনের মতো পাবলিক প্লেসে হিজাব নিষিদ্ধ করে ২০১৮ সালে। এসব দেশ যদিও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় হিজাব নিষেধের কোশেশ করেছে। ফ্রান্স সেখানে ধর্ম নিরপেক্ষ ও জাতীয় সুরক্ষার বুলি আওড়ে সর্ব প্রথম ২০০৪ সালে ধর্মীয় পোশাক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাতিল করে। এরপর ২০১০ সালে নিষিদ্ধ করে নিকাব পরিধান। দেশটির বড় বড় মার্কেট থেকে হিজাব-নিকাব ধরনের পোশাক সরিয়ে ফেলা হয় রাজনৈতিক রোষানলের ভয়ে। ফ্রান্সট ফেনন তার Algeria Unveiled নমক রচনায় ফ্রান্সের আলজেরিয়ান উপনিবেশ থেকে নিকাব মূলোৎপাটনের মাধ্যমে তাদের কালচার থেকে দূরে সরানোর বিবরণ মেলে। লেবানিজ বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ফ্যাশন ডিজাইনার ২০০৪ সালে মুসলিম নারী সাঁতারুদের আব্রু রক্ষার্থে এক ধরনের বোরকা তৈরি করেন, বাজারে যা বুরকিনি নামে খ্যাত। এতে পর্দার কাজ শতাংশে না হলেও যা হয় তাও বা কম কীসে। এটা মন্দের ভালো। ২০১৬ সালে ফ্রান্সের নগরীগুলো থেকে এ বুরকিনিও নিষিদ্ধ করা হয়। যা ইসলামোফোবিয়া উস্কে দেয়ার মতো বিষয় বলে গবেষকগণ মনে করেন। ৫৪
কানাডা কাঁধে কাঁধ মেলালো তার কিউবিক রাজ্য দিয়ে। বিল ২১ নামক আইনের মাধ্যমে প্রকাশ্যে হিজাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরওপ করে।
এসব কুপ্রভাব মুসলিম বিশ্বকেও ছাড় দেয়নি। নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য বা পরিচয় থাক বা না থাক, ওয়েস্ট্রানাইজেশনই যেন আসল পরিচয়। মন তেতো করে দেয়ার মতো, মুখে পুরে দেওয়া সমস্যাটা উগরে ফেলার সাহস, শক্তি আর সদিচ্ছা অধিকাংশ মুসলিম দেশগুলোর নেই। ৯৮ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যার দেশ তাজিকিস্তানে হিজাব নিষিদ্ধের হিড়িক চলছে ৫৫। হিজাব পরিহিতাদের বিবাহ বিচ্ছেদে বাধ্য করা হচ্ছে। হিজাব পরিহিতাগণ চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, বিশ্ববিদ্যলয়সহ নানা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যদিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী সেখানে এ জাতীয় কোনো আইন নেই, তাও এসব সরকারের পক্ষ থেকেই বাস্তবায়ন হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ কেন এসব নিষেধাজ্ঞা আরওপ করছে তা দায়িত্বশীল সকলেই সন্তর্পণে এড়িয়ে গেছে। ৫৬
আজান : ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্টে রায় হয়েছে- মসজিদে মাইকে বা লাউড স্পিকারের মাধ্যমে আজান প্রচার বন্ধে। আজান হতে পারবে মুখে মুখে। মাইকে আজান দিতে হলে আইন অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের পূর্ব অনুমতি লাগবে। ৫৭ বিনোদনের নামে যাবতীয় উল্লাস ও শব্দদূষণের অনুমতি থাকলেও ধর্মের স্বার্থে উঁচু আওয়াজ ব্যবহার করার অনুমোদন নেই। তবে সব ধর্মের বেলায় এ নিষেধাজ্ঞা সমানভাবে প্রয়োগ হয় না। কেবল ইসলামই এজাতীয় আচরণের প্রধান শিকার।
মিনার : ইসলামি ঐতিহ্যের অন্যতম হচ্ছে মসজিদ। নবিজি সকল কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন মসজিদকে কেন্দ্র করে। মসজিদে নববি। মুমিনের প্রাণের গহীনের আরাধ্য। প্রিয়নবি নিজ হাতে মসজিদ নির্মাণের কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন। গম্বুজ, মিনারা মসজিদের পরিপূরক। পথিক অপরিচিত স্থানে গম্বুজ-মিনারা দেখে মসজিদ চিনতে পারে সহজে। রবের পানে ছুটে যাওয়ার নিবিড় আশ্রয় খুঁজে পায়। ইথারে ছড়িয়ে পড়ে আল্লাহু আকবার ডাক। চমৎকার এক ইবাদতগাহ সম্পর্কে জানতে পারে সমাজ।
ইউরোপজুড়ে ইসলামি নিদর্শনসমূহে তালা দেয়ার কত টালবাহানা। আধুনিক বিশ্বের চমক, সৌন্দর্য্যের উপমা সুইজারল্যান্ড দিয়েই এ খেলা শুরু। সুইজারল্যান্ডজুড়ে ১৫০ টা মসজিদের মাত্র চারটিতে মিনার রয়েছে, আরও দুটির পরিকল্পনা চলাকালে তারা এ আইন করে। সুইস সংবিধানে ধর্মের স্বাধীনতার গ্যারান্টি রয়েছে। ৫৮ তাহলে ইসলামের স্বাধীনতার বেলায় এরূপ বৈরিতা কেনো?
