📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেওয়া

📄 পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেওয়া


অন্য শতাব্দীগুলোর সাথে একুশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় পার্থক্য দ্রুত পরিবর্তনশীলতা। টেলিফোন থেকে মোবাইল, এনসাইক্লোপিডিয়া থেকে উইকিপিডিয়া, ইটপাথরের মার্কেট থেকে অনলাইন শপিং আরও কত কী! যে কারণে পরিস্থিতির দাবি মেনে বদলে যাওয়া আর মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা।

পরিস্থিতির দাবি মেনে বদলে যাওয়া মানে শুধু নতুন নতুন জিনিস শেখা না। যেসব জিনিস এখন আর কাজে লাগে না, সেগুলো ভুলে যাওয়াটাও এর মধ্যে পড়ে।

ভুলে যাওয়া কঠিন। সবাই তা পারে না। বিশেষ করে নির্দিষ্ট একটা বয়সে পৌছার পর। ভুলে যাওয়ার জন্য পরিবর্তনকে বরণ করতে হয়। একে সামলানোর আত্মবিশ্বাস লাগে। প্রফেসর বিল লুকাস বলেছেন,

'আজকের জমানায় টিকে থাকতে হলে প্রতিভার ব্যাপারে ভিন্ন চোখ গড়তে হবে। আইকিউয়ের মতো সংকীর্ণ ধরনের বুদ্ধিমত্তার ধরা বাঁধা ধারণার ওপর নির্ভর করার দিন আর এখন নেই। সামনের দিনগুলোতে দিনে দিনে আমরা আগ্রহী হবো মানুষের মন কীভাবে কোনো জিনিস ভুলে যাওয়ার দিকে যাচ্ছে সেদিকে। যাতে বিভিন্ন পরিবেশে লাগাতার সে তার বুদ্ধিমত্তা বাড়াতে পারে'।

ভুলে যাওয়ার এই সামর্থ্যই তুফাইল ও দিম্মাদের অভিজ্ঞতার অনুপ্রেরণামূলক দিক। পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জের ব্যাপারে তুফাইল ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। 'আমি খারাপ থেকে ভালো আলাদা করতে পারি। এই লোকের কথা আমি কেন শুনব না'?

দিম্মাদ ছিলেন ডাকিনিবিদ। কিন্তু সত্য চেনার পর অতীতের এই বিদ্যা ভোলার জন্য তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন। 'আমি জ্যোতিষী, জাদুকর, কবিদের কথা শুনেছি। কিন্তু এমন কথা আমি জীবনে শুনিনি'।

পরিবর্তনের বেলায় অনেকের চ্যালেঞ্জ হলো, পরিচিত ও আরামদায়ক কিছু ছেড়ে পুরোপুরি নতুন ও অপরিচিত কিছু হাতে নেওয়া। আবু যর (রা)-এর বেলাতে তা-ই হয়েছিল। কাফেলা আর সফরকারীদের লুট করাই ছিল তার কাজ। কিন্তু সেটা পুরোপুরি ছেড়ে দিয়ে নতুন জীবন রীতি গ্রহণ করেছিলেন।

যত ইচ্ছাই থাকুক, অভ্যাস ছেড়ে দেওয়া সবসময় কঠিন। কারণ অতীত স্মৃতি হৃদয়ে কড়া নাড়তে পারে। কিন্তু নতুন ও অপরিচিত কিছুর সাথে স্মৃতিকাতরতার কিছু নেই।

তবে আবু যর (রা) তার পুরোনো সুখ (দ্রুত টাকা, লুট করে নিজের ক্ষমতা জাহির) ছেড়ে দিতে পেরেছিলেন। ভবিষ্যতের দিকে চিন্তার মোড় ঘুরিয়েছিলেন (যেমন- কীভাবে কুরাইশদেরকে তার ইসলামে আসার কথা বলবেন)।

পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটা ভালো মানসিক কৌশল। পুরোনো স্মৃতি নিয়ে আহাজারির মানসিকতা ছেড়ে নতুন জীবনের প্রতিশ্রুতির জন্য আগ্রহভরে অপেক্ষা করুন। আপনার নতুন অভ্যাস কীভাবে আপনার জীবনকে আরও সুন্দর করবে সেটা কল্পনা করুন। পুরোনো অভ্যাস ফেলে দিলে কী হারাবেন, এগুলো চিন্তা করে মাথা খারাপ করবেন না। পরিবর্তনের পর আপনার অবস্থা কল্পনা করুন যাতে পরিবর্তনের ব্যাপারে অধীর আগ্রহ বাড়ে। আর অতীতের সাথে জোড়া কমে।

