📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 বাস্তব নেতৃত্বের ভিত্তি

📄 বাস্তব নেতৃত্বের ভিত্তি


প্রত্যেক গোত্র নিজেদের পাড়ায় থাকত। প্রত্যেক পাড়া মাঝখানে খামার, খালি জায়গা বা দুর্গ দিয়ে আলাদা থাকত। প্রত্যেক পাড়ার দায়িত্বে থাকতেন একজন শেখ। বিভক্ত আর অস্ত্রসস্ত্রের মজুদ থাকার কারণে প্রত্যেক পাড়া হুমকির মুখে থাকত। পরিস্থিতি এত নাজুক হয়ে পড়েছিল যে, তারা নিজেরাও আমূল সংশোধন গ্রহণের জন্য উন্মুখ হয়ে ছিল।

মক্কায় আসার আগেই রাসূল -এর সুনাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। যে কারণে মদিনার লোকেরা সাগ্রহে তাঁর নেতৃত্ব বরণ করে নিয়েছিল। তারা তাঁর যোগ্যতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তা করেছিল। ভয় কিংবা জোরজবরদস্তিতে না।

রাসূল -এর নেতৃত্বের এই দিকটা আপনাকে অনুপ্রাণিত করুক। আপনার যোগ্যতার ওপর অন্যদের আস্থা আর শ্রদ্ধাই যেন হয় আপনার নেতৃত্বের ভিত্তি। কঠিন সময়ে তাদের সহযোগিতা পেতে এটাই কাজে দেবে।

মদিনার কেন্দ্রে তিনি ২০০ স্কয়ার ফিটের মসজিদ বানান। সাথে তাঁর থাকার জায়গাও। খাদিজার মৃত্যুর পর তিনি আবার বিয়ে করেছিলেন। মদিনায় তাঁর সাথে যেসব মুসলিম হিজরত করেছিলেন তাদের সাথে নিয়ে তিনি মসজিদ বানান। নিজ হাতেও কাজ করেছেন। তার সাথে যারা মসজিদ বানানোতে হাত লাগিয়েছিলেন, তাদের বেশিরভাগই ছিলেন ব্যবসায়ী। যারা কিনা অন্যান্য দাস বা কর্মচারীদের কাজের ভার দিতেন। রাসূল নিজ হাতে মসজিদের নির্মাণ কাজে অংশ নিচ্ছেন এটা দেখে হাতপা গুটিয়ে বসে থাকা মদিনায় হিজরতকারী মুসলিমগণের পক্ষে সম্ভব ছিল না। 'যেখানে রাসূল কাজ করছেন সেখানে আমরা বসে থাকি কীভাবে'- এমনটাই ছিল তাদের মনের অবস্থা।

জামায়াতবদ্ধ হয়ে সালাত পড়ার জন্য মুসলিমগণ এ মসজিদে জড়ো হতেন। মদিনায় আসার প্রায় ছয় মাস পর আযান চালু হয়। প্রথমদিকে জেরুজালেমের দিকে ফিরে মুসলিমগণ সালাত আদায় করতেন। মদিনার ইহুদি গোষ্ঠী চুক্তি ভাঙার পর এবং তাঁকে নবি হিসেবে না-মেনে আগেকার ধর্মগ্রন্থের ওপর পড়ে থাকায় মহান আল্লাহর নির্দেশে কিবলা বা সালাতের অভিমুখ মক্কার দিকে ফেরানো হয়। মদিনার দ্বিতীয় বছরে মুসলিমগণ রমযান মাসে সিয়াম পালন করতে শুরু করেন।

নেতৃত্ব মানে শুধু ক্ষমতা না; বরং অন্যের অনুসরণের জন্য নজির তৈরি করে দেওয়া। দ্যা লিডারশিপ অফ মুহাম্মাদ বইতে জন আদাইর বলেছেন,
'শ্রম, বিপদ ও কঠিনতায় লোকদের সাথে ভাগাভাগি করার মাধ্যমে মুহাম্মাদ ভালো নেতৃত্বের এক সার্বজনীন মূলনীতি দেখিয়েছেন। মানুষ মনে মনে আসলে তাদের নেতাদের কাছ থেকে এটাই চায়। যখন তা হয় না, তখন বিরূপ মন্তব্য আসে'।

টিকাঃ
২. আদাইর, ৭৭।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 মদিনাবাসী