নাগরিকত্ব : আল্লাহ তায়ালার জমিন প্রশস্ত। পুরো বিশ্বকেই একজন মুসলিম তার স্বদেশ মনে করে। জলবৎ তরলং- এ বিষয়টা আজ তিতকুটে হয়ে গেছে। চলছে খোদার ওপর খোদকারি। স্রষ্ঠানুভূতিহীন উজবুকের দল আল্লাহ তায়ালার জমিনে তাঁরই বান্দার ওপর জুড়ে দিচ্ছে নানা শর্তের বোঝা। কোণঠাসা করার নানা অপচেষ্টা, ভূমিহীন করার পাঁয়তারা। হাজার বছর মুসলিম শাসিত দেশ ভারত; ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ীও যেখানে দ্বিতীয় বৃহত্তর জনসংখ্যা মুসলমান। ১৭.২২ কোটি যা মোট জনসংখ্যার ১৪.২ শতাংশ৫৯। গত ১৯ সালে সেখানে মোদি সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল Citizenship Amendment Bill (CAB) পাস করে। রাজনৈতিক সমালোচকগণের মতে, বিলটি মুসলমান জনগোষ্ঠীকে কোণঠাসা করতে বিজেপির এক ধূর্ত এজেন্ডা। নাগরিকত্বের আবেদন করতে হলে মুসলিমকে দেখাতে হবে সেখানে ১১ বছর ধরে বসবাসরত আর হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি এবং খ্রিস্টান নাগরিকত্বের আবেদন করতে তা দেখাতে হবে ৬ বছরের নিবাসকাল। অথচ ধর্মনিরপেক্ষ দেশটিতে ধর্মীয় বৈষম্যকে টেনে-হিঁচড়ে আনার চেষ্টা বিজেপি বারবারই করেছে। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে প্রথম এ বিলটি বিধান কক্ষে উত্থাপিত হয়। নিম্ন কক্ষ পার করতে পারলেও উচ্চ কক্ষ থেকে এটি বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে বিলটি পাস হওয়ার পর দেশ থেকে মুসলমানদের কোণঠাসা করতে এনআরসি (National Register of Citizens-NRC) তারা প্রকাশ করে, যদিও কিছু দিন না যেতেই তারা এটাকে ত্রুটিযুক্ত বলে দাবি করে, যখন বুঝলো থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে সত্যকে আর কতদিন ধামাচাপা দিয়ে রাখা যায়, সত্য আপন শক্তিতে উদীয়মান হয়। দেখা গেল সে এনআরসির তালিকা থেকে বিজেপির অনেক হিন্দু ভোটার বাদ পড়েছিল, যারা ভারতের বৈধ নাগরিক নয়। ফলে তারা বাধ্য হয়ে সমস্যাটি বেশিক্ষণ চাপিয়ে জিইয়ে রাখার সুযোগ পেল না। গিলে ফেলতে বাধ্য হলো।
কুরবানি : ক্ষমতার চেয়ার পোক্ত করতে মোদি 'পিঙ্ক রেভুলেশনে'র চাল চালে। গরু জবাই বিষয়ে কংগ্রেসকে দায়ী করে হাতিয়ে নেয় জনগণের মনতুষ্টি তা নাকি পশু ধ্বংস করছে। মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে জনসমর্থন লাভ করতে 'যাদব' সম্প্রদায়কে গোলাপি বিপ্লব দ্বারা প্ররোচিত করে। যারা পশু পালনের জন্য বিখ্যাত এবং مسلمانوں সাথে তাদের সম্পর্ক বেশ উষ্ণ। ফলে এ সম্পর্কে চির ধরে। মোদি দাবি তুলে বলে 'আমরা সবুজ বিপ্লব সম্পর্কে জানি, শ্বেত বিপ্লব সম্পর্কে জানি; কংগ্রেস তাতে আগ্রহী না হয়ে আগ্রহী হলো গোলাপি বিপ্লবে' তথা গরু জবাই ও তার মাংস বাণিজ্যে। 'কৃষক-পশু পালক কংগ্রেস কোনো ভর্তুকি পায় না পায় গরু জবাইকারী।' একথা বলে মদি আরও ঘি ঢেলে দিলো আগুনে, বাগিয়ে নিলো কৃষক-পশুপালক জনগণ, তাদের চির ধরালো মুসলিমদের থেকে।৬০
এছাড়াও ইন্ডিয়ার ৬৮তম 'রিপাবলিক ডে'র প্যারেডে দিল্লিতে মোদি পিঙ্ক কালারের ওড়না মাথায় গুঁজে হাজির হয় এবং পরবর্তীতে তা টুইট করায় বিশাল সংখ্যক নারী সমর্থক তার তৈরি হয়। ৬১
