📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 মদিনা

📄 মদিনা


প্রথমে আমরা মদিনা নগর এবং মদিনার অধিবাসী সম্পর্কে কিছু জানব। কীভাবে উভয়ের উন্নয়ন ধারাকে রাসূল নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমান সাউদি আরাবিয়ার উত্তর দিকে মদিনার অবস্থান। দুপাশে দুই পাহাড়, উত্তরে উহুদ, দক্ষিণে আইর। মদিনা আরবের মরুদ্যান। এর মাটি উর্বর। ভূতলে প্রচুর পানি। নিচু নিচু উপত্যকা দিয়ে বৃষ্টির ধারা বয়ে চলে মৌসুমী নদীর মতো।

মদিনার নাম আগে ছিল ইয়াসরিব। মক্কা থেকে এটা প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। ইসলাম আসার আগে মক্কার যেমন একটা ধর্মীয় মর্যাদা ছিল, মদিনার তেমন কিছু ছিল না। গোত্র-লড়াই ছিল স্বাভাবিক। বাণিজ্যিক কোনো কেন্দ্রও ছিল না। কারণ কোনো কাফেলা রুটের মাঝখানে এটা ছিল না।

এর তেমন কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতাও ছিল না। কেন্দ্রীয় কোনো হাজতখানা বা পুলিশ বাহিনী ছিল না। যদিও এর আয়তন মক্কার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। মদিনার প্রত্যেক প্রতিবেশী গোষ্ঠীর নিজস্ব আশ্রয়স্থল বা দুর্গের মতো ছিল। এটা তাদের পাশের প্রতিবেশি থেকে তাদের রক্ষা করত। এরকম দুর্গের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭৮টি। প্রশ্ন হলো, রাসূল কীভাবে এমন এক অস্থিতিশীল অনিরাপদ শহর সামলালেন?

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 যোগ্য নেতৃত্ব

📄 যোগ্য নেতৃত্ব


এক শব্দে বলতে গেলে, তিনি পরিবর্তনের একটা ধারা শুরু করেছিলেন। কোথাও কোনো পরিবর্তন আনার আগে যেকোনো বিচক্ষণ নেতাই সতর্কতার সাথে পরিস্থিতি নির্ণয় করেন। রাসূল ও তা-ই করেছিলেন।

আমরা দেখব, ধর্ম বা ব্যক্তিগত বিশ্বাস যা-ই হোক, কীভাবে তিনি মানুষের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি ঘটিয়েছিলেন। আস্থা ও নিরাপত্তা অর্জনে সবার মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করে দিয়েছিলেন। আমরা তাঁর নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জগুলোও দেখব। যারা তাঁর নেতৃত্বে বাগড়া দিয়েছিল, তাদের সাথে তিনি কীভাবে আচরণ করেছিলেন তাও দেখব। মক্কাবাসিদের সাথে বড় তিনটি লড়াইয়ে (বদর, উহুদ, খন্দক) রাসূল-এর অ্যাকশন থেকে বিভিন্ন উপকার নেব। দেখব কীভাবে রাসূল তাঁর প্রভাব বাড়িয়েছেন এবং অবশেষে মক্কা জয় করেছেন মৃত্যুর মাত্র এক বছর আগে।

৬২২ সালের জুনে ইয়াসরিবে পৌছে মানুষের মাঝে রাসূল নতুন বাস্তবতা তৈরি করেন। দ্রুত তিনি উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নেন। স্থানীয় অধিবাসীদের ধর্ম বিশ্বাস যা-ই হোক, তিনি সবার যাতে কল্যাণ হবে সে অনুযায়ী বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন। যেমন ইয়াসরিবকে তিনি পবিত্র শহর হিসেবে ঘোষণা করেন। এখানে মক্কার মতো হানাহানি নিষিদ্ধ করেন। সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য গোটা শহরের অধিবাসীদের দায়িত্ব দেন।

হাদীস অনুযায়ী রাসূল বলেন, 'ইবরাহীম নবি (আ) যেভাবে মক্কাকে হারাম করেছেন, আমিও সেভাবে মদিনাকে হারাম করেছি'।

মদিনার জনগণ রাসূল-এর নেতৃত্ব নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট ছিলেন। মজার ব্যাপার হলো, এদের বেশিরভাগই ছিলেন অমুসলিম। আর তারা তাঁকে নবি বলে মানতেনও না। এই যে এত বিশাল সংখ্যক জনগণ তাঁকে নেতা হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন, এটা কিন্তু খাটো করে দেখার উপায় নেই। কারণ, এ রকমটা কখনো মদিনায় আগে দেখা যায়নি। যে জায়গা গোষ্ঠীলড়াইয়ে বিভক্ত ছিল, সেখানে বাইরে থেকে আগত কারও নেতৃত্ব মানা তো দূরের কথা, স্থানীয় কোনো একক নেতার অধীনে যে এক হবে, এমনটা ভাবাই যেত না।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 বাস্তব নেতৃত্বের ভিত্তি

