📄 নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ
একজন নেতাকে সবসময় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হতে হয়। যেমন- কঠিন সময়, ঝামেলা পাকানো লোকজন অথবা যারা পরিবর্তনের ঘোরবিরোধী এমন লোকজন।
মদিনায় রাসূল দুধরনের লোকদের থেকে বেশি সমস্যার মুখোমুখী হয়েছেন। এদের একদল আমার ভাষায় বাগড়া-বাধানো ধরনের লোক। যারা তাদের স্বার্থে ঝুঁকি খুঁজে পেয়েছিল। দ্বিতীয় দল শক্তভাবে ভিন্নমতাবলম্বী, যারা কায়নুকার ইহুদি গোত্রের সাথে মিলিত হয়েছিল। এখন আমরা দেখব, দুটো দলের সাথে রাসূল কীভাবে তাঁর নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ সামলেছিলেন। আমি চাই, এখান থেকে আপনিও আপনার বিরোধীদের সাথে মোকাবিলায় শক্তি পান। চলুন বিরোধীদের মোকাবিলার পরিকল্পনার রসদ খুঁজি।
📄 বাগাড়া-বাধানো দল
কেউ কেউ রাসূল যেসব পরিবর্তন আনতে চাচ্ছিলেন তাতে বাধা দিয়েছিল। তিনি তাদের স্বার্থের জন্য হুমকি ছিলেন। আবার যে অবস্থায় তারা অভ্যস্ত ছিল তার প্রতিও রাসূল-এর পরিবর্তন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। তারা রাসূল-এর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ঝামেলা পাকানো, অস্থিরতা তৈরি এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নড়বড়ে করে দেওয়ার হীন উদ্দেশ্যে 'আদ দিরার' নামে ভিন্ন একটি মসজিদ বানায়। তাদের কোনো নির্দিষ্ট গোত্র বা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিশ্বাস ছিল না। এটা ছিল পরিবর্তনের ঘোরবিরোধী লোকদের জোট। আল্লাহ তায়ালা এদেরকে 'মুনাফিক' বলেছেন।
তারা সংখ্যায় মোট কত ছিলেন আমরা জানি না। কিংবা তারা কোনো জনগোষ্ঠীর অংশ ছিলেন কিনা তাও জানা যায় না। তাদের সবচেয়ে বিখ্যাত নেতা ছিলেন আবদুল্লাহ ইব্ন্ উবাই। বদর যুদ্ধে মুসলিমগণের জয়ের পর তিনি অনিচ্ছাবশে ইসলাম গ্রহণ করেন। এদের মোকাবিলার জন্য রাসূল তাদের ব্যক্তিত্ব এবং সমস্যার ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন কৌশল খাটিয়েছিলেন। কখনো তাদের সাথে সংলাপে বসতেন। কখনো কাউকে উপেক্ষা করতেন। আবার কখনো কখনো কাউকে কাউকে মদিনা থেকে বের করে দিতেন।
📄 ভিন্নমতাবলম্বী লোকজন
অন্যরা মদিনা সংবিধানের বিরোধিতা করেছিল। মদিনার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যেমন কায়নুকা গোত্র। এরা তুলনামূলক ধনী গোষ্ঠী। মদিনার স্বর্ণবাজারে এদের আধিপত্য ছিল। বদর প্রান্তর থেকে বিজয়ী হয়ে ফেরার পর রাসূল কায়নুকা গোষ্ঠীকে মদিনা সংবিধান লঙ্ঘনের ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দেন। এতে করে তাদের এক নেতৃত্বস্থানীয় লোক স্পর্ধার সাথে বলেছিল, 'তোমরা এমন একদল (মক্কার কুরাইশরা) লোকের সাথে লড়েছ, যারা জানে না কীভাবে লড়াই করতে হয়। আমাদের সাথে এসো, তাহলে বুঝবে লড়াই কী জিনিস'।
সুদ নিষিদ্ধ করায় ওদের মেজাজ এমনিতেই চড়ে গিয়েছিল। আজকালকার দিনের বন্ধকি ব্যবস্থার মতো মরিয়া ধার-গ্রহিতাদের চড়া সুদে ঋণ দিয়ে এসব স্বর্ণব্যবসায়ীরা লাভ করত। মুসলিমগণ সুদমুক্ত বাজার তৈরি করায় তাদের এই লাভের গুড়ে পিঁপড়া বাসা বাধে।
পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয় যখন কায়নুকা গোষ্ঠীর কিছু লোক একজন মুসলিম নারীর শ্লীলতাহানি করে এবং এর কিছুদিন বাদে এক মুসলিম পুরুষকে মারতে মারতে মেরে ফেলে। তারা তার রক্তপণ দিতেও অস্বীকার করে। স্থানীয় নিরাপত্তার জন্য বিষফোঁড়া হিসেবে না-রেখে রাসূল তাঁর বাহিনী জড়ো করে এই গোষ্ঠীকে মদিনা ছাড়া করেন।
📄 দ্বন্দ্ব নিরসন
নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনার মাঝে পার্থক্য আছে। নেতৃত্ব মানে নির্দিষ্ট ভিশন। ব্যবস্থাপনা মানে সেই ভিশন অর্জনের তত্ত্বাবধান। রাসূল -এর মধ্যে এই দুটো গুণই ছিল। তিনি প্রথমে একটি ভিশন দিয়েছেন, পরে সেটি বাস্তবায়নে কাজ করেছেন। অন্যান্যদেরকেও এগুলো শিখিয়েছেন। যেমন- কাউকে সামরিক বাহিনীর দায়িত্ব দিয়েছেন, কাউকে নিজের অবর্তমানে মদিনার দায়িত্ব দিয়েছেন।
বদর, উহুদ, খন্দকের যুদ্ধে রাসূল -এর নেতৃত্বের ধরন এবং তিনি কীভাবে বিভিন্ন দ্বন্দ্ব নিরসন করেছেন এখন আমরা তা দেখব। আমাদের লক্ষ্য এসব যুদ্ধের গভীরে যাওয়া না; বরং কঠিন অবস্থায় রাসূল -এর চিন্তা ও চর্চা কী ছিল সেটা দেখা উদ্দেশ্য।
তাহলে বদর দিয়ে শুরু করি।