অথচ আরজেডি সভাপতি লালু প্রসাদ মোদির সমালোচনা করে বলেন "নরেন্দ্র মোদি বকওয়াস করে চলছেন, প্রত্যেকে তো দেখতেই পাচ্ছে সে (পিঙ্ক রেভ্যুলেশনের নামে পশু দরদ দেখালেও) চামড়ার তৈরি স্যান্ডেল ও জুতো পরেন (তাহলে এ মায়াকান্নার কোন মানে আছে।)”৬২ গো-রক্ষার নামে ইসলাম-বিদ্বেষে ঘি ঢেলে দিল। ভারতীয় সংবিধানের ৪৮ নং আরটিকেল অনুযায়ী রাজ্য সরকারকে গরু-পশু কুরবানি নিষিদ্ধ করতে ক্ষমতায়ন করা হয়। সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের বিবৃতিতে ফুটে উঠেছে বিজিপি পরিচালিত অনেক রাজ্যে গরু কুরবানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কঠোর ও এর মেয়াদ দীর্ঘতর করা হয়েছে মোদি সরকার ১৪ সালে ক্ষমতারোহণের পর থেকে। ভারতের ৮৪ শতাংশ এলাকায় ২০১৭ সালে এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ ছিল, যা মোট জনসংখ্যার ৯৯.৩৮ শতাংশ-এর উপর আরোপিত হয়। ৬০ ভারতজুড়ে এ শয়তানি খেলার মদতদাতা বিজেপি ও আরএসএসএর মতো সাঙ্গপাঙ্গরা। গুজরাটে বিজেপি সদস্য বিজয় রুপানি "গরু কুরবানি ও তার গোশত বহন করা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডীয় অপরাধ” বলে মনে করিয়ে দেয়। 'গো রক্ষক' পরিচয়ে 'গো রক্ষা'র নামে তারা আইন হাতে তুলে নেয়। হামলে পড়ে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর। এসব আক্রমণের প্রায় ৯৭ ভাগই মোদি সরকার ক্ষমতারোহণের পর ঘটে। অপরদিকে ঘটনাগুলোর প্রায় অর্ধেক বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোকে কেন্দ্র করে। ২০১৮ তে ঘটনার ৭০ শতাংশ, ২০১৭ তে ৭০ শতাংশ, ৫৩.৫ শতাংশ, ২০১৬ তে ৩১ শতাংশ, ২০১৫ তে ৩৩.৩ শতাংশ ঘটেছে বিজেপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়।
শরিয়াহবিরোধী আইন ও সংস্থা : শরিয়াহ আইন। কুরআন-হাদিস বর্ণিত জীবনব্যবস্থা। ২০১০ থেকে শরিয়াহবিরোধী আইনের ঝড় শুরু হয়। যার হর্তাকর্তা ও গডফাদার হিসেবে আছে আমেরিকান ফ্রিডম ল সেন্টার-এর কো-ফাউন্ডার ও সেন্টার ফর সিকিউরিটি পলিসির উপদেষ্টা ডেভিড ইয়রোশালমি। বিস্তারিত দেখতে গেলে এটি আমেরিকার মুসলিম-বিরোধী আইনি সংস্থা অ্যাক্ট ফর আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদি ষড়যন্ত্রের সফলতম রূপ। ২০১০ থেকে ১৭ পর্যন্ত ২০১টির মতো শরিয়াহবিরোধী আইন প্রণীত হয় যার ১৪টি কার্যকর হয়েছে আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। শরিয়াহবিরোধী এ আইনগুলো এন্ডি'স ল নামে খ্যাত। মার্কিন সেনা পিএসির সদস্য এন্ডির পুরো নাম William Andy Long যে আল-কায়দা দ্বারা উদ্বুদ্ধ আরব উপদ্বীপের এক ব্যক্তির হাতে ২০০৯ সালে নিহত হয়।
এছাড়াও আরও যেসব সংস্থা ইসলাম-বিরোধী নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর তারা হলো আমেরিকান পাবলিক পলিসি এলায়েন্স, সোসাইটি অব আমেরিকানস এন্ড ন্যাশনাল এক্সিসটেন্স, স্টপ ইসলামাইজেশন অব আমেরিকা, আমেরিকান ডিফেন্স ইনিশিয়েটিভ, ডেভিড হারোইডয ফ্রিডম সেন্টার। ২০১৯ সালে এমন ৮৪টি সংস্থা সাউদার্ন পোভার্টি ল সেন্টার শনাক্ত করেছে, এসব সংস্থার তৎপরতা ও শয়তানি বিস্তারিত জানতে, তাদের প্রণীত আইন ও তাৎপরতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে টীকা সংযুক্ত লিংক থেকে ঘুরে আসুন। ৬৪

টিকাঃ
[৫২] https://bit.ly/3siVGhp
[৫৩] www.refworld.org
[৫৪] The surprising Australian origin story of the burkini”, Sydney Morning Herald, 19 August, 2016. Retrieved 21 August 2016
[৫৫] “Tajikistan”. U.S. Department of State. Retrieved 14 February 2015
[৫৬] www.refworld.org
[৫৭] www.hindustantimes.com
[৫৮] www.nytimes.com
[৬০] www.thehindu.com
[৬১] www.hindustantimes.com
[৬২] economictimes.indiatimes.com
[৬০] CSSS, "A Narrowing Space," 12.
[৬৪] www.splcenter.org

📘 বিহাইন্ড দ্য ইসলামোফোবিয়া > 📄 শিক্ষাঙ্গনে ইসলামোফোবিয়ার ভয়াল চিত্র

📄 শিক্ষাঙ্গনে ইসলামোফোবিয়ার ভয়াল চিত্র


পাথরে ফুল ফোটানো যেমন অসম্ভব তেমন পাথরের অঙ্কন মুছে ফেলাও যেনতেন কথা নয়। তাই যত্ন সহকারে অতি সন্তর্পণে পাথরে খোদাই করে খাদ মেশানোর কাজে অনেকেই নিয়োজিত। সেই খাদ কি আর বাদ দেয়া যায় পরবর্তীকালে!
