📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 চিন্তাভাবন ও ব্যস্ত জীবন

📄 চিন্তাভাবন ও ব্যস্ত জীবন


রাসূল নিজের জন্য কিছু সময় আলাদা করতেন। পরিবার ও সবার থেকে দূরে, মক্কার প্রান্ত থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে এক পর্বত গুহায়। সাথে থাকত শুধু খাবার। সেখানে তিনি প্রতিদিন কী করতেন, তা নিয়ে কোনো রোজনামচা বা ডাইরি নেই। তবে তিনি নিজের ধ্যানধারণা, চিন্তাভাবনা, অনুভূতি নিয়ে ভাবতেন। কখনো কখনো স্থিরদৃষ্টিতে কাবার দিকে তাকিয়ে থাকতেন। কারণ, অত উঁচু পাহাড় থেকে সহজেই কাবা দেখা যেত। পর্বতগুহাটি হেরা অথবা আলোর পাহাড় নামে পরিচিত। সাগরপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৬২০ মিটার। ছোট একটা ফাটলমুখ দিয়ে গুহায় ঢুকতে হতো। ভেতরে একজন মানুষ দাঁড়ানো তো দূরের কথা, কোনোমতে শুতে পারবে এমন জায়গা। অথচ এমন জায়গাতেই রাসূল একমাস নাগাদ কাটিয়েছেন। জায়গাটি ছিল নিস্তব্ধ। রাতে আরও বেশি।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 নিজের জন্য সময়

📄 নিজের জন্য সময়


ঘুপচি এক গুহায় একাকী দুনিয়া থেকে আলাদা হয়ে থাকা কোনো মজার কাজ বলে বেশিরভাগ লোকেরই মনে হবে না। ঘরে কিংবা মসজিদে নির্জন সময় তা-ও কাটানো যায়। কিন্তু লোকালোয় থেকে এমন জনমানবহীন জায়গায় ভাবাই যায় না এখন। কিন্তু রাসূল নিয়মিত তা করেছেন।

একসময় বছরে পুরো এক মাস। ভয় পাননি। একঘেয়ে লাগেনি। কারণ তাঁর মধ্যে গভীর ভাবনায় ডুবে যাওয়ার সামর্থ্য ছিল।

আজকের যুগে এমন মানুষ পাওয়া দুর্লভ। গোটা দুনিয়া আজ নেটওয়ার্কের আওতায়। এখন একা থাকা মানে কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের ধাঁধানো স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা। চিন্তাভাবনার উদ্দেশ্যে নির্জনে থাকা এর থেকে পুরো আলাদা।

কেউ আবার ভুল বুঝবেন না যে, আপনাদেরকে সমাজ ছেড়ে একঘরে হয়ে যেতে বলা হচ্ছে। রাসূল বেশ ভালোভাবেই তাঁর সমাজের অংশ ছিলেন। আমরা আগে দেখেছি; বরং, নিজের জন্য নির্জনে কাটানোর সময় বের করুন ভাবনাচিন্তা করার জন্য।

মোবাইল ফোন আমাদের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতাকে গিলে ফেলেছে। কোথায় নেই সে। গাড়ি দুর্ঘটনার কারণ থেকে শুরু করে মসজিদে সালাতরত অবস্থায় টাং করে বেজে ওঠা। সবজায়গায় সে। গোটা পরিবার এক ছাদের নিচে, কিন্তু সবাই যে যার মতো মুঠোফোন নিয়ে মশগুল।

রাসূল -এর উদাহরণ থেকে অনুপ্রাণিত হোন। কীভাবে তিনি একাকী বা একঘেয়ে না-হয়েও নির্জনতা উপভোগ করেছিলেন। স্মার্টফোন, ইন্টারনেটের মতো সবধরনের বাগড়া থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করুন। এরপর কমপক্ষে এক ঘণ্টা ভাবনাচিন্তা করুন। নিজের ভেতরটাকে জানুন।

আমরা এই অধ্যায়ের শেষে চলে এসেছি। আমরা বলেছি কীভাবে তিনি গভীরভাবে সমাজের সাথে জড়িত ছিলেন সমস্যার সমাধানে। খাদিজা (রা)-এর সাথে বিয়ের মূল প্রেরণা ছিল মমতা ও দয়া। বলেছি তিনি কেমন স্বাধীনচেতা ও চিন্তাপ্রবণ মানুষ ছিলেন।

নিচের টেবিল আপনাকে স্মরণ করিয়ে দেবে রাসূল -এর তরুণ ও যুবক বয়স থেকে আপনি কী কী গুরুত্বপূর্ণ উপকার পেতে পারেন-

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 যুবক-তরুণ বয়সে রাসূল ﷺ-এর জীবন থেকে শিক্ষা

📄 যুবক-তরুণ বয়সে রাসূল ﷺ-এর জীবন থেকে শিক্ষা


| রাসূল ﷺ-এর জীবন | আপনার জীবন |
| :--- | :--- |
| **সমাজ** | |
| তিনি ইতিবাচক ছিলেন। সমাজে সক্রিয় ছিলেন। সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন। যেমন- ‘মর্যাদাবানদের সংঘ’-তে যোগদান। | বয়স যা-ই হোক, ভূমিকা রাখার পরিমাণ যা-ই হোক, ইতিবাচক হোন। উদ্যোগ নিন। |
| সমস্যা সমাধানে তিনি ছিলেন বেশ সৃষ্টিশীল যেমনটা আমরা কালো পাথর রাখা নিয়ে দেখেছি। | সৃষ্টিশীল হোন। আপনি যে মহৎ সমাধান নিয়ে এগিয়ে আসতে পারেন। এটাকে নিচুজ্ঞান করবেন না। |
| তিনি ছিলেন খোলা-মনের মানুষ। বিভিন্নজনদের থেকে মর্যাদাবান ও ভদ্র লোকদের সাথে বন্ধু হয়েছেন। | খোলা-মনের হোন। আপনার যোগাযোগের বলয় বাড়ান। যারা আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে তাদের সাথে সম্পর্ক গড়ুন। |
| **বিয়ে** | |
| রাসূল ﷺ-এর সুখী বৈবাহিক জীবনের ভিত্তি ছিল পারস্পরিক বুঝাপড়া ও মায়ামমতা। | আপনার সঙ্গীর প্রয়োজন ও অনুভূতির কথা বিবেচনা করে বিয়ের জন্য আগান। শুধু অপরের অধিকার ও কর্তব্য ভেবে না। |
| **রাসূল নিজে** | |
| তিনি ভাবনাচিন্তার জন্য নির্জনতা বেছে নিয়েছিলেন। বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় জনমানবহীন জায়গায় কাটাতেন। ভাবনাচিন্তা করতেন। | আপনার জীবনের মিশন নিয়ে ভাবনাচিন্তা করুন। ভাবুন এখন কী অবস্থায় আছেন, আর কী হতে চান। |

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00