📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 মক্কায় প্রবেশ

📄 মক্কায় প্রবেশ


হিজায অঞ্চলে মুসলিমদের প্রভাব বাড়িয়ে তিনি যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুব্যবহার করে তাঁর নিন্দুকদের ভুল প্রমাণ করেছিলেন। মদিনার আরও প্রতিবেশীদের সাথে তিনি চুক্তি করেন। এগুলো কুরাইশদের কাফেলার নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যুদ্ধবিরতি চুক্তি অন্যান্য গোষ্ঠীগুলো কার সাথে মিত্রতা করবে, এটা বাছাই করার স্বাধীনতা দিয়েছিল। বেশিরভাগ গোষ্ঠী যারা কুরাইশদের বাণিজ্য রুটে ছিল তারা মদিনাকে বেছে নিয়েছিল। পরের বছর রাসূল মক্কায় প্রবেশ করেন চুক্তির শর্ত অনুযায়ী। প্রায় ১ হাজার ৪শ সাহাবী নিয়ে হজ্জ পালন করেন। শান্তিপূর্ণভাবে পালন করার তিন দিন পর মক্কা ছাড়েন।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 নিজের প্রভাব বাড়ান

📄 নিজের প্রভাব বাড়ান


আপনার জীবনে দুটো অংশ আছে। যাদের ওপর আপনার প্রভাব আছে। আর যাদের নিয়ে আপনি উদ্বিগ্ন। যাদের ওপর আপনার প্রভাব আছে সেগুলো হচ্ছে- যা আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। অন্যদিকে উদ্বেগের বলয় হচ্ছে- যেসব জিনিস আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু এর নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে নেই।

চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, আপনার প্রভাব বলয় বাড়ানো, যাতে এটা উদ্বিগ্ন বলয়ে পৌঁছায়। রাসূল তাঁর প্রভাব বলয় বাড়িয়েছিলেন হিজাযের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সাথে মিত্রতা স্থাপন করে। যেটা পরে তাঁর উদ্বিগ্ন বলয়ে (মক্কা) প্রভাব ফেলেছিল কুরাইশদের বাণিজ্য কাফেলার মাধ্যমে।

মক্কায় হজ্জ পালনের পর এক সহিংসতার কারণে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যায়। কুরাইশ সমর্থিত এক গোষ্ঠী মুসলিমদের সাথে মিত্রতা স্থাপনকারী এক গোষ্ঠীর ওপর হামলা করে। এর পেছনে সামরিকভাবে মদদ দিয়েছিল কুরাইশরা। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী তা ছিল নিষিদ্ধ। কুরাইশরা এ ঘটনার জন্য দুঃখজ্ঞাপন করে, কিন্তু রাসূল কোনোভাবেই নিশ্চিত হতে পারছিলেন না যে এমন ঘটনা আর ঘটবে না। তাই তিনি তাদের সেই দুঃখপ্রকাশ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি ১০ হাজার সৈন্য জড়ো করেন সামরিক অভিযানের জন্য।

মক্কার বাইরে মুসলিমদের এই বিশাল বাহিনী দেখে কুরাইশরা বিনা যুদ্ধে আত্মসমর্পণ করে। রাসূল পুরো শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। যদিও সেই সময়ের আরব উপদ্বীপের রীতি অনুযায়ী সব পুরুষদের হত্যা এবং নারীদের দাসী বানানোর পুরো অধিকার তাঁর ছিল।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 নবি ﷺ জীবনের শেষ

📄 নবি ﷺ জীবনের শেষ


মক্কা বিজয়ের পর রাসূল মদিনায় ফিরে আসেন। হিজাজের বড় বড় গোষ্ঠীগুলো থেকে তাঁর কাছে প্রতিনিধিদল আসে। তিনি তাদের অভ্যর্থনা জানান। ইসলামে আসার অনুরোধ জানিয়ে পারস্য, সিরিয়া ও মিশরের রাজনৈতিক নেতাদের কাছে চিঠি লিখিয়ে পাঠান।।