বলছিলাম ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের মনে বিদ্যঙ্কনের নামে যে মিথ্যাঙ্কন চলছে বিশ্বজুড়ে তা ভয়াল রূপ ধারণ করছে প্রতিনিয়ত। আরবি প্রবাদ বলে- ছোট্ট হৃদয়ে বিদ্যঙ্কন তো পাথরে অঙ্কনের ন্যায়, বিশ্বনবির ভাষ্যমতে, প্রতিটি কচি শিশুই সহজাত ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে। পরবর্তীতে সে তার পিতা- মাতার মাধ্যমে দেখে দেখে অন্য ধর্মে দীক্ষিত হয়। আর এখন তো চলছে অতি সূক্ষ্মভাবে বিভিন্ন পয়জন মস্তিষ্কে পুশ করার নানান কায়দা। বিদ্যলয় এখন সেই সহজাত ফিতরাতকে লয় করার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালনে এগিয়ে থাকছে সবার চেয়ে বেশি।
বলছিলাম চলমান শিক্ষাঙ্গনের কথা। যেখানে পিতামাতা সন্তান সপে দিয়ে ভারমুক্ত হয় তাদের মস্তিষ্কের সুষ্ঠু বিকাশের আশায়। অথচ সে মস্তিষ্কের হয় দুষ্টু বিকাশ। শিক্ষার ফল যদি এমন তেতোই হয় তাহলে তা থেকে দূরের সভ্যতার নাম-গন্ধহীন মানুষগুলোই তো ঢের উত্তম।
বর্ণবৈষম্যমুক্ত শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। শিক্ষাঙ্গনে জ্ঞানার্জনের জন্য শিক্ষার্থীদের বিচরণ অতি উত্তম। কারণ আল্লাহ তায়ালাই বলেছেন : যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান? তবে সে জানা যদি হয় অজানার থেকে ভয়াবহ, যদি শিক্ষার নামে মস্তিষ্কে অশিক্ষা-কুশিক্ষা বাসা বেধে নেয় তবে তাতে কোনো রকমের বড়াই থাকে না। সচেতন মুসলিম হিসেবে এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল থাকা জরুরি যে শিক্ষার্থী শিক্ষাঙ্গনে তার ফিতরাত হারিয়ে ফেলছে কি না? নবিজির সেই হাদিস স্মরণ করুন। (ফিতরাতের হাদিস)
এবারে বিদ্যর্থীদের মনে বা সর্ষের ভেতরে কতটা ভূত ঢোকানো হলো তা খতিয়ে দেখা যাক। বাচ্চা-কাচ্চাদের মননে মিথ্যের দাবদাহ জ্বালানোর জন্য আছে নানা রকমফের।
ডেনিশ সরকারের নতুন আইন, পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলোর শিশুদের প্রতি সপ্তাহে ২৫ ঘণ্টা সময় সরকারি তত্ত্বাবধানে রাখা হবে, পিতা-মাতা থেকে আলাদা করে। তাদের সে সময় ডেনিশ মূল্যবোধ, পশ্চিমা কালচার এবং ডেনিশ ভাষা শিক্ষা দেয়া হবে বলে দাবি করা হয়। মূলত তাদের ডেনমার্কের সেকুলার ভাবধারা ও পশ্চিমীকরণেই তাদের খেয়াল। পিতা-মাতা এ শিক্ষায় না পাঠালে দেয়া হয় কঠোর সাজা। মূলত মুসলিম এলাকাগুলো ডেনিশ সরকারের মাথাব্যথার কারণ। তাদের মাধ্যমে যাতে কোনো আদর্শ আবার না ছড়িয়ে যায়। ৬৬
বিশ্ব-মোড়ল, শিক্ষায় স্ট্যান্ডার্ড দাবিদার খোদ আমেরিকায় রয়েছে শিক্ষা বৈষম্য। সুষম শিক্ষার পরিবেশ তারা এত বছর ধরেও প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। আমেরিকার শিক্ষাব্যবস্থার ইতিহাসে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার নানা সংগ্রাম পরিলক্ষিত হলেও তা সর্বাংশে আলোর মুখ দেখতে পায়নি। ১৯৫১ সালের ঘটনা। ক্যানসাস অঙ্গরাজ্যের রাজধানী তোপেকা। সেখানকার কৃষ্ণাঙ্গ স্কুল শিক্ষার্থী অলিভার ব্রাউনসহ আরও এগারোটি কৃষ্ণাঙ্গ পরিবারের শিশুর নিকটবর্তী স্কুলে ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়নি। ফলে তারা সেখানকার তোপেকা শিক্ষা বোর্ডের ওপর রাজ্য আদালতে মামলা করে। যেটি কার্যকর হয় ১৯৫৪ সালে। এ মামলাটি Brown v. Board of Education of Topeka নামে পরিচিত। বোর্ড যদিও ঘোষণা দেয়, রাজ্য স্কুলে কোনো রকম বৈষম্য 'পৃথক তবে সমান' ধারণাটি শিক্ষাগণ সুবিধার জন্য অসাংবিধানিক, তবে ১৪ পৃষ্ঠার এ রায় স্কুলগুলোতে জাতিগত নানা বৈষম্য বন্ধের কোনোরকম রূপরেখা বাতলে দেয়নি। উদ্দেশ্য পূরণ না হওয়ায় ১৯৫৫ সালে কোর্ট পুনরায় সিদ্ধান্ত জানায় যা 'Brown II' নামে পরিচিত। এখানেও কোর্ট শুধু 'অনতি বিলম্বে বৈষম্য দূর করার আদেশ দেয়। ৬৬
১৯৬৪ সালে সিভিল রাইটস অ্যাক্ট করা হয় আমেরিকান শিক্ষাক্ষেত্রে সার্বিক বৈষম্য দূর করার জন্য। সে যাত্রায় অনেক শিক্ষা গ্যাপ ফুটে ওঠে। এবং তা সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করা হয়। যদিও তা এখনো খুব প্রাথমিক। অবস্থায় বিরাজ করছে। মুসলিম শিক্ষার্থীরা স্কুলে নানা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার হয়। এফবিআইর রিপোর্ট অনুযায়ী- ২০০০ সালে -বিদ্বেষমূলক আক্রমণ ছিল ২৮টি। ৯/১১-র পর ২০০১ সালে এ-বিদ্বেষমূলক ঘটনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮১টি। তাও শুধু রিপোর্টকৃত ঘটনা। দৃষ্টির অগোচরে এমন কত ঘটনা ঘটেছে তার ইয়ত্তা নেই। ৬৭
অসংখ্য গবেষণায় ফুটে এসেছে, মুসলিম শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে বিভিন্ন ছাত্র, শিক্ষক, প্রশাসন এবং অন্যান্য দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে যে পরিমাণ বৈষম্যের শিকার হয় তাতে শিক্ষাঙ্গন এখন বিরাটাকার ঝুঁকির কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর সোস্যাল পলিসি এন্ড আন্ডারস্ট্যান্ডিং- আইএসপিউর রিপোর্ট অনুযায়ী শিক্ষাঙ্গনে মুসলিম শিক্ষার্থীরা অন্যান্য শিক্ষার্থীদের তুলনায় চারগুণ বেশি নিন্দার শিকার হয়।