📄 বাস্তব নেতৃত্বের ভিত্তি


প্রত্যেক গোত্র নিজেদের পাড়ায় থাকত। প্রত্যেক পাড়া মাঝখানে খামার, খালি জায়গা বা দুর্গ দিয়ে আলাদা থাকত। প্রত্যেক পাড়ার দায়িত্বে থাকতেন একজন শেখ। বিভক্ত আর অস্ত্রসস্ত্রের মজুদ থাকার কারণে প্রত্যেক পাড়া হুমকির মুখে থাকত। পরিস্থিতি এত নাজুক হয়ে পড়েছিল যে, তারা নিজেরাও আমূল সংশোধন গ্রহণের জন্য উন্মুখ হয়ে ছিল।

মক্কায় আসার আগেই রাসূল -এর সুনাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। যে কারণে মদিনার লোকেরা সাগ্রহে তাঁর নেতৃত্ব বরণ করে নিয়েছিল। তারা তাঁর যোগ্যতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তা করেছিল। ভয় কিংবা জোরজবরদস্তিতে না।

রাসূল -এর নেতৃত্বের এই দিকটা আপনাকে অনুপ্রাণিত করুক। আপনার যোগ্যতার ওপর অন্যদের আস্থা আর শ্রদ্ধাই যেন হয় আপনার নেতৃত্বের ভিত্তি। কঠিন সময়ে তাদের সহযোগিতা পেতে এটাই কাজে দেবে।

মদিনার কেন্দ্রে তিনি ২০০ স্কয়ার ফিটের মসজিদ বানান। সাথে তাঁর থাকার জায়গাও। খাদিজার মৃত্যুর পর তিনি আবার বিয়ে করেছিলেন। মদিনায় তাঁর সাথে যেসব মুসলিম হিজরত করেছিলেন তাদের সাথে নিয়ে তিনি মসজিদ বানান। নিজ হাতেও কাজ করেছেন। তার সাথে যারা মসজিদ বানানোতে হাত লাগিয়েছিলেন, তাদের বেশিরভাগই ছিলেন ব্যবসায়ী। যারা কিনা অন্যান্য দাস বা কর্মচারীদের কাজের ভার দিতেন। রাসূল নিজ হাতে মসজিদের নির্মাণ কাজে অংশ নিচ্ছেন এটা দেখে হাতপা গুটিয়ে বসে থাকা মদিনায় হিজরতকারী মুসলিমগণের পক্ষে সম্ভব ছিল না। 'যেখানে রাসূল কাজ করছেন সেখানে আমরা বসে থাকি কীভাবে'- এমনটাই ছিল তাদের মনের অবস্থা।

জামায়াতবদ্ধ হয়ে সালাত পড়ার জন্য মুসলিমগণ এ মসজিদে জড়ো হতেন। মদিনায় আসার প্রায় ছয় মাস পর আযান চালু হয়। প্রথমদিকে জেরুজালেমের দিকে ফিরে মুসলিমগণ সালাত আদায় করতেন। মদিনার ইহুদি গোষ্ঠী চুক্তি ভাঙার পর এবং তাঁকে নবি হিসেবে না-মেনে আগেকার ধর্মগ্রন্থের ওপর পড়ে থাকায় মহান আল্লাহর নির্দেশে কিবলা বা সালাতের অভিমুখ মক্কার দিকে ফেরানো হয়। মদিনার দ্বিতীয় বছরে মুসলিমগণ রমযান মাসে সিয়াম পালন করতে শুরু করেন।

নেতৃত্ব মানে শুধু ক্ষমতা না; বরং অন্যের অনুসরণের জন্য নজির তৈরি করে দেওয়া। দ্যা লিডারশিপ অফ মুহাম্মাদ বইতে জন আদাইর বলেছেন,
'শ্রম, বিপদ ও কঠিনতায় লোকদের সাথে ভাগাভাগি করার মাধ্যমে মুহাম্মাদ ভালো নেতৃত্বের এক সার্বজনীন মূলনীতি দেখিয়েছেন। মানুষ মনে মনে আসলে তাদের নেতাদের কাছ থেকে এটাই চায়। যখন তা হয় না, তখন বিরূপ মন্তব্য আসে'।

টিকাঃ
২. আদাইর, ৭৭।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 মদিনাবাসী

📄 মদিনাবাসী


সে সময়ে মদিনার মোট জনসংখ্যা কত ছিল তা জানা যায় না। তারা গুচ্ছ গুচ্ছ গোষ্ঠীদলের মতো বাস করত। প্রত্যেক ক্ল্যান বা গোত্র নিজেদের অধীন অঞ্চলে থাকত। আরবের অন্যান্য গোষ্ঠীর বাইরে মদিনাবাসীদের দুটো ভিন্ন বৈশিষ্ট্য ছিল-
* ইহুদি: প্রায় বিশের অধিক ইহুদি গোত্র ছিল। এদের কারও কারও আদি উৎস ছিল লেভান্ত। এদের অনেকেই ছিল দক্ষ কামার, ট্যানার অথবা কৃষক।
* মুসলিম হিজরতকারী: এরা মক্কা অথবা ইথিওপিয়া থেকে এসেছিল। নিজেদের থাকার জায়গা হওয়ার আগে কেউ মসজিদে থাকতেন। কেউ মদিনার মুসলিম কনভার্টদের বাড়িতে। প্রথম দফায় প্রায় ৬০ জন মুসলিম এসেছিলেন। পরে মক্কা ও তার আশেপাশের জায়গা থেকে হিজরতকারীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00