📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 বাগাড়া-বাধানো দল

📄 বাগাড়া-বাধানো দল


কেউ কেউ রাসূল যেসব পরিবর্তন আনতে চাচ্ছিলেন তাতে বাধা দিয়েছিল। তিনি তাদের স্বার্থের জন্য হুমকি ছিলেন। আবার যে অবস্থায় তারা অভ্যস্ত ছিল তার প্রতিও রাসূল-এর পরিবর্তন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। তারা রাসূল-এর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ঝামেলা পাকানো, অস্থিরতা তৈরি এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নড়বড়ে করে দেওয়ার হীন উদ্দেশ্যে 'আদ দিরার' নামে ভিন্ন একটি মসজিদ বানায়। তাদের কোনো নির্দিষ্ট গোত্র বা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিশ্বাস ছিল না। এটা ছিল পরিবর্তনের ঘোরবিরোধী লোকদের জোট। আল্লাহ তায়ালা এদেরকে 'মুনাফিক' বলেছেন।

তারা সংখ্যায় মোট কত ছিলেন আমরা জানি না। কিংবা তারা কোনো জনগোষ্ঠীর অংশ ছিলেন কিনা তাও জানা যায় না। তাদের সবচেয়ে বিখ্যাত নেতা ছিলেন আবদুল্লাহ ইব্‌ন্ উবাই। বদর যুদ্ধে মুসলিমগণের জয়ের পর তিনি অনিচ্ছাবশে ইসলাম গ্রহণ করেন। এদের মোকাবিলার জন্য রাসূল তাদের ব্যক্তিত্ব এবং সমস্যার ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন কৌশল খাটিয়েছিলেন। কখনো তাদের সাথে সংলাপে বসতেন। কখনো কাউকে উপেক্ষা করতেন। আবার কখনো কখনো কাউকে কাউকে মদিনা থেকে বের করে দিতেন।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 ভিন্নমতাবলম্বী লোকজন

📄 ভিন্নমতাবলম্বী লোকজন


অন্যরা মদিনা সংবিধানের বিরোধিতা করেছিল। মদিনার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যেমন কায়নুকা গোত্র। এরা তুলনামূলক ধনী গোষ্ঠী। মদিনার স্বর্ণবাজারে এদের আধিপত্য ছিল। বদর প্রান্তর থেকে বিজয়ী হয়ে ফেরার পর রাসূল কায়নুকা গোষ্ঠীকে মদিনা সংবিধান লঙ্ঘনের ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দেন। এতে করে তাদের এক নেতৃত্বস্থানীয় লোক স্পর্ধার সাথে বলেছিল, 'তোমরা এমন একদল (মক্কার কুরাইশরা) লোকের সাথে লড়েছ, যারা জানে না কীভাবে লড়াই করতে হয়। আমাদের সাথে এসো, তাহলে বুঝবে লড়াই কী জিনিস'।

সুদ নিষিদ্ধ করায় ওদের মেজাজ এমনিতেই চড়ে গিয়েছিল। আজকালকার দিনের বন্ধকি ব্যবস্থার মতো মরিয়া ধার-গ্রহিতাদের চড়া সুদে ঋণ দিয়ে এসব স্বর্ণব্যবসায়ীরা লাভ করত। মুসলিমগণ সুদমুক্ত বাজার তৈরি করায় তাদের এই লাভের গুড়ে পিঁপড়া বাসা বাধে।

পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয় যখন কায়নুকা গোষ্ঠীর কিছু লোক একজন মুসলিম নারীর শ্লীলতাহানি করে এবং এর কিছুদিন বাদে এক মুসলিম পুরুষকে মারতে মারতে মেরে ফেলে। তারা তার রক্তপণ দিতেও অস্বীকার করে। স্থানীয় নিরাপত্তার জন্য বিষফোঁড়া হিসেবে না-রেখে রাসূল তাঁর বাহিনী জড়ো করে এই গোষ্ঠীকে মদিনা ছাড়া করেন।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 দ্বন্দ্ব নিরসন

📄 দ্বন্দ্ব নিরসন


নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনার মাঝে পার্থক্য আছে। নেতৃত্ব মানে নির্দিষ্ট ভিশন। ব্যবস্থাপনা মানে সেই ভিশন অর্জনের তত্ত্বাবধান। রাসূল -এর মধ্যে এই দুটো গুণই ছিল। তিনি প্রথমে একটি ভিশন দিয়েছেন, পরে সেটি বাস্তবায়নে কাজ করেছেন। অন্যান্যদেরকেও এগুলো শিখিয়েছেন। যেমন- কাউকে সামরিক বাহিনীর দায়িত্ব দিয়েছেন, কাউকে নিজের অবর্তমানে মদিনার দায়িত্ব দিয়েছেন।