অক্টোবর ৩০, ২০১৬ সাল। ক্যালিফোর্নিয়ায় ১১-১৮ বছরবয়সি ১০৪১ জন সরকারি-বেসরকারি স্কুলের মুসলিম শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি জরিপ করা হয়। CAIR পরিচালিত এ সার্ভেতে ফুটে উঠে ইসলামোফোবিয়ার ভয়াল রূপ। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ২৬ শতাংশ শিক্ষার্থী সাইবার বুলিংয়ের স্বীকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী সমবয়সিদের থেকে ইসলাম-বিদ্বেষী আক্রমণাত্মক মন্তব্যের শিকার। ৩৬ শতাংশ মেয়ে তাদের হিজাব নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার। শুধু ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী তাদের সমস্যা থেকে পরিত্রাণের পথ পেয়েছে। অনেকে অভিযোগ করেছে, মুসলিম পরিচয়ের ফলে তাদের একঘরে করে ফেলা হয়েছে। ৬৮
এহেন বৈষম্যের ফলে, প্রতি তিনজন শিশুর একজন অন্যদের নিকট নিজের মুসলিম পরিচয় প্রকাশ করতে চায় না। প্রতি ছয়জনের একজন বিপদাশঙ্কায় নিজেকে অমুসলিম হিসেবে জাহির করে। ৬৯ শিক্ষাঙ্গন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রতিফলন ক্ষেত্র। সেখানে ইসলাম বিদ্বেষচর্চার ফলে জাতি-বিদ্বেষ এবং অসমতাই কেবল উস্কে দেয়া হয় না বরং মেধা-মনন গঠনে পরোক্ষভাবে জাতীয় উন্নয়নকে করা হয় বাধাগ্রস্ত।
দৃশ্যায়ন: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫। ইরভিং টেক্সাসের ম্যাকঅর্থার উচ্চ বিদ্যলয় প্রাঙ্গণে ঘটে যায় এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। স্কুলের সুপরিচিত 'ইনভেন্টর কিড' লকব প্রাপ্ত ১৪ বছরের মুহাম্মাদকে কেন্দ্র করেই সে ঘটনা। ঘটনার পূর্বে বলে নেই, অসাধারণ মেধাবী একজন ছাত্র মুহাম্মাদ। সুদানী বংশোদ্ভূত মুহাম্মাদের ঝোঁক ছিল ইলেকট্রনিক্সে। বাড়িতে তৈরি বিভিন্ন যন্ত্রপাতি প্রায়ই সে স্কুলে নিয়ে আসত শিক্ষক ও বন্ধুবান্ধবদের দেখাতে আর স্কুলের ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি ঠিক করার জন্যও আনত। তাই বন্ধুরা তার লকবজুড়ে দেয় ইনভেন্টর কিড বা উদ্ভাবনী শিশু। দিন দিন মুহাম্মাদ হয়ে ওঠে বিশ্বনন্দিত। তার দক্ষতা ও নিপুণতার প্রমাণস্বরূপ নাসা (NASA), গুগল (GOOGLE), ফেসবুক (FACEBOOK) এমনকি আমেরিকার প্রেসিডেন্টের তরফে তার জন্য আসে নিমন্ত্রণপত্র।
একদিনের ঘটনা। বরাবরের মতই মুহাম্মাদ বাড়িতে তৈরি একটা ঘড়ি নিয়ে এসে স্কুলে হাজির। তার স্বভাবসুলভ কৌতূহল। এত যত্নের-কষ্টের যন্ত্রটি ঠিকঠাক হলো কি না! কিন্তু এবার তা কাল হয়ে দাঁড়াল। ইংরেজি ক্লাসে যখন যন্ত্রটি বিপ বিপ শব্দ জুড়ে দিল শিক্ষক ঘাবড়ে গেল। যন্ত্রটি বাজেয়াপ্ত করে প্রিন্সিপ্যালের নিকট নালিশ করল। বড়ো অদ্ভুত সে নালিশ! তার তৈরি এ ঘড়িটি নাকি বোমার মত; এক ধরনের বোমা। এ ষড়যন্ত্রে শিক্ষককে ভড়কে দেয়ার চেয়ে বেশি ইন্ধন জুগিয়েছে 'মুসলিম শিশুর মেধার প্রখরতা ও উত্থান' নিয়ে কিছু লোকের হিংসা। পুলিশ এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছোট্ট এ বাচ্চাকে জেরা করে। পুলিশ যদিও বুঝতে পারে মুহাম্মাদের কোনো দোষ নেই, নেই কোনো কুমতলব; তবুও তাকে আটক করে রাখে। তার পরিবারের পোহাতে হয় নানা ভোগান্তি, মুহাম্মাদের প্রিয় বন্ধুদের রেখে সে স্কুলটি ছেড়ে দিতে হয়। ৭০
আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্য টিনেসাসের রাজধানী নাশভিল। নাশভিলের অন্যতম জাতীয় দাতব্য স্কুল নিউ ভিশন একাডেমি। নভেম্বর ২০১৭। কোনো একদিন ক্লাসে এক কিশোরী দুঃখজনক এক ঘটনার শিকার হয়। ক্লাস চলাকালে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তার হিজাবে আবৃত চুল নিয়ে নানা প্রকার কু মন্তব্য করে। কটূক্তির মুখে একপর্যায়ে তাকে হিজাব খুলতে বাধ্য করা হয়। ক্লাস চলাকালীন এ ঘটনার কোনো সুষ্ঠু সমাধান করতে কেউ সচেষ্ট হয়নি। যেন এ নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই, যেন খুব স্বাভাবিক একটা ঘটনা। এ নিয়ে প্রতিবাদ বা হস্তক্ষেপের কী-ই বা আছে! ক্লাসে উপস্থিত শিক্ষক পর্যন্ত কোনো প্রকার বাধা প্রদান করেনি এ অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় রোধ করতে। বরং হয়তো পুরো ঘটনাকে খুব উৎসাহভরে উপভোগ করেছে। এতটুকুতেই ঘটনার ইতি ঘটলেও অন্তরদহন কিছুটা লাঘব হতো হয়তো। এরপর যা ঘটে তা আরও পীড়াদায়ক। এক শিক্ষিকা ভিডিও ধারণ করে তার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে। সম্পূর্ণ অনৈতিক এ কাজটা যেন সে খুব মজা নিয়ে করেছে, উপরন্তু সে ভিডিওর শিরোনামে লেখেছে- ‘lol all that hair cover up (sic)’ উক্তিটি করার মাধ্যমে সে হিজাব পরিধানকে হেয়জ্ঞান করে। সে শিক্ষিকা আরও দাবি করে যে, মেয়েদের চুল খুলে ফেলা অর্থাৎ হিজাব পরিধানে বাধা প্রদান করা তাদের প্রতি কোনো ধরনের অবমূল্যায়ন বা অসম্মান নয়। ৭১

টিকাঃ
[*] www.politico.eu
[৬৬] Brown v. Board of Education, 98 F. Supp. 797, 798 (D. Kan. 1951), rev'd, 347 U.S. 483 (1954
[৬৭] Saylor, C. (2014). The U.S. Islamophobia Network: Its funding and impact. Islamaphobia Studies Journal, 2(1), 99-117
[*] Britto, P. R., (2011, September). Global battleground or school playground: The bullying of America's Muslim children. Retrieved from
[৬] yaqeeninstitute.org
[৭০] Bakali, Naved. (2016). Islamophobia: Understanding anti-Muslim racism through the lived experiences of Muslim youth.
