📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 প্রতিপক্ষকে কীভাবে বুঝাবেন?

📄 প্রতিপক্ষকে কীভাবে বুঝাবেন?


• শুনুন: ব্যালডোনি তার ইন্সপায়ার, হোয়াট গ্রেট লিডারস ডু বইতে দেখিয়েছেন যে, লোকজনদেরকে তাদের ভিন্নমত বলতে দেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। ‘এটা কেবল ভিন্নমত দেওয়ার বিষয় না; বরং সত্যিকার অর্থে ভিন্নমত স্বীকার করা।’ ব্যালডোনি, ১০৮-১০৯ কোনো ধরনের বাধা, তিরস্কার বা রায় দেওয়া ছাড়া রাসূল তাঁর সাহাবীগণকে তাদের হতাশা প্রকাশের সুযোগ দিয়েছিলেন।
• লাগতে যাবেন না: জোরাজোরি না করে যুক্তি, প্রমাণ ব্যবহার করে রাজি করানোর মাধ্যমে বুঝান। রাসূল তাঁর সাহাবীগণকে বললেন, কুরবানী করতে। মাথা চেছে ফেলতে। তারা যখন করলেন না, তখন তিনি নিজেই শুরু করলেন। বাকিরা পরে তাঁকে অনুসরণ করতে বাধ্য হলো। তিনি তাদের মন বদলে দিয়েছিলেন প্ররোচনার মাধ্যমে। নিজের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি জোরাজোরি না করে।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 মক্কায় প্রবেশ

📄 মক্কায় প্রবেশ


হিজায অঞ্চলে মুসলিমদের প্রভাব বাড়িয়ে তিনি যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুব্যবহার করে তাঁর নিন্দুকদের ভুল প্রমাণ করেছিলেন। মদিনার আরও প্রতিবেশীদের সাথে তিনি চুক্তি করেন। এগুলো কুরাইশদের কাফেলার নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যুদ্ধবিরতি চুক্তি অন্যান্য গোষ্ঠীগুলো কার সাথে মিত্রতা করবে, এটা বাছাই করার স্বাধীনতা দিয়েছিল। বেশিরভাগ গোষ্ঠী যারা কুরাইশদের বাণিজ্য রুটে ছিল তারা মদিনাকে বেছে নিয়েছিল। পরের বছর রাসূল মক্কায় প্রবেশ করেন চুক্তির শর্ত অনুযায়ী। প্রায় ১ হাজার ৪শ সাহাবী নিয়ে হজ্জ পালন করেন। শান্তিপূর্ণভাবে পালন করার তিন দিন পর মক্কা ছাড়েন।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 নিজের প্রভাব বাড়ান

📄 নিজের প্রভাব বাড়ান


আপনার জীবনে দুটো অংশ আছে। যাদের ওপর আপনার প্রভাব আছে। আর যাদের নিয়ে আপনি উদ্বিগ্ন। যাদের ওপর আপনার প্রভাব আছে সেগুলো হচ্ছে- যা আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। অন্যদিকে উদ্বেগের বলয় হচ্ছে- যেসব জিনিস আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু এর নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে নেই।

চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, আপনার প্রভাব বলয় বাড়ানো, যাতে এটা উদ্বিগ্ন বলয়ে পৌঁছায়। রাসূল তাঁর প্রভাব বলয় বাড়িয়েছিলেন হিজাযের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সাথে মিত্রতা স্থাপন করে। যেটা পরে তাঁর উদ্বিগ্ন বলয়ে (মক্কা) প্রভাব ফেলেছিল কুরাইশদের বাণিজ্য কাফেলার মাধ্যমে।

মক্কায় হজ্জ পালনের পর এক সহিংসতার কারণে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যায়। কুরাইশ সমর্থিত এক গোষ্ঠী মুসলিমদের সাথে মিত্রতা স্থাপনকারী এক গোষ্ঠীর ওপর হামলা করে। এর পেছনে সামরিকভাবে মদদ দিয়েছিল কুরাইশরা। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী তা ছিল নিষিদ্ধ। কুরাইশরা এ ঘটনার জন্য দুঃখজ্ঞাপন করে, কিন্তু রাসূল কোনোভাবেই নিশ্চিত হতে পারছিলেন না যে এমন ঘটনা আর ঘটবে না। তাই তিনি তাদের সেই দুঃখপ্রকাশ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি ১০ হাজার সৈন্য জড়ো করেন সামরিক অভিযানের জন্য।

মক্কার বাইরে মুসলিমদের এই বিশাল বাহিনী দেখে কুরাইশরা বিনা যুদ্ধে আত্মসমর্পণ করে। রাসূল পুরো শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। যদিও সেই সময়ের আরব উপদ্বীপের রীতি অনুযায়ী সব পুরুষদের হত্যা এবং নারীদের দাসী বানানোর পুরো অধিকার তাঁর ছিল।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 নবি ﷺ জীবনের শেষ

📄 নবি ﷺ জীবনের শেষ


মক্কা বিজয়ের পর রাসূল মদিনায় ফিরে আসেন। হিজাজের বড় বড় গোষ্ঠীগুলো থেকে তাঁর কাছে প্রতিনিধিদল আসে। তিনি তাদের অভ্যর্থনা জানান। ইসলামে আসার অনুরোধ জানিয়ে পারস্য, সিরিয়া ও মিশরের রাজনৈতিক নেতাদের কাছে চিঠি লিখিয়ে পাঠান।।

আরবের ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ নিয়ে পরে তিনি হজ্জ পালন করেন। সেখানে তিনি ঐতিহাসিক বিদায় হজ্জের ভাষণ দেন। ন্যায়বিচার আর নারীদের প্রতি সম্মানের বিষয় তুলে ধরেন ('অन्याয় কোরো না... যা ঠিক তা নিয়ে নারীদের সঙ্গে আলোচনা করো... আমি যা বলছি তা শোনো, বিবেক খাটাও')। হজ্জ শেষে তিনি আবার মদিনায় ফিরে যান। 'লা ভিয়ে দে মাহোমেত' বইতে কন্সটান্টিন গেওরগিউ রাসূল-এর ভাষণ কতটা আলোড়ন সৃষ্টিকারী ছিল, সে ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে লিখেছেন- 'আমরা নবির কণ্ঠ শুনিনি। তার সময়ে ছিলাম না। তার সাথেও থাকিনি। কিন্তু তারপরও আমরা যখন তাঁর ভাষণ পড়ি, তখন আমরা তার শব্দের ঝনঝনানিতে আলোড়িত হই। আমাদেরই যখন এই অবস্থা, তাহলে সেদিন সেখানে যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের অবস্থা কেমন ছিল? সেই সম্ভ্রম-জাগানিয়া মুহূর্ত তাদের পক্ষে বুঝি কখনো ভোলা সম্ভব ছিল না। কারণ তারা রাসূল -এর কথায় অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন। শুধু কান দিয়ে নয়, হৃদয় ও মন দিয়ে তাঁর কথা গেঁথে নিয়েছিলেন'।

টিকাঃ
১০. গর্গিউ, ৩৭৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00