📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 কীভাবে অন্যদের রাজি করাবেন?

📄 কীভাবে অন্যদের রাজি করাবেন?


• নিজের মানুষদের জানুন: যাদের নিয়ে আপনার কাজ, তাদের ব্যাপারে জানুন। যেমন তাদের সামাজিক ব্যাকগ্রাউন্ড, শিক্ষাদীক্ষা, আগ্রহ ইত্যাদি। নির্ণয় করার চেষ্টা করুন আপনার আইডিয়া ছড়িয়ে দিতে কোন জিনিসটা প্রভাব ফেলতে পারে। হতে পারে তা কোনো যুক্তিচিন্তাভিত্তিক পয়েন্ট, আবেগময় কথা বা তার আগের বিশ্বাসের প্রতি আবেদন ইত্যাদি। মক্কা থেকে যে-দূত এসেছিলেন রাসূল তাঁর ব্যক্তিত্বের ব্যাপারে যা জানতেন তা কাজে লাগিয়েছিলেন।

আহাবিশরা যে কাবায় হজ্জ করতে আসাদের কী পরিমাণ সম্মানের চোখে দেখতেন এটা তিনি জানতেন। এজন্য তাঁরা যে কেবল হজ্জের জন্য এসেছেন তার প্রমাণ দেখাতে পেরেছিলেন।
- নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ান: আপনার কথাবার্তার মাত্র ৭ ভাগ মানুষের মনে ছাপ ফেলে। আপনার আচারআচরণের প্রভাব ৫৩ ভাগ। রাসূল -এর ওপর আগে একসময় হামলা করেছিল এমন ৪০ জন মাক্কী বন্দীসেনাকে হুদায়বিয়াতে ক্ষমা করে ছেড়ে দিয়েছিলেন। এটা কুরাইশদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছিল, কারণ আরবদের ঐতিহ্য অনুযায়ী কেবল মুক্তিপণের বিনিময়েই বন্দীদের ছেড়ে দেওয়া হতো। কথার চেয়ে কাজের ক্ষমতা বেশি।
- কীভাবে নিজের আইডিয়া মার্কেট করতে হবে জানুন: বিভিন্ন দূতিয়ালীদের সাথে রাসূল-এর আচরণ বিভিন্ন ছিল। কিন্তু মূলকথা একই ছিল: আমরা যুদ্ধ করতে আসিনি, [কাবা] প্রদক্ষিণ করতে এসেছি'। এই কথা কুরাইশদের কানে বারবার অনুরণিত হয়ে থাকবে। তারা জানত এই মুহূর্তে যুদ্ধ মক্কার স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে, অন্যদিকে ১৪০০ হজ্জযাত্রী এলে আর্থিকভাবে তাদের লাভ হবে।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 অচলাবস্থা নিরসন

📄 অচলাবস্থা নিরসন


শেষপর্যন্ত কুরাইশরা রাজি হলো যে, তারা হজ্জ করতে পারবে তবে এবছর না। আগামী বছর। দশকব্যাপী শত্রুতা এভাবেই শেষ হলো।

মুসলিমদের কাছে এই চুক্তি অবশ্য অন্যায্য মনে হয়েছিল। কারণ, তারা উমরার সব প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিল। দেরি হোক এমনটা তারা চাননি। তাছাড়া চুক্তিতে আরেকটা কথা ছিল যে, যারা মক্কা ছেড়ে এসেছে তাদেরকে মুসলিমরা ফিরিয়ে দেবে। কিন্তু কেউ যদি মদিনা ছেড়ে আসে, তাহলে তাকে ফিরিয়ে দিতে কুরাইশরা বাধ্য থাকবে না।

যাহোক, শেষমেষ তারা চুক্তির শর্ত মেনে নেয়। কারণ রাসূল একে তাদের বৃহৎ স্বার্থের জন্য দেখেছেন। বিষয়টাকে তিনি শুধু অন্য আদল থেকে দেখেননি; বরং প্রথমে যারা চুক্তিটাকে অন্যায্য ভেবেছিল তাদেরকেও তিনি তা বুঝাতে পেরেছিলেন। রাসূল কীভাবে হুদায়বিয়ার শান্তিচুক্তির ফায়দা অন্যান্য মুসলিমদের বুঝালেন? আপনি কীভাবে অন্যদের সহজে বুঝাতে পারবেন?

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 প্রতিপক্ষকে কীভাবে বুঝাবেন?

📄 প্রতিপক্ষকে কীভাবে বুঝাবেন?


• শুনুন: ব্যালডোনি তার ইন্সপায়ার, হোয়াট গ্রেট লিডারস ডু বইতে দেখিয়েছেন যে, লোকজনদেরকে তাদের ভিন্নমত বলতে দেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। ‘এটা কেবল ভিন্নমত দেওয়ার বিষয় না; বরং সত্যিকার অর্থে ভিন্নমত স্বীকার করা।’ ব্যালডোনি, ১০৮-১০৯ কোনো ধরনের বাধা, তিরস্কার বা রায় দেওয়া ছাড়া রাসূল তাঁর সাহাবীগণকে তাদের হতাশা প্রকাশের সুযোগ দিয়েছিলেন।
• লাগতে যাবেন না: জোরাজোরি না করে যুক্তি, প্রমাণ ব্যবহার করে রাজি করানোর মাধ্যমে বুঝান। রাসূল তাঁর সাহাবীগণকে বললেন, কুরবানী করতে। মাথা চেছে ফেলতে। তারা যখন করলেন না, তখন তিনি নিজেই শুরু করলেন। বাকিরা পরে তাঁকে অনুসরণ করতে বাধ্য হলো। তিনি তাদের মন বদলে দিয়েছিলেন প্ররোচনার মাধ্যমে। নিজের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি জোরাজোরি না করে।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 মক্কায় প্রবেশ

📄 মক্কায় প্রবেশ


হিজায অঞ্চলে মুসলিমদের প্রভাব বাড়িয়ে তিনি যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুব্যবহার করে তাঁর নিন্দুকদের ভুল প্রমাণ করেছিলেন। মদিনার আরও প্রতিবেশীদের সাথে তিনি চুক্তি করেন। এগুলো কুরাইশদের কাফেলার নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যুদ্ধবিরতি চুক্তি অন্যান্য গোষ্ঠীগুলো কার সাথে মিত্রতা করবে, এটা বাছাই করার স্বাধীনতা দিয়েছিল। বেশিরভাগ গোষ্ঠী যারা কুরাইশদের বাণিজ্য রুটে ছিল তারা মদিনাকে বেছে নিয়েছিল। পরের বছর রাসূল মক্কায় প্রবেশ করেন চুক্তির শর্ত অনুযায়ী। প্রায় ১ হাজার ৪শ সাহাবী নিয়ে হজ্জ পালন করেন। শান্তিপূর্ণভাবে পালন করার তিন দিন পর মক্কা ছাড়েন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00