[৭১] Cowen, T. W. (2017, November 13). Complex: Life. Retrieved from Complex

📘 বিহাইন্ড দ্য ইসলামোফোবিয়া > 📄 জায়ানিজমের যোগসাজশে ইসলামোফোবিয়া

📄 জায়ানিজমের যোগসাজশে ইসলামোফোবিয়া


শয়তান প্রতিজ্ঞামত নিজ কারিশমা দেখাতে থাকে নানা বিশৃঙ্খলার জটলা পাকিয়ে। প্রতিটি কাজই যেন নিপুণতায় ঠাসা। সেই আদম আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরবর্তীকালে শয়তান প্রথম মূর্তি তৈরি ও একপর্যায়ে তা উপাস্যে পরিণত করার নীল নকশা কষে। অতি সূক্ষ তার সে চাল কেউ ঠাহর করতে না পারায় সে সফল হয়। মানুষগুলো শয়তানি তালে নাচতে থাকে, হারিয়ে ফেলে নিজ স্বকীয়তা। যুগে যুগে শয়তান খুঁজে নিয়েছে তার দোসর। এখন তার দোসররাই সে কাজগুলোর আঞ্জাম দেয়। তার আর ষড়যন্ত্রের ময়দানে থাকতে হয় না, পেছন থেকে শুধু ছক কষলেই চলে। লিড দেয়াই এখন তার মুখ্য কাজ। প্রতিমা তৈরি ও উপাসনা শুরু থেকে মানুষ বিভিন্ন ধর্মবর্ণে ভাগ হতে থাকে। এর মধ্যে ইহুদিবাদিরাই সবচে আলোচিত-সমালোচিত। দুনিয়াজুড়ে তারা নিজেদের কর্মের স্বাক্ষর রেখেই চলেছে। শয়তানের প্রধানতম দোসর তারা হওয়ার উপযুক্ত। নীল নকশা কষায় তাদের জুড়ি নেই। সেই মুসা আলাইহিস সালামের সময়কার তাদের সে লীলা তো আমরা সবাই জানি। যাক সে কথা। অধুনাকালে এসে ইহুদিদের আন্দোলন এসে অন্য মোড় নিয়েছে। যা জায়ানিজম নামে পরিচিত। থিওডোর হার্জেল প্রতিষ্ঠিত জায়ানিজম অধুনাকালে ইসলামোফোবিয়ার নিরেট ইন্ধন সরবরাহ করছে। মুসলিম-বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিতে তাদের বহুমুখী প্রচেষ্টা ও কর্মকাণ্ড চোখে পড়ার মতো।
ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার ইতিহাস অনেকেরই জানা। যার সাথে জড়িয়ে আছে মুসলিমদের হৃদখণ্ড বায়তুল মুকাদ্দাস ও ফিলিস্তিনের জানা-অজানা কতশত করুণ উপাখ্যান। ইসরায়েলের ত্রাণকর্তাগণ ইসরায়েলের প্রতি জনসমর্থন জোগাতে ও ফিলিস্তিনের প্রতি নজরদারি-আইনি বাধানিষেধ বাড়াতে খরচ করেছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার! আমেরিকাজুড়ে জঘন্য সব প্রপাগান্ডা, নীতিপ্রণয়ন ও জায়ানিজমের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া শিক্ষাঙ্গন ও কমিউনিটিতে ছড়িয়ে দিতে ব্যয় হয় এসব ডলার।
অর্থায়ন: অতি প্রাচীনকাল থেকেই জায়ানিজমের ত্রাণকর্তাগণ অর্থকে এক প্রকার অস্ত্র হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে। ইতমিনানের জন্য একটি উপমা টানা যাক; ফিলিস্তিন নিয়ে মুসলিম বিশ্বের স্বপ্নের সীমা বরাবরই আকাশছোঁয়া। পবিত্র এ ভূমি নিয়ে তাদের নানা চেষ্টার ছাপ আমরা ইতিহাসের পটে পটে অঙ্কিত পাই। ১৯১৭ সালের বেলফোর চুক্তির মাধ্যমে অবৈধভাবে অভিবাসন ফিলিস্তিনের বুকে ইহুদিদের। ১৪ মে ১৯৪৮ এ স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে যেই বিষফোঁড়ার জন্ম হয় তার বিষ বিষাক্ত করে তুলেছে সমগ্র ফিলিস্তিন; বরং আরও সত্য করে বলতে গেলে সমগ্র বিশ্বকে। ফিলিস্তিনের নারী-শিশুদের রক্তঝরা কান্না সারা বিশ্বের মানুষকে আহত করে।
সেই ৪৮ সালেই প্রথম আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ হয়। আরব সে যাত্রায় হেরে গেলেও ইসরাইলের ব্যাপক বদনাম রটে। এই ইস্যুতে যে দ্বন্দ্ব-কুৎসার সূত্রপাত হয় তা মোচনের জন্য বিখ্যাত ইহুদি লেখক ও আইনবিদ জ্যাকব ইসরায়েল দে হান টাকা ঢালার বুদ্ধি দেয়। সে বলে 'জায়োনিস্টদের ধ্বংস করতে আরব দেশগুলো আজ উত্তেজিত। তবে তাদের পত্রিকা প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক উপঢৌকনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। এই দুর্বলতা তাদের পরাজয় ও দীর্ঘ ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ৭২