আরবের ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ নিয়ে পরে তিনি হজ্জ পালন করেন। সেখানে তিনি ঐতিহাসিক বিদায় হজ্জের ভাষণ দেন। ন্যায়বিচার আর নারীদের প্রতি সম্মানের বিষয় তুলে ধরেন ('অन्याয় কোরো না... যা ঠিক তা নিয়ে নারীদের সঙ্গে আলোচনা করো... আমি যা বলছি তা শোনো, বিবেক খাটাও')। হজ্জ শেষে তিনি আবার মদিনায় ফিরে যান। 'লা ভিয়ে দে মাহোমেত' বইতে কন্সটান্টিন গেওরগিউ রাসূল-এর ভাষণ কতটা আলোড়ন সৃষ্টিকারী ছিল, সে ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে লিখেছেন- 'আমরা নবির কণ্ঠ শুনিনি। তার সময়ে ছিলাম না। তার সাথেও থাকিনি। কিন্তু তারপরও আমরা যখন তাঁর ভাষণ পড়ি, তখন আমরা তার শব্দের ঝনঝনানিতে আলোড়িত হই। আমাদেরই যখন এই অবস্থা, তাহলে সেদিন সেখানে যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের অবস্থা কেমন ছিল? সেই সম্ভ্রম-জাগানিয়া মুহূর্ত তাদের পক্ষে বুঝি কখনো ভোলা সম্ভব ছিল না। কারণ তারা রাসূল -এর কথায় অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন। শুধু কান দিয়ে নয়, হৃদয় ও মন দিয়ে তাঁর কথা গেঁথে নিয়েছিলেন'।

টিকাঃ
১০. গর্গিউ, ৩৭৬।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 রাসূল ﷺ-এর নেতৃত্বগুণ থেকে ফায়দা

📄 রাসূল ﷺ-এর নেতৃত্বগুণ থেকে ফায়দা


| রাসূল-এর নেতৃত্ব | আপনার নেতৃত্ব |
| :--- | :--- |
| খুব দ্রুত রাসূল মদিনার বাস্তবতা বুঝে সে অনুযায়ী সংস্কার শুরু করেছিলেন। | কী বদলানো যাবে আর যাবে না- সেটা জানার জন্য বদলানোর আগে নিজের বাস্তবতা বুঝুন। |
| পরিখা খননের সময় কোনো কোনো হিজরতকারী মুসলিম যখন কাজটাকে ছোট করে দেখছিলেন, তখন রাসূল নিজেই হাত লাগান। | শুধু উপর থেকে আদেশ দেবেন না। নিজেই নজির স্থাপন করুন। তাদেরকে যা অর্জন করতে বলছেন তার সাথে নিজেও যোগ দিন। |
| দায়িত্ব, অধিকারের ওপর ভিত্তি করে রাসূল মদিনার লোকদের মধ্যে সম্পর্ক জুড়ে দেন। সবাইকে শহরের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য দায়ী করেন। | যাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শুধু তাদের ভূমিকা ও দায়িত্বের ওপর নজর না দিয়ে তাদের মধ্যে মানবিক সম্পর্ক গড়ে দিন। |
| তিনি ভুল ধরতেন, তবে যিনি ভুল করেছেন। তাকে দোষারোপ করতে করতে সেটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করতেন না। | ভুল ক্ষমা করে দিন। অন্যকে তিরস্কার ও অপদস্থ করার জন্য নিজেকে সঠিক প্রমাণ করার চেষ্টায় বাড়াবাড়ি করবেন না। |
| রাসূল সতর্ক পর্যবেক্ষণ ও নির্ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতেন। | নিজের কাজের ব্যাপারে সর্বশেষ তথ্য সম্পর্কে জেনে রাখুন। যাতে আপনার সর্বাধুনিক নেতৃত্ব দিয়ে সবার শ্রদ্ধা জয় করতে পারেন। |
| অন্যকে রাজি করানোর ক্ষমতা তার ছিল (যেমন হুদায়বিয়াতে বনিবনায়) | যার সাথে বনিবনা করতে যাচ্ছেন তার স্বভাবপ্রকৃতি জানুন। তার কথা শুনুন। তার উদ্বেগ নিয়ে তার সাথে কথা বলুন। |

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00