আমি বলছি না যে এতে পরিবর্তনের পথ সহজ হবে। তবে এতে পরিবর্তনের কষ্ট অনেকটা কমবে।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 কুরআনে পরিবর্তন

📄 কুরআনে পরিবর্তন


আমি এখন পরিবর্তনের ভাষার প্রকৃতি নিয়ে কথা বলব। কুরআনের প্রথম দিকের সূরাগুলো নাজিল হয়েছিল রাসূল মক্কায় থাকা অবস্থাতে। মক্কাবাসীরা কুরআনের সেই ভাষাভঙ্গিমার প্রতি কীভাবে সাড়া দিয়েছিল? কুরআনের প্রায় চারভাগের তিনভাগ সূরা মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। শুরু হয়েছে যখন ফেরেশতা জিবরাঈল রাসূল-কে বলেছেন, 'পড়'!

মাক্কী সূরাগুলোতে মহান আল্লাহর একত্ব, শক্তিশালী নৈতিক মূল্যবোধের গুরুত্বের কথা বলেছে, মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ার করেছে, নবি-রাসূল ও বিশ্বাসীদের অনুপ্রেরণামূলক কাহিনি বলেছে, জান্নাতের তাক লাগানো বর্ণনা ও জাহান্নামের ভয়াবহতার কথা বলেছে।

মাক্কী সূরাগুলোর ছন্দ দ্রুত। ঠিক যেন ও সময়ে যারা বদলে গিয়েছিল তাদের মতো। কুরআনের ১১৪টি সূরার ৮৬টি সূরা রাসূল মক্কায় থাকা অবস্থায় নাফিল হয়েছে। ৪ হাজারেরও বেশি আয়াত আছে এই সূরাগুলোতে। শুরু হয়েছে 'পড়'! দিয়ে। শেষ হয়েছে ৮৩ নম্বর সূরা আল মুতাফফিফীন দিয়ে।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 মক্কার সংখ্যাগরিষ্ঠরা এই পরিবর্তনকে কীভাবে দেখেছে?

📄 মক্কার সংখ্যাগরিষ্ঠরা এই পরিবর্তনকে কীভাবে দেখেছে?


কুরআনের আয়াত সব মক্কাবাসীর মন জয় করেনি। তবে বেশ ভালো পরিমাণ মানুষের মনকে বদলে দিয়েছিল। এমন বড়সড় পরিবর্তনের পথে এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক।

মক্কার নেতাগোত্রীয় লোকেরা সমাজের তৎকালীন অবস্থায় ভালো উপকার পাচ্ছিল। যে কারণে স্বাভাবিকভাবে তারা এই পরিবর্তনের ঘোরবিরোধী ছিল। যেকোনো বড় পরিবর্তনে জয়ী, পরাজয়ী থাকে। মক্কার বেশিরভাগ আয় হতো মূর্তিপূজারী তীর্থযাত্রীদের মক্কা সফর থেকে। এই রীতি যদি তাওহিদবাদী ধর্ম বদলে দেয়, তাহলে তা শহরের আয় ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। এর দিকে ইঙ্গিত করে মহান আল্লাহ বলেন,

'তারা বলে, আমরা যদি তোমার সাথে পথনির্দেশ অনুসরণ করি, তাহলে আমাদের ভূমি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে’। আল কাসাস : ৫৭

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 মক্কাবাসী যেভাবে পরিবর্তনে বাধা দিয়েছে

📄 মক্কাবাসী যেভাবে পরিবর্তনে বাধা দিয়েছে


* কাবায় সালাত আদায়ের সময় মুসলিমদের হয়রানি করেছে। ‘তোমরা কি তাকে দেখেছ যে, একজন দাসকে বাধা দেয় যখন সে সালাত পড়ে? আল আলাক: ৯-১০
* রাসূল ক্ষমতা পেছনে ছুটেছেন এমন গুজব ছড়িয়েছে।
* ইসলামের দিকে ফিরে আসাদের ওপর শারীরিকভাবে হামলা করেছে। কখনো কখনো মেরে পর্যন্ত ফেলেছে। যেমন-মক্কাবাসীরা বিলাল (রা)-কে নির্যাতন করেছে। সুমাইয়া (রা)-কে শহীদ করে ফেলেছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00