ইহুদি অর্থ উন্নয়নের স্বপ্নপুরুষ রথসচাইল্ডের দর্শন হলো, এক পাত্রে সব ডিম রাখতে নেই। সে কথার বাস্তবায়ন দেখা যায় দেশে দেশে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সংগ্রামরত দলকে তারা অর্থ দিয়ে সহায়তা করে। ফলে যেই দলই ক্ষমতারোহণ করুক না কেন, ক্ষমতা কুক্ষিগত থেকে যায় সেই জায়ানিজমের হাতেই। ১৯৬০ এর দশক থেকে আমেরিকাভিত্তিক জায়নবাদী সংস্থাগুলো মুসলিম-বিদ্বেষের হালে পানি জুগিয়ে নিজেদের ভিত পাকা করায় লিপ্ত। বর্তমানে সেখানে তাদের ভিত কতটা মজবুত তা বোঝার জন্য ওয়ার্ড স্ট্রিট-এর দৃষ্টান্ত আঁকা যেতে পারে। ওয়ার্ড স্ট্রিট নিউইয়র্কে অবস্থিত স্টক এক্সচেঞ্জ। যেখানে শেয়ার কেনাবেচা হয়। এর মূল সদস্য সংখ্যা ১১০০ জন। ১৯১৫ সালের পূর্বে এ সদস্যদের মধ্যে কোনো ইহুদি জায়গা করে নিতে পারেনি। অথচ বর্তমানে পুরো শেয়ার বাজারই জায়ানিজমের দখলে। এদের অর্থায়নের পেছনে আছে মূলত ১১ জন ধনাঢ্য ব্যক্তি। তারা নিজেরাও এ টাকাগুলো কামায় ফিলিস্তিন অধিগ্রহণকারী ইসরাইলি বিজনেজ থেকে। একত্রে বলতে গেলে বর্তমানে তাদের এ জোট যা ১০০০০০০০০০০ ডলারের প্রতিনিধিত্ব করে। অথচ এ বিশাল অঙ্ক তাদের ব্যক্তিগত সম্পদের হিসেবের বাইরের। অর্থায়নের মূল হোতাদের এক নজর দেখে নেয়া যাক-
ইসলাম-বিদ্বেষ কেন অবধারিত!
জায়ানিজমের রক্ষীরা নিজেদের আখের গোছাতে ও ইসরায়েলের ভিত পাকা-পোক্ত করতে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ায়। এই ঘৃণ্যকাজে তারা অর্থ খরচে কোনো রকম কার্পণ্য করে না। ইসলামোফোবিয়াকে আইনসিদ্ধ করা ছাড়াও তারা বিদ্বেষমূলক ঘটনাগুলো খুব স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে সমাজে চিত্রিত করার কোনো কমতি রাখে না। সর্বোপরি মিডিয়ার দখল তাদের হাতের মুঠোয়। ফলে জনসাধারণের মানসপটে তারা এঁকে দিচ্ছে ইসলাম-বিদ্বেষ একটি চিরাচরিত বিষয়, এটা এমনিতেই অবধারিত; বিদ্বেষ না দেখানোই যেন অস্বাভাবিক। এমনকি তাদের উদ্দেশ্য হাসিলে তারা নিজেদের নাম পাল্টে অন্য ধর্মের পরিচয় বহন করে। অন্য ধর্মের পরিচয়ে জায়ানিজমের পক্ষে কাজ করে। এ ছলচাতুরিতে তারা উভয় দিকের ফায়দা লোটে। স্বার্থও সিদ্ধি হয়, জায়ানিজমও বদনামের কবল থেকে রেহাই পায়। এ পদ্ধতিটা তাদের নিকট 'কাহাল' নামে খ্যাত। কাহালের ভিত্তি হলো ব্যক্তি জায়ানিজমের হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সমাজব্যবস্থার প্রতি আস্থা-আনুগত্য বজায় রাখবে, এ আনুগত্য বজায় রেখে সে যদি ধর্মান্তরিতও হয় তবুও সে ইহুদি বলে গণ্য হবে। জায়ানিজমের মহৎ মিশনের সে সঙ্গী হবে। তাই অন্য ধর্মের হয়েও আমেরিকার মাটিতে কাহাল অনুযায়ী জায়ানিজমের পক্ষে কাজের লোকে লোকারণ্য।
আমেরিকান ফ্রিডম ল' সেন্টারকে অর্থ বরাদ্দ করে জুইস ফেডারেশন, ল' সেন্টারের কাজ হলো দেশজুড়ে মুসলিম কমিউনিটিগুলিতে 'ইসলাম ধর্মীয় পরিচয় কমিউনিটির জন্য এক প্রকার ঝুঁকির বিষয়' এ বার্তা পৌঁছে দেয়া। একদিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইসলামোফোবিয়াকে উস্কে দেয়া আর অন্যদিকে ইন্টারফেইথ তথা বিভিন্ন ধর্মের বিশ্বাসযোগ্যতার মেকি বুলি আওড়ে বেড়ানো নিছক উপহাস ছাড়া আর কিছুই নয়। ইসলামোফোবিয়া প্রোপাগান্ডায় প্রাথমিকভাবে তারা নিজেদের বিপদের বন্ধু হিসেবে উপস্থাপন করে। নানা দাতব্য সংস্থা, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ নির্মাণ, রাজনীতিতে নিরপেক্ষতা প্রদর্শন ইত্যাদির মাধ্যমে আস্থা অর্জিত হলেই শুরু হয় আসল খেল। ইসরায়েলকে বৈষম্যের হাত থেকে বাঁচাতে ইসলামোফোবিয়াকে তারা উজ্জীবিত করে। অব্যার্থ মারণাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হয় ইসলামোফোবিয়া।
