📄 মক্কার সংখ্যাগরিষ্ঠরা এই পরিবর্তনকে কীভাবে দেখেছে?
কুরআনের আয়াত সব মক্কাবাসীর মন জয় করেনি। তবে বেশ ভালো পরিমাণ মানুষের মনকে বদলে দিয়েছিল। এমন বড়সড় পরিবর্তনের পথে এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক।
মক্কার নেতাগোত্রীয় লোকেরা সমাজের তৎকালীন অবস্থায় ভালো উপকার পাচ্ছিল। যে কারণে স্বাভাবিকভাবে তারা এই পরিবর্তনের ঘোরবিরোধী ছিল। যেকোনো বড় পরিবর্তনে জয়ী, পরাজয়ী থাকে। মক্কার বেশিরভাগ আয় হতো মূর্তিপূজারী তীর্থযাত্রীদের মক্কা সফর থেকে। এই রীতি যদি তাওহিদবাদী ধর্ম বদলে দেয়, তাহলে তা শহরের আয় ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। এর দিকে ইঙ্গিত করে মহান আল্লাহ বলেন,
'তারা বলে, আমরা যদি তোমার সাথে পথনির্দেশ অনুসরণ করি, তাহলে আমাদের ভূমি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে’। আল কাসাস : ৫৭
📄 মক্কাবাসী যেভাবে পরিবর্তনে বাধা দিয়েছে
* কাবায় সালাত আদায়ের সময় মুসলিমদের হয়রানি করেছে। ‘তোমরা কি তাকে দেখেছ যে, একজন দাসকে বাধা দেয় যখন সে সালাত পড়ে? আল আলাক: ৯-১০
* রাসূল ক্ষমতা পেছনে ছুটেছেন এমন গুজব ছড়িয়েছে।
* ইসলামের দিকে ফিরে আসাদের ওপর শারীরিকভাবে হামলা করেছে। কখনো কখনো মেরে পর্যন্ত ফেলেছে। যেমন-মক্কাবাসীরা বিলাল (রা)-কে নির্যাতন করেছে। সুমাইয়া (রা)-কে শহীদ করে ফেলেছে।
📄 প্রশিক্ষণের গুরুত্ব
আগেই বলেছি, পরিবর্তনের জন্য পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলানোর মানসিকতা ও ভবিষ্যত জীবনের প্রতি নজর দিতে হয়। আরও দরকার নতুন দক্ষতায় প্রশিক্ষণ যেটা পরিবর্তনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা এখন দেখব নতুন ফিরে আসা মুসলিমরা নতুন জীবনের প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য কী করেছিলেন।
তিন বছরব্যাপী ইসলাম গ্রহণকারী নব-মুসলিমরা আল আরকাম নামে এক সাহাবীর বাড়িতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য যেকোনো প্রক্রিয়াতে প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নতুন জীবন রীতিতে অভ্যস্ত হওয়ার ব্যাপারটা চর্চার সাথে আসে। লেকচার আর লেসনের মাধ্যমে না। আমি এখানে প্রশিক্ষণের গুরুত্বের কথা বলব আল আরকামের বাড়িতে কী হতো সেটা বলে।
আব্বাসিদ শাহজাদা যখন আল আরকামকে অনেক পরে মসজিদ বানান তখন থেকে এটি আল খুযায়রানের বাড়ি নামে পরিচিত হয়। বায়তুল্লাহর সীমানা বাড়ানোর কারণে এখন আর এটি নেই।
আল আরকামের বাড়িতে ৪০ জন পর্যন্ত মানুষ এক হতে পারত। তারা সেখানে রাসূল ﷺ-এর কাছ থেকে শিখতেন, ইবাদত করতেন, নতুন জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিতেন। নতুন কনভার্টদের মন জয় করবেন কীভাবে সেটাও শিখতেন।
প্রশিক্ষণ মানে যা শিখছি তা চর্চা করা। শেখা ও চর্চা দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। ২১ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ শুধু শেখা না, যা শিখছি তা চর্চা করাও। ইসলামে আসা সাহাবীগণ যদি আল আরকামের বাসায় প্রতিদিন দুঘণ্টা করে মোট তিন বছর প্রশিক্ষণ নেন, তাহলে মোট সময় দাঁড়ায় ২ হাজার ঘণ্টা।
শুধু শিখে আসল পরিবর্তন আসে না। আসে প্রশিক্ষণ ও চর্চার মাধ্যমে। কাজেই প্রশিক্ষণের গুরুত্বকে নিচু করে দেখবেন না। প্রশিক্ষণের মধ্যে আছে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণ সেশনে উপস্থিত হওয়া।
কেউ কেউ প্রশিক্ষণকে পাত্তা দেন না। শুধু নিজেদের তথ্য বাড়ানোর দিকে নজর দেন। যে কারণে তাদের কাজের মধ্যে এসব তথ্যের কোনো ছাপ পাওয়া যায় না।
কেউ আবার প্রশিক্ষণ নিতে বিব্রতবোধ করেন। মনে করেন তিনি যেকোনো একটা দক্ষতা জানেন না, এটা জানলে অন্যরা না-জানি কী মনে করবে। এই নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগেন। তবে বীরত্ব তো সেখানেই, যখন নিজেকে আরও ভালো মানুষে পরিণত করার জন্য কেউ কঠিন অবস্থায় ঝাঁপিয়ে পড়েন।
📄 নিরাপদ পরিবেশ
স্মার্ট প্রশিক্ষক আপনাকে উৎসাহিত করবে, আপনাকে গড়ে উঠতে নাড়া দেবে। কিন্তু অন্যের সামনে আপনাকে বিব্রত করবে না।
স্মার্ট প্রশিক্ষক প্রশিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ দেয়। যেখানে সে একবার ভুল করলে বারবার শুধরানোর সুযোগ পায়। যেখানে পরিণামের ভয় না করে কোনো নির্দিষ্ট দক্ষতায় তার ঘাটতি নিঃসঙ্কোচে বলতে পারে।
আল আরকামের বাড়িতে প্রশিক্ষণ নিতে আসা সাহাবীগণ এমন পরিবেশই পেয়েছিলেন। রাসূল সেখানে শান্ত ও সহমর্মী পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের পথনির্দেশ দিয়েছেন। কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেননি; বরং নজর দিয়েছেন তাদের আচরণের উন্নতির দিকে। যেমন- কীভাবে সঠিকভাবে সালাত পড়বে।
রাসূল এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছিলেন যেখানে প্রশিক্ষার্থীদের ভুলের ভয় করতে হতো না। হাসি-তামাশার পাত্র হতে হতো না। ফলে তারা গড়ে উঠতে পারতেন।
আল আরকামের এই নিরাপদ পরিবেশ যেকোনো ট্রেনিং কোর্সেই থাকা উচিত। আপনি এতদিন ধরে কতটা জানেন, তার চেয়ে এখানে থাকবে বারবার প্রচেষ্টার সুযোগ। নজর থাকবে আপনার শক্তিমত্তার দিকটা ব্যবহারের ওপর।