📄 মদিনাবাসী


সে সময়ে মদিনার মোট জনসংখ্যা কত ছিল তা জানা যায় না। তারা গুচ্ছ গুচ্ছ গোষ্ঠীদলের মতো বাস করত। প্রত্যেক ক্ল্যান বা গোত্র নিজেদের অধীন অঞ্চলে থাকত। আরবের অন্যান্য গোষ্ঠীর বাইরে মদিনাবাসীদের দুটো ভিন্ন বৈশিষ্ট্য ছিল-
* ইহুদি: প্রায় বিশের অধিক ইহুদি গোত্র ছিল। এদের কারও কারও আদি উৎস ছিল লেভান্ত। এদের অনেকেই ছিল দক্ষ কামার, ট্যানার অথবা কৃষক।
* মুসলিম হিজরতকারী: এরা মক্কা অথবা ইথিওপিয়া থেকে এসেছিল। নিজেদের থাকার জায়গা হওয়ার আগে কেউ মসজিদে থাকতেন। কেউ মদিনার মুসলিম কনভার্টদের বাড়িতে। প্রথম দফায় প্রায় ৬০ জন মুসলিম এসেছিলেন। পরে মক্কা ও তার আশেপাশের জায়গা থেকে হিজরতকারীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 সম্পর্ক বদল

📄 সম্পর্ক বদল


রাসূল ﷺ একজনের সাথে আরেকজনের সম্পর্ক বদলে দিয়েছেন। শত্রু মনোভাব আর সন্দেহের বদলে নাগরিকত্ব ও আস্থার ওপর সম্পর্ক গড়ার পথ তৈরি করে দিয়েছেন।

তিনি এটা করেছিলেন মদিনা সংবিধানের মাধ্যমে। এটা তৎকালীন ভাষায় লেখা। অনেক নেটিভ আরবের কাছেও এর কিছু কিছু অংশ বুঝা কঠিন। এর ৫২টি ধারার শব্দ কিছুটা অপ্রচলিত হলেও সামাজিক চুক্তি লিখে রাখার ঘটনা

সেই সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ছিল বৈপ্লবিক। আজও অর্থবহ। রাসূল সেখানে মদিনার সবাইকে 'এক জাতি' বলেছেন। মদিনাকে পবিত্র শহর ঘোষণা করেছেন। মক্কার মতো সব ধরনের হানাহানি এখানে নিষিদ্ধ করেছেন। স্থানীয় জনগণকে নিরাপত্তার জন্য দায়ভার বেটে দিয়েছেন। সবার জন্য যার যার ধর্ম বিশ্বাস চর্চার স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন।

'Leadership & The New Science' বইতে মার্গারেট হুইটলি বলেছেন,
চিরাচরিত নেতারা নজর দেন ভূমিকা আর দায়িত্বের ওপর। নতুন নেতারা মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন, যেটা হয়ে উঠে সাফল্যের আসল শক্তি।

মদিনা সংবিধান শুধু এর ধারার শব্দগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল না; বরং সমাজের সবার মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের জন্যও।

শুধু বিধিবিধান কোনো সফল রাষ্ট্র, কোম্পানি বা পরিবার গড়ে দেয় না। প্রত্যেক অধিবাসী যখন বুঝে, সে নিজের গোষ্ঠীর চেয়ে বড় কোনো অস্তিত্বের অংশ তখন সে সানন্দে সব করে। রাসূল এটা বুঝেছিলেন। পূরণ করেছিলেন। যে কারণে মদিনার সংখ্যাগরিষ্ঠ অমুসলিমরাও তাঁর নিয়ম মেনে নিয়েছিল।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 পরিবর্তনের পথে

📄 পরিবর্তনের পথে


রাসূল মদিনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনেন। কেন্দ্রীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। নিরাপত্তা জোরদার করেন। হিজরতকারী মুসলিমগণের জন্য ম্যালেরিয়া রোগের উর্বর এক জলাভূমি পরিষ্কার করে বাড়িঘর বানিয়ে দেন। এরা হয় মসজিদে ঘুমাতেন, নয় অন্যান্য পরিবারের সাথে অস্থায়ীভাবে থাকতেন।

বদর যুদ্ধের পর কাফেরদের সাথে লড়াইয়ে ঘোড়ার প্রয়োজনীয়তা টের পাওয়া যায়। রাসূল ঘোড় দৌড়ের জন্য আলাদা জমির ব্যবস্থা করেন। লোকদেরকে ঘোড়া কিনতে উৎসাহিত করেন।

তিনি শিক্ষাদীক্ষাকে উৎসাহিত করেন। নিরক্ষরতা দূর করার জন্য যুদ্ধবন্দীদের মুক্তি দেন। তারা মদিনার শিশুদের লিখতে পড়তে শেখাতেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00