ইসলামোফোবিয়া! বিশাল একটি মিশনের নাম। যা ইদানীং শুধু ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত নয় বরং বড়ো মাপের এক বিজনেস প্লাটফর্ম। অঢেল অর্থায়ন হয় এর পেছনে। ক্যালিফোর্নিয়ার ইসলামোফোবিয়া স্টাডিজ সেন্টারের এক জরিপ অনুযায়ী বিশাল অঙ্কের এই অর্থায়নের প্রায় ৭০শতাংশ অর্থই আসে ইহুদি ফান্ড থেকে। যা উপরোক্ত চার্ট দেখলেই সহজেই অনুমান করা যায়। আর ইহুদি অর্থ উন্নয়নের দিকপাল ম্যায়ের আমসেল রথসচাইল্ডের কথা তো বাদই দিলাম। যে গোটা ইউরোপকে বারবার রক্তাক্ত করে অর্থ কামিয়েছে। তাই তার অর্থকে বলা হয় 'ব্লাডমানি'। রথসচাইল্ড পরিবার গঠন করে ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী আর্থিক সংগঠন 'রেড শেইল্ড'। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে ইসলামোফোবিয়ার পেছনে ৭০ শতাংশ আর্থিক ইন্ধনের মতো বড়ো অর্থায়নও ইহুদিদের নিকট অতি নগণ্য ব্যাপার।
ইন্ধনদাতা সংস্থা
ইসলামোফোবিয়ার চাকা সচল রাখতে তৎপর কিছু জায়ানিজম সংস্থা বেশ পাকা-পোক্ত অবস্থান নিয়ে শিকড় গেড়েছে আমেরিকার মাটিতে। তাদের কর্মতৎপরতা বেশ চোখে পড়ার মতই। প্রস্তুতকৃত নীল ছক ইউএসের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়ছে তাদের হাত ধরে। কর্মতৎপরতার কিয়দাংশ-
এডেলসন ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন
২০১১ থেকে ১৩ এ অল্প সময়ে জায়ানিজম সংস্থা এডেলসন ইসলামোফোবিয়ার গতি ত্বরান্বিত করতে ইসলামোফোবিয়া নেটওয়ার্কের গ্রুপগুলোকে ১২২৫০০০ ডলার অর্থায়ন করে। ইসলাম ধর্মের প্রতি বিরূপ মনোভাব তৈরিতে তারা বিভিন্ন কূট কৌশলের দ্বারস্থ হয়। মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে কাজ হাসিল করে। বিভিন্ন ভিডিও নির্মাণ ও তার প্রচার-প্রচারণা তাদের রাহাকে করে দেয় সুগম। ২০০৮ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশনের সময় ক্লারিয়ন প্রজেক্টের মাধ্যমে Obsession: Radical Islam's War Against the West এর ২৮ মিলিয়ন ডিভিডি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া হয়। এছাড়া আমেরিকান সাবেক স্পিকার নিউইট গিনগরিচ, এডেলসন ফ্যামিলি থেকে অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার কামিয়ে নেয়, আর ১২ সালের প্রাইমারি প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশনের সময় সে বলে 'শরিয়াহ আমেরিকাসহ পুরো বিশ্বে স্বাধীনভাবে জীবন যাপনের পক্ষে মারাত্মক এক হুমকি।' অপরদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ফাউন্ডেশন থেকে পায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার, ট্রাম্প ইসরায়েল পক্ষীয় সর্বোৎকৃষ্ট প্রেসিডেন্ট হবে ধরেই এডেলসন ফ্যামিলি তাকে এত ব্যাপক অর্থায়ন করে।
ইনভেস্টিগেটিভ প্রজেক্ট অন টেরোরিজম
এন্টি ডিফেমেশন লিগ (ADL) তথা মানহানি নিরোধক সংস্থাই ইসলামের মানহানি করার জন্য IPT-কে অর্থায়ন করে! আইপিটি কর্ণধার স্টিভেন ইমারসন হোয়াইট হাউসের সাবেক স্ট্রাটেজিক অফিসার স্টিভেন ব্যনিনের যোগসাজশে নানা কুচক্রের ফন্দি আঁটে। তার মধ্যে ব্যাননের প্রস্তাবকৃত ফিল্ম Destroying the Great Satan : The Rise of Islamic Facism [sic] in America অন্যতম। ১৯৯৫ সালের ওকলাহোমা সিটিতে বোমা বিস্ফোরণের জের ধরে মধ্য প্রাচ্যের ইসলামি দেশগুলোকে হিসেবে no-go zones ঘোষণা রটায়।
জুইস ফেডারেশন
জুইস ফেডারেশন বিভিন্ন দেশে জায়ানিজমের মিশন বাস্তবায়নের অন্যতম এজেন্ডা নিয়ে কাজ করে। উত্তর আমেরিকায় স্থানীয়ভাবে এদের ১৪৮টি সদস্য ফেডারেশন রয়েছে, এরই সাথে আমেরিকা ও কানাডাজুড়ে রয়েছে ৩০০টি কমিউনিটির সাথে স্ট্রং নেটওয়ার্ক। এই ফেডারেশনের কাজের ধরন দুরকম। কেউ কেউ মুখে মধু মনে বিষ নিয়ে বেড়োয় অর্থাৎ সামনাসামনি খুবই সাপোর্ট করে ইসলামপন্থিদের। আর অপরপক্ষ সরাসরি ইসলাম বিদ্বেষে ঘি ঢেলে যায়। ইসলাম-বিদ্বেষী প্রোপাগান্ডা রটানো, ইসলামিক সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করে পথ রোধ করা ইত্যাদি কাজের জন্য এসব ফেডারেশন বছরে লাখো কোটি ডলার উপঢৌকন পায়। পকেটও ভারি হয়, ধর্মীয় মিশনও সম্পন্ন হয়। ৭৩

টিকাঃ
[৭৩] JVP's Jewish Organizations & Islamophobia Module

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00