বদর, উহুদ, খন্দকের যুদ্ধে রাসূল -এর নেতৃত্বের ধরন এবং তিনি কীভাবে বিভিন্ন দ্বন্দ্ব নিরসন করেছেন এখন আমরা তা দেখব। আমাদের লক্ষ্য এসব যুদ্ধের গভীরে যাওয়া না; বরং কঠিন অবস্থায় রাসূল -এর চিন্তা ও চর্চা কী ছিল সেটা দেখা উদ্দেশ্য।

তাহলে বদর দিয়ে শুরু করি।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 বদরের যুদ্ধ

📄 বদরের যুদ্ধ


'যুদ্ধ সবসময়ই ভীষণ ক্ষতিকর। তবে কখনো কখনো এটা দরকার মূল্যবোধ বজায় রাখার জন্য, যেমন ইবাদাতের স্বাধীনতা’।

সাউদি আরবের লোহিত সাগরের উপকূল রেখা ধরে হিজায অঞ্চলে রাসূল তাঁর প্রভাব বাড়ান। অন্যন্য বেশকিছু গোষ্ঠীর সাথে মৈত্রী চুক্তি সাক্ষর করেন। বিশেষ করে যারা ছিল মদিনার প্রান্ত ও উপকূল অঞ্চলে। এর লক্ষ্য পরিষ্কার: মক্কার কাফেলা যেসব জায়গা দিয়ে অতিক্রম করে সেসব জায়গার গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বন্ধ করা। নিশ্চিত করা এসব গোষ্ঠীগুলো যাতে যুদ্ধে না-জড়ায়। রাসূল কুরাইশদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথে বাধা তৈরি করতে পেরেছিলেন। ফলে তারা ব্যয়বহুল পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছিল।

এমন এক ঘটনায় রাসূল বিশাল এক কুরাইশ কাফেলার গতি রোধ করতে সক্ষম হন। এখানে ২ হাজার উট ছিল। সিরিয়া থেকে আমদানীকৃত প্রায় ৫০ হাজার দিনারের মূল্যমানের মালামাল ছিল। যখন তারা জানতে পারল যে, রাসূল-এর লোকেরা এগিয়ে আসছে, তখন তারা তাদের পথ বদলাতে বাধ্য হয়।

মক্কায় এ নিয়ে হৈচৈ পড়ে যায়। মদিনার লোকদের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্য মক্কার একাংশ সশস্ত্র বাহিনী পাঠানোর যুক্তি তুলে ধরলে তা সফল হয়। এক হাজার সৈন্য ও সাতশ উটের বিশাল বহর নিয়ে তারা যাত্রা শুরু করে। রাসূলে ভাবেননি যে, বিষয়টা এদিকে গড়াবে। অপ্রস্তুত অবস্থায় তিনি তিনশ যোদ্ধা ও সত্তর উটের বাহিনী জড়ো করতে সক্ষম হন।

যোদ্ধা ও সরঞ্জাম সেই সময়ের যুদ্ধে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মুসলিমদের ছিল মাত্র দুটো ঘোড়া। উটের চেয়ে তড়িৎ আক্রমণে ঘোড়া বেশি কার্যকর। কুরাইশদের ছিল একশ ঘোড়া। সোজা কথায়, মক্কাবাসিদের চেয়ে মুসলিমগণের অস্ত্রশস্ত্র মারাত্মক কম ছিল। রাসূলে কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করলেন?

বদর যুদ্ধে রাসূল তাঁর সৈন্যদের অভিনব ফরমেশনে সাজালেন। ইংরেজি শেপের মতো সমান্তরাল দুই লাইনে সৈন্যরা দাঁড়াল। উভয়ের পিঠ উভয়ের দিকে। মাঝখানে আড়াআড়িভাবে সৈন্যদের এক লাইন। এর ফলে হলো কি, শত্রুবাহিনী কোনোদিক থেকেই মুসলিম বাহিনীকে চেপে ধরতে পারল না। তিনি তাঁর বাহিনীর কিছু অংশকে বৃষ্টির পানি জমে যেখানে খাবার পানি জমে ছিল, সেটার নিয়ন্ত্রণে রাখলেন। এরপর উপর থেকে সবকিছু দেখার জন্য এবং আদেশ দেওয়ার জন্য তিনি উঁচু জায়গা থেকে যুদ্ধ তত্ত্বাবধান করলেন। সবাইকে চমকে দিয়ে এই যুদ্ধ মুসলিমগণ জয় করে নেন। ৭০ জন কাফের নিহত হয়। আরও ৭০ জন বন্দী হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00