📄 রাসূল ﷺ-এর নেতৃত্বগুণ থেকে ফায়দা
| রাসূল-এর নেতৃত্ব | আপনার নেতৃত্ব |
| :--- | :--- |
| খুব দ্রুত রাসূল মদিনার বাস্তবতা বুঝে সে অনুযায়ী সংস্কার শুরু করেছিলেন। | কী বদলানো যাবে আর যাবে না- সেটা জানার জন্য বদলানোর আগে নিজের বাস্তবতা বুঝুন। |
| পরিখা খননের সময় কোনো কোনো হিজরতকারী মুসলিম যখন কাজটাকে ছোট করে দেখছিলেন, তখন রাসূল নিজেই হাত লাগান। | শুধু উপর থেকে আদেশ দেবেন না। নিজেই নজির স্থাপন করুন। তাদেরকে যা অর্জন করতে বলছেন তার সাথে নিজেও যোগ দিন। |
| দায়িত্ব, অধিকারের ওপর ভিত্তি করে রাসূল মদিনার লোকদের মধ্যে সম্পর্ক জুড়ে দেন। সবাইকে শহরের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য দায়ী করেন। | যাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শুধু তাদের ভূমিকা ও দায়িত্বের ওপর নজর না দিয়ে তাদের মধ্যে মানবিক সম্পর্ক গড়ে দিন। |
| তিনি ভুল ধরতেন, তবে যিনি ভুল করেছেন। তাকে দোষারোপ করতে করতে সেটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করতেন না। | ভুল ক্ষমা করে দিন। অন্যকে তিরস্কার ও অপদস্থ করার জন্য নিজেকে সঠিক প্রমাণ করার চেষ্টায় বাড়াবাড়ি করবেন না। |
| রাসূল সতর্ক পর্যবেক্ষণ ও নির্ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতেন। | নিজের কাজের ব্যাপারে সর্বশেষ তথ্য সম্পর্কে জেনে রাখুন। যাতে আপনার সর্বাধুনিক নেতৃত্ব দিয়ে সবার শ্রদ্ধা জয় করতে পারেন। |
| অন্যকে রাজি করানোর ক্ষমতা তার ছিল (যেমন হুদায়বিয়াতে বনিবনায়) | যার সাথে বনিবনা করতে যাচ্ছেন তার স্বভাবপ্রকৃতি জানুন। তার কথা শুনুন। তার উদ্বেগ নিয়ে তার সাথে কথা বলুন। |
📄 রাসূল ﷺ-এর মৃত্যু
জীবনের শেষ দিনগুলোতে রাসূল ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েন। তিনি তখন বসে বসে সালাত পড়তে শুরু করেন। অন্যের সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারতেন না। রাসূলের চাচা হযরত আব্বাস তাঁর তীব্র জ্বর ও ক্রমাগত মাথাব্যথা নিয়ে বলেছেন, 'আবদুল মুত্তালিবের বংশধররা যখন মারা যায়, তখন তাদের চেহারা কেমন হয় আমি জানি'।
মসজিদে শেষ ভাষণে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, তার দিন ফুরিয়ে আসছে। কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে সেজন্য তিনি ক্ষমা চান।
'আমি যদি কারও পিছনে আঘাত করি, তাহলে সেটা আমার নিজের পেছনেই করেছি। কারও সম্পত্তি নিয়ে থাকলে সেটা নিজের সম্পদই অন্যায়ভাবে গ্রাস করেছি। কারও সম্মান নষ্ট করলে আমার করেছি'।
অসাধারণ অনুপ্রেরণামূলক জীবন কাটিয়ে ৬৩ বছর বয়সে রাসূল তাঁর পরম বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে ইহলোক ত্যাগ করেন।