📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ 📄 সম্পর্ক বদল

📄 সম্পর্ক বদল


রাসূল ﷺ একজনের সাথে আরেকজনের সম্পর্ক বদলে দিয়েছেন। শত্রু মনোভাব আর সন্দেহের বদলে নাগরিকত্ব ও আস্থার ওপর সম্পর্ক গড়ার পথ তৈরি করে দিয়েছেন।

তিনি এটা করেছিলেন মদিনা সংবিধানের মাধ্যমে। এটা তৎকালীন ভাষায় লেখা। অনেক নেটিভ আরবের কাছেও এর কিছু কিছু অংশ বুঝা কঠিন। এর ৫২টি ধারার শব্দ কিছুটা অপ্রচলিত হলেও সামাজিক চুক্তি লিখে রাখার ঘটনা

সেই সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ছিল বৈপ্লবিক। আজও অর্থবহ। রাসূল সেখানে মদিনার সবাইকে 'এক জাতি' বলেছেন। মদিনাকে পবিত্র শহর ঘোষণা করেছেন। মক্কার মতো সব ধরনের হানাহানি এখানে নিষিদ্ধ করেছেন। স্থানীয় জনগণকে নিরাপত্তার জন্য দায়ভার বেটে দিয়েছেন। সবার জন্য যার যার ধর্ম বিশ্বাস চর্চার স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন।

'Leadership & The New Science' বইতে মার্গারেট হুইটলি বলেছেন,
চিরাচরিত নেতারা নজর দেন ভূমিকা আর দায়িত্বের ওপর। নতুন নেতারা মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন, যেটা হয়ে উঠে সাফল্যের আসল শক্তি।

মদিনা সংবিধান শুধু এর ধারার শব্দগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল না; বরং সমাজের সবার মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের জন্যও।

শুধু বিধিবিধান কোনো সফল রাষ্ট্র, কোম্পানি বা পরিবার গড়ে দেয় না। প্রত্যেক অধিবাসী যখন বুঝে, সে নিজের গোষ্ঠীর চেয়ে বড় কোনো অস্তিত্বের অংশ তখন সে সানন্দে সব করে। রাসূল এটা বুঝেছিলেন। পূরণ করেছিলেন। যে কারণে মদিনার সংখ্যাগরিষ্ঠ অমুসলিমরাও তাঁর নিয়ম মেনে নিয়েছিল।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ 📄 পরিবর্তনের পথে

📄 পরিবর্তনের পথে


রাসূল মদিনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনেন। কেন্দ্রীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। নিরাপত্তা জোরদার করেন। হিজরতকারী মুসলিমগণের জন্য ম্যালেরিয়া রোগের উর্বর এক জলাভূমি পরিষ্কার করে বাড়িঘর বানিয়ে দেন। এরা হয় মসজিদে ঘুমাতেন, নয় অন্যান্য পরিবারের সাথে অস্থায়ীভাবে থাকতেন।

বদর যুদ্ধের পর কাফেরদের সাথে লড়াইয়ে ঘোড়ার প্রয়োজনীয়তা টের পাওয়া যায়। রাসূল ঘোড় দৌড়ের জন্য আলাদা জমির ব্যবস্থা করেন। লোকদেরকে ঘোড়া কিনতে উৎসাহিত করেন।

তিনি শিক্ষাদীক্ষাকে উৎসাহিত করেন। নিরক্ষরতা দূর করার জন্য যুদ্ধবন্দীদের মুক্তি দেন। তারা মদিনার শিশুদের লিখতে পড়তে শেখাতেন।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ 📄 কীভাবে পরিবর্তনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন?

📄 কীভাবে পরিবর্তনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন?


* প্রথমে পরিবর্তনের চাহিদা তৈরি করুন। আপনার লোকজনদের সাধারণত ৭৫ ভাগকে পরিবর্তনের গুরুত্বের ব্যাপারে আশ্বস্ত হতে হবে। মদিনার জনগোষ্ঠীর নিজেদের মধ্যে লাগাতার মারামারির কারণে শান্তিতে জীবনযাপনের প্রয়োজনীয়তা চেপে ধরেছিল। তাই তারা রাসূল -এর সংস্কার নিয়ে খুশি ছিল, কারণ তারা নিরাপদের জীবনযাপনের জন্য তৃষ্ণার্ত পথিকের মতো হা করে ছিল।
* পরিবর্তন নিয়ে আপনার রূপরেখা পরিষ্কারভাবে বলুন। কোনো অসঙ্গতি যেন না-থাকে। তাহলে লোকজন বুঝবে আপনি আসলে কী চান। তারা নিজের চোখে সব দেখতে পারবে।
নিরাপদ ও ভবিষ্যৎ মদিনার ব্যাপারে রাসূল তাঁর কথা স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘মদিনাকে আমি হারাম করলাম যেভাবে নবি ইবরাহীম (আ) মক্কাকে হারাম করেছিলেন’। একথা শোনামাত্র সবাই নিজেদের শহরকে মক্কার মতো নিরাপদ কল্পনা করতে পেরেছিলেন।
* পরিবর্তনের ব্যাপরে যারা আশ্বস্ত তাদের নিয়ে কাজ করুন। এদের মধ্যে থাকতে পারেন উচ্চপদস্থ অফিসিয়াল ও অন্যান্য প্রভাবশালী লোক।
বদর যুদ্ধে কুরাইশদের চ্যালেঞ্জ করতে যারা তার পরিকল্পনাকে মজবুত করবে রাসূল তাদের সমর্থন খুঁজেছেন। সা’দ ইব্‌ন্ মু’আযের মতো গুরুত্বপূর্ণ গোষ্ঠী প্রধানদের কাছে পেয়েছিলেন।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ 📄 নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ

📄 নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ


একজন নেতাকে সবসময় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হতে হয়। যেমন- কঠিন সময়, ঝামেলা পাকানো লোকজন অথবা যারা পরিবর্তনের ঘোরবিরোধী এমন লোকজন।

মদিনায় রাসূল দুধরনের লোকদের থেকে বেশি সমস্যার মুখোমুখী হয়েছেন। এদের একদল আমার ভাষায় বাগড়া-বাধানো ধরনের লোক। যারা তাদের স্বার্থে ঝুঁকি খুঁজে পেয়েছিল। দ্বিতীয় দল শক্তভাবে ভিন্নমতাবলম্বী, যারা কায়নুকার ইহুদি গোত্রের সাথে মিলিত হয়েছিল। এখন আমরা দেখব, দুটো দলের সাথে রাসূল কীভাবে তাঁর নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ সামলেছিলেন। আমি চাই, এখান থেকে আপনিও আপনার বিরোধীদের সাথে মোকাবিলায় শক্তি পান। চলুন বিরোধীদের মোকাবিলার পরিকল্পনার রসদ খুঁজি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px